ঘরের ভেতর থেকে কেউ একজন পিপহোল দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। কে উঁকি দিচ্ছে কমলা সেলিম জানে। নাহার!
নাহার কি তাকে ভয় পাচ্ছে?
পেলে পাক। মেয়ে মানুষের ভয়বিদ্যার দরকার আছে। কমলা সেলিম আবারও একবার কলিংবেল বাজাল। এবার দরোজার ভেতর থেকে নাহারের গলা ভেসে এলো—কে?
কমলা সেলিম কোনো উত্তর করল না। একবার আকাশের দিকে তাকাল। আকাশে ভীষণ রোদ ভাঙছে। কোথাও বাতাস নেই। গায়ের জামা ঘামে নেয়ে বারবার শরীরের সঙ্গে এঁটে আসছে। নাহারের কণ্ঠ আবারও একবার শোনা গেল—কে?
আমি সেলিম।
উনি তো বাসায় নেই। দুপুরবেলা কারবারে থাকেন। গুদামে।
উনি মানে বজলু। সেলিম জানে বজলু দুপুরে বাসায় থাকে না। দড়ির গুদামে মাল ওঠানো-নামানো তদারকির কাজ করে। মাল ওঠানো-নামানোর কাজ সহজ কোনো কাজ নয়। অন্তত দশ থেকে কুড়িজন কামলার প্রয়োজন হয়। দড়ি আসে দেশের দূরান্ত অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে পাট পচানোর অঞ্চল থেকে। একটার পর একটা ট্রাক এসে যখন বজলুর গুদামঘরের সামনে দাঁড়ায়, চারপাশে তখন একটা শোরগোল শুরু হয়ে যায়। সেই শোরগোলের ভেতর মাল গুদামজাত করা হয়। সেই মাল আবার ছাড়া হয় বাজারের দরদাম বুঝে। উপরন্তু যখন নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকে, জাহাজ-নৌকা কিনারায় ভিড়তে পারে তখন। জাহাজে করে দড়ির চালান চলে যায় দেশ-দেশান্তর। বজলু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে পানি ভাঙা জাহাজের পথ। পকেট ভরে ওঠে তার সোনালি টাকায়। মন ভরে ওঠে সোনালি সুখে। আহা..! বজলু এর সবই জানে।
আপনি দয়া করে সন্ধ্যার পর আসেন।
সন্ধ্যার পর কেন? আমি তো উনার কাছে আসিনি। তোমার কাছে এসেছি। আমি সেলিম। কমলা সেলিম।
নাহারের শরীরটা যেন মুহূর্তের ভেতর কেঁপে উঠল। কমলা সেলিম? লোকটা এই নির্জন দুপুরে তার কাছে কী চায়? কেন সে এসেছে?
নাহার এখন কী করবে? দরোজা খুলবে? নাহারের কপালে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম জমতে শুরু করল।
দরোজা খোলো। খুব পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। কী যে গরম! আজ মনে হয় পঁয়ত্রিশ ডিগ্রির কম না।
নাহারের কণ্ঠ নরম হয়ে আসে।
আপনি চলে যান।
চলে যাব?
ঘরে কেউ নেই।
ঘরে কেউ নেই তাতে কী? তুমি তো আছো!
নাহারের দম বন্ধ হয়ে আসার মতো হতে থাকল। তুমি তো আছো—কথার অর্থ কী? বাসার ল্যান্ডফোনটা মরে আছে আজ প্রায় এক মাস। নাহারের কোনো মোবাইল ফোনও নেই। মোবাইল জিনিসটা তার কখনো ভালো লাগে না। মোবাইল মানেই যন্ত্রণা! একবার তো পাড়ার একটা ছোকরা তাকে খুব বাজে ধরনের একটা ছবি পাঠিয়েছিল। ছবি দেখে নাহারের মাথা কাটার মতো অবস্থা। বজলু বলল, আরে এটা তো সামান্য একটা ছবি। বাজারে কত কিসিমের ফিল্ম আছে!
তারপর বজলু নাহারের দিকে ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে আরও একটা কথা বলেছিল। বলেছিল, দেখবা নাকি একটা?
নাহারের বুকটা ধক করে উঠল। লোকটা বলে কী?
দেখবা?
নাহারের কান গরম হয়ে গেল। গালের অংশ লাল হয়ে উঠল। সে নিজের ভেতর অন্যরকম এক অস্থিরতা বোধ করল।
আরে তোমার সঙ্গে ঠাট্টা করলাম! যাও এখন ঘুমাও। ওই রকম ছেলে-ছোকরারা বহু কাণ্ড-বিত্তান্ত করে। কচি বয়সে আমরাও করেছি। পুকুর পাড়ে গাছে উঠে বসে থেকেছি। চম্পাদির স্নান দেখার জন্য।
কী ভয়ংকর!
ছোটবেলায় চম্পাদি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে মানুষ। বড় হয়ে দেখলাম গায়ের রংটাই শুধু ভালো। বাকিটা আলগা-নাকি।
আলগা-নাকি আবার কী?
নাকটা গোল। দেখলে মনে হয় মুখের ওপর আলগা একটা নাক বসানো হয়েছে। প্লাস্টিকের নাক।
ও।
কী যেন বলছিলে?
আমি আর মোবাইল ব্যবহার করব না।
না করলেই ভালো। পয়সা সেভড।
সত্যি ব্যবহার করব না।
বললাম তো, না করলেই ভালো। আমার বড় বোনের ছেলে মন্টু আমার কাছে একটা মোবাইল চেয়েছে। তাকে দিয়ে দিয়ো। কিন্তু কোনো দরকার হলে তখন কী করব?
কেন, ওপরতলার ভাবির বাসায় ফোন দেবে!
বজলু আর কোনো কথা বলল না। বালিশের পাশ থেকে টেনে সিগারেটের প্যাকেট এবং লাইটার বের করল। ঘুমানোর আগে ভুঁড়ি ভাসিয়ে শুয়ে শুয়ে কিছুক্ষণ সিগারেট টানল।
নাহার অকারণে একবার পুরোটা ঘর ঘুরে এল। ঘুরে এসে সে আবারও পিপহোলে চোখ রাখল। লোকটা এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে!
আপনি যান নাই?
যাব কী জন্য? তোমার সঙ্গে দেখা করব না?
আর একদিন আসেন। উনি ঘরে থাকলে তখন আসেন।
কমলা সেলিম একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল।
তুমি কি আমারে ভয় পাও নাহার?
নাহার কোনো কথা বলল না।
ভয় পাও কী জন্যে? শেফালির জন্যে?
নাহার আবারও কিছু বলল না।
তুমি তো ঝামেলা করে বাড়ি ছাড়লা। মন গেল বেজার। তখনো শেফালি আমারে এক-আধটু খাতির যত্ন করে। ছুট দিয়ে গেলাম শেফালির বাড়ি।
আমি কি আপনার কাছে এসব শুনতে চেয়েছি?
কমলা সেলিম সিগারেট ধরাল। সিগারেটে ছোট ছোট করে দুটো টান দিল।
সেই দিনও এমন দুপুর ছিল নাহার। শেফালিরা তিন বোন বসে আছে টিভি সেটের সামনে। হিন্দি সিরিয়াল হচ্ছে। আমি শেফালিকে ইশারা দিলাম—এদিকে আসো! শেফালি এল। তার মুখ কোমল। ছটফট করতে করতে বলল—কমলা ভাই, আপনি?
আমি বললাম- যাইবা আমার সঙ্গে?
কই?
নদীতে।
নদীতে?
তোমাকে নিয়ে নৌকা দিয়ে একটা ঘুর দেব।
শেফালির চোখ বিভোর হয়ে উঠল। অনেক দিন সে আমাকে বলেছে—কমলা ভাই, নদীতে আমারে নাও দিয়া একটা ঘুর দেবা না? পরের ঘটনা কিছু বুঝতে পারছ নাহার?
নাহার একবার ঢোক গিলল।
আমি আর শেফালি চারপাশে আর কেউ নাই! চারপাশে কেবল অথই পানি। অকূল নদী!
সেলিম আবারও ছোট ছোট করে সিগারেটে দুটো টান দিল।
বাকিটা শুনবা?
নাহারের শরীর দিয়ে দরদর করে ঘাম হচ্ছে। লোকটাকে সে এত ভয় পাচ্ছে কেন? যে লোকটার সঙ্গে সে তিন বছর সংসার করেছে, একটা বাচ্চা হয়েছে, তাকে সে ভয় পাচ্ছে?
ঘরে বসে ঘটনাটা বলতে পারলে ভালো হতো নাহার। এসব ঘটনা সোফায় বসে আরাম করে বলতে হয়।
আপনি বাড়ি যান। উনি যেকোনো সময় চলে আসতে পারেন। উনার ইদানীং দুপুরে আসার অভ্যাস হয়েছে। বাইরের জিনিস খেতে পারেন না। পেটের রোগ হয়। উনি আপনাকে এখানে দেখলে মারাত্মক রাগ করবেন।
তারপর শোনো! আমি বললাম, শেফালি তোমার হাতটা একটু ধরি? শেফালি আঁতকে উঠল। বলল, কী বলেন এসব! আমি বললাম—দেখো কোথাও কেউ নাই। তোমার চিৎকার কেউ শুনবে না শেফালি!
নাহার আঁচল দিয়ে ঘাম মুছল।
আপনি বাড়ি যান। এটা কোনো বীর বাহাদুরির গল্প না।
একবার হঠাৎ কী ইচ্ছে হলো জানো নাহার? ইচ্ছে হলো, এই নারীটাও তো তোমার মতো একজন। সুতরাং তোমার ওপর যে প্রতিশোধ আমি নিতে পারি নাই, সেটাই তার ওপর নেই। শুধু তাই নয়, প্রতিশোধ শেষে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিই। উত্তাল নদী ওকে টেনে নিয়ে যাবে। র্যাব-পুলিশ জীবনে আর ওকে খুঁজে পাবে না। যেমনটা রোজ পত্রিকাতে খবর আসে।
নাহারের সারা শরীর কাঁপছে।
আপনি কী চান এখানে?
গল্পটা আগে শেষ হোক, তারপর না হয় কী চাই সেটা বলি।
আপনার গল্প কি আমি শুনতে চেয়েছি?
দুপুর বড় আশ্চর্য জিনিস নাহার। দুপুর মানে দুপুর নয়। মধ্যাহ্ন। বুঝতে পারছো?
নাহার কাঁপতে কাঁপতে বলল—আমি কিন্তু চিৎকার করতে বাধ্য হব।
একই কথা শেফালিও ঘুরে ঘুরে বলছিল। সব নারীর কথা কিন্তু একই রকম নাহার। আমি বললাম, করো! চিৎকার করো! কিন্তু শেফালি চিৎকার করল না। অদ্ভুত এক কারণে তার চোখে পানি জমতে শুরু করল।
আপনি বুঝতে পারছেন না আমি চিৎকার করলে কী ভয়ংকর একটা বিপদে আপনি পড়ে যাবেন! সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার মানুষ ছুটে আসবে।
বিপদের ভয় আমাকে দেখাচ্ছ? বিপদের ভয় নামক ‘মাল’টা আমার ভেতর মরে গেছে। তাহলে শোনো। শেফালির ঘটনায় আমার তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর হলো। দ্বিতীয় দিনেই আমার পায়ের চারটা নখ উপড়ে ফেলা হলো। নখ উপড়ানোর কায়দাটা শুনবে?
না, আমি কিছু শুনব না।
তাহলে রিমান্ডের প্রশ্নকর্তার কথা শোনো। প্রশ্নকর্তা বললেন—একটা জায়গায় পাবলিকের কোনো প্রকার সিমপ্যাথি কাজ করে না। কোথায় জানো? আমি বললাম, জানি না স্যার। তিনি বললেন, যখন কোনো মেয়ে মানুষের ওপর আঘাতকারী কোনো পুরুষকে শাস্তি দেওয়া হয়। শাস্তি যত ভয়ংকর, পাবলিক ভাবে ততই শুভংকর।
কিন্তু স্যার আমি তো শেফালিকে কোনো আঘাত করিনি!
প্রশ্নকর্তা বললেন—সবাই প্রথম প্রথম ওই কথা বলে। শাস্তি যে কত ভয়ংকর হতে পারে, সেটা প্রথম প্রথম বুঝতে পারে না। পরে সব ঠিক হয়ে যায়।
তাহলে কি আপনি এখন ভয়ংকর কোনো শাস্তির কথা ভাবছেন?
খুব বেশি ভয়ংকর শাস্তির কথাও আপাতত ভাবছি না। শুধু সুঁই ফোটানো জাতীয় শাস্তির কথা ভাবছি। তবে সুঁইটি ফোটানো হবে একটা ‘বিশেষ জায়গায়’। এই জায়গাটা শুধু পুরুষ মানুষদেরই থাকে। কিছু বুঝতে পারছ?
কমলা সেলিম মুখ থেকে সিগারেটের ফিল্টারটা থুক করে ফেলে দিল। কেন ফেলল কে জানে।
আমি আতঙ্কে নীল হয়ে গেলাম। ভাবলাম, হয়তো অজ্ঞান হয়ে যাব। কিন্তু আমি জ্ঞান হারাইনি। চোখ খুলে দেখলাম মোটা গোঁফঅলা একজন লোক বস্তা সেলাইয়ের একটা সুঁই নিয়ে আমার দিকে আসছে। আমি কলমা পড়তে শুরু করলাম।
নাহার পিপহোল দিয়ে আর একবার লোকটির দিকে তাকাল। লোকটির মুখে ঘাম। স্বাস্থ্য কৃশকায়। চুল যথেষ্ট ময়লা।
এক বছরের জেল হয়ে গেল আমার। সাত মাসের মতো কাটালাম। তারপর বহু কায়দা করে বের হয়ে এসেছি। কমলা সেলিম কায়দায় আবার ওস্তাদ। আচ্ছা, তোমার কি একবারও জানতে ইচ্ছে করছে না, আমি আসলে শেফালির সঙ্গে..।
ইচ্ছে করছে না। বরং আপনি চলে গেলে আমি খুশি হব। আর আপনি কখনো এখানে আসবেন না। কোনো অজুহাতেই না।
সঞ্জুর কথাও বলতে আসব না?
নাহার ঘাড়ের ঘাম মুছল।
না।
সঞ্জু নার্সারি শুরু করেছে। ওর বড় চাচার বাসায় থাকে। সেদিন খেলতে গিয়ে সোফা থেকে পড়ে গিয়েছিল। দেখলাম ‘মা মা’ বলে কাঁদছে!
আপনি কি এটা বলার জন্যই এখানে এসেছেন?
না।
তাহলে?
কমলা সেলিম অনেকক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না। সে আবারও একটা সিগারেট ধরাল। থেমে থেমে সিগারেটে টান দিল।
নাহার ইতিমধ্যে বার কয়েক পিপহোলে চোখ রাখল। লোকটি বারবার হাতের বাহু দিয়ে মুখের ঘাম মুছছে। লোকটা বেশ শুকিয়ে গেছে!
নাহার মনে মনে নিজের ওপর বিরক্ত হলো। লোকটা বেশ শুকিয়ে গেছে—এটা কোন ধরনের চিন্তা? শুকিয়ে গেছে ধরনের চিন্তার ভেতর এক প্রকার মমতা আছে। সে তো তাকে মমতা দেখাতে চায় না! পশুর জন্য আবার মমতা কী?
তখন আমার খুবই অর্থকষ্ট ছিল। তুমি একদিন বললে—আমাকে একটা ফ্রিজ কিনে দিতে পারবে? মাঝেমধ্যে খুব ঠান্ডা পানি খেতে ইচ্ছে করে। আমি পড়ে গেলাম সমুদ্রে। এখন ফ্রিজের টাকা পাব কই? এর কাছে যাই, ওর কাছে যাই—কিন্তু ফ্রিজের টাকার ব্যবস্থা হয় না। একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় লজ্জা তার স্ত্রীর কাছে। বিশেষ করে যখন সে তার আবদার রাখতে পারে না!
আপনি, প্লিজ দয়া করে আপনি আসুন। অযথা এখানে সময় নষ্ট করবেন না।
শ্রীঘর থেকে বের হওয়ার পর বড় ভাই বলল, তোর হাত-টাত তো একেবারে খালি। এই ধর কিছু টাকা রাখ। হঠাৎ এত টাকা হাতে! কী করি? ফট করে একটা ফ্রিজ কিনে ফেললাম। এলজির ফ্রিজ।
নাহার এবার চিৎকার করে উঠল—ফ্রিজ কিনেছেন তাতে কী হয়েছে? কী হয়েছে?
নাহারের যখন অনেক রাগ হয় সে একই কথা কয়েকবার করে বলে। নাহারের বোধ হয় এখন অনেক রাগ। একই কথার সে পুনরুক্তি করছে। এই পুনরুক্তির সময় নাহারের সঙ্গে কথা বলা ঠিক নয়। তাতে তার মনে অদ্ভুত সব ইচ্ছা জেগে ওঠে। একবার তো সে নিজের গায়ে নিজে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে দিয়েছিল। কী ভয়ংকর! কিন্তু ঘটনা সেখানেই থামল না। চুলার লাইটার নিয়ে এসে তাকে বারবার ধমকাতে থাকল।
আপনি বুঝতে পারছেন না, আমি সত্যি গায়ে আগুন জ্বেলে দেব।
কমলা প্রায় অসহায়ের মতো বলল, কেন এসব করছো নাহার?
আপনি বুঝতে পারছেন না, আপনাকে আমার একটুও সহ্য হচ্ছে না?
সহ্য না হলে আমাকে এখন কী করতে বলো?
ঘর থেকে বের হয়ে যান।
বের হয়ে কই যাব?
জাহান্নামে।
জাহান্নামে যাওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। কমলা গেল নুরুদ্দিন ভেষজ স্টোরের বারান্দায়। সারা রাত রাগে-অপমানে ওখানে বসে বসে সে সিগারেট পোড়াল। একটা-দুটো সিগারেট নয়। ত্রিশটার মতো।
ভেতর থেকে নাহারের তর্জন-গর্জন বারবার ভেসে আসছে। তার রাগ বোধ হয় কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন দেওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে।
কথা বলছেন না কেন? বিশ্ব-জগৎ শুদ্ধ হয়ে গেছে? ফ্রিজ কিনেছেন তাতে কী হয়েছে? কথা বলছেন না কেন, শুদ্ধ হয়ে গেছে?
কমলা সেলিম মাথা নিচু করে থাকল। অনেকক্ষণ সে কোনো কথা খুঁজে পেল না। পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে সিগারেটের আগুন মাড়াতে মাড়াতে একবার শুধু বলল, কিছু হয়নি নাহার! সে কথাটি এতটা অনুচ্চারিত কণ্ঠে বলল, নাহার ভেতর থেকে শুনতে পেয়েছে কি না কে জানে!
কমলা সেলিম আর দাঁড়াল না। রাস্তায় নেমে পড়ল। ঠা ঠা রোদের ভেতর এখন তার হাঁটতে বেশ লাগছে। এত ভালো লাগছে যে ইচ্ছে করছে এক হাঁটায় সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগর পর্যন্ত চলে যেতে।