| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান : একজন প্রবাদ প্রতিম সেনাবাহিনী প্রধানের বিদায় (শেষ পর্ব) : মো. বায়েজিদ সরোয়ার

Reporter
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার, এনডিসি (অব.) / ৫০৬ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪

পূর্ণাঙ্গ অবসরের গল্প।

সেনাপ্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণের পূর্বে বিদায়ী বানীতে জেনারেল আতিক বলেন — “এ কথা ঠিক যে আমি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিচ্ছি। যেখানে থাকি না কেন আপনাদের মাঝে কাটানো ৩৯টি বছরের স্মৃতি সব সময়ই আমার হৃদয়ের গভীরে সযত্নে রক্ষিত ও লালিত হবে।”

তিনি অবসর গ্রহণের পর কোন ধরণের চাকুরী বা ব্যবসায়িক কর্মকান্ড বা রাজনীতিতে জড়াননি। একজন সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি নিজের মানসম্মান ও মর্যাদার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। এটি ছিল তাঁর পূর্ণাঙ্গ অবসর। তাঁর কর্মকান্ড ছিল সত্যিকারের সৈনিকসূলভ। ‘‘ওয়ানস এ সোলজার অলঅয়েজ এ সোলজার’’ — কথাটা যেন তাঁর জন্যই প্রযোজ্য। অবসর গ্রহণের পর সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। সেনানিবাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষত ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জানাযায় তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ ঐ মসজিদে আদায় করতেন। ঝকঝকে নতুন ও বড় গাড়ীর ভিড়ে জেনারেল আতিক তাঁর পুরোনো সাদা রংয়ের টয়োটা করোলা ডাবলই নাইনটি মডেলের গাড়ি করে মসজিদে আসতেন। জেনারেল আতিকের মৃত্যুর পর তাঁর সৈনিকসূলভ, মর্যাদাবান, সহজ ও নির্লোভ জীবন যাপনের কথা স্মরণ করেন তাঁর একসময়ের এপিএস লেঃ কর্ণেল মোঃ আইনুল আজিম (অবঃ)।

লেখালেখির খোলা আকাশ

জেনারেল আতিক ছিল অত্যন্ত প্রচার বিমুখ। অবসর গ্রহণের পর মিডিয়া থেকে সবসময় দুরে থাকতেন। কখনো লাইম লাইটে আসতে চাইতেন না। এই বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ সেনানায়কের প্রকাশিত লেখা খুবই কম। তিনি ২০২০ সালে ‘‘রাওয়া মিরর’’ পত্রিকায় ‘‘মেজর আবদুল গনিঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তাঁর অবদান শীর্ষক একটি ছোট্ট অথচ চিন্তাউদ্দীপক প্রবন্ধ লেখেন।

মেজর আবদুল গনি ‘‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের’’ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্মানিত। এই প্রবন্ধে জেঃ আতিক তুলে ধরেছেন কিভাবে কিংবদন্তী তুল্য মেজর গনি বাঙালি তরুনদের সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদানের জন্য মোটিভেট করেছেন ও আহবান জানিয়েছেন। মেজর গনি বাঙালি অভিভাবক ও তরুনদের মন থেকে ‘‘সেনা আতঙ্ক’’ চিরতরে দূর করেছেন। জেঃ আতিকের মতে, এটিই ছিল মেজর গনির সবচেয়ে বড় অবদান। এভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অসাধারণ ভূমিকা ও মেজর গনির অবদান সম্পর্কে নতুন এক ধারণা দিয়েছেন ও মূল্যায়ন করেছেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘‘প্যাসিফিক এরিয়া সিনিয়র অফিসার্স লজিস্টিকস সেমিনার’’ (প্যাসোলস) এর উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেঃ আতিক বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃায় বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর লজিস্টিকস্ প্রসঙ্গগুলো চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে। এই বক্তৃতাটি ১৯৮৯ সালে আর্মি জার্নালে প্রকাশিত হয়।

সামরিক বিষয়ক লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট কর্ণেল মোহাম্মদ আবদুল হক, পিএসসি (অবঃ) ২০২০ সালে জেনারেল আতিকের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে কর্ণেল হক জেনারেল আতিকের উপর ‘‘অত্যন্ত সফল একজন সেনাপ্রধানের গল্প’’ শীর্ষক প্রবন্ধ লেখেন। এটি প্রথম তাঁর ফেসবুকের টাইমলাইনে প্রকাশিত হয় (৩১ আগষ্ট, ২০২০)। এই অসাধারণ লেখাটি পরে দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

বিডিআর এর ডিজি ও সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল আতিক এর বাংলাদেশের নিরাপত্তা উন্নতি কল্পে অসাধারণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রণনীতি, কৌশল নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন জেনারেল আতিক। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে ‘‘ডেটারেন্স‘’ অর্জন করতেই হবে। সাংবাদিক আবু রূশ্দ এর লেখা ‘‘জাতীয় নিরাপত্তা রণনীতি ও সশস্ত্রবাহিনী’’ শীর্ষক বইতে জেনারেল আতিকের একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সশস্ত্রবাহিনী, প্রতিরক্ষানীতি ও রণনীতি নিয়ে তাঁর ভাবনার কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়। যতদুর জানা যায়, তিনি তাঁর সামরিক জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার উপর জীবনী গ্রন্থ ধাচের একটি বই লিখছিলেন। তিনি চাইতেন বইটি তাঁর মৃত্যুর পর তা প্রকাশিত হোক। বইটি কবে আলোর মুখ দেখবে?

মিট এন্ড গ্রীট অনুষ্ঠান- শেষ বারের মত সেনাকর্মকর্তাদের সান্নিধ্যে

গত ২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে রাওয়া ক্লাবের সুসজ্জিত হেলমেট হলে জেঃ আতিকের সম্মানে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ‘‘মিট এন্ড গ্রীট’’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মূলত অবসরপ্রাপ্ত আর্টিলারী অফিসারগণ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে সম্মান জানিয়েছিলেন। হেমন্তের সেই সন্ধ্যায় একে একে সবাই আসবার পর অনুষ্ঠানে এলেন জীবন্ত কিংবদন্তী জেনারেল আতিক- ধবধবে ফর্সা চেহারা, তুষারশুভ্র চুল, পরনে কালো স্যুট, সাদা-কালো স্ট্রাইপ শার্ট ও আর্টিলারির রেজিমেন্টাল টাই। উনার বয়স তখন প্রায় ৯৩। জেনারেল আতিককে বেশ ক্লীশকায় দেখালেও উনার ব্যক্তিত্বের দ্যুতি তখনও উপচে পড়ে। স্বাগত বক্তব্য, স্মৃতিচারণ, স্মারক প্রদান ও কেক কাটা পর্বের পর এলো সাবেক সেনাপ্রধানের বক্তব্য। বক্তৃতার শুরুতে, তিনি রসিকতা করে উদ্ধৃত করলেন আমাদের অন্যতম জাতীয় নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর এক বচনঃ ‘‘ইংরেজরা করেছে শাসন, পাকিস্তানীরা করেছে শোষন, আর বাঙালিরা করে শুধু ভাষণ’’। সেই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় ঊঠে আসে তাঁর জীবন দর্শন, অস্তরাগে স্মৃতি সমুজ্জল সৈনিক জীবন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনী নিয়ে ভাবনা, কনিষ্ঠদের প্রতি কল্যাণ কামনা ও একগুচ্ছ উপদেশমালা…।

সময়ের কষ্টিপাথরে বিলম্বিত যে মূল্যায়ন

১৯৭০-৮০ দশকে সম্পদের অভাবের কারণে সেনাবাহিনীতে আজকের মত চোখ ধাঁধানো ভৌতিক অবকাঠামোগত তখন গড়ে ওঠেনি। তবে জেঃ আতিকের সময় সেনাবাহিনীর চারিত্রিক ও আত্মিক গর্বময় একটা চমৎকার ভিত্তি গড়ে উঠেছিল …। এমন আলোচনা এখন বেশ হচ্ছে। একজন সেনাপ্রধান বা যে কোন ব্যক্তির নির্মোহ মূল্যায়নের জন্য কিছু সময় অতিক্রান্ত হওয়া প্রয়োজন। কালের প্রবাহে পাথর খন্ডে শেওলা জমে। কিন্তু কর্মের উজ্জ্বল্যে সেই পাথর থেকে দ্যূতি ঠিকরে পড়ছে সমান তালে। জেঃ আতিক তেমনই অতুজ্জ্বল একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব। যিনি ৩৩ বছর আগে অবসরে গেলেও নিজ নেতৃত্ব ও কর্মগুণে তাঁর ভাবমূর্তি দিন দিন উজ্জ্বল হয়েছে।

পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার দিক দিয়ে জেনারেল আতিক ছিলেন যেন একটি বাতি ঘর। সেনা কমান্ডারগণ যা অনুসরণ ও অনুকরণ করতে পারেন। তিনি রেখে গেলেন নেতৃত্বের অনন্য নজির।

জেঃ আতিকের কমান্ড স্টাইল ছিল — ‘‘কুল এন্ড ফার্ম’’। সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের জন্য তাঁর ছিল বুকভরা আবেগ, ভালোবাসা ও প্রীতি। কিন্তু কখনও তা প্রকাশ করতেননা। এটা ছিল তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, তাঁর প্রতি সেনাকর্মকর্তা ও সৈনিকদের ছিল দূর থেকে কিছুটা ভয় মিশ্রিত গভীর শ্রদ্ধা।

পেশাদার সৈনিক হিসেবে জেনারেল আতিক গনতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এটি বিশেষভাবে, উল্লেখ্য যে, সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োজিত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে তিনি একটি পেশাদার পরিবেশ তৈরীর আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। সেই ধারাটি পরবর্তীতে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে উত্তরনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল।

একাত্তর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন, বীর প্রতীক, পিএসসি (অবঃ), সেনাপ্রধান জেনারেল আতিকের নেতৃত্ব ও কমান্ড সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন, অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে। জেনারেল আতিকের বিষয়ে তাঁর মূল্যায়ন তাই অত্যন্ত প্রনিধানযোগ্য। তিনি লিখেন ‘‘৮৬/৮৭ সালে শুধু মেজর জেনারেল নয় বরং সেনাবাহিনীর অন্যান্য সিনিয়র পদ ও পদবীতে পদোন্নতি ও নিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই বাইরের প্রভাবমুক্ত ছিল, তথাকথিত দলীয়করণ বা সরকারীকরণ নীতির সর্বনাশা প্রভাব এখনো পর্যন্ত পড়েনি…।

জেনারেল আতিক সেনাপ্রধান হিসেবে বহাল থাকাকালীন এ সেনাবাহিনীতে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার ও শৃংখলাবোধ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল অপর দিকে তেমনি পদোন্নতির ক্ষেত্রে সর্বস্তরের জন্য পেশাদারিত্বই যোগ্যতা নিরুপনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল আতিকুর রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্ব ও পরিচালনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপে সম্মুখ পানে এগোতে থাকে। একজন অতিসফল, দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও ন্যায়পরায়ন সেনাধ্যক্ষ হিসেবে জেনারেল আতিকের নাম তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে….’’। (আমার দেখা ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান’ ৯৬)

জেনারেল আতিকের পেশাদারিত্ব, সততা ও অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও ঢাকা ট্রিবিউন এর কনসালটেন্ট এডিটর, সৈয়দ বদরুল হাসান ‘‘He demonstrated professionalism expected of a true soldier. Hardly anything of the negative was associated with his career. Not in his character was noted any hint of inordinate ambition…., Atiqur Rahman served the army well, and through doing that he let it be known that the institutions of the state, of which the armed forces were one, were there to uphold the rule of law, indeed the constitution, for that was their prime responsibility.

…But such questions were overshadowed by General Atiqur Rahman’s performance as chier of staff of the army.

General Atiqur Rahman will be remembered for the stability he brought to the army after the many convulsions it went through before he took over as chief of staff. Basic honesty underlined his attitude to life, buttressed by his deep religiosity. (Obituary, Lt. Gen. M Atiqur Rahman, Dhaka Tribune, 24 December 2023).

অনেক আগের কথা। একবার ঢাকা সেনানিবাসের কোরো অফিসে তাঁর সঙ্গে সামরিক জীবন ও সেনাবাহিনীর কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কজন কথা বলছিলাম। এক পর্যায়ে সাহস নিয়ে বললাম- ‘‘স্যার, আপনার জীবন দর্শন, আদর্শ নিয়ে কোন লেখা কি আমরা পাবোনা? জেনারেল আতিক উত্তরে হেসে বললেন- ‘‘দেখ, আমি চেষ্টা করেছি সৈনিকসূলভ একটা সাধারণ জীবন যাপনের’’। তখন মহান মহাত্মা গান্ধীর একটা কথা আমার মনে পড়েছিল- ‘‘মাই লাইফ ইজ মাই ম্যাসেজ’’। সত্যিই, জেনারেল আতিক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এক জীবন যাপনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের সৈনিকদের জন্য অনন্য উদাহরণ রেখে গেলেন। তিনি সম্ভবত একজন অন্যতম ‘‘রোল মডেল’’ সেনাপ্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীতে সম্মানিত থাকবেন।

সেনাবাহিনী নেতৃত্ব ও এক অনবদ্য রিলে রেস

লেঃ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনাপ্রধানের ব্যাটন দিয়েছিলেন লেঃ জেনারেল আতিককে। আবার ৪ বছর পর লেঃ জেনারেল আতিক সেনাপ্রধানের ব্যাটন হস্তান্তর করলেন পরবর্তীতে সেনাপ্রধান লেঃ জেনারেল নূরউদ্দিন খানকে। রিলে রেসের মতো এভাবেই সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। জেনারেল আতিকের ধারাবাহিকতায় আমাদের পরবর্তী সেনাপ্রধানগণও তাদের গতিশীল নেতৃত্বের ছাপ রেখেছেন। যার ফলেই আজ দেশে বিদেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসাধারণ ভাবমূর্তি তৈরী হয়েছে। জেঃ আতিক ছিলেন পাকিস্তানের ৯ম পিএমএ লং কোর্স এর একজন অফিসার। আমাদের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ম বিএমএ লং কোর্সের একজন অফিসার। একটি চমৎকার কো-ইনসিডেন্ট বটে।

বিদায়ী অভিবাদন- ‘‘দি লাস্ট পোস্ট’’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসাধারণ সম্মানের সঙ্গে বিদায় দিল তাঁর এক সময়ের দিকপাল সেনাপ্রধানকে। বনানী সামরিক কবরস্থানে ২০ ডিসেম্বরের পড়ন্ত বিকেলে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় মিলিটারি ফিনারেল বা দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকায় ঢাকা জেঃ আতিকের কফিন একটি গান ক্যারেজে রাখা হয়।

সামরিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, সেরিমনিয়াল পোষাক করা ৪ জন মেজর জেনারেল ‘‘পল বেয়ারার’’ হিসেবে ধীর গতিতে মার্চ করে কফিন রাখার ক্যারেজটি নিয়ে এগিয়ে যান। উল্লেখ্য, বেগম মুনিরা আতিক ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কবরের পাশেই সমাহিত হচ্ছেন জেঃ আতিক। মরদেহ কবরে নামানো ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ২৫ ইষ্ট বেঙ্গলের (মৃত্যুনঞ্জয়ী পচিশ) একটি চৌকস সেনাদল ভলি ফায়ার (গান স্যালুট) প্রধান করে। এই পদাতিক ইউনিট বা পল্টনটি ফিনারেলের দায়িত্বে রয়েছে।

সবশেষে, সেনাবাহিনীর এই সম্মানগার্ড মরনোত্তর সালাম (আর্মস ডাউন) প্রদান করলো।বিউগলের করুন সুরে এভাবেই শেষ বিদায় (লাস্ট পোষ্ট) জানানো হলো জেনারেল আতিককে। ১৯৩১ সালের ০১ সেপ্টেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদের খারেরা গ্রামে জীবনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা শেষ হলো বনানিতে এসে।

সূর্য ঢলে পড়েছে। জে: আতিক গোলাপ ফুল খুব ভালবাসতেন। পিলখানায় ‘‘বিখ্যাত গোলাপ’’ বাগান তাঁর সময়েই গড়ে ওঠে। জানা যায়, মাসান্ডা ফুল তিনি বার্মা থেকে আনিয়েছিলেন। তা আজ সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেনানায়ক জেঃ আতিকের সৈনাপত্য, অধিনায়কত্ব, পেশাদারিত্ব ও সৈনিকসুলভ অসাধারন গুন ও বৈশিষ্ট্যগুলো গোলাপ ফুলের মতোই সৌরভ ছড়াবে চতুর্দিকে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো জেঃ আতিকের মত সেনানায়কদেরই খুজেঁ নেবে অবলীলায়। তাঁর নেতৃত্বের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষত পেশাদারিত্ব হয়তো আগামী দিনেও থাকবে। জেনারেল আতিক আপনাকে বিদায়ী অভিবাদন। স্যালুট টু ইউ স্যার। পরম করুনাময় আল্লাহ্ আপনাকে বেহেশত নসিব করুন। [সমাপ্ত]

লেখক : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার, এনডিসি, (অবসরপ্রাপ্ত) গবেষক, bayezidsarwar792@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev