কিছুদিন আগেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবি কিংবা সিরিজ দেখা মানেই ছিল নেটফ্লিক্স। এখন তার বাজার পড়ছে দ্রুত গতিতে। চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দাম পড়েছে ৩৫ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার অবধি অব্যাহত ছিল এই পতন। ২০২২ এর প্রথম পর্বে প্রায় ২ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির হাত ধরে দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এবং টিভি সোপ নির্মাতাদের আয়পত্তর ভালোই হচ্ছিল। এরফলে তাতে ধাক্কা লাগবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
অবস্থা যে বেশ কঠিন তা বোঝা যায় সংস্থাটির টাকাপয়সা দেওয়ার ধরণ দেখে। আগে নেটফ্লিক্স চলচ্চিত্র এবং সোপ নির্মাতাদের টাকা দেওয়ার ব্যাপারে ছিল খুবই উদার।

ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ায় এখন তারা বাজেট কমাতে চাইছে। যেসব শো’গুলি খরচ তুলতে পারছে না তা বন্ধ করে দিতে চাইছে তারা। প্রাথমিকভাবে গ্রাহক চাঁদা অনেকটা কমিয়ে অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এই গ্লোবাল স্ট্রিমিং জায়েন্ট। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় এখন তারা প্রোডাকশন বাজেট কমাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এখন নেটফ্লিক্সের বাজেট অনেক ক্ষেত্রে অ্যামাজন প্রাইম বা ডিজনি+হটস্টারের তুলনায় কম। নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছেন, উপযুক্ত ও সম্ভাবনাময় প্রজেক্টে তারা খরচে কোন কার্পণ্য করছে না।
অনেকের মতে কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী খুচরো ব্যবসায়ী সংস্থা নেটফ্লিক্সের শেয়ারের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়াতেই বাজারে এই ধ্বস নেমেছে। ডিটিএইচ, ওটিটি এবং ডিজিটাল মিডিয়া কোম্পানিগুলিকে নিয়ে সারা পৃথিবীতে যে মাতামাতি শুরু হয়েছিল তাতে শেয়ার বাজারের বহু লগ্নীকারি রাতারাতি লাভের আশায় প্রচুর বিনিয়োগ করেছিলেন। ব্যবসা ধাক্কা খেতেই তারা রাতারাতি বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। তাই শেয়ারের দাম পড়ছে দ্রুত।

অনেকে আবার এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে বিষয়বৈচিত্রের অভাব এবং অতিরিক্ত গ্রাহক চাঁদা নেটফ্লিক্সের গ্রাহক কমার কারণ। এই প্ল্যাটফর্মে সিরিজ ও ছবিগুলি দর্শকদের মতে, গোড়ার দিকে নেটফ্লিক্স এক্ষেত্রে তার প্রতিযোগীদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকলেও এখন তার বিষয়গত দৈন্য বেড়েছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের ছবি ও সিরিজগুলিতে বৈচিত্র বাড়ানোর ফলে দর্শকরা ঝুঁকছেন সেদিকে। অ্যামাজন প্রাইম, ডিজনি+হটস্টার, সোনি লাইভ এবং জি আর্কাইভ বিষয় ও নির্মাণ দুটি ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তাই দর্শক তাদের দিকে ঝুঁকছে। রমরমা কমেছে নেটফ্লিক্সের।