‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কারে মনোনীত হলেন খানাকুলের কুমারহাট উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেখ নাসারুল গাওস। রাজ্যসরকার আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে এই ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার তুলে দেবেন তাঁর হাতে। এই পুরস্কারে উচ্ছ্বসিত স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা। গর্বিত প্রধান শিক্ষক সেখ নাসারুল গাওস। প্রসঙ্গত, স্কুলের মান উন্নয়নে নাসারুলের অবদানের জন্য এই পুরস্কার বলে জানা গেছে।

উল্লেখ করতেই হয় নাসারুল ১৭ বছর ধরে কুমারহাট স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তিনি যখন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন তখন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩০০ জন। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৩০০। উচ্চমাধ্যমিক, বৃত্তিমূলক পাঠক্রম ও রবীন্দ্রমুক্ত বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন শুরু তাঁর আমলেই। করোনাকালে নাসারুল ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াশোনার খবর নিতেন নিয়মিত। স্কুলছুট পড়ুয়াদের স্কুলে ফিরিয়ে এনেছেন। শিক্ষক জীবনের ৩০ বছরে ছুটি নিয়েছেন মাত্র ১৪ দিন। এলাকার সকলের কাছে প্রিয় ও শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তারই যোগ্য সম্মান জানিয়েছে রাজ্যসরকার।

সেখ নাসারুল গাওস জানান, চাকরি করব বলে শিক্ষকতা করতে আসিনি। শিক্ষক হয়ে এসেছি শিক্ষাদান করব বলে। এলাকায় অর্ধেকর বেশি তপশিলী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস। যেখানে শিক্ষার আলো সম্পূর্ণ পৌঁছায়নি। এঁদের সকলকে শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসা প্রধান লক্ষ্য ছিল। তাই শিক্ষা দিয়ে এখানকার ছাত্রছাত্রীদের সত্যিকারের মানুষ গড়ব বলে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। তবেই সমাজের পরিবর্তন হবে। সামাজিক কাজে দাগ কেটে যেতে চাই। শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড। সমাজ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষক জীবনে শিক্ষা দিয়ে ছাত্রদের মানুষ করা প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যসরকার আমার শিক্ষাকে সম্মান জানিয়েছে। এজন্য সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সমস্ত ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক এবং এলাকার সকল মানুষের মধ্যে এই পুরস্কারের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।

প্রসঙ্গত, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সেখ নাসারুল গাওসের। পিতা সেখ গোলাম গাওস খুব কষ্টেরমধ্য দিয়ে নাসারুলকে মানুষ করেন। ১৯৭৩ সালে আরামবাগ বয়েজ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৭৯-তে মাধ্যমিক। বিজ্ঞান নিয়ে বাজুয়া হাইস্কুল এবং পরে আরামবাগ নেতাজী মহাবিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা। এরপর তিনি ইংরেজি অনার্স নিয়ে কামারপুকুর কলেজ থেকে পাশ করেন। ইংরেজি বিষয় নিয়ে এম এ পড়তে যান রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকে বের হয়ে বি এড করেন আনুড় কলেজ থেকে। এরপরই শিক্ষকতা শুরু।

প্রথমে ধরমপুর হাইমাদ্রাসা। তারপর বাজুয়া হাইস্কুলে। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সহ-শিক্ষক হয়ে যোগদান কৃষ্ণনগর জ্ঞানদা ইনস্টিটিউট শনে। ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি কুমারহাট হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান। এখানে দীর্ঘ ১৭ বছর দক্ষতার সঙ্গে বহাল আছেন। ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, সেইসঙ্গে উচ্চমাধ্যমিকে উন্নীত। তাছাড়া পঠনপাঠন ও স্কুলের অন্যান্য উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। এখানেই নজর কেড়েছে এলাকার মানুষের। সরকারও তাঁকে ‘শিক্ষারত্ন’ দিয়ে যোগ্য সম্মান জানিয়েছে।