৩০শে জুলাই ২০২৩ রবীন্দ্র সদনে দেখলাম রক্তকরবী, গৌতম হালদার এর নির্দেশনায় একটি অসাধারণ প্রযোজনা। রক্তকরবীর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এই উদ্যোগ। আমার মনে হয় রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব দর্শনের বাণীরূপ, সেই দর্শনকে নাট্য আঙ্গিকে উপস্থাপনা করা বেশ সাহসের কাজ। যা কয়েক দশক আগে শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র বাংলার দর্শক ও শ্রোতা কে আস্বাদন করিয়েছিলেন। এবারের রক্ত করবী তে সাম্প্রতিক সময়ের মাত্রা যুক্ত হয়ে তাকে অন্যরকম ভাবে স্বাদু করে তুলেছে।
বিরতি হীন প্রায় এক ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিটের প্রযোজনায় দর্শক লীন হয়ে গিয়েছিল কুশীলব দের সঙ্গে, নাটকীয় মুহূর্তের অপেক্ষা ছিল না, ছিল ভাবনার অবিচ্ছিন্ন প্রবহমানতা। মঞ্চ পরিকল্পনায় যক্ষপুরীর আবহ পুরোপুরি উপলব্ধ হয়েছে। আলোর প্রক্ষেপন যথাযথ। নির্দেশক প্রথমেই বলেছিলেন ‘সাউন্ড ডিজাইনিং’ অর্থাৎ শব্দ প্রয়োগ এবং গানের ব্যবহারে সত্যিই তাই অনুভূত হয়েছে। রশিদ খান এবং কৌশিকী চক্রবর্তী-র কন্ঠ শ্রোতাকে যক্ষপুরী অতিক্রম করে গন্ধর্ব লোকে পৌঁছে দিয়েছিল।

ধানী রঙের শাড়ি পরা নন্দিনী সমস্ত আগল ভেঙে রাজাকে নামিয়ে এনেছে সাধারনের মাঝে, রঞ্জন-এর জন্য তার আকূতি এবং দুজন মিলে স্বপ্ন দেখার পরিকল্পনা নন্দিনীকে আমাদের কাছের করে তোলে। চৈতি ঘোষালের সাবলীল অভিনয় রবীন্দ্রনাথের দর্শনকে বিমূর্ত থেকে মূর্ত করে তোলে। বিশুপাগল এবং অধ্যাপক প্রত্যেকেই নিজেদের যথাযথ ভাবে তুলে ধরেছেন।
রাজার কন্ঠ অন্তরাল থেকে শ্রোতাদেরও উদ্বেল করে তোলে, তারাও নন্দিনীর মতো আত্যন্তিক ভাবে চায়, রাজা প্রকাশিত হোক… এই কামনার উন্মেষ সম্ভব হয়েছে কুশীলব দের অনুভূতি ময় অভিনয়ের জন্যই। পৌষ আমাদের ডাক তো দেয় বারে বারেই… আমরা যেন সেই ডালাভরা পাকা ফসল তোলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে পারি — বোধে ও বুদ্ধিতে… দলের জন্য শুভ কামনা রইল। সুন্দর হোক সবকিছু।
বাংলার শিক্ষিকা, বাগবাজার মাল্টিপার্পাস গার্লস স্কুল
ছবি : অভিষেক সামন্ত