‘মা’ শব্দটা অনেক মমতা আর সম্মানের হলেও সেই মানুষটি অনেক সময় হারিয়ে যায় নিত্যনৈমিত্তিক সংসারের বেড়াজালে। মহাপুরুষ থেকে অতিসাধারণ মানুষের জীবনের সকল ভাবনায়, কর্মে, যাপনে সর্বাধিক প্রভাব থাকে মায়ের। অথচ মায়ের অবদান অনেক সময় থেকে যায় অন্তরালে। যদিও মায়ের স্নেহ ও ত্যাগ কোন স্বীকৃতির অপেক্ষা রাখেনা। তবুও যদি মায়েদের সম্মান জানানোর জন্য কোন বিশেষ দিন উদযাপন করা হয়… তবে ভালোই লাগে ‘ভালোবাসার মাতৃদিবস’ পালন করতে।
তথ্য বলে, আনা জার্ভিস নামে এক আমেরিকান মহিলা তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মরণে গির্জার সামনে উপাসনা করেছিলেন। সেই থেকেই মাতৃদিবসের সূচনা। ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সম্ভবত দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন করা হয় এই দিবস। আমাদের দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাতৃদিবস পালিত হয়।
প্রাচীন গ্রীসে নাকি গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেল-এর উদ্দেশ্যে পালন করা হত এইধরনের সন্মানিক উৎসব। প্রাচীন রোমানদের ম্যাত্রোনালিয়া নামে দেবী জুনোর প্রতি উৎসর্গিত আরো একটি ছুটির দিন ছিল, সেদিন মায়েদের উপহার দেওয়া হত।
আমাদের পুরাণে কথিত আছে, একবার কার্তিক ও গণেশের মধ্যে কে কত তাড়াতাড়ি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে আসতে পারে, সে নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। কার্তিক ঠাকুর ময়ূর বাহন নিয়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে বেরায়। ফিরে এসে দেখেন বিজয়ীর সন্মান পেয়েছে গণেশ। চটজলদি প্রদক্ষিণ করার কারণ হিসেবে জানা যায়, গণেশ তাঁর মা দুর্গাকে পৃথিবীজ্ঞানে প্রদক্ষিণ করেছেন। হয়তো সেদিন থেকেই সূচনা হয়েছিলো “মাতৃ-দিবসের” সূচনা।

বিজ্ঞান বলে, ডিম ও স্পার্মের নিষেকে যে ভ্রুনটি তৈরী হয়, তার মধ্যে মায়ের DNA থাকে একটু বেশী। কারণ mitochondrial DNA (maternal DNA) শুধু মা থেকে সন্তানে চলে যায়। এটাই প্রকৃতির বিধান। আর মায়ের শরীরের পুষ্টি নিয়ে নয় মাসে সেই ভ্রূণ হয়ে ওঠে পূর্ণ মানুষ।
ওটি-তে আচ্ছন্নতার মধ্যে আমার ছোট্ট ছানাটাকে যখন প্রথম দেখেছিলাম, মাতৃত্বের অনুভূতি পেলাম সেদিন। আনন্দে চোখটা ভিজে গেছিল, আমার কাছে সেটাই ছিলো ‘মাতৃদিবস’।
আজ সকালেই গলা জড়িয়ে হামি খেয়ে নিজের হাতে বানানো একটা কার্ড ধরিয়ে দিয়ে পুত্র বললো, ‘মাতৃদিবস আবার কী? রোজ-ই তোমার দিন, আমার দিন, আসলে আমাদের দিন। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের প্রতিটা দিনই মাতৃময়।
মায়ের মধ্যে থাকে অগণিত শক্তির সমন্বয়। সেই শক্তি প্রবাহিত হয় সন্তানের প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে। তবে এক্ষেত্রে স্বামীজীর সেই চিন্তা খুবই জরুরী, ‘liberty is essential for growth.’
বয়স বাড়ার সাথে সাথে সন্তানের স্বপ্ন, চাহিদা প্রভৃতি পরিবর্তন হতে থাকে। সেদিকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা আছে। এই নিয়ে একটা গল্প বলি :

ছেলের পাঁচ বছর বয়সে যখন বলে, ‘মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
মা (তখন বলে ) : ‘আমিও সোনা।’
ছেলে (বয়স পনেরো) : মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
মা : ‘কত টাকা লাগবে বল।’
ছেলে (বয়স পঁচিশ) : ‘মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
মা : ‘কোথায় থাকে, কী পড়ে/ করে? চিন্তা করিস না, বাবার সঙ্গে কথা বলে সবব্যবস্থা করে দেব।’
ছেলে (যখন চৌত্রিশ ): ‘মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
মা : ‘বলেছিলাম, ওকে বিয়ে করিস না।’
ছেলে (যখন পঞ্চাশ) : ‘মা ,আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
মা : ‘কোন কাগজে সই করতে হবে বল। ‘
….মা যে, সব বোঝে।
কাগজে পড়লাম ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘড়িয়া স্বর্ণময়ী বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মা পুজোর’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে মায়েদের সারিবদ্ধভাবে চেয়ারে বসিয়ে, মাটিতে মায়ের পায়ের কাছে বসে পা ধুয়ে মুছিয়ে দিয়ে শপথ করছে, ‘সারাজীবন মা-বাবাকে ভালোবাসব। তাদের দেখাশোনা করবো’। এরপর সন্তান মা কে ও মা সন্তানকে পায়েস খাইয়ে দেয়।

প্রধান শিক্ষক জানান যে, তিনি কোন পত্রিকায় পড়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ায় কোন বৃদ্ধাশ্রম নেই, আর সেখানে স্কুলে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা হয়। সেখান থেকে এই ধরনের অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত।
অনেকেই বলেন, বিদেশি উৎসবের নকল নাকি এই দিবস। যদি এইধরনের উৎসব পালন করলে ভালোকিছু শেখা যায়, কিছু আনন্দ দেওয়া যায় নিজের মানুষটাকে… তবে ক্ষতি কি!!
উপনিষদ বলে, ‘‘মাতৃ দেব ভব”, অর্থাৎ মা দেবী স্বরূপিনী, জীবন্ত ঈশ্বরী৷ সেই মায়ের শিক্ষা এবং সংস্কারের পুষ্টিকর ধারা সন্তানের মধ্যে এমনভাবে প্রভাবিত হোক যে মায়ের সন্মানে প্রতিদিন যেন হউক মাতৃদিবসের উদযাপন।।
তথ্যঋণ : বিভিন্ন বই ও নিউজ পোর্টাল।
Bhalo
ধন্যবাদ
Happy mother’s Day
Thank you and blessings ❣️
তোমার লেখা সবসময় একটা অন্য রকম,সবার থেকে আলাদা।।দারুন বন্ধু।।।।।
থ্যাংক ইউ????
সুন্দর চমৎকার ভালো প্রতিবেদন ভালোলাগা।
অনেক ধন্যবাদ জানাই