করোনা ভাইরাসের দাপট রাজ্যে কমে গেলেও টমেটো ফ্লু ও মাঙ্কি পক্স থেকে রেহাই পেতে আগাম সতর্ক থাকতে বললেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যে মাঙ্কি পক্স নিয়ে এ রাজ্যের সমস্ত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের এম.এস.ভি.পি-দের সতর্ক করল স্বাস্থ্য ভবন। রাজ্যের দুই স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. সিদ্ধার্থ নিয়োগী ও ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য এই সতর্কতা জারি করেছেন। অপরদিকে টমেটো ফ্লু চোখ রাঙাচ্ছে। এ থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডা. তন্ময় ঘোষ।
প্রসঙ্গত, টমেটো ফ্লু একটি বিরল ভাইরাল রোগ। এতে আক্রান্ত হলে শরীরে লাল রঙের ফুসকুড়ি হয়, ত্বকে জ্বালাপোড়া হয় এবং ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হয়। তাছাড়া এই রোগে শরীরে লাল রঙের যে ফোসকা তৈরি হয় তা অনেকটা টমেটোর মতো দেখতে। তাই নাম টমেটো ফ্লু।

তন্ময়বাবু জানান, টমেটো ফ্লু বর্তমানে শিশুদের মধ্যে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে, বিশেষ করে কেরলে এই রোগের প্রার্দুভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে বিভিন্ন রাজ্যে তা ছড়াচ্ছে। শুধুমাত্র পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এর লক্ষণগুলি হল চিকুনগুনিয়ার মতো। সংক্রমণ হলে বেশি জ্বর, শরীরে ব্যথা ও ক্লান্তি আসে। এছাড়াও ত্বকে জ্বালাপোড়া ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। বাচ্ছাদের পেট ফাঁপা, বমি এবং ডায়রিয়া হতে পারে। এর পাশাপাশি হাত ও হাঁটু ছাড়াও শরীরের কিছু অংশের রংও বদলে যেতে পারে। এই রোগের উৎস এখনো জানা যায়নি। এ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। এজন্য এর নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই।
মনে রাখতে হবে এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেইসঙ্গে পরিমাণমতো জল খেতে হবে। সংক্রমণ হলে সংক্রামিত জায়গায় আঁচড়ানো বা চুলকানো যাবে না। সংক্রামক রোগিকে আলাদা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে ডাক্তারের পরামর্শ মতো চলতে হবে।

এদিকে মাঙ্কি পক্স নিয়েও স্বাস্থ্যকর্তাদের চিন্তায় ফেলেছে। করোনা ভাইরাসের পরই এই ধরনের ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে রাজ্য জুড়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। যদিও ভারতে এখনো এই ধরনের রোগের প্রার্দুভাব না ঘটলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাডভাইসারি সমস্ত সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড, ইনডোর ও আউটডোরে টাঙাতে হবে। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর ভাইরাসের মাধ্যমেই ছড়ায় মাঙ্কি পক্স। মধ্য ওপশ্চিম আফ্রিকার বেশ কিছু জায়গায় এই রোগের দেখা মেলে প্রাণী থেকে মানুষ, মানুষ থেকে প্রাণী কিম্বা মাুনুষ থেকে মানুষ — তিন ভাবেই সংক্রমণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে পযর্ন্ত আমেরিকা, ইংলন্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা-সহ বেশ কিছু দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। সাধারণত সংক্রমণ হয় ত্বক, চোখ, নাক, শ্বাসতন্ত্র ও মুখ দিয়ে। প্রধান লক্ষণ হচ্ছে জ্বর, র্যাশ, লিম্ফনোডে সংক্রমণ। বাড়াবাড়ি হলে সেপসিস, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। অবশ্য ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে কমে যেতে পারে। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।