ভাঙ্গাচোরা একচিলতে ঘরে ঠাঁই দম্পতির। সভ্যতার আধুনিকীকরণে শহর হতে গ্রামে আজ অনায়াসে মাথা তোলে উঁচু উঁচু একতল কিংবা দ্বিতল ইমারত। ঠিক তার পাশেই যে কঙ্কালসার ছবিটা চাপা পড়ে গেছে তা অকপটেই বলা যায় ময়নাগুড়ির এক অসহায় দরিদ্র দম্পতির করুন দৈন্যদশা দেখলে। ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জলদানের পাড় এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর বরুণ রায়। গত কয়েক বছর থেকে স্থায়ী ভাবে থাকেন নিজের গ্রামেই। সেখানেই একচিলতে ঘরেই ঠাঁই হয়েছে চারটি প্রানের। নেই কোনো শোওয়ার বিছানা। মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে ভাঙ্গা ঘরেই দিনাতিপাত করছেন ওই অসহায় দম্পতি।
সম্প্রতি পরকীয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এক মহিলার চুল কেটে মারধর করেছিল স্থানীয়রা। মহিলার স্বামীকেও গাছে বেঁধে রেখে মারধোর করা হয়। ঘটনার ভিডিয়ো নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেধগুড়ি এলাকায়। অভিযোগের পর বুধবার বসানো হয় সালিশি সভা। সেখান থেকেই স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন ওই মহিলা। তখনই ওই গ্রামের মহিলাদের একাংশ স্বামীকে গাছে বেঁধে মহিলার উপর চড়াও হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেছেন, ‘ময়নাগুড়ি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।’
এদিকে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। রোদ ঝড়-বৃষ্টিকে হার মানিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। নেই জলের ব্যাবস্থা, নেই শৌচাগার। মানুষের বাড়ি থেকে ড্রামে জল ভরে এনে স্নান-খাওয়া-বাসান মাজা থেকে শুরু নিত্যদিনের কাজ করছেন এভাবেই। বাড়ির ছোট্ট পরিসরে অভাব বড়ই নিত্যসঙ্গী। ফলে রান্নার যায়গাটুকুও নেই তাদের। ঘরের সামনের এক যায়গায় খোলা আকাশের নিচেই চলে রান্নাবান্না। এই পরিস্থিতিতেও ছোট্ট ফুটফুটে দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি।
উল্লেখ্য বরুণ রায় দীর্ঘ কয়েক বছর মরোঙ্গাতে শশুরবাড়িতে থাকতেন। সেখানেই ভোটদান করতেন। রেশন কার্ডও রয়েছে সেখানে কিন্তু গত চার বছর আগে পূনরায় নিজের গ্রামে বসবাস শুরু করেন তারা। তাই এখনো এখানে রেশন কার্ড কিংবা ভোট না ওঠায় বঞ্চিত থেকেছেন সরকারী পরিষেবাগুলি থেকে। একদিকে বর্তমানে নেই থাকার যায়গা অন্য দিকে করোনা পরিস্থিতি কোপ বসিয়েছে কাজে। এই দুইয়ের মাঝে পড়ে চরম সংকটে পড়েছে পরিবারটি। তাই কিভাবে দুবেলা দুমুঠো খেতে পেয়ে বেঁচে থাকবেন তা নিয়ে চিন্তিত তারা। শুক্রবার ওই অসহায় পরিবারের খবর পেয়ে সহযোগিতার জন্য পৌঁছে যায় ময়নাগুড়ির প্রয়াস সাথী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। চাল-ডাল-ডিম-সয়াবিন-লবন-তেল-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যাবতীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। এই কঠিন সময়ে তাদের সহযোগিতা পেয়ে হাঁসি ফুটেছে ওই পরিবারটির মুখে। তবে এসবেও তাদের কাছে যথেষ্ট নয়। যদি কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সরকারিভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় তবে আর পাঁচটা পরিবারের মতোই বেঁচে থাকতে পারবে অসহায় পরিবারটি।