‘চিত্ত যেথা ভয় শূণ্য উচ্চ যেথা শীর’ — কবি বলেছেন ভয় শুন্য চিত্ত অর্থাৎ মন ও সোজা মেরুদন্ডই পারে সমাজকে ভালো ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আর এই চারিত্রিক দৃঢ়তার জন্য সব থেকে জরুরি হল সমাজের সব স্তরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। সমাজের সব স্তর বিশেষ করে সব থেকে নিচু স্তরের মানুষগুলি যদি শিক্ষিত না হয়, তবে একটা সমাজের সামগ্রিক উন্নতি হবে না। সে জন্যই দরকার এক্কেবারে নিচুতলার কঁচিকাঁচাদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমকি শিক্ষাপ্রদানের সু-ব্যবস্থা।
সনামধন্য ব্রিটিশ দার্শনিক ও সমাজ বিজ্ঞানী বার্টন্ড রাসেল তাঁর বই “On Education”-এ বলছেন “… the educational system we must aim at producing in the future is one which gives to every boy and girl an opportunity for the best that exists”. তবে ভারতের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে, যেখানে বিশাল জনসংখ্যার একটা বড় অংশই দারিদ্র সীমার নিচে সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সব স্তরে পৌঁছে দেওয়াটা কিন্তু বেশ কঠিন কাজ। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর শিক্ষা ব্যবস্থা থমকে গিয়েছিল। তবে আশার কথা সেই অন্ধকার দূর করে আবার আলোর রেখা দেখা দিয়েছে। রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। করোনা কালকে অতীতে ফেলে এসে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও চলছে। একই সঙ্গে খুলেছে প্রাথমিক স্কুলগুলি। কলকাতাও পিছিয়ে নেই। কলকাতা পুরসভার মোট ২৪১টি স্কুলের মধ্যে অধিকাংশ স্কুল খুলে গেছে। বাকি গুলিও অল্প কিছুদিনের মধ্যে খুলবে। কলকাতা পুরসভার শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপণ সাহা এই বিষয়ে জানালেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি আমরা কলকাতা পুরসভার প্রতিটি স্কুলের পরিকাঠামো দিকগুলি খুঁটিয়ে দেখে সব স্কুল খুলে দেব। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ স্কুল খুলে গেছে। পড়ুয়ারা ধারাবাহিক ভাবে স্কুলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা লাভ করছে।’

১৯২৪ সালে কলকাতা পৌর সংস্থার তৎকালিন মেয়র দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের হাত ধরে এই শহরে প্রথম প্রাইমারি বিদ্যালয়ের পথ চলা শুরু। সেই পথকেই আরও প্রসারিত করার অঙ্গিকার বদ্ধ হয়েছে কলকাতা পৌর সংস্থা।
তবে বছর ১২ আগেও অধিকাংশ কলকাতাবাসী মনে করতেন কলকাতা পুরসভার কাজ শুধুই রাস্তা মেরামতি বা নিকাশি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সম্প্রতি পুরসভায় এসেছে কাজের জোয়ার। রাস্তা মেরামতি, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গেসঙ্গেই পাল্লা দিচ্ছে শিক্ষা, উন্নত হচ্ছে স্বাস্থ্য, পরিবেশের মত বিভাগগুলিও। আগেই বলা হয়েছে বর্তমান সরকার শিশু শিক্ষা ও নারী শিক্ষার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পুরসভার স্কুল গুলির মধ্যেও প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। আগেকার জরা-জীর্ণ রূপ থেকে বেরিয়ে এসে আজ নবরূপে স্কুল গুলি সেজে উঠেছে, উন্নত হয়েছে পঠন-পাঠনের মানেরও। বলার অপেক্ষা রাখে না কলকাতার পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও শিক্ষা বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপণ সাহা-র নিরলস প্রচেষ্টায় আজ পুরবিদ্যালয়ের ভোল একেবারেই পাল্টে গেছে। পৌরসংস্থার শিক্ষা বিভাগ প্রতিটি শিশুর, বিশেষ করে সমাজের অনুন্নত তথা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল পরিবার থেকে আসা শিশুদের শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এযাবত কাল অবধি বাংলা মাধ্যম, হিন্দি মাধ্যম, উর্দু মাধ্যম, ইংরাজি মাধ্যম এবং ওড়িয়া মাধ্যমের বিদ্যালয়ে চালু আছে। তবে বিদ্যালয়ের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি করা সহ কম্পিউটার শিক্ষা ও কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টিক বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে পৌরসংস্থার তরফ থেকে। এছাড়াও কলকাতা পৌরসংস্থার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২০টি বিদ্যালয়ে মন্টেসরি সেশন রয়েছে। পৌর বিদ্যালয় ছাড়াও কলকাতা পৌরসংস্থার বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিশু শিক্ষা কর্মসূচীর অর্ন্তগত ১০৪টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে রয়েছে। মন্টেসরি সেশনে ৩ বছরের উর্ধ্বে শিশুদের জন্মের নথিপত্র দেখে ভর্তি নেওয়া হয়। প্রিপ্রাইমারিতে ভর্তির বয়স ৫ বছর। শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় জানুয়ারি থেকে। শেষ ডিসেম্বর মাসে। পুরো শিক্ষাবর্ষে প্রথম পর্ব পরীক্ষা হয় আগস্ট মাসে। তৃতীয় পর্বের পরীক্ষা হয় ডিসেম্বর মাসে। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ত্রুটি গুলি চিহ্নিত করে রেমিডিয়াল চিটিং এর ব্যবস্থা করা হয় ও পরবর্তী ক্লাসের যোগ্য করে তোলা হয়। সকল শিশুর জন্য শিক্ষাগ্রহণ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে নিয়মিত ভর্তিকরণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। পৌর শিক্ষা বিভাগের সুদক্ষ ভিজিলেন্স টিম মাঝে মধ্যেই বেরিয়ে পড়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক বস্তি অঞ্চল অথবা শ্রমিক কোয়াটার পরিদর্শনে এবং সেখানে থেকে শিশুদের চিহ্নিত করে চলে স্কুল মুখি করবার কাজ। পৌরসংস্থার শিক্ষা বিভাগের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নতুন শিশুদের ভর্তি সহ বিদ্যালয়ছুট শিশুদের বিদ্যালয় অন্তর্ভূক্ত করানোর প্রয়াসও জারি রয়েছে। বিদ্যালয়ে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি বিদ্যালয় সংলগ্ন শিশুদের মায়েদের নিয়ে সভা (মাদারস্ মিটিং) ও বিদ্যালয় উন্নয়নের কমিটির সভার আয়োজন করা হয় নিয়মিত। এই সব মিটিং-এ সভার ইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহ-প্রধানশিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকার সাথে সাথেই সভার প্রতিনিধিত্ব দেন সেই অঞ্চলের পৌরপ্রধানেরা।

কলকাতা পৌর শিক্ষা ব্যবস্থা যে পড়ুয়াদের শুধুমাত্র পাঠ্য শিক্ষা দিতেই ব্রতী, তা নয়। পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের নাচ, গান, আবৃত্তি প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অভ্যাস করান হয়। কলকাতা পৌরসংস্থা আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস, রবীন্দ্রজয়ন্তী সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে এই সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও কলকাতা পৌরসংস্থার শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ‘বুক ডে’ পালন করা হয়। কলকাতা পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলির (Pre-Primary) পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের প্রয়াস জারি রেখে কলকাতা পৌরসংস্থার শিক্ষাবিভাগ নতুন বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ সহ বিভিন্ন রকমের মেরামত, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন ছাড়াও সময় সময় বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সুষ্ঠ শিক্ষাঙ্গন উপাহার দিতে স্বচেষ্ট থাকে সবসময়ই।
গত সাত বছরে শিক্ষাবিভাগের বেশ কিছু কাজের মধ্যে উল্লেখ্য —
❅ ৮৩, আলিপুর রোডে বিদ্যালয় ভবন নির্মান।
❅ জায়গীর ঘাট পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ভবন নির্মাণ।
❅ ৪১ নং ওয়ার্ডের অর্ন্তগত ২৫ বালমুকুন্দ রোডে ভবন নির্মাণ।
❅ ১০৮ নং ওয়ার্ডে ভিআইপি নগরে একটি বিদ্যালয় নির্মাণ।
❅ ১৩ নং ক্যানেল ইষ্ট রোড এবং মার্টিন পাড়াতেও হয়েছে বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের কাজ।
❅ মার্টিন পাড়া বিদ্যালয়ের প্রাসাদ প্রমান ভবন আরো বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীকে যে স্কুল মুখি করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
❅ বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক সৌন্দর্যায়নের কথাও সমান গুরুত্বে পেয়েছে এই ক’বছরে।
সর্বশিক্ষা মিশনের আর্থিক সহায়তার প্রতিটি বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলিকে মনীষীদের প্রতিকৃতি, দেওয়াল ঘড়ি, বৈদ্যুতিন ঘন্টা, জাতীয় পতাকা, ওয়াল বোর্ড ইত্যিাদি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও পরিস্কার শৌচ ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে পৃথক ও পরিস্কার শৌচালয়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই আরও বেশি স্কুল গুলিকে ইংরাজি মাধ্যমের আওতায় আনার প্রয়াস চলছে। এছাড়াও প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ই-লার্নিং-এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের করে তোলা হচ্ছে সময়-উপযোগী।

যেহেতু পৌর সংস্থার এই বিদ্যালয়গুলিতে সমাজের একেবারে পিছিয়ে পড়া ঘর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা আসে, তাদের পড়াশুনার জন্য সঠিক পরিকাঠামো প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই শিক্ষাবিভাগ ’ডে-ক্রেশ’ খোলবার কথাও ভাবছে। অল্পদিনেই মধ্যেই তা চালু হয়ে যাবে। বিদ্যালয় ভবনের সহজ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য বেশ কিছু ভাড়াবাড়িতে চলা বিদ্যালয় ভবন ক্রয় করবার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে সম্প্রতি।
কলকাতা পৌরসংস্থার শিক্ষা বিভাগ পরিচালিত পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ছাত্র-ছাত্রীদের সিংহভাগ সমাজের গরিব ও বস্তি এলকার অর্ন্তভুক্ত হওয়ার অভিভাবকদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করেই শিক্ষাবিভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পোষাক, জুতো, মোজা, স্কুলব্যাগ, বই, খাতা, পেনশিল, এবং পড়ালেখার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রতি বছরই বিনামূল্য প্রদান করা হয়। প্রতিবছরের মত ২০১৯ শিক্ষাবর্ষেও সমস্ত পৌর বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছিল ২৫/১১/২০১৯ থেকে ৭/১২/২০১৯ অবধি দেশপ্রিয় পার্ক, দেশবন্ধু পার্ক এরিয়ান’স্ ক্লাবের মাঠ ছাড়াও শহরের অনেক গুলি মাঠে চলেছে এই ক্রীড়া প্রতিযোগীতা। তবে করোনা কালে তার পর স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায় নি।
সেই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কৃতি ২৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে রাজ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়েছিল। এছাড়াও পঠন পাঠনের সাথে সাথে খেলা ধূলার বিষয়ও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই কলকাতা পৌরসংস্থার স্কুলগুলিতে নিয়মিত ভাবে খেলাধূলার অনুশীলন করানো হয়। নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে ও সামঞ্জস্য আনতে কলকাতা পৌরসংস্থার শিক্ষাবিভাগের উদ্যোগে প্রতি বছর শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

সমস্ত পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিয়মিত ‘মধ্যাহ্নকালীন আহার’ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘মধ্যাহ্নকালীন আহার’-এর মনোন্নয়ন ও সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে ‘গুচ্ছ পাকশালা’ গুলিকে আধুনিকিকরণ ও পরিষেবার ক্ষেত্র বাড়ানোর দিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পৌরপ্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠরত প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চক্ষুপরীক্ষা, দন্ত পরীক্ষা সহ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আপাতত পুরসভার এই সব বিদ্যালয় গুলির নাম করণ এলাকা বা ঠিকানা ভিত্তিক হয়ে আছে। আগামীতে এই সমস্ত বিদ্যালয়ের নামকরণের বিষয়টি পুরো কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে। দেশ ও বিদেশের গুণীজন ও মনিষীদের নামেই ইস্কুল বাড়িগুলির নাম করণ করা হতে পারে। এছাড়াও প্রসাশনিক কাজের সুবিধা আনতে প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সহ অন্যান্য তথ্য সম্বলিত ‘স্কুল ডাইরেক্টরি’ প্রস্তুত করবার কাজ চলছে। শিক্ষা-দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র-পারিষদ সন্দীপণ সাহা আরও জানালেন ‘বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরসভার শিক্ষাবিভাগ অত্যাধুনিক হচ্ছে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। এখন স্কুল ছুটের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলাতেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’