‘অন স্পট’ বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার অভিনব পদ্ধতি চালু করল কলকাতা পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, প্রতিটি নির্মাণস্থলের সামনে ওই নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত বোর্ড লাগাতে হবে। পুরসভার তরফে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকাও জারি হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্মাণ সংক্রন্ত বিভিন্ন তথ্য, যেমন, মালিক, প্রোমোটার বা ডেভেলপারের নাম, ঠিকানা বা প্রেমিসেস নম্বর, ক’টি তল হচ্ছে, মোট আয়তন— ইত্যাদি বোর্ডে লিখে নির্মীয়মাণ ভবনের গায়ে ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ওই বোর্ডে রাখতে হচ্ছে একটি কিউ আর কোড। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় পুরসভা থেকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ওই কিউ আর কোডটি দেওয়া হচ্ছে। সেই কিউ আর কোড স্ক্যান করলেই খুব সহজে সামনে চলে আসবে ওই নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়। কেউ নিয়ম না মানলে সেই নির্মাণ অবৈধ বলে গণ্য করা হবে এবং পুরসভা কাজ বন্ধের নোটিশ লাগাবে।
কলকাতা পুরসভা এলাকার আওতাধীন নির্মাণ সাইটগুলিতে বায়ু ও শব্দ দূষণ পর্যবেক্ষণের জন্য,সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের ডাব্লু বি পি সি বি-এর পরামর্শ অনুসারে সেন্সরিংভিত্তিক ‘এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং সিস্টেম’ ইনস্টল করে নিয়মগুলি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবেশ দফতরের নির্দেশিত নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য নির্মাণাধীন সাইটগুলির স্টেকহোল্ডারদের জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সমস্ত ডেভেলপার / প্রোমোটারদের নির্মাণ ও ধ্বংসজাত বর্জ্য কলকাতার নিউটাউনের পাথরঘাটায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য বস্তুতে পরিণত করার প্ল্যান্টে নিয়ে যাবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২ কাঠা থেকে ৩ কাঠা জায়গার মধ্যে বসবাস ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধের কথা ভেবে বিদ্যমান অনুমোদন ফি-এর হার ৫০% কমানো হয়েছে। যদিও এই ফি-এর পরিমাণ কখনোই দুই কাঠা জমির পরিমাপ পর্যন্ত নির্ধারিত ফি-এর তুলনায় কম হবে না। এই সমস্ত পদক্ষেপের কারণে শহর কলকাতায় বে-আইনি নির্মাণ তৈরির প্রবণতা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনারকে অবৈধ নির্মাণের শুনানি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা (এসওপি) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন সম্প্রতি। সেই নির্দিশ অনুযায়ী কোনও বেআইনি নির্মাণের শুনানিতে আবেদনকারী এবং অভিযোগকারী উভয়পক্ষ যদি পরপর তিনটি শুনানিতে অংশ না নেন, তাহলে সেই শুনানি বন্ধ করে রায় দিতে হবে। মেয়র কেন এই নির্দেশ দিলেন? সম্প্রতি ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যানার্জিপাড়া রোডের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে ফোনে মেয়রকে জানান, ‘বেআইনি নির্মাণের জন্য পুরসভা নোটিশ দিয়েছিল। তারপর শুনানির জন্য ডাকাও হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা তিনবার শুনানিতেও আসেননি। ফলে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। সেই ফাঁকে বাড়ি তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত।’ ফোনে এ কথা শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, ‘এভাবে দিনের পর দিন তো শুনানি চলতে পারে না। তাতে অবৈধ নির্মাণকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর সুরাহা পেতে সময় লাগে। তাই পুর কমিশনার একটি নির্দেশিকা জারি করলেন। পরপর তিনটি শুনানিতে না এলে হিয়ারিং অফিসার অবৈধ নির্মাণ ভাঙা বা সেই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়ে দেবেন।’
প্রসঙ্গত, অবৈধ নির্মাণ নিয়ে শুনানিতে বিবাদমান দু’ পক্ষ হাজির না হলে বা কোনও একপক্ষ নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে কী করা হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ স্পষ্টভাবে এত দিন ছিল না। এক পুরকর্তা বলেন, ‘এই সুযোগই নেন অবৈধ নির্মাণকারীদের একাংশ। একদিকে শুনানি চলতে থাকে, অন্যদিকে পুরসভার নোটিশ অগ্রাহ্য করে বেআইনি নির্মাণের কাজও চলতে থাকে। আইনের সেই ফাঁক বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছেন মেয়র।’