| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এল জানুয়ারিতে, পিছনে মজার-মজার গল্প : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

Reporter
জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় / ১৪২০ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

ইংরেজি সাহিত্যে নতুন বছর উদযাপনের সবচেয়ে আদি গীতিকবিতা লেখা হয়েছে স্কটল্যান্ডে। লোকগীতি হিসেবে খ্যাত ‘ওল্ড ল্যাংগ সাং’ বা ‘পুরনো দিনের কথা’ গানটি প্রথম লোকসমক্ষে আনেন কবি রবার্ট বার্নস। ১৭৯৬ সালে তিনি গানটি ‘স্কটস মিউজিক্যাল মিউজিয়াম’ নামের বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রচলিত আছে যে, এই গীতিকবিতার রচয়িতা তিনি। কিন্তু বার্নস গানটি একদিন এক বৃদ্ধের মুখে শুনতে পেয়ে লিখে নিয়ে পরবর্তী সময়ে কিছু সংশোধন করে প্রকাশ করেন। নতুন বছর নিয়ে টি.এস. ইলিয়ট তার ‘লিটল গিডিং’ কবিতায় লিখেছেন—’গত বছরের শব্দগুলো গত বছরের ভাষার জন্য/ এবং আগামী বছরের শব্দগুলো নতুন ভাষার জন্য অপেক্ষা করছে/এবং কিছু শেষ হয় নতুন এক যাত্রার জন্যই।’ চার্লস ডিকেন্স নতুন বছর নিয়ে বলেছেন, ‘সব সময়ই নতুন বছরের জন্য চাই একটা নতুন হৃদয়’। কবি লর্ড আলফ্রেড টেনিসন লিখেছেন, ‘পুরাতনকে বাইরে রাখো, নতুনকে কাছে টানো/চারিদিকে খুশির ঘণ্টা বাজাও/এই বছর যাচ্ছে, যাক/ মিথ্যাকে দূরে সরাও, সত্যকে সামনে আনো।’

জগৎ জুড়ে সব দেশে ১ জানুয়ারি উদযাপনের পিছনে মজার-মজার গল্প আছে। কেন এবং কি ভাবে ১ জানুয়ারিটাই ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন হলো, বড় বড় হিসাব কষেও পন্ডিতরা এখনো তা নিয়ে একমত হতে পারেননি। রোমের লোককথা মতে, রোমে তখন সভ্যতার ছোঁয়া তেমন লাগেনি বললেই চলে। পাথর কেটে মানুষ ঘরবাড়ি বানায়, খাবার দাবার চলে শিকার করে—এভাবে বেশ চলছিল। হঠাৎ মোগাস নামে এক মাতব্বর গোছের এক ব্যক্তি লোকজন ডেকে বললো, সূর্য ওঠে অস্ত যায়, আবার ওঠে। এ মাঝের সময়টুকুকে ধর এক দিন। আর পাথর দিয়ে পাথরের গায়ে একটা করে দাগ কেটে দিন বানাও; ব্যস, দিন যায়, দাগ বাড়ে। মোগাসের দিন-মাসের কাহিনী বাড়তে থাকে, মূলত মোগাসের নাম থেকে মেঘাস অর্থাৎ জ্ঞানী শব্দটা এসেছে—সেটাও কিন্তু খ্রিস্ট জন্মের ৬০০ বছর পরে। আরও পাঁচটা রোম-শিশুর মতোই একদা বাল্যকালে বিকালের আলোয় বাগানে বসে গৃহশিক্ষকের কাছে মেঘাসের গল্প শুনছিলেন সিজার। তিনি ইতিহাসে সম্রাট জুলিয়াস সিজার নামে পরিচিত। অস্ত্রে যতটা পাকা, অঙ্কে ততটাই কাঁচা এই রোমান সম্রাট শুধু রাজ্য জয়ই করেননি, তিনি ক্যালেন্ডারের পাতাতেও তার নাম লিখে রেখেছেন। তাঁর তৈরি ক্যালেন্ডারের নাম জুলিয়ান ক্যালেন্ডার।

১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, আজ যা সাড়ম্বরে পালিত হয়ে থাকে, দুই হাজার বছর আগেও কিন্তু এমনটি ছিল না। এমনকি দিন-তারিখ বছরও। ফিরে দেখা যায় সেসব ইতিহাস।

মায়ান নতুন বছর

মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে এক সভ্যতার উদয় হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী থেকে এ সভ্যতার বিকাশ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা বিস্ময়কর। এ সভ্যতার নাম ‘মায়া’ সভ্যতা। মায়া সভ্যতার বহু বিচিত্র কীর্তি-কাহিনীর মধ্যে হায়ারোগি্লফিক লিপি একটি। সম্প্রতি এ দুর্বোধ্য লিপির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে মায়াদের সম্বন্ধে অনেক নতুন তথ্য জানা গেছে। মায়াদের সংখ্যাতত্ত্বের সম্যক জ্ঞান, গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের অসাধারণ দক্ষতা, স্থাপত্য-শিল্পকলার বহুবিধ ব্যুৎপত্তি বিস্ময়ে আমাদের হতবাক করে দেয়। মায়ারা আবিষ্কার করেছিল সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন লাগে। নির্ভুল বিচারে এই গণনা ছিল ৩৬৫-২৪২০ দিন। এ সময়কালকে ১৮ মাসে ভাগ করে নিয়েছিল তারা। যার প্রতিমাসের দিন-সংখ্যা ছিল ২০। বলা হয়ে থাকে, খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০ সাল নাগাদ তিনি যে ক্যালেন্ডারের উদ্ভাবন করেছিলেন, সেখানে দিন-সংখ্যা ছিল ৩০০। এই ৩০০ দিনকে সমান ১০টি ভাগে ভাগ করে মাসের দিন-সংখ্যা ৩০ করা হয়েছিল। যা কিনা আজকের মাসের গড়দিন। একে রোমুলাস ক্যালেন্ডার বলা যেতে পারে।

সুমেরীয় সভ্যতাতেও ক্যালেন্ডারের মতন এক বস্তু লক্ষ করা যায়৷ আগেকার দিনে মিশরীয়রা জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক দিয়ে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। ধারণা করা হয়, এই সভ্যতাতেই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার আবিষ্কৃত হয়৷ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেন যে, খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দ থেকে মিশরীয়রা ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে।

কেন? কারন কৃষকদের প্রয়োজনে ক্যালেন্ডারের অবতারনা। কৃষকেরা তাদের ফসল উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করার জন্য কালেন্ডারের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভব করতো৷ যেহেতু আগেকার দিনে চন্দ্রের উপর নির্ভর করে দিন-তারিখ নির্ধারণ কর‍তে হতো, আর এর সাথে ঋতুর কোনো যোগসদৃশই ছিল না, তাই তাদের ফসল উৎপাদন করতে বেশ অসুবিধায় পড়তে হতো। পন্ডিত পন্ডিফোরাই ৭৫৬ অব্দে সর্বপ্রথম ক্যালেন্ডারের মতনই একটা জিনিসের আবিষ্কার করেন। চাষাবাদের উপর ভিত্তি করেই এটি তৈরি করা হয়৷ মাস সংখ্যা ছিল ১০। প্রবল শীতে ইউরোপে চাষাবাদ বন্ধ থাকতো দেখে শীতের দুই মাস এইখানে যোগ করা হতো না৷ এর নাম দেওয়া হয় ‘ক্যালেন্দি’। এখান থেকেই ‘ক্যালেন্ডার’ শব্দটির উৎপত্তি৷ তবে বছর গণনা শুরু হতো সেদিন থেকে, যেদিন দিন ও রাত সমান হতো৷ তখনকার মতে মার্চের ২৫ তারিখ থেকে। তবে বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর দিন ও রাত সমান হয়৷

সিজার বড়ো হয়ে শৈশবের শিক্ষক মোগাসের সেই গল্পটা মনে পড়ে তিনি তখন মিশরীয় ক্যালেন্ডার এখানে আনেন। ‘30 days in September, April, June and November…’ এই ছোট্ট কবিতাটা ছোটবেলায় আমরা সবাই শিখেছি। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারেও মার্চ, মে কুইন্টিলিস ও অক্টোবর মাসের দিন সংখ্যা ছিল ৩১ এবং জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে দুইদিন যুক্ত করে দিন সংখ্যা করা হয় ৩১৷ ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতে থাকে ২৮ দিনে। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম করা হয় জুলাই এবং তাঁর পুত্র অগাস্টাস সিজারের নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম দেওয়া হয় অগাস্ট। এই দুই সম্রাটই তাঁদের নামের মাসটিকে ৩১ দিনের করার নির্দেশ দেন। ফলে পন্ডিতেরা বাধ্য হয়ে ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের করে ফেলেন। তাঁর আমলেই লিপ ইয়ারের প্রচলন শুরু হয়৷ তিনি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে গ্রিক জ্যোতির্বিদ মোসাজিনিসকে নিয়ে আসেন ক্যালেন্ডার সংস্কারের জন্য। তিনি খেয়াল করেন, পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা। সেই হিসাবে প্রতি বছর যদি ৩৬৫ দিন এবং চার বছর পরপর ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করা হয়, তাহলে আর কোনো ঝামেলাই থাকবে না! মোসাজিনিস এই অতিরিক্ত দিনের নাম দেন লিপ ইয়ার এবং সংযুক্ত করেন জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে। ৩৪৫ অব্দে রোমান কনসালের কার্যভার গ্রহণের সময় থেকেই জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের কার্যকারিতা শুরু হয়।

তার তৈরি ক্যালেন্ডার অনেকদিন টিকে ছিল। কিন্তু আরও পরে এই ক্যালেন্ডার নিয়েও অনেক সমস্যা দেখা দেয়। তাই জুলিয়াস সিজারের ক্যালেন্ডারও সংশোধনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অনেক পরে তার ক্যালেন্ডার আবার সংশোধন করেন অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস নামীয় এক ডাক্তার। কিন্তু সেই ক্যালেন্ডার সবাইকে ব্যবহার করার কথা বলেন পোপ গ্রেগরি। তিনি ইতিহাসে ১৩ নাম্বার পোপ গ্রেগরি হিসেবে পরিচিত। ফাদার গ্রেগরি ছিলেন ইতালির লোক। ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু সংস্কারবাদী ছিলেন না। যিশু ছাড়া তিনি আর একটি জিনিসই বুঝতেন। তা হলো নিসর্গ। কারণ তার ধারণা ছিল, এ অসীম-অনন্ত প্রকৃতি যিশুর মহত্ত’র দান। তাই ক্যালেন্ডারের সঙ্গে ধাতুচক্রের ছন্দটাকে মেলান তিনি।

একদিন প্রার্থনা সেরে বেরিয়ে গ্রেগরি অনুভব করেন, এতো বরফ-শীতল হাওয়াটা যেন একটু আঁচ পেয়েছে। গাছদের শাখা প্রশাখায় খানিক সবুজের আভা লেগেছে। শীত ঘুম ভেঙে উঠে পাখিরা গান গাইছে, যেমন বসন্তে হয়। গ্রেগরি ভাবলেন, এটাই হতে পারে নতুন দিন। এভাবেই শুরু করা যায় নতুন আবহাওয়ার লীলাখেলা! নিজের ঘরে ফিরে এসে সিজারের ক্যালেন্ডারকে রেখে গ্রেগরি বসলেন সপ্তাহ, পক্ষ আর মাসের হিসাব মিলাতে। একেবারে শীতের শেষ বা বসন্তের সূচনার জন্য অপেক্ষা করে লাভ নেই। শীত-বসন্তের এ পরিবর্তনের জন্য বরং কিছুটা সময় ধরে রাখা যাক। আজকের দিনটাই হোক বছরের শুরু। সিজারের ক্যালেন্ডার ধরলে এ আবিষ্কারের দিনটা নাকি দাঁড়ায় ১ জানুয়ারি। এখন যে ‘নিউ ইয়ারস ডে’ উৎসব হয়—তা ইংরেজদেরই কীর্তি। কারণ চতুর ইংরেজরা গ্রেগরির যুক্তিবাদী ক্যালেন্ডারটা মেনে নিয়ে ১ জানুয়ারিকে ইংরেজি নববর্ষে পরিণত করেছিল। তার নামেই এই ক্যালেন্ডারের নাম হয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। গ্রেগরিয়ান ক্যালন্ডারে জানুয়ারি মাসকে প্রথমে আনা হয়। তারপর থেকেই অর্থাৎ ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকের কোনো একটা সময়ে মূলত ১ জানুয়ারিকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। এই হলো ইংরেজি নববর্ষ বা ক্যালেন্ডারের কথা।

আমরা যে খ্রিস্ট বছর বা খ্রিস্টাব্দ বলি, তার সূচনা হয় আরো পরে৷ যিশুখ্রিস্ট যেদিন জন্মগ্রহণ করেন, সেদিন থেকে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াম নামের এক পাদ্রি (মতান্তরে রোমান পন্ডিত প্রগমাকিউলাস) ৫৩২ অব্দ থেকে যে বছর গণনা শুরু করেন, তাই হলো খ্রিস্টাব্দ।

১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে সব ভাষার মানুষই এখন সময় গণনায় মোটামুটি খ্রিষ্ট নববর্ষের ওপর নির্ভরশীল। ইংরেজি নববর্ষ হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক একটি উৎসব। এই বর্ষবরণ উৎসবটি কিন্তু বিশ্বব্যাপী পালিত উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে সে সময়কার ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে গড়ে ওঠা মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমান ইরাকের প্রাচীন নাম ছিল মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমীয় সভ্যতা আবার চারটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসেরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো বর্ষবরণ উৎসব। তবে তা এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না। পালিত হতো বসন্তের প্রথম দিনে। যেহেতু বসন্তের শুরুতে শীতের রুক্ষতা ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতি আবার নতুন করে সাজতে শুরু করে। গাছে গাছে নতুন পাতা, বাহারি রঙের ফুল আর পাখিদের কল-কাকলিতে প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি। প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকেই তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। তখন চাঁদ দেখেই বছর গণনা হতো। বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠলেই, শুরু হতো বর্ষবরণ উৎসব। তখন চাঁদের হিসেবে ১০ মাসে বছর হতো।

ব্যাবিলনীয় ক্যালেন্ডার

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন শুরু করে রোমানরা। গ্রিকদের কাছ থেকে একটি বর্ষপঞ্জিকা পেয়েছিল রোমানরা। এই ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে রোমের প্রথম সম্রাট রোমুলাস ৭৩৮ খ্রিষ্টপূর্বে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার উদ্যোগ নেন। এই রোমান ক্যালেন্ডারও প্রথমে চাঁদের হিসেব দেখেই বানানো। তারা এই ক্যালেন্ডারের নাম দিয়েছিল রোমুলাস ক্যালেন্ডার।

পরে রোমুলাস ক্যালেন্ডারে সম্রাট নুমা পন্টিলাস আগের ১০ মাসের সঙ্গে জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি নামে আরও দুটো মাস যোগ করেন। রোমান যুদ্ধ দেবতা ‘মারটিয়াস’–এর নামানুসারে রোমুলাস ক্যালেন্ডারে বছরের শুরুর মাসটি ছিল মারটিয়াস বা মার্চ মাস। জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয় রোমান দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস অর্থ দরজা। সম্রাট সিজার ভাবলেন, জানুয়ারি অর্থাৎ দরজা দিয়েই নতুন বছরের আগমন হওয়া উচিত। পরে সিজারও এই ক্যালেন্ডারে অনেকটা পরিবর্তন করেন। সিজারের ঘোষণা অনুসারে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। এরপরই বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এল জানুয়ারিতে।

ইংরেজি সালের প্রথম মাস জানুয়ারি আর এর প্রথম দিন ১ জানুয়ারি অর্থাৎ খ্রীস্টিয় নববর্ষ। এদিকে জানুয়ারি সম্পর্কে রোমানদের উপাখ্যানে একট সুন্দর কাহিনী প্রচলিত আছে। উল্লেখ্য যে, দু’মুখ সংবলিত রোমান দেবতা জানুসের (Janus) নাম অনুসারে জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয়েছে। এই দেবতা ছিলেন স্বর্গের পাহারাদার। তার একটি মুখ ছিল জরাজীর্ণ-পুরনো এবং অপরটি ছিল নব সুন্দর ও লাবণ্যময়। সেই হিসেবে পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ হিসেবে বিবেচিত। এই জানুয়ারি মাস তথা ১ জানুয়ারি বা ইংরেজি নববর্ষের সূত্র ধরে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বিভিন্ন আঙ্গিকে আকর্ষণমূলক নতুন বছরের ক্যালেন্ডার তৈরি করে থাকে।

