| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইফতিতাইসুলতানিওয়াশুল-ই-কুল : আকবর এবং আওরঙ্গজেব (একাদশ কিস্তি) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২৭৬ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

১৫৭৩ সামরিক ব্যবস্থাপক এবং নির্দেশক [ইরা মুখুটির ৯৩-৯৬ পাতায় প্রেক্ষিতটা বলা আছে]

[গুজরাটের আহমেদাবাদে বিদ্রোহ দমনে আগরা থেকে ১৫৭৩-এর সেপ্টে-অক্টোবরে একাদিক্রমে মাত্র ১১ দিনের মাথায় সেনা বাহিনী নিয়ে গুজরাটে পৌঁছনোর বিষয়টি মোটামুটি অনেকেই জানেন। মুঘল বাহিনীর মন্থরতার ধারণা সম্রাট আকবর খানখান করে দেন। ১৫৮৪-৮৫-তে ব্রজেন্দ্রনাথ দে’র অনুবাদে শেষ বয়সে গুজরাটের মুঘল বক্সী পদে বৃত হওয়া নিজামুদ্দিন আহমেদ-এর তবাক-ই-আকবরি থেকে ঘটনাটা নেওয়া। নিজামুদ্দিন যদিও আকবরের সঙ্গী ছিলেন না, কিন্তু সমসাময়িক লেখক হিসেবে তাঁর এই ঘটনা সম্পর্কে খুঁটিনাটি জ্ঞান থাকাই স্বাভাবিক]

[আহমেদাবাদের] খান-ই-আজমের জরুরি [সামরিক] সাহায্য চাওয়ার আবেদনক্রমে মহামহিম সামরিক যাত্রার অনুমোদন দিলেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর, আমলাদের এই অভিযান সফল করার জন্যে শীঘ্র রসদ ইত্যাদি যোগাড় করার জন্যে জরুরি নির্দেশ পাঠালেন। [গুজরাটে] পূর্ব অভিযান করতে অন্তত এক বছর সময় লেগেছিল। যুদ্ধ শেষ করে ফেরার সময় প্রায় কপর্দকহীন ক্লান্ত সেনা বাহিনী বিভিন্ন মুঘল জায়গির থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের পথ রসদের সমস্যা সমাধান করেছে। এবারের অভিযানে পুরোনো অভিযানের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি খাজাঞ্চিখানা থেকে শাহী বাহিনীর জন্যে খোলা হাতে মাইনে এবং সাম্মানিক বিতরণ করলেন। তিনি আলাদা করে যুদ্ধের উপকরণ জোগাড় জন্যে পরিকল্পনা রচনা করলেন।

শুজাত খানের নেতৃত্বে শাহী শিবির বাহিনী অগ্রিমভাবে রওনা করিয়ে দিলেন যাতে আগেভাগেই পিছনে আসা বড় বাহিনীর জন্যে দ্রুত নানান রসদ যোগাড়যন্ত্র করে রাখতে পারে। তাছাড়া অগ্রগামী শাহী শিবির বাহিনীর সঙ্গে তিনি বেশ কিছু শাহী ঘোড়া দিয়ে খাজা আকা জানকে জুড়ে বাহিনীর সঙ্গে থাকা শাহী দেওয়ানি আমলাদের বাহিনীর নানা সুযোগসুবিধে দেখাশোনার নির্দেশ দিলেন। যে সব অভিজাত, আমীরকে এই অভিযান সফল করার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সাঁজাওল [মার্শাল] তাদের সক্কলের পরিচিতি দেখে শহরের বাইরে রওনা করিয়ে দিল এবং অগ্রগামী শাহী শিবির বাহিনীকে রওনা হওয়ার দিনের সংবাদটি পাঠিয়ে দেওয়া হল। মহামহিম বাজিনীর সাজসজ্জা এবং রওনা করিয়ে দেওয়ার সময় স্পষ্টভাবে বাহিনীর প্রত্যেককে বারবার জানিয়ে দিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি পৌঁছবার আগে যেন একজনকেও যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা না দেয়। বাহিনী দৃঢ়ভাবে তার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

মহামহিম ১৮তম ইলাহি বছর, ১৫৭৩-এর ২৩ আগস্ট দুপুরের খাওয়াদাওয়া করে একটি সুন্দর দ্রুতগামী কিন্তু সারাক্ষণ একই তালে চলার ক্ষমতা রাখা মেয়ে-উট জুম্মুজায় চেপে বসলেন। দরবারের আর সেনাবাহিনীর পিছনের অংশটা দুইকুঁজওয়ালা উটে চেপে তাকে নিরাপত্তা দিয়ে চলল। তিনি টোডা পৌঁছনো পর্যন্ত বাহিনীর চলার গতিতে লাগাম টানেন নি; সেখানে তিনি রাতখাবার সারলেন; সোমবার অতিসকালেই সর্বশক্তিমানের পথ নির্দেশে বাহিনীকে দ্রুত চলার নির্দেশ দিয়ে মাঝে একবার হংস মহলে ছোট বিরতি দিলেন। আবারও দ্রুত চলা শুরু করে মঙ্গলবার রাতের তিন পহরে মোজাবাদ গ্রামে শাহী বাহিনী শিবির ফেলা হল। মহামহিমের কিছুটা ক্লান্তি আর কয়েকজন পিছনে পড়ে থাকায় আরও কিছু সময় সেখানে অপেক্ষা করে ক্লান্তি অপনোদন করে চাঙ্গা হয়ে নিলেন। পিছিয়ে পড়া সাথীরা চলে এলে তিনি দ্রুতগামী গাড়ি করে বিরতি না দিয়ে সারারাত চললেন। বুধবার মাসের ২৬ তারিখ ধুলোভরা রাস্তাবেয়ে তিনি পৌঁছলেন আজমেঢ় শহরে খাজা মুইনুদ্দিন চিস্তির মাজারে। স্বর্গীয় মাজারে ফেরা লাগিয়ে কিছু সময় নিজের তৈরি অপূর্ব প্রাসাদে বিশ্রাম নিলেন। খাজার দয়ায় আজমেঢ় শহরের কাউকে ভিক্ষে করতে হয় না।

সেই সন্ধ্যেই তিনি বিশ্বজয়ী শাহী বাহিনীর ছাতার তলায় দাঁড়িয়ে ঘোড়ায় চড়ে আজমেঢ় থেকে রওনা হলেন বৈরাম খানের পুত্র, বংশসূত্রে খান-ই-খানান উপাধিপ্রাপ্ত, পিতার দক্ষতা, বুদ্ধি বহন করা মির্জা খান, সৈফ খান কোকা, জৈন খান কোকা, খাজা আবদুল্লা কুজাক এবং নাকিব খান উপাধিপ্রাপ্ত খাজা মীর গিয়াসুদ্দিন আলি আখন্দ যাদের ইতিহাস আর জীবনীর জ্ঞান অতুলনীয় এবং মীরজাদা আলি খান, দাস্তম খান এবং মীর মহম্মদ জামান, মির্জা ইয়ুসুফ খানের ভাই, সৈয়দ আবদুল্লা খান এবং খাজা গিয়াসুদ্দিন আলি বক্সী, যিনি যুদ্ধ জয়ের পরে আসফ খান উপাধিপ্রাপ্ত হবেন, প্রত্যেককে সঙ্গে নিয়ে। পূর্ণিমার চাঁদের মত চারিদিকে মিষ্টি আলো ছড়াতে ছড়াতে রাতেই তিনি বাহিনীকে নিয়ে বহু দূরত্ব পেরিয়ে গেলেন। ফতেপুর সিক্রি থেকে রওনা হয়ে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই উপস্থিত হওয়া শাহ কুলি খান মহরম এবং মহম্মদ কুলি খান তোকবাই তাকে সালাম জানালেন। তারা সম্রাটকে জানালেন কিছু দূরে পালি শহরে বিশ্বজয়ী সেনাবাহিনী মহামহিমের জন্যে অপেক্ষা করছে। খাজা আবদুল্লা এবং আসফ খান বক্সী আর রাইসল দরবারিকে সম্মানিত করে তাদের সঙ্গে নিয়ে সম্রাট এগিয়ে চললেন।

৩০ আগস্ট ১৫৬৭ গুজরাটের পাটন শহর থেকে ২০ ক্রোশ দূরে দিশা শহরে উপস্থিত হলেন। [জায়গিরিদার] মীর মহম্মদ খান কালানের পক্ষে, দিশা শহরের শিকদার, বক্সী লঙ্কার পুত্র শাহ আলি, শাহী মুঘল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। মহামহিম, আসফ খানকে মীর মহম্মদ খানের কাছে পাঠালেন বাহিনী নিয়ে পাটনের ৫ ক্রোশ দূরে বালিসনায় তৈরি শিবিরে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে। প্রাতঃরাশের সময় মহামহিম পাটনের রাস্তা থেকে কিছু দূরে বালিসনায় শাহী বাহিনীর জন্যে শিবির তৈরির নির্দেশ দেওয়ার মুহূর্তে সাম্রাজ্যের প্রতীকের সঙ্গে তাঁর বাহিনী নিয়ে বালিসনায় পৌঁছলেন মীর মহম্মদ খান। এছাড়া শাহী পরিবারের সেবক যেমন উজির খান, দিল্লির সুবাদার তাহির মহম্মদ খানের পুত্র নাকাবত খান এবং তৈয়ব খান উপাধিধারী শাহ ফকরুদ্দিন খান মষদি, বহু আগে ফতেপুর থেকে খানইআজমের বাহিনীতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা রাজা ভগবান দাসের ভাইপো খাঙ্গর এবং কয়েকজন রাজপুত, সকলে মিলে শিবিরে পৌঁছলে প্রত্যেককে উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হল।

শিবিরে নির্দেশজারি করে প্রত্যেক বাহিনীকে পুনর্জাগরণের দিনে জড়ো হওয়ার কথা স্মরণ করে যুদ্ধের মাঠে জমায়েত হওয়ার নির্দেশ জারি করা হল। মহান আমীরেরা, অভিজাতরা খোলা তরোয়াল হাতে তাদের যুবা বাহিনীকে নিয়ে, তাদের অভিজ্ঞ সেনানীদের নিয়ে যুদ্ধের মাঠে জড়ো হলেন। মহামহিম নিজে বিজয়ী বাহিনীকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন, সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে বাহিনীর কেন্দ্রে (কালব) যাকে কাউলও বলা হয়, পৌঁছলেন, যেখানে বৈরাম খানের পুত্র প্রধান সেনাপতি খানইখানান মির্জা খানের স্থান। মহামহিম, বীরউত্তম সৈয়দ মহম্মদ খান বারহা, শুজাত খান এবং সাদিক খান, অন্যান্যদের কেন্দ্র এবং ডান দিকের অংশ সুরক্ষায় মোতায়েন করলেন। বাহিনীর বাঁদিকের অংশটার দায়িত্ব দেওয়া হল উজির খানকে। অগ্রগামী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল মহম্মদ কুলি খান তোকবাই এবং তারখান দেওয়ানের সঙ্গে আরও কিছু সেনানায়ককে। স্বয়ং মহামহিম কয়েক হাজার বাছাই করা ঘোড়সওয়ারের মধ্যে থেকে কয়েকশজনকে বেছে নিয়ে বাহিনীর পিছনে দাঁড়ালেন, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে সমস্যা উদ্ভুত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জরুরি রসদ নিয়ে সাহায্য করতে তুরন্ত সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন।

রক্ষাব্যুহ সাজাবার পর কোনও সেনাই যাতে নির্দেশ ছাড়া নিজের বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার উদ্যম না নেয়, এই মর্মে কঠোরতম হুঁশিয়ারির শাহী নির্দেশনামা জারি করা হল। বিপক্ষের কুড়ি হাজার সেনার তুলনায় শাহী বাহিনীর শক্তি ছিল মাত্র ৩ হাজার। সম্রাট দিনের শেষে বালিসনা থেকে আহমেদাবাদের দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি একটি অগ্রসর বাহিনী পাঠালেন আহমেদাবাদে অবরুদ্ধ খানইআজমের উদ্দেশ্যে যাতে তারা বেচারাকে শাহী বাহিনী আসার সুখবর দিতে পারে। সারা রাত হেঁটে শাহী বাহিনী আহমেদাবাদের থেকে ২০ ক্রোশ দূরে কাড়ি শহরে পৌঁছল। অগ্রবাহিনী খবর আনল শাহী বাহিনীর সেনা আর ঘোড়ার পায়ের আঘাতে উড়তে থাকা ধুলোর সংকেত লক্ষ্য করে বিপক্ষের একটি সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের জন্যে অগ্রসর হচ্ছে। বিপক্ষ বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার জন্যে একটি সেনা টুকরিকে নির্দেশ দিয়ে বলা হল তারা বাহিনীটাকে রাস্তা থেকে হঠিয়ে দেবে কিন্তু কোনওভাবেই তারা কড়ি কেল্লা দখল করার চেষ্টা করবে না। বিশ্ববিজয়ী বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে চোখের পলক ফেলা মাত্রই বিপক্ষের বাহিনী হেরে গেল; বিন্দুমাত্র লড়াই দিতে পারল না, ভাগ্যাহতরা মারা গেল, হাতেগোণা কয়েকজন প্রাণ বাঁচিয়ে কেল্লায় আশ্রয় নিল। তাদের কেল্লা দখলে নির্দেশ না থাকায়, বাহিনী কেল্লাকে দূরে রেখে কাডি শহর ছাড়িয়ে ৫ ক্রোশ এগোনোর সংবাদ পেয়ে মহামহিম তাদের থামিয়ে দিয়ে, পশু এবং বাহিনীর সেনাদের বিশ্রাম নিতে বললেন। সকাল অবদি বিশ্রাম নিয়ে তারা ভোরে নতুন করে যাত্রা শুরু করে।

সূর্যকে ছাতার মত মাথায় ধরে শাহী বক্সীরা বিশাল বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে আহমেদাবাদের তিন ক্রোসের মধ্যে পৌঁছলেও রাস্তায় প্রত্যাশা মত বৃষ্টি পেলেন না। যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে মহামহিম নির্দেশ জারি করে বললেন যে সব সেনার যুদ্ধাস্ত্র বা যুদ্ধ সজ্জার অভাব আছে, তাদের জন্যে শাহী অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র/সমরসজ্জা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। যুদ্ধক্ষেত্রের মাঠে শাহী অস্ত্রাগারের অস্ত্র এবং অন্যান্য সাজসজ্জা সাজিয়ে দেওয়া হল। যাদের অস্ত্র/সমরসজ্জার অভাবছিল, যাদের নিকৃষ্ট অস্ত্র/সমরসজ্জা ছিল প্রত্যেকেই ভর্তুকি পেয়ে খুশি। খাজা গিয়াসুদ্দিন আসফ খানকে শাহী বাহিনী পৌঁছনোর সংবাদ দেওয়ার জন্যে এবং খানইআজমকে বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেওয়ার সংবাদ পাঠানো হল। এবার শাহী বাহিনী আহমেদাবাদের সমতলে রক্তবন্যা বইয়ে দেওয়ার জন্যে তৈরি।

মহামহিম ফতেহপুর থেকে আহমেদাবাদের নদীর ধারের সমতলভূমিতে পৌঁছতে মাত্র ৯ দিন সময় নিয়েছেন। মহামহিমের পার্শ্বচরেরা সংবাদ নিয়ে তাঁকে জানালেন বিপক্ষের সেনারা চূড়ান্ত অপ্রস্তুত এবং বহু সেনা মাতাল হয়ে আছে, যুদ্ধকে খুব একটা গুরুত্ব দিতেও রাজি নয়। নিজের বাহিনীকে উত্তেজিত করতে অনুপ্রাণিত স্বরে মহামহিম বললেন, ‘অপ্রস্তুত বিপক্ষকে আক্রমন করা বীরত্বের লক্ষ্মণ নয়। তাদের তৈরি হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে রাজি’।

কাড়া-নাকাড়া-শিঙ্গার আওয়াজে শত্রুপক্ষের বাহিনী বিহ্বল হয়ে ওঠায় ঘোড়া আর ঘোড়সয়ারদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ল। [বিদ্রোহী] মহম্মদ হুসেন মির্জা দুতিনজন ঘোড়সওয়ার নিয়ে নদীতীরে এসে নিজের চোখে শাহী বাহিনী দেখে স্রেফ অবাক হয়ে গেলেন। মহম্মদ হুসেন মির্জা চিৎকার করে প্রশ্ন করলেন, ‘হে সেনানী এটা কার বাহিনী’? শুভান কুলি উত্তর দিল, ‘শাহী বাহিনী। সম্রাট স্বয়ং বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে ফতেপুর থেকে এখানে এসেছেন, সম্রাটের নুন খেয়েও যারা অবিশ্বাসী থেকেছে তাদের ধরাধাম থেকে মুছে দিতে’। মহম্মদ হুসেন মির্জা অবাক হয়ে বললেন, ‘আমার চরেরা চৌদ্দ দিন আগে ফতেহপুর থেকে শাহী বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়েছিল। এই বাহিনীই যদি সেই দিন রওনা হওয়া শাহী বাহিনীই হয়, তাহলে কোথায় তাদের মহা হাতিযুথবাহিনী, যে হাতি বাহিনীকে কোনও দিন সেনাবাহিনীর থেকে আলাদা করা হয় না’? শুভান কুলি উত্তর দিলেন, ‘পাহাড়ের মত মস্ত বিশাল হাতিবাহিনী নিয়ে কীভাবে মাত্র কয়েকদিনে কয়েকশ ক্রোশ পার হওয়া যাবে’? (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev