ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রাসী কর্পোরেট উন্নয়ন পরিকল্পনা চার ধাম প্রকল্প বদ্রিনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী আর যমুনোত্রীর উন্নয়নের ধাক্কায় হিমালয়ের চার প্রধান তীর্থকেন্দ্র টালমাটাল। একের পর এক তীর্থস্থান ধ্বংস হয়েছে বা ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকায় উথালপাথাল, বহু মানুষ উচ্ছেদ হয়েছে, পাহাড় ভেঙেছে, ব্যবসা বাণিজ্য মাটি ধরেছে।

এই চারধাম প্রকল্পের অন্যতম হল নরেন্দ্র মোদির ২৫০ কোটি টাকার বদ্রিনাথ মাস্টার প্ল্যান। কয়েক মাস ধরে বদ্রিনাথ পাহাড় ফাটিয়ে, স্থানীয় দোকানদার, বাসিন্দাদের হঠিয়ে সমগ্র অঞ্চল কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যম নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হিমালয়ের তীর্থক্ষেত্রগুলোয় ধ্বংসক্রিয়া দেখে আতঙ্কিত আর বদ্রিনাথ মাস্টার প্ল্যানের ধাক্কায় ক্রুদ্ধ বাসিন্দা, ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে এসেছেন, গত কয়েক মাস ধরে মিটিং মিছিল, ধর্ণা চলছে। কয়েকজন গত সাত দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছেন, তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রায় সকলেই।

ষাট বছরের ব্যবসায়ী দীনেশ চন্দ্র দিমরি জানালেন ‘গত কয়েক দশক আমাদের পরিবারের সাত ভাই রাস্তার পাশের দোকান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করি। কেউ বিক্রি করি জামা কাপড়, কেউ বিক্রি করি পুজীওর সামগ্রী, কেউবা খাওয়ারদাওয়ার। উত্তরাখণ্ড প্রশাসন আমাদের দোকান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। শুধু দীনেশবাবুই নয় এরকম বহু দোকান বদ্রিনাথ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু বদ্রিনাথের ইস্যু উচ্ছেদ নয়, স্থানীয়দের চোখমুখে অন্য তীর্থকেন্দ্রের মত ধ্বংস হওয়ার আশংকা।

মোদির ৪ স্মার্ট পাহাড়ি তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম বদ্রিনাথ কেন্দ্রিয় সরকারের চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়ন কর্মকে আদৌ বহন করতে পারবে কী না তাই নিয়ে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। গত নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২৫০ কোটি টাকার মাস্টার প্ল্যান তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন এই মাস্টার প্ল্যান ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাথায় রাখতে হবে বদ্রিনাথ উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় ৩১৩৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই তীর্থক্ষেত্রে পূণ্যসঞ্চয়ে যান।

মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী আপাতত মন্দিরের চারপাশের ৭৫ মিটার বৃত্তের মধ্যে সব কটা কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অলকানন্দা নদীর তীরে হোটেল, বাসস্থান, প্রমোদকেন্দ্র ইত্যাদি তৈরি করার কথা। সরকার তীর্থকেন্দ্রকে সাজিয়ে তুলতে বদ্ধপরিকর দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ স্থানীয় মানুষদের দাবি তাদের অন্ধকারে রেখেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চালানো হচ্ছে। সংঘর্ষ কমিটির চেয়ারম্যান যমুনা প্রসাদ রেওয়ানি ক্রুদ্ধ গলায় জানালেন সরকার কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই মন্দিরের আশেপাশে উচ্ছেদকাণ্ড ঘটিয়েছে। ৯০ শতাংশ মানুষ প্রশাসনকে নোঅবজেকশন সার্টিফিকেট না দেওয়া সত্ত্বেও তাদের উচ্ছেদ করেছে। তারা জানিয়েছেন দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ না দিলে তাদের আন্দোলন চলবে, আমরন অনশনও চলবে।’
Yes I support this; how the people live their life…. the real beauty they destroyed and now construction is not in process..
What about the businessman who only earned for just 6 months….
Govt should take action in favor of these people…