বেশ কিছুদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করছেন। এই রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই বাংলার মনিষীদের উল্লেখ ও উদ্ধৃত করতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। এভাবে কি বাংলার মন পাওয়া যাবে? তবে সব কিছুতে ছাপিয়ে গিয়েছে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক বৈঠকে মোদীর অভিনবত্ব। এবার তাঁর দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে দেখা গেল দক্ষিণেশ্বরের কালীবাড়ির ছবি। করোনা পরিস্থিতিতে পৃথিবী জুড়েই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে ভিডিও বৈঠক শুরু হয়েছে। সেই রীতিতে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভিডিও বৈঠক করেন মোদী।
সাধারণ ভাবে রাষ্ট্রনেতাদের ভিডিও বৈঠকে অংশগ্রহনকারী রাষ্ট্রনেতাদের পিছনে থাকে জাতীয় পতাকার ছবি। কিন্তু এতদিনের সেই ঐতিহ্য ও রীতি ভেঙে দিলেন মোদী। তাঁর পিছনের পর্দায় আগাগোড়া দেখা গেছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের ছবি। যদি কূটনৈতিক সম্পর্কের খাতিরেও ধরি তা হলেও শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে উজবেকিস্তানের যোগসূত্র কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জিততে বিজেপি এতটাই মরিয়া যে প্রধানমন্ত্রী যেখানে পারছেন সেখানেই বাংলাকে তুলে ধরছেন। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দ-র কথা এতদিন শোনা যাচ্ছিল তাঁর মুখে, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো দক্ষিণেশ্বর।
প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দক্ষিণেশ্বর মন্দির না থেকে রামমন্দিরের শিলান্যাসের ছবি রাখা উচিত ছিল। কারণ বাংলার মণিষীরা বিভাজনে বিশ্বাস করতেন না। এঁদের সকলেরই মূল ধর্ম ছিল মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, প্রত্যেক মানুষের প্রতি ভালোবাসা। অবশ্য বিজেপি দলটাই এমন যে তাঁর নেতারা মুখে একরকম বলেন আর কাজে আর একরকম করেন। তা না হলে বাংলার ভোটে জিততে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন যত্র তত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম নিচ্ছেন, তখন সেই রবীন্দ্রনাথের লেখা দেশের জাতীয় সংগীতকে বদলানোর আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকেই চিঠি লিখলেন বিজেপি নেতা ও সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রবীন্দ্রনাথের লেখা নিয়ে বহুদিনই আপত্তি রয়েছে। একসময় তাঁরা এনপিইআরটি-র পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাদ দেওয়ার কথাও তাঁরা তুলেছে।
বিজেপি সাংসদের দাবী জাতীয় সংগীতে ‘সিন্ধু’ কথাটা বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাই জাতীয় সংগীত বাতিল করতে হবে। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী-র দাবি আগামী বছর ২৩ জানুয়ারির মধ্যেই এই পরিবর্তন করবে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কারণ তাঁর দাবি আইএনএর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির গাওয়া অন্তবর্তী সরকারের জাতীয় সংগীত ‘কাওয়ামি তারানার’ প্রথম পংক্তি ব্যবহার করা হোক। তাই স্বামীর আশা ২৩ জানুয়ারির মধ্যেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। এদিকে আগামী বছরেই তো পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রধানমন্ত্রী যেখানে ভোট পার্বনে পারলে প্রায় রোজই রবীন্দ্রনাথকে টেনে আনেন আর সেই রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীতটাই বদলে দেবেন? সুব্রহ্মণ্যম স্বামী যে প্রধানমন্ত্রীকে বড়ো প্যাঁচে ফেলে দিলেন তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।