মোস্তফা কামাল
নওরীন ল্যাবরেটরিতে একা। সে এদিক-সেদিক ঘুরছে। তার ভেতরে কেমন যেন একটা অস্বস্তি কাজ করছে। তার কিছুই ভালো লাগছে না। নওরীন মনে মনে লীরাকে খোঁজে। কিন্তু লীরা নেই। লীরা ল্যাবরেটরির কোথাও নেই। নিজের বাসায়ও যায়নি। বাসা থেকে বেশ কয়েকবার ফোন এসেছিল। টেলিফোন সেটে বাসার নাম্বারটা উঠে আছে। এক বার দুই বার নয়, সাত-আট বার কল এসেছে।
নওরীন মনে মনে বলে, আমিই-বা কোথায় ছিলাম! বাসা থেকে এত বার কল দিলো। এক বারও আমি শুনতে পেলাম না! এটা কোনও কথা হলো! আমি কলব্যাকও করলাম না। অবশ্য কলব্যাক না করেই ভালো হয়েছে। আম্মাকে আমি কী বলতাম? লীরা নেই! তারপরই তো প্রশ্ন করত, কোথায় গেছে? তার জবাব কী? আমি তো জানি না সে কোথায় গেছে? আসলেই লীরা কোথায়! সে তো না বলে কোথাও যায় না!
অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর নওরীন লীরার রুমে ঢোকে। লীরাকে দেখে সে চমকে ওঠে। এ কী! তুমি কখন এলে? চুপ করে আছো কেন? কথা বলো। লীরা প্লিজ, কথা বলো!
লীরা কোনও কথা বলে না। সে চুপ করে আছে। নওরীন লীরার কাছে এগিয়ে যায়। লীরার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারপর আবার বলে, কাজটা তোমার ঠিক হয়নি। এভাবে আমাকে না বলে চলে গেলে কেন? যাওয়া ঠিক হয়নি। তুমি কি আমার কথা বুঝতে পারছ? আমার যদি কিছু হয়ে যেত! তুমি নেই, কিছু একটা হতেই তো পারতো! পারতো না? আমি খুব দুশ্চিন্তা করেছি। তাছাড়া এলিয়েনটাকে তো আমরা ভালোভাবে জানি না; চিনি না। তার সম্পর্কে তেমন কোনও ধারণাও নেই। এখানে কয়েকবার এসেছে। ব্যাস! তাতেই কি সে বিশ্বস্ত হয়ে গেলো! অন্য গ্রহে নিয়ে যাওয়ার পর সে যদি আর ফিরিয়ে না আনতো! তখন কী হতো? তুমি কি তোমার দ্রুতযান নিয়ে গিয়েছ? নাওনি তো!
এক নাগারে কথাগুলো বলল নওরীন। এতক্ষণ ধরে লীরা নওরীনের কথাগুলো শুনল। নওরীন কথা বলা শেষ করার পর লীরা শান্ত গলায় শুধু বলল, আমি স্যরি নওরীন। আমার ভুল হয়ে গেছে। তোমাকে বলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমি কি খুব বেশি দেরি করেছি? তোমার কথা চিন্তা করেই তো দ্রুত চলে এলাম। চুপ করে আছো কেন? বলো, আমি কি খুব বেশি দেরি করেছি?
তা করোনি। কিন্তু আমি তোমার ল্যাবে সম্পূর্ণ একা। বুঝতেই পারছ সমস্যাটা। আমার কোনও সমস্যা হলে তুমি ছাড়া আর কে আছে?
হুম। সেটা ঠিক। আর এরকম হবে না। জানো নওরীন! দারুণ মজার অনুভূতি হয়েছে ওখানে গিয়ে! আমার কল্পনার চেয়েও সুন্দর একটি গ্রহ।
তাই নাকি! অসম্ভব সুন্দর জায়গা!
তোমার ভয় লাগেনি?
বললাম তো, আমার কল্পনার চেয়েও সুন্দর!
তোমার ভয় লাগেনি?
লেগেছিল। ডাইনোসর দেখে খুব ভয় লেগেছিল।
ডাইনোসর! ডাইনোসর তুমি কোথায় দেখলে?
মঙ্গল গ্রহে!
বলো কী! সেখানে ডাইনোসর আছে নাকি? তুমি তো বললে, ওটা একটা বিলুপ্ত প্রাণী।
হুম বিলুপ্ত। পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত। কিন্তু মঙ্গলে ঠিকই ওগুলো দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছে।
আমরা ছবিতে যেরকম দেখছি সেরকমই কি? নাকি অন্যরকম?
অন্যরকম নয়। আমরা ছবিতে যেমন দেখছি সেরকমই। আমি সত্যিই খুব বিস্মিত হয়েছি। মানুষের কল্পনা শক্তি অসাধারণ।
তাই!
হুম। আমি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।
ইস! আমি যদি দেখতে পেতাম!
দাঁড়াও! তোমাকেও দেখাবো। নিশ্চয়ই আবার মঙ্গলে যাওয়া হবে। সবে তো শুরু করলাম! এরপর নিয়মিত যাতায়াত করবো।
ধন্যবাদ। আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেয়ার জন্য।
আরে কী বলো! তোমাকে নেবো না, কাকে নেবো?
ধন্যবাদ। আচ্ছা, তোমার কি ওখানে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হয়েছিল?
হুম। খাওয়া-দাওয়ায় কোনও অসুবিধা হয়নি।
কী খেয়েছ?
আমি ওখানে শুধু ফল খেয়ে থেকেছি।
সে কী! শুধু ফল? আর কিছু না?
শুধু ফল। বিশ্বাস হয় না তোমার?
বিশ্বাস হবে না কেন? কিন্তু শুধু ফল খেয়ে….
সত্যি বলছি। ফল ছাড়া আর কিছুই খাইনি। তাতে আমার কোনও অসুবিধা হয়নি। ক্ষুধাও ফিল করিনি।
খুব ভালো তো! কী ধরনের ফল?
নাশপাতি ধরনের একটা ফল। সেটা খেলে তোমার ক্ষুধা লাগে না। আরেকটি ফল আছে তরমুজের মতো। কিন্তু আকারে ছোটো এবং ভেতরটা সবুজ। আখের রসের মতো মিষ্টি।
তাই? তোমার বর্ণনা শুনে আমার এখনই খেতে ইচ্ছা করছে। ওসব ফল কি পৃথিবীতে ফলানো সম্ভব?
জানি না। ওখানকার মাটি সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। বাংলাদেশের মাটিতে হবে কিনা তা-ও ঠিক বুঝতে পারছি না। ওখানে বেশির ভাগ এলাকা এখনও বরফে ঢাকা। প্রচণ্ড ঠান্ডা। পৃথিবীতে তো মঙ্গল গ্রহণের মতো অনেক এলাকা আছে। সেসব জায়গায় ওই ধরনের ফল হয়তো ফলে। তবে বাংলাদেশে ফলবে কিনা তা বুঝতে পারছি না। আমি অবশ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেছি। সেখানে ওই ধরনের ফল দেখিনি।
হুম। তোমার তো অভিজ্ঞতা আছে। তবে আমার এখনও একটা ব্যাপারে বিস্ময় লাগছে।
সেটা কী?
ডাইনোসর; ডাইনোসর এখন মঙ্গল গ্রহে; ভাবা যায়!
হুম। বিস্ময়কর ব্যাপার বটে!
আচ্ছা লীরা, এলিয়েনটা কোথায়? যে তোমাকে নিয়ে গেলো? তুমি তার সঙ্গে আসোনি?
হুম। সে আমাকে দিয়েই আবার চলে গেছে। তবে কখন গেছে তা ঠিক মনে নেই। একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটেছে। সে আমাকে নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি আমার বাসায় পৌঁছে গেছি। তাকে যে বলব, তুমি কিছু দিন থেকে যাও। তা আর বলা হয়নি। সে কী ভেবেছে কে জানে! কাজটা আমার একদম ঠিক হয়নি। আমার কেন যে চৈতন্য হলো না; বুঝতে পারছি না। এখন আমার খুব খারাপ লাগছে।
আবার আসবে?
তা তো জানি না।
যদি না আসে?
বড্ড মন খারাপ হবে। ও খুব ভালো। আমি খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। ও যদি আমাকে মঙ্গল গ্রহে গায়েব করে দেয়! তখন কী হবে! এসব ভাবনা আমাকে দারুণভাবে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল।
আচ্ছা শোনো, তোমাকে নিয়ে মা-বাবা ভীষণ টেনশনে আছেন। তুমি এখানে আর দেরি না করে বাসায় চলো।
হুম, ঠিক বলেছ। আমিও বাসায় যাওয়ার কথাই ভাবছি।
তাহলে আর দেরি কোরো না।
ঠিক আছে। আমি রেডি হচ্ছি। তুমি যাবে তো?
মাঝেমধ্যে কেন জানি আমার শরীরটা খারাপ হয়। তুমি যদি তোমার বাসায় একটা ল্যাবরেটরি করতে তাহলে খুব ভালো হতো। আমি প্রায়ই বাসায় গিয়ে থাকতে পারতাম।
আমি আছি তো! আশা করি তোমার কোনও অসুবিধা হবে না।
তা তো জানি। তুমি থাকলে কোনও অসুবিধা হলেও আমার টেনশন হয় না। তুমি না থাকলে আমার খুব টেনশন হয়।
আপাতত টেনশন কোরো না। এখন রেডি হও।
ঠিক আছে। আমি রেডি হয়ে এখনই আসছি।
লীরা ও নওরীন রেডি হয়ে একসঙ্গে ল্যাবরেটরি থেকে বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়।
২.
লীরা বাসার সামনে এসে নওরীনকে বলল, তুমি বাসায় যাও। আমি জরুরি একটা কাজ সেরে আসছি। আর শোনো, আমার ব্যাপারে মা কিছু জানতে চাইলে বলবে, লীরা আসুক। তার কাছ থেকেই জানতে পারবেন।
নওরীন মাথা নেড়ে সায় দিলো। তারপর সে বাসার দিকে পা বাড়ালো। নওরীন দরজার সামনে গিয়ে কলিং বেল চাপল। লীরার মা লায়লা আঞ্জুমান দরজা খুলতে এগিয়ে আসেন। তিনি দরজার সামনে নওরীনকে দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। তিনি ক্ষোভ আর অভিমানমিশ্রিত কণ্ঠে বললেন, এই তোর আসার সময় হলো? এতদিন কোথায় ছিলি? বড়ো হয়ে মা-র খোঁজখবর নেয়ার কথাও ভুলে গেছিস?
নওরীন কিছু বলতে চাচ্ছিল। কিন্তু তাকে কথা বলার কোনও সুযোগ দেয়া হলো না। তিনি আগের মতোই বলতে থাকলেন, তোকে কতবার ফোন করলাম। পেলাম না। তোর ল্যাবরেটরিতে ফোন দিলাম। তোকে পেলাম না। ফোনটা কেউ রিসিভই করল না। তুই কোথায় গিয়েছিলি বল তো?
আম্মা, আমি কিন্তু লীরা নই। নওরীন।
ও তুমি নওরীন! তা আগে বলবা না!
আমাকে কথা বলার সুযোগই তো দেননি। আমি বলতে চেয়েছিলাম।
স্যরি মা। কিছু মনে করো না।
তুমি একা; লীরা কই?
সে একটু জরুরি কাজে গেছে। বলল, কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে।
কোথায় গেছে তুমি জানো?
আশপাশে কোথাও হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি বসো। কী খাবে বলো?
এখন কিছু খাবো না। আমার ক্ষুধা নেই। ক্ষুধা লাগলে বলবো।
আচ্ছা মা বলো।
আম্মা, আপনি খুব টেনশনে ছিলেন তাই না?
শুধু টেনশন! মেয়েটা কেন যে আমাকে এত দুশ্চিন্তায় রাখে!
সায়েন্টিস্ট মানুষ তো! সারাক্ষণ নতুন নতুন আবিষ্কার নিয়ে ভাবে। এ কারণে কারও কথা মনে রাখতে পারে না।
এখন কী আবিষ্কার নিয়ে ব্যস্ত বলো তো?
জানি না। সে কি তার মনের কথা আমাকে বলে?
তুমি জানো না? এটা কি হতে পারে?
কী করে জানব? সে তো বলে না?
তুমি তার ক্লোন। তোমার তো তার মনের কথাও জানা উচিত।
হুম। তা আপনি মন্দ বলেননি। কিন্তু সে আমার ক্রিয়েটর। সে যদি আমাকে কিছু না জানায়, তাহলে আমার পক্ষে কিছুই জানা সম্ভব নয়।
তাই নাকি!
আমি তো ভাবছি, তুমি সবই জানো। ইনফ্যাক্ট, তুমি তো তার ক্লোন! তার ভাবনা সম্পর্কেও তোমার ধারণা থাকা উচিত।
আপনার কথাটা ঠিক। দেখি, তাকে আমি বলব। সে যেন আমাকে সব কিছু জানায়।
এ সময় আবার কলিং বেল বেজে ওঠে। এবার নওরীন নিজেই দরজা খোলার জন্য এগিয়ে যায়। দরজার সামনে তখন লীরা অপেক্ষা করছিল। দরজা খুলে লীরাকে দেখেই নওরীন বলল, তুমি কেন যে আমাকে একা পাঠালে!
কেন, কী হয়েছে?
আম্মার প্রশ্নবাণে আমি একেবারে জর্জরিত। তোমার ব্যাপারে তার অনেক জিজ্ঞাসা।
তাই?
হুম।
কী জিজ্ঞাসা করল?
তুমি কোথায় গিয়েছিলে? কেন তার কাছে বলে যাওনি? এসব আর কী!
তারপর লীরা দরাজ গলায় তার মাকে ডাকল। মা, মা!
মেয়ের কণ্ঠস্বর শুনে লায়লা আঞ্জুমান দ্রুত দরজার সামনে এগিয়ে গেলেন। লীরাকে দেখে বললেন, আরে লীরা! কী হয়েছে? তোমার গলার টোনটা কেমন যেন লাগছে। কোনও সমস্যা?
না মা। কোনও সমস্যা না। আমি জানি তুমি আমাকে নিয়ে বড্ড বেশি টেনশন করেছ। স্যরি, তোমাকে বলে যেতে পারিনি।
কোথায় গিয়েছিলি?
বলছি মা। আগে নাশতা-টাশতা কিছু দাও। ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে। পেটে ক্ষুধা নিয়ে কথা বলা যায়!
আচ্ছা চল। নাশতা দিচ্ছি। আমি তো নওরীনকে নাশতা দিতে চেয়েছিলাম। নওরীন বলল, তার ক্ষুধা নেই। ক্ষুধা লাগলে চাইবে।
ওর কথা আলাদা মা। ও বেশি খায় না। ওর ক্ষুধা খুব কম। আমি এখন খাবো। ওর ইচ্ছা হলে ও খেতে পারে।
তোকে কী দেবো? স্যান্ডউইচ দিই?
হুম। নওরীনকেও তাই দাও। নওরীন, স্যান্ডউইচ খাবে তো?
হুম খাবো। আমি চিন্তাভাবনা করে দেখলাম, তুমি যেসব খাবার পছন্দ করো। আমারও সেসব খাবার পছন্দ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই লায়লা আঞ্জুমান রান্নাঘর থেকে চার-পাঁচটি গরম স্যান্ডউইচ নিয়ে ডাইনিং রুমে এলেন। টেবিলের ওপর রেখেই লীরা আর নওরীনকে উদ্দেশ করে বললেন, এসো এসো! গরম গরম খাও। মজা লাগবে।
লীরা আর নওরীন একসঙ্গে খেতে শুরু করল। লীরা খেতে খেতেই বলল, খুব মজা লাগছে মা। মনে হচ্ছে, অনেক দিন কিছু খাই না। তুমি কি আগেই বানিয়ে রেখেছিলে?
হুম।
কী করে বুঝলে আমি আজ আসব?
আমি বিজ্ঞানীর মা না?
হো হো করে হেসে উঠল লীরা ও নওরীন। কিছুক্ষণ পর আবার স্যান্ডউইচে কামড় দিয়ে মজা করে খেতে থাকল। খাওয়ার এক পর্যায়ে ঢক ঢক করে ঠান্ডা পানীয় গিলল। এ সময় লায়লা আঞ্জুমান বললেন, আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল, আজ তোরা আসবি। আমার ধারণা মিলে গেছে।
আর আনব?
না না মা! আর লাগবে না। তুমি বসো।
লীরার মা বললেন, লীরা কোথায় গিয়েছিলি বললি না? নতুন কিছু আবিষ্কার করছিস নাকি?
চেষ্টা করছি মা। আমি আসলে মঙ্গল গ্রহে গিয়েছিলাম। তোমাকে না বলে চলে গিয়েছি বলে স্যরি মা। তুমি কিছু মনে কোরো না।
এই! আমাকে না বলে কেন গেলি?
তোমাকে না বলে যেতে চাইনি। কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না।
কেন, করার ছিল না কেন?
সে অনেক কথা মা।
অনেক কথা মানে!
শোনো, মঙ্গল গ্রহ থেকে আমার ল্যাবরেটরিতে একটা এলিয়েন এসেছিল। সে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। তোমাকে বলার সুযোগই পাইনি।
এলিয়েন এসেছিল! বলিস কী! তোকে নিয়ে গেছে! মঙ্গল গ্রহে! আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
বিশ্বাস না হলে আমার কিছুই করার নেই।
এই! এলিয়েনটা কেমন রে? আমাদের মতো?
অনেকটা আমাদের মতোই। তবে নাক নেই। নাকের জায়গায় গভীর একটা গর্ত। কান দুটো বেশ বড়ো। চেহারাটা একটু বিদঘুটে। হঠাৎ কেউ দেখলে ভয় পেয়ে যাবে।
তুই ভয় পেয়েছিলি?
হ্যাঁ মা। আমি নওরীন দুজনেই ভয় পেয়েছিলাম।
ইস! আমি যদি দেখতে পেতাম। তুই আমাকে খবর দিতি! কেন দিলি না?
কী ভাবে দিবো। ও এসে বেশিক্ষণ থাকেনি। তাছাড়া ও আসার পর একটা ঘোরের মধ্যে সময়টা কেটে গেছে। তারপর ও আমাকে নিয়ে মঙ্গল গ্রহে চলে গেল। সময় পেলাম কই?
এই লীরা! তোর দ্রুতযান আছে না। সেটাকে চড়ে আমরা চল মঙ্গল গ্রহে চলে যাই!
ঠিক আছে যাবো।
আমাকে নিয়ে যাবি তো!
এ সময় কলিং বেলটা বেজে ওঠে। লীরা দরজা খোলার জন্য উঠতে যাচ্ছিল। লায়লা আঞ্জুমান তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, তুই বস। আমি যাচ্ছি।
লায়লা আঞ্জুমান দরজা খোলার জন্য এগিয়ে গেলেন। দরজা খুলে সামনের দিকে তাকালেন। দেখলেন, অদ্ভুত আকৃতির একটা লোক দাঁড়িয়ে। লীরার বর্ণনা অনুযায়ী এটা একটা এলিয়েন। লায়লা আঞ্জুমান কিছ একটা বলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বলতে পারলেন না। তার মাথাটা ঘুরতে শুরু করল। তারপর তিনি ধপাস করে পড়ে গেলেন! শব্দ পেয়ে লীরা ও নওরীন দৌড়ে গেল।
সংগ্রামী মা মাটি মানুষ পত্রিকা ২০১৭ পূজা সংখ্যায় প্রকাশিত