| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইফতিতাইসুলতানিওয়াশুল-ই-কুল : আকবর এবং আওরঙ্গজেব (দ্বিতীয় কিস্তি) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ১০২৯ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১১ জুন, ২০২২

তিনি অসামান্য সামরিক দক্ষতায় শুধু সাম্রাজ্যই বিস্তার ঘটালেন না, ক্ষণজন্মা স্থপতিদের পৃষ্ঠপোষণা করে রাজধানী আগরায় সুবিশাল কেল্লা তৈরি করালেন, দিল্লিতে হুমায়ুনের বিশাল সমাধিক্ষেত্রে তৈরি করালেন এবং এক্কেবারে মাটি ছেনে নতুন নানন্দনিকতা, নতুন স্থাপত্য ঘরানা তৈরি করে গড়ে তুললেন ফতেহপুর সিক্রি নামক এক নতুন রাজধানী। তৈরি হল কিতাব মহল। যেখানে অনুবাদ, চিত্রশিল্প, বই তৈরি করতে যা যা কিছু দরকার সব তৈরি হল। একই সঙ্গে ১৫৬০-এর দশকে দস্তানআমীরহামজা বইতে অঙ্কনলিপি এবং ছবি আঁকার মাধ্যমে নতুন ধরণের এক অঙ্কণ শৈলীরও বিকাশ ঘটাবেন তিনি। ক্রমশ আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় বাস্তবধর্মী এই ছবি এবং বই চিত্রণ নতুন এক ধারার বিকাশ ঘটাল। আজকে যাকে আমরা মুঘল অঙ্কন শৈলী হিসেবে চিনি, সেটা আকবরের সময়েই বিকশিত হয়।

সাম্রাজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাম্রাজ্যের খাজনা ব্যবস্থাপনা সংস্কারে মন দিলেন। ১৫৬০ থেকেই মুজফফর খান তুরবাতি এবং টোডরমল্লকে সাম্রাজ্যের খাজনা ব্যবস্থাপনা সংস্কারে যে কাজ শুরু করেছিলেন তার ফল ফলল ১৫৭৪-৭৫-এর দিকে, বছরে নির্দিষ্ট খাজনার বিনিময়য়ে অস্থায়ী নির্দিষ্ট আকারের ভূখণ্ড জায়গির ব্যবস্থা প্রবর্তনে। জায়গির দেওয়া হল মুঘল অভিজাতদের। এদের বলা হল জায়গিরদার। প্রত্যেক অভিজাত জায়গিরদারের পদ, মনসব নির্দিষ্ট করে তাকে ঘোড়সওয়ার এবং পদাতিক বাহিনীর মিলিত দায়িত্ব দেওয়া হল সাম্রাজ্যকে যুদ্ধের সময় সাহায্য করা এবং সাম্রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শান্তি বজায় রাখার শর্তে। সেনার ওপর নজরদারি করতে জায়গিরদারদের সেনাবাহিনীর পশুকে নির্দিষ্ট দাগ বা ছাপ মার্ফত চিহ্নিত করা হল। ১৫৮০ থেকে প্রশাসনিক সুবিধের জন্যে সাম্রাজ্যকে ১২টা সর্বোচ্চ প্রশাসনিক একক, সুবায় ভাগ করা হল। প্রত্যেক অঞ্চলে সামরিক দিক নিয়ন্ত্রণ করত সুবাদারের নিয়াবত বিভাগ এবং খাজনা তোলার দায়িত্ব ছিল দেওয়ানের নেতৃত্বে রাজস্ব বিভাগের। হুমায়ুনের সময়ের দুঃখপ্রদ অভিজ্ঞতায় তিনি সুবা প্রশাসনে পাঠনো শাহজাদা বা খানজাদাদের স্বাধীনতা হরণ করে তাদের সব কাজের জন্যে কৈফিয়ত চাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। ফলে সুবায় শাহজাদা বা খানজাদাদের বাদী হওয়া, প্রয়োজনে সুবার প্রশাসকদের প্রশাসনিক জরুরি অবস্থায় কাজে না লাগার সমস্যা কিছুটা সমাধান হল। সম্রাট আকবরের তৈরি করা প্রশাসনিক কাঠামো আগামী দেড়শ বছর মুঘল আমলে এবং তারপরেও ঘোমটা দিয়ে ব্রিটিশ আমলেও অনুসৃত হবে। তিনি সোনা রূপো তামা এবং কড়ি নির্ভর মুদ্রা ব্যবস্থাও সংস্কার করলেন।

