পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ‘কুলডিহা’ পক্ষ্মী গ্রাম নামেই পরিচিত। পিড়াকাটা থেকে লালগড়ের দিকে কিছুটা এগোলেই পড়ে ছোট্ট কুলডিহা গ্রামটি। জনসংখ্যা প্রায় চারশোর কাছাকাছি। টিয়া, পায়রা, শালিক, শামুকখোল, নানান ধরনের বক ইত্যাদির নির্ভরশীল নীড়ের ঠিকানা পুকুর পাড়ে বুদ্ধেশ্বর মাহাতর বাড়ীর পাশে থাকা বহু প্রাচীণ তেতুঁল গাছ। শীতের সময় বহু অতিথি পাখিরও ঠিকানা এই গাছ।
কিন্তু মরশুমের টানা কয়েক দিনের ঝড় বৃষ্টিতে তেতুঁল গাছটি উপড়ে পড়ে যায়। ফলে নীড়হারা হয় পরে হাজারো পাখির দল। নতুন নীড়ের ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছে আশ্রয়হীন পাখিরা।
তাই দেখে মন খারাপ হয়ে পড়েছে গ্রামবাসীদের। অথচ হাজার পাখি একত্রে থাকার জন্য ফেলে দেওয়া খাবার আর মলত্যাগের দুর্গন্ধে ভরে ওঠে গোটা এলাকা। প্রথমের দিকে বিরক্ত হলেও ধীরে ধীরে সব অভ্যেসে পরিণত হয়েছে এলাকাবাসীর।

সন্ধ্যা নামার মুখে একঝাঁক পাখি যখন ফিরে আসে নীড়ে, তাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামবাসীদের মন। সেই আনন্দেই ভুলে যায় যাবতীয় ক্লেশ। এখানে পাখিদের কেউ বিরক্ত করে না। সচেতন গ্রামবাসীরা এদের অন্য কেউ বিরক্ত করলে বাধা দেয়।পাখিদের আশ্রয় দিয়ে গ্রামটি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় পেয়েছে।
আমাদের দেশের একসময় প্রতিটি গ্রামই ছিল পাখিদের অভয়ারণ্য। তবে “পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ি পাখির ডাকে জেগে” বলবার দিন ক্রমে ফুরিয়ে আসছে। এক বিস্তৃত সমীক্ষায় দেখা গেল, দেশ জুড়ে অরণ্যের পাখি, তৃণভূমির পাখি, শিকারি পাখি এবং অধিক ও অনধিক দূরত্বের পরিযায়ী পাখির সংখ্যা এবং স্থানিক বণ্টনের (কোন স্থানে তাদের ঘনত্ব কত) হার গত দুই দশকে কমছে।
যত্রতত্র পাখি শিকার-সহ নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রভাবে পাখির বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

আমরা যদি অন্য প্রাণীর থেকে গুরুত্বপূর্ন হই, তবে কি আমাদের এটা দায়িত্ব নয় এক বৃহত্তর স্বার্থে এই পাখিগুলোর জন্য কিছু করা। এক অনন্য ক্ষমতা কি এক অনন্য দায়িত্ববোধের জন্ম দেয় না!
অনেক সময় আপনি হয়তো পাখি পুষতে চাইছেন কিন্তু খাঁচায় বন্দি করতে মন চায় না। মনে হয় পোষ্য পাখিটি আপনার পরিবারের একজন সদস্য। তবে যদি আপনি চান খাঁচা মুক্ত পাখি পুষতে, তবে সেটাও সম্ভব। “কেজ ফ্রি বার্ডস” পোষা কোন সমস্যাই নয়। খাঁচায় বন্দী না করেও ভালোবাসা আর নিরাপত্তা দিলে পাখি এমনিই আপনার পোষ্য হয়ে উঠবে।

এই প্রসঙ্গে পায়রার নাম সবার আগে আসে। তারা নিজের আনন্দে বাড়ীর বাইরে যেখানেই যাক না কেন, সময় হলেই ঠিক ফিরে আসে তাদের অভিভাবকদের বাড়িতে। পক্ষী-বিশারদরা বলেন, সব পাখিদের একটা আস্তানার প্রয়োজন হয়। হতে পারে সেটা মুক্ত, তবে এই আস্তানায় তারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমনোর জন্য ফিরে আসে অথবা কোনো কারনে ভয় পেয়ে গেলে, এটাই তার লুকিয়ে থাকার আশ্রয়। শালিক, চড়ুই পাখির জন্য বারান্দার বাইরে মাটির হাঁড়ি ফুঁটো করে তার দিয়ে আটকে দিন। হাঁড়িতে বিছিয়ে দিন কিছু খড়। এরকম বাড়ি পেলে দিব্যি বাচ্ছাকাচ্চা নিয়ে পরম শান্তিতে সংসার করছে।
তবে সব পাখি কিন্তু পায়রার মতো ‘হোমিং’ নয় বা পায়রার মতো সেন্সর নেই যে একবার উড়ে গেলে আর নির্দিষ্ট বাড়িতে ফিরে আসতে পারে না। আপনার পছন্দের ‘কেজ ফ্রি বার্ডস ‘ রাখতে গেলে পাখির জন্য একটি ডেডিকেটেড ঘর দিতে হবে। সেই নিজস্ব মুক্ত পক্ষ্মীশালায় পোষ্য পাখীদের জন্য অবশ্যই থাকতে হবে

নিজস্ব স্ট্যান্ড যেখানে তাদের জন্য খাদ্য এবং জলের পাত্র। এমন আরো অনেক কিছুই রাখতে হবে যাতে পাখিরা নিজের মতো থাকতে পারে। পাখি উড়ে যাতে না পালায় জানলায় দিতে হবে জাল।
মনে রাখবেন, আপনার বসত বাড়ি মুক্ত পাখীদের জন্য নিরাপদ নয়। ঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টিভি, গ্যাস ওভেন… কেজ ফ্রি বার্ডসদের জন্য বিপদজ্জনক।
পাখির ধারালো নখ, ঠোঁট যেখানেই পড়বে সেটাই ফালাফালা করে দেবে। টিয়া পাখিরাই ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির হয়। সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পাখির ডানা ক্লিপ করে দেওয়া যেতে পারে। ফলে এদের উড়ে বেড়ানোর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়।

ঘরে কুকুর, বেড়াল থাকলে তাহলে বিনা খাঁচায় পাখি না পোষাই ভালো। কেজ ফ্রি বার্ডস সাধারণত ছোট প্রজাতির পাখি হতে পারে না। প্যারট (ম্যাকাও সমেত), ঘুঘু, হাউজ স্প্যারো ইত্যাদি পুষতে পারেন।
অন্য প্রাণীর উপর আধিপত্য বিস্তার আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়। মানুষ প্রকৃতির জন্য ভালোবাসা দেখিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকুক। সমস্ত পক্ষীকুল যেন নির্দ্বিধায় বলতে পারে—

“গাছের ডালে বাসা ফেলে,/উড়বো ছোট্ট ডানা মেলে।/সারাদিন অচিন বনে,/ঘুরে বেড়াবো আপনমনে।।”
Source : Various articles and journals have been referred for the Writeup.
অসাধারণ লেখনী ????????????????????????
অনেক ধন্যবাদ জানাই ????
খুব সুন্দর লেখা, অনেক কিছু জানলাম, নিজের জীবনের কিছু কথা, 2009 এর জুন, চন্দ্রকোনা রোড থেকে অফিসে এর গাড়িতে গোয়ালতোর high school এ night halt, পরের দিন pirakata রোড হয়ে লালগরের দিকে অগ্রসর, রাস্তা দিয়ে হেটে না, কারণ ল্যান্ড mine বিছানো, গন্তব্য স্থল লালগড় পুলিশ স্টেশন কারণ 6 মাস মাওবাদী রা কব্জা করে রেখেছে এই pirakata লালগড় নিয়ে জীবন্ত অনেক ঘটনা, রাস্তার পাশের কোনো খোলা তার টান দিতেই ল্যান্ডমাইন উদ্ধার, সে অনেক গল্প 4 বছরের,
Dhonyobad ????
সুন্দর একটি প্রতিবেদন পড়লাম,*পাখি*দের নিয়ে লেখায় একরাশ মুগ্ধতা ভালোলাগা।প্রকূতির
সম্পদ প্রকৃতির প্রতিনিধি মন ভালো করে দেওয়া
মিষ্টি পাখির দল,তোমরা না থাকলে এই পৃথিবীটা
এত সুন্দর হতোনা।ভালো থেকো পাখিরা ভালো
থেকো আকাশে,পালক ডানায় রেখো শান্তির বার্তা
মেঘনীল মেঘ মুখে স্বস্তির আভাষে*
বাহ! খুব সুন্দর বললেন। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাকে ????
খুব সুন্দর লাগলো। ছোটো বেলায় এক সময় অনেক পাখী পুষেছিলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাখিকে দেখার মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতি আছে। সেই থেকে বনে বাদাড়ে পাখী দেখা আর পাখীর ছবি তোলার শুরু আর আজও চলছে।
আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ????
খুবই সুন্দর প্রতিবেদন। ধন্যবাদ জানাই আন্তরিক।