১৫৭৫ মুঘল মহিলাদের হজ্ব অভিযান এবং মুঘল-উসমানিয় [অটোমান] আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
[আকবর সম্রাটের সময়ে প্রথম মহিলাদের সাধারণ মানুষের চোখের বাইরে নিয়ে যাওয়া হল। অথচ কাবুলে বসবাসের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে হুমায়ুনের বোন গুলবদন বানু বেগম লিখছেন ‘তখনও মহিলাদের জেনানার অন্দরে ঢাকাঢুকি দিয়ে রাখার চল হয় নি— তাঁরা প্রাসাদের বাইরে বাইরে পিকনিকে যেতেন, শিকার দলের সঙ্গে আনন্দ করতেন, তীরান্দাজি করতেন, বন্দুক চালাতেন। আকবরের সময়ের আগে আদিবাসী মুঘল মহিলারা বাবরের সঙ্গে একসঙ্গে মদ্যপান করতেন। বাবরের সঙ্গে এক মদ্যপায়ী চরিত্রের নাম হুলহুল অনিকা। রুবিলাল নুরহাজান বইতে লিখছেন -In 1519, when Babur, the first Mughal, was camped with his cavalcade near Kabul, a woman named Hulhul Anika, a member of the royal entourage, visited his tent and had a drink with Babur and his men। আমরা আগেই বলেছি হুমায়ুনের বিবাহে শিরদাঁড়াওয়ালা ভাবি স্ত্রীর প্রথমে হুমায়ুনকে মেনে না নেওয়ার অকথিত কাহিনী। হুমায়ুন বিয়ের কথা পাড়লে বিবাহযোগ্যা কন্যাটি বললেন Oh yes, I shall marry someone; but he shall be a man whose collar my hand can touch, and not one whose skirt it does not reach আমি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাই যার কলার আমি ধরতে পারি, কিন্তু এমন কারোর সঙ্গে বিবাহিত হতে চাই না যার পরিধেয়র ঘের আমি ছুঁতে পারব না (হুমায়ুনের সঙ্গে বিয়ের কথায় দ্বিধান্বিত হামিদা বানু বেগমের মন্তব্য, বেভারিজের অনুবাদে গুলবদন বেগমের হুমায়ুননামা থেকে)। কিন্তু এত সব পূর্ব-মুঘল ইতিহাস অস্বীকার করে ফতেহপুর সিক্রিতে আকবর এই প্রথম মুঘল স্থাপত্যে মহিলাদের জন্যে আলাদা বসবাসের জায়গা তৈরি করলেন। ক্রমশ শাহী মহিলারা সাধারণ মানুষের দৃষ্টির বাইরে চলে যেতে থাকলেন, এবার থেকে তাদের সতীত্বের পরাকাষ্ঠা, সতীত্বের চূড়া হিসেবে বর্ণনা করা হল। কিন্তু বেশ কয়েকবার শাহী পরিবারের মহিলা সদস্যরা নিজেদের পরিচিতি তৈরি করতে আকবর জেনানার চারপাশে যে খড়ির গণ্ডির দাগ টেনে প্রকাশ্যে বেরোবার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, সেই ক্ষমতা, সেই আরোপিত পর্দা প্রথা অস্বীকার করেছিলেন। তেমনই এক প্রচেষ্টা ছিল গুলবদন বানু বেগমের নেতৃত্বে জেনানার মহিলাদের ১৫৭৫-এ হজ্বে যাত্রা — যে বছর আকবর সেনা নিয়ে বাংলা অভিযানে বেরোবেন।
তবে এর আগেও শাহী মহিলারা হজ্বে গিয়েছেন — এমন কী গুলবদন বানু বেগম তার বৌদিদি, হুমায়ুনের স্ত্রী বেগা বেগমের সঙ্গে দশ বছর আগে হজ্ব করতে যান। হয়ত সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে, আকবরের তৈরি করা জেনানা মহলের লক্ষ্মণের গণ্ডি অতিক্রম করে বিপুল মহিলা দল নিয়ে পুরুষ বর্জিত হজ্ব অভিযান পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে। সেই পরিকল্পনা অনুসারে, ১৫৭৫-এর শাহী পুরুষ সদস্য বর্জিত হজ্ব অভিযানে নেত্রী গুলবদনের সঙ্গে বিখ্যাত মহিলাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সালিমা সুলতানা বেগম (মৃত বৈরাম খানের বিধবা, আকবরের চতুর্থ স্ত্রী, আবদুল রহিম খানইখানানের মা), সুলতানম (আকবরের কাকা আসকরির বিধবা, কাবুলে শিশু আকবর কাকাদের হাতে জিম্মি থাকার সময়, তিনিই তাঁকে সারাক্ষণ আগলে রেখেছিলেন), হাজি এবং গুলজার বেগম (গুলবদনের দুই সৎ ভাইঝি), উম কুলসুম(গুলবদনের নাতনি), এবং সেলিমা খানম (খিজির খ্বাজা খানের কন্যা)। এরা ফতেহপুর থেকে যাত্রা করেন ১৫ অক্টোবর ১৫৭৫। মক্কায় পৌঁছন ১৫৭৬-এর ১৭ অক্টোবর। সেখানে সাড়ে তিন বছর কাটান। চারবার হজ্জ্ব করেন। ফেরার পথে জাহাজ ভেঙে পড়ে। শেষে তারা ১৫৮২-র মার্চে ফেরেন। এই যাত্রায় পেশাদার ছাড়া গুলবদন কোনও পুরুষ সঙ্গী নিতে অস্বীকার করেন। অথচ আকবর যে মহিলাদের ওপর নির্ভর করতেন না এমন নয়। ১৫৭০-এ আকবর সৎভাই মির্জা হাকিমের সিংহাসন দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছেন, দিল্লি প্রদেশের দায়িত্ব মা হামিদা বানু বেগমের ওপর ন্যস্ত করে! এর ৮ বছর পর ১৫৭৮এ একজনও শাহী পুরুষ সদস্য না নিয়ে, শুধুই ২০০ শাহী জেনানার মহিলা সদস্য নিয়ে হুমায়ুনের বোন গুলবদন বেগম হজ্বে যাচ্ছেন। রাস্তায় সমস্ত ঝামেলা সামলেছেন গুলবদন — যাওয়ার সময় গুজরাটে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, পর্তুগিজদের সঙ্গে কার্তেজ পাওয়া নিয়ে লড়াই করতে হয়েছে, মক্কা-মদিনায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তেড়ে বারবার ঝগড়া করতে হয়েছে, ফেরার সময় সমুদ্রে জাহাজ ভেঙে পড়েছে, এতসব করেও তিনি গোটা বাহিনীকে সালামত ফিরিয়ে আনেছেন আগরায়। এ দুটি ঘটনাকে যথোপযুক্ত সম্মান দিয়ে ইতিহাসে বিচার করা হয়েছে? দু-একজন বাদে কেউই আলোচনাও করেন নি, মূল্যায়নও করেন নি — শুধু উল্লেখ করেগিয়েছেন, কোথাও কোথাও উল্লেখটুকুও নেই]
আকবর তখন সিংহাসনে ওঠেন নি, ১৫৫৫-য় হুমায়ুনের মৃত্যুর ঠিক আগে উসমানিয় সাম্রাজ্যের নৌসেনাপতি সিদ্দি আলি রইস, পারস্য উপসাগরে জাহাজ দুর্ঘটনা সূত্রে দিল্লি দরবারে আসেন। তাঁকে দিল্লিতে বিপুল সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী খানইখানান বৈরাম খান ১০০০ সেনানী ৪০০ হাতির বাহিনী নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। তাকে জায়গির দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু রইস প্রত্যাখ্যান করেন। দরবারে তিনি জানান তার সম্রাটের প্রতি শ্রদ্ধাবশত অবিশ্বাসী চিনা সরকার তুর্কি ব্যবসায়ীদের সুলতানের নামে খুৎবা পড়ার অনুমতি দিয়েছেন। রইস বলেন একমাত্র উসমানিয় সাম্রাজ্য প্রধান পাদশা উপাধি বহনের অধিকারী। হুমায়ুন উসমানীয় সুলতানকে খলিফা এবং উচ্চগুণান্বিত সুলতান নামে অভিহিত করে, সিদ্দির হাত দিয়ে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে আরও যোগাযোগ বাড়াবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সিদ্দি সেই কূটনৈতিক চিঠি নিয়ে দেশে ফিরে যান।
রইসের দেশে ফেরার আগেই হুমায়ুনের মৃত্যু হয়। ক্ষমতায় আসেন জালালুদ্দিন আকবর। বাবার তৈরি করা উসমানীয় সাম্রাজ্য দৌত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তার খুব একটা ছিল না। তার প্রথম চিন্তা ছিল সাম্রাজ্য রক্ষা,সাম্রাজ্য বিস্তার, বাবার সময়ের আমীর এবং অন্যান্য ক্ষমতাশালীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরোনো। তিনি কান্দাহারের মুঘল কেল্লাটি পারসিকদের হাতে অর্পণ করেন। সুলতান সুলেইমান আকবরের এই পদক্ষেপে মর্মাহত হন। তিনি হুমায়ুনের চিঠির উত্তরও দেন না বা রাজকীয় দৌত্যও মুঘল সাম্রাজ্যে পাঠলেন না। মুঘল-উসমানিয় আঁআতের উদ্যম ঠাণ্ডাঘরে চলে গেল।
ইতিমধ্যে ভারত মহাসাগর এবং ভূমধ্যউপসাগরে সমুদ্রে পর্তুগিজদের উপস্থিতি সূত্রে উসমানীয় হজ্বে যাওয়া এশিয় তীর্থযাত্রীদের ওপর জুলুম অর্থ আদায় ইত্যাদি উসমানিয় সাম্রাজ্যের মাথাব্যথার কারন হয়ে ওঠে। সুমাত্রার মুসলমানেরা সুলতানকে সুবিচার প্রার্থনা করে চিঠি লেখে। ১৫৬০-এ ফরমান জারি করে সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীকে তৈরি রাখা হল। সুলেইমানের উত্তরাধিকারী দ্বিতীয় সেলিম মিশরের প্রশাসককে চিঠি লিখে ভারতবর্ষ থেকে আসা হজ্ব যাত্রীদের নিরাপত্তাবিধানের নির্দেশ দিলেন। ভারতবর্ষ থেকে পর্তুগিজদের উচ্ছেদ করতে তিনি বদ্ধ পরিকর হন। লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে সুয়েজ এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি খাল খননের নির্দেশ দিলেন। কাজটা সম্পন্ন হলে বিশ্বঅর্থনীতির মোড় অন্যদিকে ঘুরে যেতে পারত। পরিকল্পনাটি নিয়ে উসমানীয় নথিপত্রে আর কোনও উচ্চবাচ্য দেখা যায় না। ১৫৬৯-এ উসমানিয়দের উদ্যোগে রুশিদের হাত থেকে তীর্থযাত্রীদের বাঁচাতে ডন-ভোলগা খালের মত সুয়েজ খালের প্রকল্পও বিশবাঁও জলে পড়ল।
১৫৬৮-তে উসমানীয় নথিতে রাজসভায় পৌঁছনো এক হিন্দুস্তানের দূতের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে। দূতের নাম বা উদ্দেশ্য কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি যে মুঘল সাম্রাজ্য থেকে এসেছিলেন তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। মুঘল দরবারে এধরণের নথিও পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫৮০ থেকে আকবরের সঙ্গে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরোধ শুরু হয় হজ্ব তীর্থযাত্রীদের ইস্যুতে। মুঘল জেনানার গুলবদন বেগম, সেলিমা সুলতানা বেগম এবং আরও বহু নারী হজ্ব যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ১৫৭৫-এ অক্টোবরে শাহী মহিলারা ফতেহপুর সিক্রি ছাড়লেন। সুলতান খাজা নক্সবন্দীকে মীর হজ্ব বা হজ তীর্থ যাত্রার নেতা নিয়োগ করা হল। বাহিনী গুজরাটে পর্তুগিজ কার্তেজের জন্যে এক বছর অপেক্ষা করে ১৫৭৬-এ তুর্কি জাহাজে বাহিত হয়ে হজ্বে পৌঁছন এবং সেখানে চার বছর কাটিয়ে ১৫৮২-তে মুঘল হিন্দুস্তানে ফেরেন।
কিন্তু মুঘল মহিলা এবং মুঘল বাহিনীর দীর্ঘকাল উসমানীয় রাজত্বে থাকা নিয়ে মুঘল-উসমানিয় সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। ১৫৭৮-এ সুলতানকে মক্কা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় মুঘল মহিলা এবং তাদের সঙ্গে আসা বিশাল বাহিনী মক্কাতে অবস্থান করছে। তাদের কাজকর্ম স্থানীয়দের মাথাব্যথার কারন হয়ে উঠছে। কিন্তু বৈদেশিক বিষয় বলে তারা পদক্ষেপ নিয়ে ইতস্তত করছেন। সুলতান মক্কার প্রশাসককে নির্দেশ দেন হজ্ব শেষ হলেই মহিলাসহ মুঘল বাহিনীটি যেন অবিলম্বে দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। একই নির্দেশ দেওয়া হয় মদিনার প্রশাসককেও। দুবছর পরে মিশরের পাশা জানতে পারলেন ভারতের রাজা জালালুদ্দিন আকবরের পাঠানো সাদাকত দান [ভিক্ষা] হারেম শরিফে বিতরন করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ মান্য করে তখনও মুঘল মহিলারা মুঘল হিন্দুস্তানে ফেরত যান নি। তীর্থস্থানগুলোয় দানের মত নানান অশরিয়তি (নামেশ্রু) কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। সুলতান দুই শহরের প্রশাসককে ফরমান পাঠিয়ে সেখানে হিন্দুস্তানের মহিলাদের আকবরের নামে দান দেওয়ার অশরিয়তি কাজকর্ম বন্ধ করার কড়া নির্দেশ জারি করেন এবং যততাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের ভারতবর্ষে প্রত্যার্পণেরও নির্দেশ জারি করেন। একই নির্দেশ দেওয়া হল মক্কা, মদিনা আর জেড্ডার প্রশাসকদের।
সম্রাট আকবরের দান পাঠানোকে অইসলামি দাগিয়ে দেওয়ার ভাবনাটা সে সময়ের রাজনীতি থেকে উদ্ভব ঘটেছে। আকবরের রাজত্বে ঘটে চলা নানান ঘটনায় উসমানীয় সম্রাট তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন। বাদাউনি বলছেন আকবরের কিছু পদক্ষেপ বিশ্বাস এবং বিশ্বাসীকেই আঘাত করছিল। মুঘল মহিলারা যখন মক্কায় হজ্ব করছেন, সে সময় আকবর বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেন। ১৫৭৯-এ শেখ মুবারককে দিয়ে আকবর একটি নথি খসড়া করান এবং তাতে উলেমা স্বাক্ষর করেন। এই নথিতে বলা হল আকবর পাদিশাইইসলাম এবং তার সময়ের মুজতাহিদ (যিনি ইসলামের ধার্মিক আইন ব্যাখ্যা করেন)। তাঁকে শারিয়ার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া হল। সেই বছরেই তিনি নিজের নামে খুতবা পড়লেন। একই সঙ্গে আকবর উসমানীয় সুলতানকে ইসলামি জগতের এবং উপমহাদেশের মুসলমানদের একমাত্র নেতা মানতে অস্বীকার করলেন। তিনি শাহী প্রাসাদের আশেপাশে আজান নিষিদ্ধ করলেন। ‘আল্লাহু আকবর’ শব্দবন্ধটি উলেমা দ্বর্থকভাবে ব্যবহার করল। যদিও এর মানে ‘ঈশ্বর মহান/সর্বশক্তিমান’, কিন্তু এখানে ব্যাখ্যা হল, সম্রাট ‘আকবরই সর্বশক্তিমান’। ততদিনে তিনি ইবাদতখানা তৈরি করেছেন নতুন রাজধানী ফতেহপুর সিক্রিতে। দিনইইলাহি নামে একটা ধর্মমতের প্রবক্তা হিসেবে আকবরের নাম চাউর করা হয়েছে, কিন্তু আবুল ফজলের ইতিহাসে এই ধর্মমতের উল্লেখ নেই। মুঘল দরবার থেকে মক্কায় নির্বাসন দেওয়া সুলতান আবদুল নবি এবং মুল্লা আবদুল্লা সুলতানপুরীও আকবরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিলেন। শেষ অবদি নানা টানাপোড়েন সহ্য করে শাহী মহিলারা ১৫৮২-তে মুঘল সাম্রাজ্যের ফিরে আসেন। তাদের অভিজ্ঞতাও সম্রাটকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এর পর থেকে মক্কায় শাহী দান পাঠানো বন্ধ করা হল এবং মক্কা শরিফের সঙ্গেও সমস্ত সম্বন্ধ চ্ছিন্ন করা হয়। উসমানিয়-মুঘল সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকল।
১৫৮২-তেই আকবর উসমানীয় সাম্রাজ্য্যের বিরুদ্ধে মুঘল-পর্তুগিজ অভিযানের ভাবনা ভাবতে থাকেন। সৈয়দ মুজফফর, আবদুল্লা খান এবং জেসুঈট সন্ত ফাদার মনসায়ের্ত লিসবন গেলেন দ্বিতীয় ফিলিপের সঙ্গে সম্ভাব্য আক্রমণের পরিকল্পনা করতে ১৫৮২-র গ্রীষ্মে। গোয়ার রাস্তায় কিছুদূর গিয়ে অভিযানে অনিচ্ছুক সৈয়দ মুজফফর পালিয়ে গেলেন দক্ষিণে। আবদুল্লা খান আর ফাদার মনসায়ের্ত গোয়ায় পৌঁছলেন। কিন্তু কোনও এক অজানা কারনে তারা আবার দরবারে ফিরে আসেন। (চলবে)