আকবরের সুফিদের প্রতি আকর্ষণ তাকে নতুন দার্শনিক অবস্থান গ্রহনে উৎসাহিত করে। ইবনুলআরাবির তত্ত্ব অবলম্বনে অনুসৃত সবার জন্যে শান্তি শুলইকুল দর্শন অনুসরণ করলেন সম্রাট আকবর। ১৫৭০ থেকে ইসলাম ছাড়াও তিনি নানান ধর্মত বোঝার চেষ্টা করছিলেন। শুরুতে ইসলাম, পরে প্রায় সব ধরণের পন্থ/ধর্মের প্রচারকদের সঙ্গে নিয়ে উপাসনার জন্যে ইবাদতখানা আয়োজন করতেন। মাথায় রাখতে হবে দিনইইলাহি নামক শব্দবন্ধ মুঘল সরকারি নথিতে বিশেষ করে আবুলফজলের লেখা আইনিআকবরিতে উল্লিখিত হয় নি।

তাছাড়া ধর্মতাত্ত্বিক এবং রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অতীতের দ্বন্দ্বকে আকবরের অন্তত মুঘল আমলে চিরকালের জন্যে খতম করে দিলেন। রাজত্বকালে ১৫৭৯-এ শেখ মুবারক একটি নথি খসড়া করেন এবং উলেমা স্বাক্ষর করেন। এই নথিতে বলা হল আকবর স্বয়ং পাদিশাইইসলাম এবং তার সময়ের মুজতাহিদ(যিনি ইসলামের ধার্মিক আইন ব্যাখ্যা করেন)। তাঁকে শারিয়ার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া হল। সেই বছরেই তিনি নিজে খুতবা পড়লেন এবং উসমানীয় সুলতানকে ইসলামি জগতের এবং উপমহাদেশের মুসলমানে সমাজের নেতা হিসেবে মানতে অস্বীকৃত হলেন। ‘আল্লাহু আকবর’ শব্দবন্ধটি উলেমা দ্বর্থকভাবে ব্যবহার করল। যদিও এর মানে ‘ঈশ্বর মহান/সর্বশক্তিমান’, কিন্তু এখানে ব্যাখ্যা হল, সম্রাট ‘আকবরই সর্বশক্তিমান’। এই বিষয়টা আরও ভালভাবে প্রতিভাত হবে মুদ্রাচিত্রণে। সম্রাট আকবরের রাজত্বে প্রায় ৩৫ বছরের কিছু কম সময়ের ব্যবধানে জারিকরা দুটি মুদ্রা আকবরের রাষ্ট্রীয় ধারণার বিকবর্তনের রূপরেখা উপস্থাপন করে। প্রথম মুদ্রাটি ১৫৬৮-৬৯-এর; এতে উৎকীর্ণ আছে ‘লা ইলাহা ইল্লা আল্লা/মহম্মদ রসুল আল্লা’; অর্থাৎ “no god but God, Muhammad is the messenger of God” তারপরে খলিফার নাম। দ্বিতীয় মুদ্রা সম্রাট আকবরের রাজত্বের শেষ সময়ের ১৬০২-এর। প্রয়াণের ৩ বছর পূর্বের। এতে লেখা ‘আল্লাহু আকবর/ জাল্লা জালালুহু’ অর্থাৎ “God is most great, glorified be his glory”। শব্দগুলির মানে দুট্টি অর্থে ব্যবহার করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পরিষ্কার।

আকবর সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন। কথিত তিনি স্বয়ং সতীদাহ নিজের হাতে বিফল করতেন। এক সময় আকবর জয়মল কাছওয়াকে বাংলা প্রশাসনে পাঠিয়েছিলেন। অতিরিক্ত গরমে জয়মল পথেই মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর স্ত্রী, মারওয়াড়ের মোটা রাজা উদয় সিংএর বিধবা কন্যার পুড়ে মরার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আত্মীয়রা তাকে বলপ্রয়োগে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোর হওয়ার মুহূর্তে সংবাদটা মহামহিমের কানে পৌঁছল। তিনি ভেবে নিলেন অন্য কাউকে এই কাজ রুখতে পাঠালে অকুস্থলে পৌঁছতে নিশ্চই দেরি হবে। প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসে একটি তুরগে চড়ে এতই তড়িতগতিতে রওনা হলেন যে, তার রক্ষীরাও গতির সঙ্গে তাল রাখতে পারল না। সতী আয়োজন রুখতে স্বয়ং শাহেনশাহকে উদয় হতে দেখে, সমবেত দলটি তাদের কর্মকাণ্ড ত্যাগ করে। স্বয়ং আকবর এগিয়ে অজ্ঞ পালের গোদাকে গ্রেফতার করেন। তিনি তাদের জীবনদান করলেও বহুকাল কারাগারের অন্তরালে রেখেছিলেন। আরেকটি ঘটনায় তিনি এক চণ্ডালকে খিদমত রাই উপাধি দিয়ে তাকে অভিজাত প্রাসাদ সুরক্ষা দলের প্রধান নির্বাচন করেন।

১৫৮৬তে ভাই মির্জা হাকিমের মৃত্যুর খবরে রাজধানী ফতেপুর সিক্রি থেকে লাহোরে তুলে নিয়ে যান। উদ্দেশ্য কাবুলে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ। মির্জা হাকিমকে নিয়ে আমি পরে বিশদে আলোচনা করেছি। মির্জা হাকিম এবং সম্রাট আকবরের সম্বন্ধ নিয়ে ইতিহাস খুব বেশি উচ্চকিত নয় – মুনিস ফারুখি বা সঞ্জয় সুব্রহ্মণিয়ম ছাড়া তাঁকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করা হয় নি। আমি দুজনের লেখা অনুসরণে বলার চেষ্টা করেছি কীভাবে হাকিম-আকবর সম্পর্ক মুঘল সাম্রাজ্যের নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলছে। ১৫৮৬-তে রেশম পথের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল কাশ্মীর ১৫৮৯-তে সিন্ধ, ১৫৯২-তে কান্দাহার বিজয় সম্পন্ন করলেন তিনি। ১৫৯২-তে ওডিসা দখল হল। মানসিংহকে বাংলা প্রশাসনের সর্বেসর্বা করে পাঠানো হল।

মুঘল আমলের শুরুর সময়ের ইতিহাসচর্চা এবং ইতিহাস লেখায় আকবরের ভূমিকা আধুনিক ইতিহাসে প্রায় অচর্চিত এবং অস্বীকৃত একটা বিষয়। ১৫৭৩-এ যে মহাভারতেরমত প্রাচীন গ্রন্থগুলো ফারসিতে যে অনুবাদের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সে কাজ লাহোরে আরও গতি পেল। তাঁরই আমলে ফাতাউল্লাহ সিরাজি বেশ কিছু প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করেছেন। লাহোরেই ১৫৮৬-তে তিনি আবুলফজলকে আইনিআকবরের শেষ অংশ আকবরনামা লেখার নির্দেশ দেবেন। ১৫৯৮ নাগাদ আইনিআকবরি লেখা শেষ হয় এবং সংকলনের কাজ চলতে থাকে আবুলফজলের হত্যাকাণ্ডের বছর ১৬০১ অবদি। আইনিআকবরি লেখার জন্যে, সাম্রাজ্যজুড়ে তথ্য, নথি জোগাড়ের জন্যে চলতি নথিকরণের দপ্তর তৈরি করা হয়।

হুমায়ুনের বোন, আকবরের পিসি, ২০০ মহিলা দল নিয়ে হজ্বে যাওয়া গুলবদন বেগম তাঁর স্মৃতিকথায় লিখছেন তার ভাস্তা/ভাইপো, সম্রাট আকবর হুমায়ুনের প্রত্যেক জীবিত সঙ্গীকে স্মৃতিকথা লেখার জন্যে নির্দেশ জারি করেন। বাবরনামার অনুবাদক বেভারিজ বলছেন, আকবরের ইতিহাসচর্চার উৎসাহকে কোনও জীবনীকারই খুব একটা গুরুত্ব দেন নি। আকবরই আবুলফজলকে আকবরনামা লিখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিহত বৈরাম খানের পুত্র এবং আকবরের প্রধান সেনাপতি আবদুর রহিম খানইখানানকে সম্রাট যেমন বাবরের অতুলনীয় স্মৃতিকথাটি তুর্কি থেকে পারসিকে অনুবাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি তিনি আবুলফজলকে মুঘলদের পূর্বজদের বিষয়ে আরও তথ্য জোগাড় করার জন্যেও উতসাহিত করেন। আকবর শুধু যে পিসি গুলবদন বেগমকে স্মৃতিকথা লিখতে অনুরোধ করেন তাই নয়, একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত পিতা হুমায়ুনের বদনাধারক জওহর আফতাবাচি এবং মুঘল রান্নাঘর কারখানার দারোগা তুর্কমান বায়াজিদকে স্মৃতিকথা লেখারও নির্দেশ দেন। ‘অক্ষরজ্ঞানহীন’ আকবরের রাজত্বেই কিন্তু মুঘল আমলের প্রথম যুগের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সমৃদ্ধ দরবারি ইতিহাসচর্চা শুরু হল। তার পথভাঙ্গা ভাবনা, ইতিহাসকে বোঝার নতুন উদ্যম, নতুন ইতিহাসচর্চার আঙ্গিকের জন্মদেওয়া এবং তথ্যকে যাচাই করে নেওয়ার রাস্তায় তৈরি হল নতুন যুগের নতুন ধরণের ইতিহাস চর্চা।

আকবরের সময়ের রচিত ইতিহাস এবং তার পূর্ব সময়ের ইতিহাসের মধ্যে তুলনার পার্থক্যটি যে কোনও ইতিহাস উৎসাহীর কাছে স্পষ্ট হবে। তার রাজত্বের প্রথম সময়ে রচিত বাদাউনির ইতিহাসে ব্যক্তিগত ভাললাগা না লাগার বিষয়টা তীব্রভাবে উপস্থিত ছিল। আকবর মনে করতেন বাদাউনি লিখেছেন ইতিহাসের গল্প। তারিখইআলফিতে বাদাউনির লিখিত নির্দিষ্ট একটি অংশ পড়ে অসন্তুষ্ট আকবর তাঁকে নতুন করে তথ্য যাচাই করে লিখতে নির্দেশ দিলেন। সম্রাট আকবর চাইছিলেন তথ্য সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৫৭৪ থেকে তিনি ফতেহপুর সিক্রিতে আরেকটি কারখানা (আদতে দপ্তর), মহাফেজখানা তৈরি করলেন। উদ্দেশ্য এই কারখানায় দৈনন্দিনের রাজকীয় এবং দরবারি সমস্ত তথ্য জড়ো করা। কাকতালীয় হলেও সেই বছরেই আবুলফজলের দরবারে অন্তর্ভূক্তি ঘটল। সম্রাটের নবম রাজত্ব বছরে মহাফেজখানা ব্যবস্থাপনার জন্যে দৈনিক দুজন করে দপ্তর সামলানোর জন্যে মোট ১৪ করণিক বরাদ্দ হল। আগামী দিনের নতুন সময়ের মুঘল ইতিহাস লিখতে এই তথ্যগুলি আকর হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মাথায় রাখতে হবে সম্রাট আকবর সুচিন্তিতভাবেই তথ্য রাখার কারখানা, মহাফেজখানার নতুন গুরুত্ব তৈরি করলেন। যারা ইতিহাস লিখতে উদ্দিষ্ট হলেন তাদের পমর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে সম্মান দেওয়া হল। অতীতে এই ধরণের নথিকরণের কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রশাসনিক পরম্পরা অনুসারে সাধারণত মুন্সি বা করণিক হিসেবে চিহ্নিত হতেন। আকবর প্রথম তাঁদের প্রত্যেককে দরবারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিলেন। এদের দুই হাজারি মনসবদারি নিশ্চিত করা হল। নির্দেশ জারি হল, একমাত্র দুই হাজারি মনসবদারেরই অধিকার হবে মহাফেজখানা থেকে ব্যক্তিগত বা দরবারি কাজের জন্যে তথ্য সংগ্রহ, নথিভুক্ত করার নির্দেশ দান করার। ওয়াকিয়াবাবুরির অনুবাদক দুজাহারি মনসবদার, বৈরাম খানের পুত্র আবদুর রহিম খানইখানান ছিলেন প্রখ্যাত দরবারি, জ্ঞানী, জনচিত্তজয়ী কবি এবং অনুবাদক, যাকে আজও সাধারণ মানুষ রহিম নামে চেনেন তাঁর পৌরাণিক রাম এবং কৃষ্ণকে নিয়ে কবিতার জন্যে। সম্রাটের ব্যক্তিগত বন্ধু, সাম্রাজ্য তাত্ত্বিক, নথিকরণ প্রকল্পের কর্ণধার আবুলফজলকেও দুই হাজারি মনসবদারিতে উত্তরণ ঘটানো হল। তবাকতইআকবরির লেখক প্রশাসক নিজামুদ্দিন আহমেদকে সাম্রাজ্যের বক্সী পদে বসানো হল।

১৫৯৬-তে বেরার সাম্রাজ্যে জুড়েগেছে। ১৫৯৮-তে তিনি দক্ষিণ বিজয় পরিকল্পনা করলেন। আহমদনগর আর খণ্ডেশ জুড়ল ১৬০০ নাগাদ। আরও দক্ষিণে বিজয় অভিযানে যাওয়ার আগে শাহজাদা সেলিমের বিদ্রোহ ১৬০১-এ তাকে আগরায় ফিরিয়ে আনে। শাহজাদা সেলিম পিতার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সেলিমের পরিকল্পনায় আবুলফজলের হত্যাকাণ্ড সম্রাটের জীবনীশক্তি কেড়ে নেয়। আকবর ১৬০৫-এ মারা যান। সেলিম জাহাঙ্গির নামে সিংহাসনে আরোহন করলেন। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev