মাটির দাওয়ার ওপর গ্যাসের ওভেনটার দিকে তাকিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে ভুদি। গতবছর সরকার থেকে গ্ৰামের ঘরে ঘরে বিনিপয়সায় রান্নার গ্যাসের সংযোগ দিয়েছিল। ভুদি ভাবছে, “এ কেমন সরকার, একবার ছিলিনদার দিয়েই হাত গুটায়ে নিল! মোট্টে ভাবলোনিকো যে এই ছিলিনদার ফুরায়ে গেলে মানুষগুলান গ্যাসের চুলায় আগুনটা জ্বালবে কি করে!”
গত একটা বছর খানিক আরামেই কেটেছে ভুদির। ও সারাদিনে মাত্র একবারই গ্যাসের চুলা জ্বেলে চাল, ডাল, আলু একসাথে সেদ্ধ করে নিত। কোনো কোনোদিন তো এটুকুও জুটত না। আর আজ ঘরে গ্যাসও নেই, চালও নেই।
ঠিক এই সময়েই পানু কোত্থেকে একগোছা হিঞ্চেশাক এনে দাওয়ায় রেখে ছড়া কাটতে শুরু করল —
বাদার ধারে মাথা উঁচায়ে দাঁড়ায়ে ছিল হিঞ্চে
ঘেঁটি ধরে উঠায়ে তারে আনল পানু মিনসে
শাক বাছতে ভুদির দেখি কাঁকাল গেল ধরে
ব্যথার চোটে শাকের ভিতর লসুন দিল ঘষে
তবু ভুদি খুশি মনে রাঁধে, বাড়ে, দেয়
হিঞ্চেশাক প্যাটে দিয়ে পরাণডা জুড়ায়।
ভুদি খেঁকিয়ে ওঠে, “ইদিকে ঘরে একদানাও চাল নেই শুধু শাক দিয়ে হবেটা কি?”
“কি করি বল্, সেই সূয্যি ওটার সময় থেকে এ গাঁ সে গাঁ ঘুরে মরলুম কোথাও কোনো কাজ পেলুমনি রে। এই জষ্টির আগুন গরমে ইট্টু বেলা হলেই লোকজন ঘরের ভেতর সেঁদিয়ে যায়। আর কটাদিন কষ্টমষ্ট করে কাটাতে পারলেই বর্ষা এসে পড়বে; তখন আবার ক্ষেতে মুনিষের কাজ, বাড়ি বাড়ি ঘর ছাইতে জনখাটার কাজ পাওয়া যাবে।”
ভুদি বলে, “তোমার বাপ-পিতেমো বউরূপী ছেল। গেরামে কাজ না পেলে তো ইখান-সিখানে যেত বউরূপী সেজে। দুটো পয়সা আসত ঘরে। তা তুমি সে কাজটা হেলাছেদ্দা করতেছ।”
“সে কি আর সাধে করি! আজকাল বউরূপী দেকলে লোকে ভিকিরি ভাবে। মুকে এত এত রঙ মেখে নানারকম পোষাক গায়ে চাপিয়ে নানান হাসিমজায় লোককে আনন্দ দিয়ে তবেই তো আমরা দুটো পয়সার জন্যি হাত পাতি। আমাদের ময্যাদা নেই রে ভুদি।”
“দেখ, আমি অতশত বুজিনেকো। তবে এটুকু জানি একন লোকে চটকদার কিচু চায়। তা তুমি তো এত ভালো ছড়া কাটতে পার; ওই এক শিব, কালী না সেজে তারাসুন্দরী সাজলেই তো হয়! গেল শীতে আমাদের গাঁয়ে যে যাত্রাপালার দল এয়েচিল তাদের থেকে যে পুরোনো জামাকাপড়গুলো নিয়ে এয়েচিলে সেগুলোর ফাটাফুটো সব আমি সারাই করে রেকেচি। দশ গাঁয়ের নোক একনও তারাসুন্দরীর ছড়া শুনলে মজা পায়।
“ঠিকাচে, ঠিকাচে আমি না হয় তারাসুন্দরী বউরূপী হব; কিন্তু এই তারাসুন্দরী কে ছেল বল দিকিনি?”
“ওসব আমি জানিনেকো, ওই মা-তারা-টারা কিচু একটা হবে।”
“হ্যাঁ, সেটাও হতি পারে; আবার কেউ কেউ বলে নটী ছেল তারাসুন্দরী। মোটকথা ছড়া কাটতে তারাসুন্দরীর জুড়ি মেলা ভার। তা সে যাক্ গে, একন এই হিঞ্চেশাকটুকু রান্না কর দিকিনি। ওটুকু মুকে দিয়ে আজ আমি আবার বউরূপী হব। আর তুই এট্টা থলের ভেতর শিব-পাব্বতীর ডেরেসগুলানও ঢুকায়ে নে। আজ দুজনে একসাথে বেরুবো। আজ আমি হব তারাসুন্দরী। ঘরের দরজায় ভালো করে তালাচাবি লাগিয়ে দুজনে বেইরে পড়ব। তাপ্পর দেকি কপাল কোতায় নে যায়!”
গ্ৰামে গ্ৰামে তারাসুন্দরীকে ঘিরে ভিড় জমে যায়। পায়ে ঘুঙুরের তাল ঠুকে যখন মজাদার চটুল ছড়া বলে বহুরূপী, মানুষ হেসে লুটিয়ে পড়ে। টাকা-পয়সা, চাল-কলার সিধে পেয়ে ওরা খুশি হয়। ভুদি বলে, “চলো বাড়ি ফিরি।” কিন্তু পানুর তখন যেন রোখ চেপে গেছে। বলে, “না ভুদি, গেরামে থাকলে তো একন প্যাটে গামছা বেঁদে থাকতে হবে। তার চেয়ে চল্ টেরেনে চেপে শওরে যাই। কটাদিন না হয় শওরটারে দেকেই আসি।”
ট্রেনে নেচে গেয়ে ছড়া বলে রোজগার ভালোই হয় পানুর। ওরা এসে নামে শেয়ালদা স্টেশনে। ধরাচূড়ো ছেড়ে সুলভ শৌচালয়ে গিয়ে সাফসুতরো হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় প্ল্যাটফর্মেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওরা। ঘুরে ঘুরে একটা নিরিবিলি কোণ দেখে সেখানেই বসে পড়ে। সাথে থাকা মুড়ি চিবিয়ে জল গলায় ঢালতেই সারাদিনের ক্লান্তিতে পানুর দু-চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে। শুয়ে পড়ে ও। ভুদি বোঁচকাবুঁচকি আগলে ঠায় বসে থাকে। সকালের আলো ফোটার আগেই ট্রেনের শব্দ আর লোকজনের হাঁকডাকে পানুর ঘুম ভাঙে। প্ল্যাটফর্মের কলে হাতমুখ ধুয়ে ওরা চা খায়। পানু বলে, “আজ আর তারাসুন্দরী নয়, আজ আমি শিব আর তুই পাব্বতী।”
ভুদি হেসে ফেলে, “জম্মে বউরূপী সাজলুম নি, আর একন এই শওরে এসে বউরূপী সেজে ঘুরতে পারবুনি।”
পানু রেগে ওঠে, “দেক্ ভুদি, ভালো হবেনি বলচি। গতবার কত কষ্ট করে পাব্বতীর ডেরেস জোগাড় করেচি; চল্ আজ আমি তোরে সাজায়ে দি।”
মুখে মোটা করে রঙের প্রলেপ লাগিয়ে ভুদিকে পার্বতীর রূপ দেয় পানু। বাথরুমে গিয়ে পোষাক বদল করে ভুদি পার্বতী হয়ে ওঠে। ওদের দুজনের সাজগোজ শেষ হলে শিব-পার্বতী সামনে যে ট্রেন পায় সেটাতেই উঠে পড়ে।
আজ কামরায় কামরায় ঘুরে বেড়ালেও তেমন কিছু আয় হয় না। বরং কেউ কেউ বলে, জোয়ান-মদ্দ ভিক্ষে করতে লজ্জা করে না?
মন খারাপ হয়ে যায় ওদের। “সাবধান! বহুরূপীর বেশে এরা পাক্কা চোর।” এমন মন্তব্যও উড়ে আসে। চোখে জল আসে ভুদির। বলে, “বাড়ি চলো।”
পানু বলে, “ঠিক বলেছিস। এই শওর আমাদের জন্য নয়। চল্ সামনের ইস্টেশনে নেমে পড়ি। তারপর ফিরতি টেরেনে শেয়ালদা। সেখান থেকে আবার টেরেন ধরে বাড়ি যাব।”
ওরা নেমে পড়ে পরের স্টেশনে। এ জায়গার নাম ওরা জানে না, কিন্তু বড়ো বড়ো গাছের ছায়াঘেরা প্ল্যাটফর্মটা ওদের বেশ ভালো লাগে। বড় নির্জন জায়গা। টিকিট কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারে শেয়ালদা যাওয়ার ট্রেন আসতে ঘণ্টা দেড়েক দেরী আছে। প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ওরা দাঁড়িয়ে পড়ে চারদিক দেখতে থাকে। ভুদি বলে, “এ যেন অনেকটা আমাদের গাঁয়ের মতো। টেরেনের তো একন অনেক দেরী আচে। চলো না চারপাশটা এট্টু দেকে আসি।”
মাথার ওপর খাঁ খাঁ রোদ নিয়ে ওরা পায়ে পায়ে এগোতে থাকে। কালো পিচের সোজা রাস্তার দুপাশে নেমে গেছে লালমাটির পথ। সেই পথের দুধারে চাষের জমি। ফসল উঠে গেছে। মাঠ এখন ফাঁকা। হঠাৎ চোখে পড়ে লালমাটির পথের শেষপ্রান্তে একটা ছোট্ট মন্দির। পানু বলে, “চল্ ভুদি, ওই মন্দিরে বসে এট্টু জিরেন দে নিই।”
মন্দিরের কাছাকাছি আসতেই ভেতর থেকে ঘণ্টাধ্বনি, শাঁখের আওয়াজ কানে আসে। ওরা এসে মন্দিরের দরজায় দাঁড়ায়। ভেতরে শ্বেতপাথরের হর-গৌরী মূর্তি; পুরোহিতমশাই পুজো করছেন। একজন বৃদ্ধা হাতে হাতে সবকিছু এগিয়ে দিচ্ছেন। পুজো শেষ হতেই পানু বলে ওঠে, “হর হর মহাদেব।” চমকে পিছনে তাকান বৃদ্ধা। এ যে স্বয়ং মহাকাল, সাথে শিবানী। আকুল হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। বলেন, “দেখুন পুরোহিতমশাই, আজ ঈশ্বর নিজেই এসেছেন আমার কাছে। হাতজোড় করে উঠে আসেন বৃদ্ধা; “আমার সকল কর্মের পুণ্যফলে আজ তোমাদের দেখা পেয়েছি ঠাকুর। তোমরা এস আমার ঘরে।” বৃদ্ধা প্রণাম করতে উদ্যত হলে পানু, ভুদি ভ্যাবাচ্যাকা খায়। পানু ওনার হাত ধরে বলে, “মা জননী, আমরা হলুম গে বউরূপী। এসব তো আমাদের ভেক্। আমি হলুম গে পানু আর ও আমার বউ ভুদি। আমরা একনি চলে যাব, টেরেন ধরার তাড়া আচে।”
বৃদ্ধা কেঁদে ফেলেন। বলেন, “সে তো যাবেই ঠাকুর, আমাকে ফেলে যে একে একে সবাই চলে গেছে। আমি যে বড় একা ঠাকুর। আজ আমার দুয়ারে তোমরা স্বয়ং ঈশ্বর হয়ে এসেছ, তোমরা কি এই অভাগীর জন্য দুটো দিন থেকে যেতে পার না?
পুরোহিতমশাই এতক্ষণ ধরে সব কথাই শুনছিলেন। পুজো সেরে সবকিছু গুছিয়ে মন্দির থেকে বেরোনোর সময় বলেন, “উটকো মানুষকে ঠাঁই দেওয়া কি উচিৎ কাজ হবে মা? তাছাড়া আপনার ছেলের কানে গেলে সে রাগ করতে পারে।”
ছেলের কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন বৃদ্ধা, “যে ছেলে বছরে একবারও আমার কাছে আসতে পারে না তার রাগের তোয়াক্কা আমি করি না ঠাকুরমশাই।” পুরোহিতমশাই আর কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে যান।
পানু বলে, “আপনাকে তো বললুম আমরা হলুম গে বউরূপী; কোনো ভগবান-টগবান নই গো। আমাদের যেতে দেন মা-জননী।”
“হ্যাঁ বাবা, বহুরূপের ভেতর দিয়েই তো ঈশ্বর আসেন আমাদের কাছে। তাঁকে চিনে নিতে হয়। আমার আসনের হরগৌরী কে যে আজ তোমাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।” বৃদ্ধা আঁচলে চোখ মোছেন।
পানু অসহায় দৃষ্টিতে ভুদির দিকে তাকায়। মনে মনে ভাবে, আচ্ছা গ্যাঁড়াকলে পড়লুম। বৃদ্ধার কথায় ভুদির মনটা কেমনযেন নরম হয়ে ওঠে। পানুকে বলে, “দেখো, মহাদেবই তো আমাদের এতটা দূরে টেনে নে এয়েচে। মা জননীর কতায় আজকের রাতটা না হয় একেনেই কাটায়ে দিই।”
বউয়ের কথায় নিমরাজী হয় পানু। বলে, “ঠিকাচে মা জননী। তবে আমরা কিন্তু আপনের ভিতর বাড়িতে যাবুনি। একেনে এই মন্দিরেই রাতটা কাটায়ে দেব।”
বৃদ্ধা হাতে যেন আকাশের চাঁদ পান। ব্যস্ত হয়ে বলেন, “তাই হবে ঠাকুর, তোমাদের যেমনটি ইচ্ছা। আর উঠোনের ওধারেই কুঁয়োতলা আছে। তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। ভুদি বলে, “মা জননী আমার একখানা কতা আছে। আমাদের খাবার আমরা নিজেরাই বানিয়ে নেব। সঙ্গে চাল-ডাল আচে। আপনি যদি একটা পাতিল দেন তাইলে ভালো হয়।”
বৃদ্ধা কাতর গলায় বলেন, “তোমাদের সেবা করার সুযোগটুকু দেবে না?”
পানু হাসে, “এমনভাবে বলবেন না মা জননী। এই মন্দিরের হরগৌরীর সামনে দাঁড়াতে পেরে আমাদের জীবন ধন্য হয়ে গেছে। আর কিচুই চাইনা মা। এই উটোনেই কাটকুটো জ্বেলে আমরা খাবার বানিয়ে নেব। আপনি চিন্তা করবেন না।”
বৃদ্ধা দুহাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে বলেন, “ওপরওয়ালা যেমনটি চাইবেন তেমনটিই হবে।”
***
দু-তিনদিন কেটে গেছে। রোজ যাই যাই করেও বৃদ্ধার কথায় আটকে যায় ওরা। এদিকে পুরোহিতমশাই রাগে জ্বলতে থাকেন। এতদিন ধরে ঠাকুরের নিত্যসেবার ফল-মিষ্টি পুরোটাই বৃদ্ধা ওনাকে দিয়ে দিতেন। এখন ভাগ বসাচ্ছে দুই বহুরূপী। মনে মনে প্যাঁচ কষতে থাকেন পুরোহিতমশাই।
এ ক’দিন রোজ সকালবেলাতেই পানু আর ভুদি হরগৌরীর বেশ ধরে মন্দিরের ঠাকুরের সামনে নাচগান করেছে। আশপাশের মানুষজন ওদের দেখতে এসেছে। মজা পেয়েছে। বৃদ্ধাও খুব খুশি।
সেদিনও সকালে নিত্যপুজো হয়ে যাওয়ার পর যখন বহুরূপী হরগৌরী তাদের সংসারের খুঁটিনাটি নিয়ে গান ধরেছে তখনই এক বিষম চিৎকারে থেমে যায় ওরা। বৃদ্ধা বিস্ময়ে বলে ওঠেন, “একি অরূপ তুই? আজ এতগুলো বছর পর!” তারপরই পুরোহিতমশাইয়ের দিকে তাকান। পুরোহিতমশাই বিনাবাক্যব্যয়ে কোনোদিকে না তাকিয়ে নিজের প্রতিদিনের প্রাপ্যটুকু থলেয় ভরে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যান।
বৃদ্ধা এগিয়ে গিয়ে পানু আর ভুদির হাত ধরে বলেন, “দেখেছ ঠাকুর, তোমরা এসেছ বলেই আজ আমার বাড়িতে এত মানুষের আনাগোনা।” ওদের হাত ধরে অরূপের সামনে নিয়ে আসেন। বলেন, “এই হল আমার ছেলে অরূপ। দেখ, তোমাদের কৃপাতেই আজ চার বছর পর আমি আমার ছেলের মুখ দেখতে পেলাম। আমার আঁধারপুরী তোমরা আলোয় ভরিয়ে দিলে গো। আমি ধন্য।”
এসব কথায় অরূপ বিরক্ত হয়, “আঃ মা! পুরোহিতমশাই ফোন পেয়েই বুঝেছি যে তুমি কি ভীষণ বিপদের মধ্যে আছ। এখনই এদের না তাড়ালে এইসব হাড়হাভাতের দল একদিন তোমাকে খুন করে এখানেই মৌরসীপাট্টা গেঁড়ে বসবে।”
পানু বলে, “এসব কি কতা বলচো বাবা!”
অরূপ বহুরূপীদের দিকে তাকিয়ে হুঙ্কার দেয়, “এই মুহূর্তে বেরিয়ে যাও তোমরা। তোমাদের চাল ভালোই জানা আছে।”
এমন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধা হকচকিয়ে যান। বলেন, “হ্যাঁ রে অরূপ, হঠাৎ কি হল তোর? এখানে তো বছরের পর বছর আসিস না; আজকাল ফোনও করিস কালেভদ্রে, তা আমার প্রতি হঠাৎ এত দরদ কেন রে? নাকি সম্পত্তি আগলাতে এসেছিস?”
অরূপ উত্তেজিত হয়ে বলে, “আমি কোনো কথা শুনতে চাইনা মা। আগে এই ভিখিরিগুলোকে বিদায় করো।”
পানু, ভুদি হাতজোড় কর বলে, “বিদেয় দেন মা-জননী। আমাদের বহুরূপীদের জেবন মাটে-ঘাটেই কাটে। এ জেবন একজায়গায় থিতু হওয়ার নয় গো।”
বৃদ্ধা কোনো কথা বলতে পারেন না। তাঁর তুবড়ে যাওয়া গালে জলের ধারা।
মন্দির ছেড়ে লালমাটির রাস্তায় নামে বহুরূপী।
পায়ে হেঁটে ফিরে চলে ভগবান।।
খুব ভালো লাগলো। বিশেষতঃ শেষ লাইনটি মনে ধাক্বা দিয়ে গেল।
অনবদ্য!মন ছুঁয়ে গেল
ভালোলাগায় খুব খুশি । অসংখ্য ধন্যবাদ❤️❤️
খুব ভালো লাগলো ছোট গল্পটা পড়ে।
অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপনাকে
গল্পটি ভালো লাগায় খুব খুশি। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপনাকে????
Splendid! Highly commendable piece of fiction.So thought provoking from start to finish.