অমর মিত্র
এতটা জীবনে এমন দেখিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর ইত্যাদির পরে আমার জন্ম। মন্বন্তরের সময় কলকাতার পথে না খেয়ে মরা মানুষের দেহ পড়ে থাকত। ক্ষুধার্ত মানুষের সেবায় মানুষ পথে নেমেছিল। সেই কাহিনি আমি তৃপ্তি মিত্র ও মহাশ্বেতা দেবীর আলাপে শুনেছি। মায়ের মুখে শুনেছি পারটিশনের সময়ে দাঙ্গাকারীর ভয়াল মুখ, আবার দাঙ্গা প্রতিরোধকারীর নির্ভয় দেওয়া মুখ। কৈশোরে ৬০-এর দশক থেকে কত সংকটকাল পার হয়েছি। এমন দেখিনি সত্য। জানি সংকটকালে রাষ্ট্রনেতাদের ভূমিকা রহস্যময় থাকে। বুঝতে পারি না, তাঁরা সত্যিই আমাদের ভালো চান, না সবটাই ভান। মানুষ মরলে তাঁর কী? এই জীবনে এই প্রথম একজন রাষ্ট্রনেতাকে দেখলাম, যিনি সত্যিকারের যুদ্ধে সেনাপতির ভূমিকা পালন করছেন অগ্রবর্তী হয়ে। এইটা যুদ্ধের চেয়ে বেশি কিছু। অদৃশ্য ঘাতক মানুষের দেহ খুঁজে বেড়াচ্ছে। মানুষই ভাইরাসের আশ্রয়। এই যুদ্ধে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা যেন অন্ধকারে দীপ হাতে সেই ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মতো। তিনিও আসলে মানুষের সেবাধর্মে আস্থা রাখেন। সংকটকালেই মানুষকে চেনা যায়। মানুষের আসল মুখটি দেখা যায়। সংকটকালে তিনি যেভাবে মানুষের কল্যাণ কামনায় পথে নেমে আসেন, তার তুলনা নেই। আগেও দেখেছি। গরিবের বস্তিতে আগুন লেগেছে, মমতা গিয়ে দাঁড়িয়েছেন সেখানে। আমি তোমাদের লোক। করোনা ভাইরাস, কোভিড-১৯ সমস্ত বিশ্বের মানুষকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে আমরাও ঘরে বসে আছি। মুখ্যমন্ত্রী পথে। তিনি রাস্তায় নেমে নিজ হাতে সামাজিক দূরত্ব কীভাবে রাখতে হবে বলয় এঁকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তারপর কলকাতার পথে পথে, ফুটপাথে তা আঁকা হয়ে যাচ্ছে। গরিবের ঘরে অন্ন পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মানুষের মঙ্গল কিসে হয়, সেই ব্যবস্থা করছেন। বারবার মানুষের সহযোগিতা চাইছেন। মানুষকে অভয় দিচ্ছেন। আমরা তাঁর মমতাময়ী রূপে সাহস পাচ্ছি। আমরা আমাদের সমস্ত ভার যেন তাঁর উপর ন্যস্ত করেছি। সংকট ভয়ানক। তাঁর পরিচালনায় আমাদের রাজ্য এই বিষ মুক্ত হবে এ বিশ্বাস আমার আছে। তিনি এই মহাযুদ্ধের মহৎ নেত্রী।