নেতারহাট ফায়ারিং রেঞ্জ চালু রাখার মেয়াদ ঝাড়খণ্ড সরকার আর বাড়ালেন না। এই রেঞ্জ বস্তুত বন্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরেই এব্যাপারে স্থানীয় আদিবাসী মানুষ আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের কামান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এই জায়গাটিকে ব্যবহার করছিলেন। সেনাবাহিনীর এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালানোর মেয়াদ শেষ হয়েছে এ বছরের ১১ মে। তারপরেও তারা জায়গাটা ছাড়েনি। ৮ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গাটা সেনাবাহিনী পায় ১৯৫৪ সালে, অবিভক্ত বিহার সরকারের আমলে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ৮ স্কোয়ার কিলোমিটার এলাকাটি সেনাবাহিনী তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। ১৯৯১-৯২ সালে একটা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এলাকাটিকে বাড়িয়ে করা হয় ১৪৭০ স্কোয়ার কিলোমিটার। বিহারের লাটেহার এবং গুমলা জেলার ২৪৫টি গ্রাম এর আওতায় চলে আসে।

স্থানীয় আদিবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই এতে খুশি হয়নি। সেনাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক মোটেই ভাল নয়। সেনাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষদের ওপর অত্যাচার, ধর্ষণ ইত্যাদির অভিযোগ তুলে তাদের গ্রাম ছাড়ার আন্দোলন শুরু করে আদিবাসীরা। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী জায়গাটি পঞ্চায়েত এলাকায় পড়ে। ১৯৯৬ এর পেসা আইন বলছে, এই এলাকাগুলির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর গ্রামসভাগুলির অধিকার রয়েছে। পঞ্চায়েত আইন কার্যকর করার ব্যাপারে ঝাড়খণ্ড এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু অধিকার সচেতন আদিবাসী মানুষরা নিজেদের অধিকার ছাড়তে চায়নি। ফায়ারিং রেঞ্জ বন্ধের দাবি ছিল স্থানীয় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

বিহার ভাগ হওয়ার পর থেকেই আদিবাসী মানুষদের নিয়ে রাজনীতি বেড়েছে। বিরোধী থাকাকালীন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরব দলগুলি ক্ষমতায় এসে ফায়ারিং রেঞ্জ থাকার স্বপক্ষে কথা বলতে শুরু করে। আবার ক্ষমতায় এলেই বলতো ঠিক উল্টো কথা। এই ফায়ারিং রেঞ্জ বন্ধ করার আদেশ দেওয়ায় আদিবাসী মানুষ ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ওপর খুশি হয়েছেন। সেটাই স্বাভাবিক কারণ, এখানে ভূমিপুত্রদের ওপর সেনাদের অত্যাচার চরমে উঠেছিল।

আদিবাসী সংগঠন জন সংঘর্ষ সমিতির অভিযোগ, এখানে সেনাদের হাতে ধর্ষিতা হয়েছেন কমকরেও ২৮ জন মহিলা। তার মধ্যে ২ জন গণধর্ষণে মারা গেছেন। সেনাদের অনুশীলন চলাকালীন কামানের গোলায় আহত হয়েছেন বহু গ্রামবাসী। যখন তখন আদিবাসী মানুষদের গরু, ভেড়া, মুরগি নিয়ে যেত সেনারা। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। গ্রামবাসীদের যুক্তি ছিল, গ্রামের ভিতরের জমি কোনমতেই চাঁদমারির এলাকা হতে পারেনা। ক্ষমতায় এলে এটা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। আদিবাসীদের দাবি মেনে নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন।