প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবার ভাষণ দেবেন। আজ ঠিক রাত ৮টায়। অনেক কিছু নাকি জানানোর আছে দেশবাসীকে। বৃহস্পতিবার রাতের পর আজ মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ। মোদীর রাত ৮টার ভাষণ যে অন্তঃসারশূন্য তা মানুষ বুঝে গেছেন। করোনা মোকাবিলায় মোদীকে অনেক আগেই টেক্কা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক কথায় কেন্দ্রীয় সরকার টোটালি ফেল, হাতড়ে বেড়াচ্ছে। রাজ্যগুলিকে কোনও সাহায্য করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না বলা অবধি রেল, উড়ান বাতিল হয়নি। তৃণমূল কবে থেকে দাবি জানিয়েছে সংসদের অধিবেশন মুলতবি রাখার, সেটাও অনেক দেরিতে বুঝে সোমবার থেকে বন্ধ হয়েছে। আগে বন্ধ করলে মহাভারত, রামায়ণ অশুদ্ধ হতো না।
এবার আসা যাক মোদীর মিথ্যা ভাষণে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার অর্থমন্ত্রীকে মাথায় রেখে কোভিড-১৯ ইকনমিক রেসপন্স টাস্ক ফোর্স গড়বে। অর্থ সচিবকে পদক্ষেপ করতে বলা হচ্ছে। চারদিন পেরিয়ে গেল সেই টাস্ক ফোর্সের ট পর্যন্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, টাস্ক ফোর্স অর্থ সচিব গড়তে পারেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা ক্যাবিনেট সচিবালয় গড়তে পারে। এমনকী মোদীর ঘোষণার আগে অবধি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতেন না। এখনও আইডিয়া নেই! উনি শুধু বলেছেন, খাদ্যশস্য মজুত আছে। রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি চাইলে এফসিআই গুদাম থেকে আগাম ৩ মাসের সামগ্রী তুলতে পারে।
রাজ্যগুলি দাবি জানাচ্ছে আর্থিক প্যাকেজের। সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার আগে অবধি এই প্যাকেজ নিয়ে টুঁ শব্দটি করেনি কেন্দ্র। এমনকী অর্থ মন্ত্রক চেয়েছিল কনসলিডেটেড ফান্ড থেকে অর্থ নিয়ে করোনা মোকাবিলায় একটি বিশেষ তহবিল গড়তে। সেই অনুমতিও দেয়নি পিএমও।
তাহলে বুঝতেই পারছেন মোদীর ভাষণ কী? উনি ভিডিও কনফারেন্স, টিভিতে মুখ দেখানোর ভাষণ আর টুইট নিয়েই ব্যস্ত।
তবে উনি তৎপর। করোনা মোকাবিলা নিয়ে নয়। রাজনীতি নিয়ে। তাই তো, মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ সিং চৌহান শপথ নিতেই টুইটারে অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি! অর্থাৎ উৎসাহ দিয়েছেন করোনা মোকাবিলার মাঝেও অসাধু উপায়ের রাজনীতিকে। এমন তৎপরতা যদি করোনা-মোকাবিলায় থাকত দেশের এই হাল হতো না। ওঁর জন্য একটা কথাই বেশিরভাগ মানুষ বলছেন, ছিঃ!
