| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইফতিতাইসুলতানিওয়াশুল-ই-কুল : আকবর এবং আওরঙ্গজেব (পঞ্চম কিস্তি) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৪৯০ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

১৫৪৮ আকবর আর তাঁর সতমা

[এই গল্পে স্বয়ং সম্রাট আকবর বক্তা। এই ঘটনাটি ঘটছে ১৫৪৮এর ২৭ এপ্রিল হুমায়ুনের কাবুল দখলের পর যখন তাঁর সঙ্গে পিতা-মাতার দ্বিতীয় বার মিলন হল। আবুলফজল সম্রাট আকবরের বয়ানে এই ঘটনাটিকে আকবরনামায় নথিবদ্ধ করেন]

আনন্দের এবং গর্বের বছরটিতে [১৫৭৩-৭৪] মহানুভব মহিলা হাজি বেগম [আকবরের সৎ মা, বেগা বেগম, হজ করে ফিরে আসার জন্যে তিনি হাজি বেগম] হজ করে মক্কা এবং মদিনার মত পূণ্য শহর ভ্রমণ করে ফেরত আসার পরেও তাঁর এবং তাঁর পুত্রের মধ্যে অটুট সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি [রাজধানী আগরায় বাস না করে] দিল্লিতে, তাঁর হাতে তৈরি স্বামী হুমায়ুনের স্মৃতিস্তম্ভের পাশের অঞ্চলেই বাড়ি বানিয়ে বাসকরা শুরু করেন। এই সময় মহামহিমের গুজরাট বিজয় সম্পন্ন হওয়ায় চারিদিকে নিয়মিত প্রচুর ভোজসভার আয়োজন করতে হচ্ছিল। এমনই এক ভোজসভা ২৯ দাই ইলাহি বা ২০ জানুয়ারিতে আয়টোজন করে মহান এই নারী মহামহিমকে শুভেচ্ছা জানাতে এলেন। আকবর এগিয়ে গিয়ে তাঁকে সম্মান দেখিয়ে অনুষ্ঠান এলাকায় নিয়ে এলেন। তাঁর আরেকটা পরিচয় হল প্রয়াত সম্রাট হুমায়ুনের মায়ের মামীর মেয়ে। তাদের পুত্রের নাম আলামন মির্জা। প্রয়াত সম্রাট হুমায়ুন তাঁর প্রতি অসমান্য শ্রদ্ধা দেখাতেন। আমি সম্রাটকে [আকবর] বলতে শুনেছি, ‘যে ভালবাসা, মহানুভবতা তিনি আমায় দেখিয়েছেন, তাতে তাঁর প্রতি আমার অবর্ণনীয় শ্রদ্ধা জন্মেছে। অনেকেই জানেন না তিনি আমার গর্ভধারিনী মা নন। আমার যখন ৬ বছর, আমার একবার তীব্র দাঁতের ব্যথা হয়। তিনি বলেন তার কাছে ব্যথা সারাবার খুব কাজের ওষুধ আছে এবং তিনি সেটা আনতে গেলেন। মা [হামিদা বানু বেগম] আমার অতিরিক্ত সতর্কতা আর সুরক্ষার জন্যে চাইলেন আমি মহান মহিলার দেওয়া সেই ওষুধটা যেন ব্যবহার না করি [বিষ সন্দেহে]। কিন্তু আমার মা জানতেন, তিনি প্রয়াত সম্রাটের স্ত্রীকে তাঁর আশংকা কথা বলতে পারবেন না। তাই তিনি তড়িঘড়ি হাজি বেগম [ওষুধ নিয়ে] আসার আগেই আমায় নিয়ে নিজের প্রাসাদে চলে যেতে চাইলেন। কিন্তু আমি ওষুধ ছাড়া হাজি বেগমের প্রাসাদ থেকে চলে যেতে রাজি হলাম না। সেই মুহূর্তেই তিনি ওষুধটা নিয়ে বেরিয়ে এসে, গুমোট পরিবেশ দেখে, ঘটনা আন্দাজ করে, কোনও কথা না বলে ওষুধটার একাংশ নিজের মুখে নিলেন এবং আরেক অংশ আমার দাঁতে ঘষে দিলেন। প্রত্যেকের মন খুশিতে ভরে উঠল, আর আমার ব্যথাও কমে যেতে শুরু করল’।

১৫৫১ পড়াশোনায় ফাঁকি

[বায়াজিদ বয়াত, সম্রাট হুমায়ুন এবং আকবর উভয় সময়ের মুঘল আমলা। ১৫৯১-৯২তে তিনি শাহী রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকার সময় আবুলফজলের মুন্সিকে তাঁর হুমায়ুন সংক্রান্ত স্মৃতিকথা বয়ান করেছিলেন। আবুলফজল জানাচ্ছেন শেষের দিকে ১৫৭১-৭২এ উল্লিখিত ঘটনাটা আকবরের লব্জে বয়ান করেছেন। ১৫৫১তে ১০ বছর বয়সী আকবর কাবুলে ছিলেন। পড়াশোনায় তাঁর খুব একটা মনযোগ ছিল না। তাঁর আতলিক ছিলেন হুমায়ুনের আমলাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিক মুনিম খান, আকবরের সময় তিনি সর্বোচ্চ উকিল পদে উঠবেন। এই অংশটা বাজায়িদ বয়াতএর তাজকিরাইহুমায়ুনওআকবর থেকে নেওয়া]

সে সময় [১৫৫১] শাহজাদা জালালুদ্দিন মহম্মদ আকবর, মির্জা হুসামুদ্দিনের পুত্র, মুল্লাজাদার ছাত্র ছিলেন। সমরখন্দে মির্জা হুসামুদ্দিনের তুলনীয় পণ্ডিত ছিল না। মহম্মদ আকবর মহামহিমা হামিদা বানু বেগমের তাঁবুতেই পাঠ নিতেন। মহামহিমকে [আকবর] সম্মান জানানো উদ্দেশ্যে মুনিম বেগ [হুমায়ুনকে] প্রণাম জানিয়ে, বিদায় নিলেন। শাহজাদা সত [কোকা] ভাই আজমকে বললেন, ‘মুনিমকে জানিয়ে দাও, সে আজকের মত আমাদের [পড়াশোনা থেকে] মুক্তি দিক’। আজম, মুনিম খানকে শাহাজাদার ইচ্ছে জানিয়ে দিলেন। শাহাজাদার ইচ্ছেকে সম্মান দিয়ে মুনিম বেগ মুল্লাজাদাকে বার্তা পাঠিয়ে দিলেন। মুনিম বেগ যেহেতু বরাবরই হুমায়ুনের উকিল ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যকে সম্মান করতেন সামরিক, অসামরিক প্রজা উভয় পক্ষই, মুল্লাজাদা তাঁর প্রস্তাব মান্য করে, শাহজাদাকে সেদিনের পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি দিয়ে খেলার অনুমতি দিলেন। সংবাদটা সম্রাটের কানে পৌঁছল। অভ্যেসবশত পরের দিন মুনিম বেগ সম্রাটের দরবারে সালাম জানাতে হাজির হলেন। শামসুদ্দিন আতকা শাহজাদাকে সম্রাটের সামনে নিয়ে এসেছেন প্রণাম করার জন্যে। সম্রাট শাহজাদাকে সতর্ক করে বললেন, ‘গতকাল তুমি তোমার আতলিক হাজি মহম্মদ সুলতানের থেকে পড়াশোনায় ছুটি নিয়েছ। এরকম আর কোনও দিন কোরো না’।

শাহজাদা মক্তবে পড়তে গেলে মহামহিম বললেন, ‘মুনিম, আমি শুনতে পেলাম তুমি তাকে পড়াশোনা থেকে ছুটি দিয়েছিলে। আমি উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হাজি মহম্মদের নাম নিলাম কারন মির্জা [আকবর] এখনও বালক। সে যেন না ভাবে মুনিম বেগ তাকে পড়াশোনা থেকে মুক্তি দেওয়ার পর, সেই ঘটনাটা চক্রান্ত করার জন্যে সম্রাটের কানে তুলেছে; আমি যখন ধরাধামে থাকব না, এ ধরণের কাজ করা থেকে বিরত থেকো; তার যদি এই রকম ধারণা তৈরি হয়, তাহলে সে ভবিষ্যতে তোমার ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজবে। হাজি মহম্মদ শিষ্টাচারহীন এক বদনসিব; তাঁর শাস্তি পাওয়াই উচিৎ’।

মহামহিম সম্রাট আকবর গল্পটা জৌনপুরে ১৫৭১-৭২এ কাসিম আলি খানকে তাঁর জুবানে মুনিম খান খানইখানানের সামনেই বলেছিলেন। মুনিম খানকে সম্রাট তখনও আদর-সম্মান জানিয়ে খান বাবা সম্বোধন করতেন। এখানেই বাংলা আক্রমণের পরামর্শদানের লক্ষে বাজাইদকে সরকার বেনারসের প্রধান করা হয়।

১৫৫১ আঁকা শেখা

[আকবরের শিক্ষায়, আঁকা শেখা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। জাহাঙ্গিরের স্মৃতিকথা তুজুকইজাহাঙ্গিরিতে সম্রাট পুত্র আকবরের আঁকা শেখার উল্লেখ পাচ্ছি। এই অংশটা ১৬০৫এ সম্রাট আকবরের প্রয়াণের একদুবছর পর লেখা হয়েছিল। বাজায়িদ আমাদের জানাচ্ছেন আবদুস সামাদ কাবুলে হুমায়ুনের দরররে পৌঁছন সেপ্টেম্বর অক্টোবর ১৫৫২-য় শাওয়াল মাসে। পরের দিকে সম্রাট আকবর চিত্রবিদ্যা নিয়ে যতসব কথা বলেছেন, তাঁর শুরুয়াত হয়েছিল পারসিক চিত্রকর আবদুল সামাদের কাছে চিত্রবিদ্যা হাতেখড়িতে ১৫৫২-৫৪-র মধ্যে। তখন তিনি ১০-১২ বছর। হিমু ছিলেন শুর সেনাপতি, ১৫৫৬য় পানিপথের যুদ্ধে পরাজিত হন।]

মহামহিম স্মৃতিকণ্ডুয়ন করে বলতেন, ‘কাবুলে এক দিন আমি শিরিন কলম খাজা আবদুল সামাদের অধীনে আঁকা শিখছি, আমার তুলি দিয়ে একটা চরিত্র কাঠামো আঁকার সময় তুলিটা ছড়িয়ে পড়ে থেঁতলে যায়। আমার পাশের একজন প্রশ্ন করল, এটা কার ছবি আঁকলে? আমি উত্তর দিলাম হিমুর।

১৫৫২ আকবর তখন ১০

[মাত্র দশ বছর বয়সে ১৫৫২-র নভেম্বর-ডিসেম্বরের ঘক্ষরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হুমায়ুন আকবরকে সঙ্গে নিলেন। জৌহর আফতাবাচি, ফারহালার লবন পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটা উল্লেখ করেছেন। রফিক ছিলেন সম্রাট আকবরের ব্যক্তিগত সহকারী, আতখা খানের হত্যার পরে আজম খানের সঙ্গে যখন সম্রাটের আবার মুখোমুখি দেখা হবে, তখনও রফিক আবার উল্লিখিত হবেন। এই ঘটনাটা নেওয়া হয়েছে জৌহর আফতাবাচির তাজকিরাতুলওয়াকিয়াত থেকে]

অকুস্থলে [ফারহালা] দাঁড়িয়ে মহামহিম শাহজাদাকে [আকবর] স্নান করিয়ে এবং জামাকাপড় পরিয়ে নিয়ে আসতে আমায় [জৌহরকে] নির্দেশ দিলেন। তাঁর নির্দেশে আমি জৌহর, শাহজাদার সামনে গিয়ে বললাম, ‘মহামহিম আপনাকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আমায় নির্দেশ দিয়েছেন। আপনি দয়া করে স্নান করে নিয়ে, সেজেগুজে আমার সঙ্গে মহামহিমের সঙ্গে দেখা করতে চলুন’। শাহজাদা বললেন, ‘আমি তোমার সামনে ন্যাংটো হতে পারব না। আমরা নগ্নতা অন্য কাউকে দেখাতে লজ্জা লাগে’। আমি, জৌহর তখন বললাম, ‘তোমার যদি আপত্তি না থাকে, তাহলে আমি রফিককে এত্তেলা দিই’। শাহজাদা উত্তর দিলেন, ‘তাই কর’। রফিক এলে মহামহিম স্নান এবং সাজসজ্জা করলেন। আমি, জৌহর তাকে এবারে সম্রাটের সমক্ষে নিয়ে গেলাম। মহামহিম মক্কার দিকে মুখ করে বসেছিলেন। তিনি তাঁকে তাঁর সামনে বসতে বললেন। যখনই তিনি কোনও কিছু আবৃত্তি করছেন, তিনি[শাহজাদা] তাঁর মুখে বাতাস বইয়ে দিচ্ছিলেন। মহামহিমকে [হুমায়ুন] দেখে খুবই পরিতৃপ্ত মনে হচ্ছিল।

১৫৫৬

[কেন ইতিহাস পাঠ বহুমাত্রিক হওয়া উচিৎ, বিভিন্ন ঘটনার ভাষ্য মিলিয়ে প্রতিটি বিতর্কিত ঘটনার সত্যা-সত্য জানা, বোঝা দরকার। এই লেখাটা ইংরেজিতে লিখেছেন আমার যুবা বন্ধু-ভাই মোঘল ছবি এবং স্থাপত্য গবেষক শুভদীপ সান্যাল। লেখাটির অনুবাদ দিলাম।]

ছবি শুধুই ছবি নয় যার পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে নানান ভাষ্য, এবং সেটি যদি ইতিহাস ঘটনা বিবৃত করা ছবি হয়, তাহলে আমাদের অনেকটা সচেতন থাকতে হয়। দর্শক যদি ছবিটির সঙ্গে জুড়ে থাকা ঘটনা ভাষ্য বিষয়ে সচেতন না থাকেন, তাহলে তাকে বদ্ধ জলায় ঘুরে মরতে হয়। এইরকম একটা ছবি এবং ভাষ্য ফেবু বিদ্যালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ। সেই ভাষ্য লেখার শেষে উল্লিখিত হয়েছে। আমরা এই ছবি আর ঘটনাটার কাটাছেঁড়া করব।

আমরা দেখে নিই ১৫৫৬-এর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে কী ঘটেছিল। যুদ্ধটি হয় ৫ নভেম্বর সদ্য সম্রাট আকবরের বাহিনী এবং হিমুর মধ্যে। ইরা মুখুটি ‘আকবর দ্য গ্রেট মুঘল’ বইতে লিখছেন ‘আকবর নয়, এই যুদ্ধে আকবরকে বাহিনীর পিছনে সুরক্ষিত রেখে ৩০০০ ঘোড়সওয়ার নিয়ে অংশ নেন বৈরাম খান …হিমু হাওয়াই নামক হাতির ওপর সওয়ার হয়ে উচ্চৈস্বরে বন্দওবাস্তাঁ নির্ঘোষে মুঘল বাহিনী আক্রমন করেন’।

হিমু যুদ্ধ অনেকটা নিজের কব্জায় নিয়ে আসছিলেন, আচমকা একটি তীর হিমুর চোখে বিঁধে যাওয়ায় যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। রক্তে ভেসে যাওয়া হিমুকে মুঘল শিবিরে নিয়ে যাওয়া হলে বৈরাম খাঁ, আকবরকে হিমুকে হত্যার নির্দেশ দেন। আবুলফজল বলছেন আকবর আহত শত্রুকে হত্যা করতে অস্বীকার করেন। হিমুর মাথাটি কেটে প্রদর্শন করানোর জন্যে দিল্লি পাঠানো হয় এবং দেহটা পাঠানো হয় লাহোরের মুঘল হারেমে। তবে হিমুর মাথা সে যুদ্ধে কে কাটল সেই তথ্য আজও রহস্যাবৃত। আমরা ধরেই নিতে পারি হিমুর মাথা কাটার প্রতিবাদ করা নতুন সম্রাট আকবর নিশ্চই সেই কাজ করতে নির্দেশ দেন নি।

লেখার সঙ্গে প্রথম ছবিটি উত্তর ভারতের কিশনগড়ের, ক্রিস্টির ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া শীর্ষক ‘AKBAR’S VICTORY OVER HEMU AT THE BATTLE OF PANIPAT MUGHAL STYLE AT KISHANGARH, NORTH INDIA, EARLY 18TH CENTURY.’। আমরা যেন মাথায় রাখি, ছবিটা যদি ১৮ শতকের শুরুর সময়ে আঁকা হয়, তাহলে সেটি পানিপথের থেকে ১৫০-২০০ বছরের মধ্যে কোনও এক সময়ে রচিত হচ্ছে। কিন্তু ভাষ্যটি বিপরীত; কারন রাজা পাল্টে যাচ্ছে।

কিশনগড়ের ছবির বয়ান বলছে, যে হাতিতে আকবর চড়েছেন, তার পায়ের নিচে হিমুকে ফেলে মারা হচ্ছে। ছবি ভাষ্যে স্পষ্ট বৈরাম খান নয়, আকবরই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন যা আবুলফজল লেখা ইতিহাসের বয়ানের বিপরীত। হিমুর স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুতে লুটিয়ে কাঁদছেন। অথচ আকবরনামা সূত্রে আমরা জানি হিমু তার মহিলামহলকে যুদ্ধে আনেন নি।

এর সঙ্গে আমরা জুড়লাম আকবরনামার সংশ্লিষ্ট চিত্রটি।

১৮ শতকের শুরুতে শেষ আওরঙ্গজেব আলমগিরের মৃত্যু ঘটছে, ছবিটা তার পরে আঁকা হচ্ছে এবং এই ছবিতে মূল তথ্যের সঙ্গে জোড়া হচ্ছে আরও কিছু অতিরিক্ত মনের মাধুরী, যা দুশ বছর আগের ঘটে যাওয়া তথ্যের বিপরীত।

এখানে দুটো ছবি এবং সূত্র দিলাম—

প্রথম ছবি – ক্রিস্টির সংগ্রহ থেকে — https://www.christies.com/…/akbars-victory-over-hemu-at…

দ্বিতীয় ছবি – https://upload.wikimedia.org/…/The_defeat_of_Hemu%2C…

মূল পোস্ট – https://www.facebook.com/trueindology.org/posts/1429671733900008 (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev