কাপশিট হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক দুর্গাপ্রসাদ সরকার এলাকাতে মাস্টারমশাই নামেই খ্যাত। ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজি পড়ান। ফলে অভিভাবকদের কাছেও তিনি মাস্টারমশাই। এ হেন মাস্টারমশাই এবার পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক অভিভাবিকা সকলেই খুশি। ফলে তিনি পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে জয়ী প্রার্থী। এখানেই শেষ নয়, এবার এলাকাবাসীর ইচ্ছে মাস্টারমশাইকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি করতে হবে। এই ব্যপারটা নিয়ে যদিও কোনও নিশ্চয়তা নেই তবু মানুষর আশার ফানুসটা আকাশেই ওড়ে। এলাকার মানুষেরাও তাদের ইচ্ছেটা আগেভাগে জানিয়ে রেখেছেন কর্তৃপক্ষের কাছে।

আরামবাগে বিজেপির গড়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকে দরকার ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। বিশেষ করে একেবারে নতুন মুখের। সেই পরিকল্পনা মতো আরামবাগ ব্লকের আরাণ্ডী-২ পঞ্চায়েতের ৪৪ নম্বর আসনে পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী মনোনীত হন দুর্গাপ্রসাদ সরকার। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষক দুর্গাপ্রসাদবাবু রাজনীতিতে মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটেন। বিজেপির শক্ত গড়ে দুয়ারে দুয়ারে প্রতিদিন দলীয় নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ভোটের প্রচার চালিয়ে গেছেন। কর্মের বিকল্প নেই। তাই জনগণ ভোট দিয়ে দুর্গাপ্রসাদবাবুর পাশে থেকেছেন।

ভোটে ৪৩ নম্বর জেলা পরিষদের আসনে ৫২৭ ভোটে জয়লাভ করে তাঁর অঙ্গীকার, আগামী দিনে দলের সকল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সুখে ও দুঃখে মানুষের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয় মা মাটি মানুষের জয়। আরাণ্ডী-২ পঞ্চায়েতের দক্ষিণ নারায়ণপুর, চন্দ্রবান, হিয়াৎপুর ও বহুখেদাইল গ্ৰামবাসীর জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ প্রকল্পের উন্নয়নে মানুষকে সামিল করাই হবে মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থী হিসেবে যেভাবে প্রচারে নেমেছিলেন তাতে প্রধান বিরোধী দলগুলো সিঁদুরে মেঘ দেখেছে। ফলস্বরূপ মানুষ দুর্গাপ্রসাদবাবুকেই কাছে টেনে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নতুন মুখ হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ দুর্গাপ্রসাদবাবুর মাতুল বাড়ির পরিবেশ থেকেই। কারণ মাতুল বাড়ির রাজনীতির রক্ত পেয়ে বসেছে তাঁর রক্তেও। শৈশবে বাবা-মাকে হারিয়ে মাতুলের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেন। কলেজ জীবনে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ না দিলেও কংগ্ৰেসের ভাবধারায় আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মধারার সঙ্গে যুক্ত হন। কাপশিটে সে সময় বুথে মারও খান। ছায়া প্রকাশনীতে কর্মজীবন শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে কাপশিট হাইস্কুলে যুক্ত হন। সেইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির উদ্যোমী দুর্গাপ্রসাদকে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রথমবার পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী মনোনীত করেন। এবারে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্বাচিত হবে বলে ধরেই নিয়েছিল দলের জেলা নেতৃত্ব। নির্বাচনে প্রথম প্রার্থী হয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিলেন লড়াকু সৈনিক দুর্গাপ্রসাদ সরকার। তাই তিনি সদর্পে বলেন, দিদির উন্নয়নের প্রকল্পগুলি প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। বিপদে — আপদে মানুষের পাশে থাকাই লক্ষ্য। নূন্যতম পেলেই মানুষ খুশি। সেটাকেই প্রাধান্য দিতে হবে।