সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেশপ্রেমিক নেতাজী সুভাষচন্দ্রের ১২৬তম জন্মদিন পালিত হলো যথোচিত মর্যাদায়। এই উপলক্ষে প্রতি বছরের মত বর্তমান বছরেও দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সরকারি বাসভবনে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন পালিত হলো। সকাল থেকে এখানকার সকল স্তরের মানুষের জন্য এই বাড়ির দরজা ছিল মুক্তাঙ্গন, মুক্তদ্বার। সারাদিনে সর্বস্তরের প্রায় দেড়শতাধিক মানুষ এখানে এসে লনে রাখা নেতাজির মূর্তিতে তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্রসঙ্গত, দিল্লিতে সরকারি বাসভবনগুলির মধ্যে এই বাড়িটি যেন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী।
যেখানে কেউ নিজের ছবি এবং দলীয় নেতা বা যে যখন প্রধানমন্ত্রী হন তাদের ছবি কেবলমাত্র টাঙ্গিয়ে রাখেন, সেখানে এই বাড়িতে প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকলেই মাথার উপর পরপর তিনটি নেতাজির ছবি সারা বছর লাগানো রয়েছে। তারপর একেবারে শেষে আছে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি।

সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, “দিল্লিতে আমার বাড়ি ছাড়া আর কোথাও কিন্তু নেতাজির জন্মদিন এভাবে পালন করা হয়নি। এমনকি, ঢাক ঢোল পিটিয়ে ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির যে মুর্তি বসানো হয়েছে সেখানেও সরকার পক্ষ থেকে কোন অনুষ্ঠান করা হয়নি বলে আমার কাছে খবর আছে। শুনেছি সেখানে কেউ ফুল দিতেও যায়নি। সমস্ত এলাকা অন্ধকারে ডুবেছিল। যারা নেতাজির জন্য কুমিরের কান্না কাঁদছে, তাদের সঙ্গে নেতাজির মতের এবং পথের আকাশ পাতাল তফাৎ। নেতাজি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন, এরা ফ্যাসিবাদে বিশ্বাসী। নেতাজি পরিকল্পিত অর্থনীতিতে বিশ্বাস করতেন, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গড়ে তোলার পক্ষে ছিলেন। নেতাজির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্ল্যানিং কমিশন তৈরি করা হয়েছিল এই সরকার সেই কমিশনকে তুলে দিয়ে নীতি আয়োগ নাকি দুর্নীতি আয়োগ তৈরি করেছে।”

আজকের দিনে যুবসমাজের সামনে এক আলোকিত পথের দিশা নেতাজি সুভাষচন্দ্রের জীবন আদর্শ। তাই এই মহাপুরুষের জন্মদিনে তাঁর কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই প্রয়াস অভিনন্দনযোগ্য। জনপ্রিয় সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সর্বস্তরের অগণিত মানুষ।