যাবতীয় রোগবালাই সারাতে মানুষ যে বৃক্ষের দ্বারস্থ হয় সর্বরোগহর সেই নিমগাছকেই এখন ধরেছে রোগ। ডাইব্যাক ডিজিজ নামে এক মারাত্মক ছত্রাক সংক্রমণে এখন আক্রান্ত এই গাছ। নিমগাছ বরাবরই রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের এক বড় ভরসা। তার ডাল থেকে পাতা সবকিছুই আমাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার কাজে লাগে। অসুখ ঠেকাতে খাওয়া, প্রলেপ, দাঁত মাজা, স্নান সবকিছুতেই থেকে থেকে ডাক পড়ে তার। আবালবৃদ্ধবনিতার নানা অসুখ সারাতে বহুক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় নিমপাতার রস। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সবকিছুতেই তার ব্যবহার। এমনকি তার হাওয়াও স্বাস্থ্যকর। এককথায় নিমগাছ মানে একটা নিরাপত্তা। মানুষকে সংক্রমণের হাত থেকে যে বাঁচায় সে আজ সংক্রমণে আক্রান্ত।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা অবশ্য অভয় দিয়েছেন নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই এই ডাইব্যাক ডিজিজ থেকে নিমগাছকে বাঁচাবে। নিমগাছের সংকট মানে মানুষের স্বাস্থ্যের সংকট। এই ভাবনাটাই উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের ভাবাচ্ছে। কারণ তারা জানেন আমাদের মত দেশে যারা দামি ওষুধ কিনতে পারেননা নিমগাছ তাদের একটা বড় ভরসার জায়গা। শুধু রোগী বা অসুস্থরা নয়, আমাদের দেশের বহু ওষুধ প্রস্তুতকারক এবং কবিরাজরাও নিমের ওপর নির্ভরশীল।

নিমের শরীরে এই রোগ ধরা পড়েছে কয়েকমাস আগে তেলেঙ্গানার গাড়োয়াল অঞ্চলে। তারপর থেকে তা দ্রুত ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে সে রাজ্যের কয়েক হাজার নিমগাছ ছত্রাক সংক্রমণে আক্রান্ত। এতে ঘন সবুজ নিমপাতা হয়ে যাচ্ছে বিবর্ণ বা হলুদ। কুঁকড়ে যাচ্ছে পাতা, বাড় কমছে গাছের ডালপালা ও শাখাপ্রশাখার। সেগুলি শুকিয়ে আসছে।

তেলেঙ্গানার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগের ডিরেক্টর অধ্যাপক আর জগদীশ্বর জানিয়েছেন, তাদের গবেষকরা এই সংক্রমণ ঘটাচ্ছে এমন ১১টি প্যাথোজেনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছেন। তবে রোগজীবাণু মারতে এখনই কোন কীটনাশক স্প্রে করতে তারা রাজি নন। গাছের আকারের কারণেই তা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ বড় গাছে রাসায়নিক কীটনাশক দিলে তার চারপাশের মাটিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে অন্য গাছেরও ক্ষতি হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার ছাড়াও তেলেঙ্গানার অন্যান্য জেলার নিমগাছেও ছড়িয়েছে এই ছত্রাক সংক্রমণ। ভূবনগিরি জেলার ১০টি নিমগাছ ইতিমধ্যেই আক্রান্ত। এর ফলে গাছগুলি মরে যেতে পারে। সেখানে চিকিৎসার বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করে ফল পাওয়া গেছে।

তবে জগদীশ্বরের মতে এ নিয়ে কোন চূড়ান্ত কথা বলার সময় এখনও আসেনি। শুধু তেলেঙ্গানা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নিমগাছেও এই রোগ ছড়াচ্ছে। দেশে গাছের এই ডাইব্যাক ডিজিজ ধরা পড়ে ১৯৯২ সালে। এবছর তা ব্যাপক চেহারা নিয়েছে। জগদীশ্বর অবশ্য আশাবাদী যে নিম তার ভিতরের শক্তিতেই এই ব্যাধির মোকাবিলা করে আবার রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবে।