অবশেষে সকাল ১০টায় তিনি এলেন। রেকর্ডেড ভাষণ শুরু করলেন। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় কোনও দিশাই দেখাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বস্তি একটাই, এবার আর থালা-বাটি বাজানো বা প্রদীপ জ্বালানোর মতো বিগ বস-সুলভ টাস্ক দেননি। যে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের প্রস্তাবনা ধূলিসাৎ করতে চায়, যে সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামতে হয় জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণের জন্য এই দিনটাকে কেন বাছলেন তা বোঝা গেল। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ১১ এপ্রিল বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন মুখ্যমন্ত্রীদের বলেছিলেন লকডাউন বাড়ানোর গাইডলাইন ২-৩ দিনেই ঘোষণা করবেন। না, সেটা করলেন না। গাইডলাইন জানানো হবে বুধবার। তবু মোদীবাবু ভাষণ দিতে এলেন তার আগের দিন। কেন? বি আর আম্বেদকরের জন্মদিনে বড়ো বড়ো কথা বলে সেইসব মানুষদের তিনি মন জিততে চাইলেন যাঁদের উপর বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে চলছে অত্যাচার। উনি নাকি রাজনীতি করেন না!
করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা বারবার প্রকট হচ্ছে। অন্য দেশের তুলনা টেনে ভারত যে ভালো জায়গায় তা প্রমাণে সাফাই দেওয়ার চেষ্টাও চালালেন মোদীবাবু।
বিভিন্ন রাজ্য ৩০ এপ্রিল অবধি লকডাউন ঘোষণা করেছে। ওঁকেও কিছু এক্সট্রা করতে হবে। তাই বলে দিলেন দেশজুড়ে ৩ মে অবধি লকডাউন চলবে। ২০ এপ্রিল অবধি দেশের সব জায়গায় লকডাউন মানা হচ্ছে কিনা তার উপর জোরালো নজরদারি চলবে। সংক্রমিত এলাকাগুলিতে যদি সংক্রমণ কমে বা কমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে শর্তাধীন কিছু জরুরি গতিবিধিতে ছাড় দেওয়া হতে পারে। আবার নিয়ম অগ্রাহ্য করলে বা করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেই সব শিথিলতা প্রত্যাহার করা হবে।
গরিব মানুষ বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষদের জন্য এদিন কোনও নতুন ঘোষণা করতে পারেননি মোদীবাবু। ঘোষণা করেননি আর্থিক প্যাকেজ। উনি বলেছেন, কারও বেতন কাটবেন না। বড়ো শিল্পসংস্থা তা পারলেও ছোটো কলকারখানা, দোকান, হোটেলে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের আয় নিশ্চিত করতে কোনও আশাই দিতে পারেননি মোদীবাবু। রাজ্যগুলির প্রাপ্য মেটানো বা রাজ্যগুলিকে কিট-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়ার কথাও জানাতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। সবমিলিয়ে মুখ দেখানোর সঙ্গে অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে মোদীবাবুর জাতির উদ্দেশে ভাষণ।
এই ভাষণের পর রেল জানিয়েছে, ৩ মে অবধি যাত্রীবাহী কোনও ট্রেন চলবে না।