রাষ্ট্রের শাসনের কাজে থাকা কিছু প্রভাবশালী মানুষ নিজেদের সুবিধামত দিন-মাস যোগ করতেন ক্যালেন্ডারে। অবশেষে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটান। তবে রোমানদের হাতে ক্যালেন্ডারের জন্ম ও বিকাশ হয়েছে বলে বারো মাসের বেশিরভাগ মাসের নামকরণ করা হয়েছে রোমান সম্রাট ও দেবতাদের নামানুসারে।

জানুয়ারি: রোমান দেবতা ‘জানুস’ এর নামানুসারে এই মাসের নাম রাখা হয় জানুয়ারি। জানুস অর্থ হলো ‘দুটি মুখ’। যার একটি মুখ পেছনের দিকে এবং আরেকটি মুখ সামনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ তিনি পিছন বা অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনে বা ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করছেন। নববর্ষের প্রথম দিনটিও অতীত ও ভবিষ্যতের মেলবন্ধন ঘটায়।

ফেব্রুয়ারি: ফেব্রুয়ারি এসেছে ‘ফেব্রুয়া’ থেকে, এর অর্থ হলো পবিত্র।

মার্চ: রোমান যুদ্ধদেবতা মার্সিয়াস বা মরিসের নামানুসারে এই মাসের নাম মার্চ।

এপ্রিল: ল্যাটিন শব্দ ‘এপিরিবি’ থেকে এসেছে এপ্রিল, যার অর্থ খুলে দেওয়া। এপ্রিল মাসে যেহেতু বসন্তের দ্বার খুলে যায়, তাই এমন নাম। কেউ কেউ মনে করেন গ্রিক শব্দ ‘এপ্রিনিস মাইসা’ থেকে এসেছে এপ্রিল শব্দটি। আবার অনেকে মনে করেন দেবি আফ্রোদিতির নাম থেকেই এসেছে এপ্রিল।

মে: রোমান আলোকদেবী ‘মেইয়ার’ এর নামানুসারে নাম রাখা হয় মে।

জুন: ‘জুনো’ নামের রোমানদের একজন নারী, চাঁদ ও শিকারের দেবী ছিলেন। তাঁর নামেই জুনের উৎপত্তি।

জুলাই: রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে এই মাসের নাম জুলাই।

অগাস্ট: অগাস্টাস সিজার নামে জুলিয়াস সিজারের এক পুত্র ছিল। সেখান থেকেই এসেছে অগাস্ট নামটি।

সেপ্টেম্বর: ল্যাটিন ভাষায় সেপ্টেম্বর অর্থ হলো ৭। কিন্তু বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসটি হলো ৯ নম্বর মাস। অবশ্য এটা আর পরে পালটানো হয়নি৷

অক্টোবর: অক্টোবর শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ৮ থেকে।

নভেম্বর: ‘নভেম’ অর্থ ৯। যদিও বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি এখন ১১ নাম্বার মাস।

ডিসেম্বর: ল্যাটিন শব্দ ‘ডিসেম্বর’ অর্থ হলো ১০।

মাসের পাশাপাশি সপ্তাহের একেকটা দিনও একেক ধরণের মানে ধারণ করে। যেমন:

Monday বা সোমবার: রাতের বেলার আকাশের গায়ে রূপালী বল দেখে দক্ষিণ ইউরোপের লোকেরা একে ডাকতো ‘লুনা’ বলে। এটিও একটি ল্যাটিন শব্দ৷ তবে উত্তর ইউরোপের মানুষরা একে ডাকতো ‘মোনান ডেইজ’।  সেখান থেকেই এসেছে Monday।

Tuesday বা মঙ্গলবার:  আগেরকার দিনে রোমানরা বিশ্বাস করতো, টিউ নামে তাদের একজন দেবতা আছে, যিনি কিনা যুদ্ধ দেখাশোনা করেন৷ তাদের মতে, যারা টিউকে মেনে চলতো তাদেরকে টিউ যুদ্ধের ময়দানে সাহায্য করতো। আর যারা পরলোকগমন করেছে, তাদের বিশ্রামের জায়গা করে দিতে টিউ একদল মহিলাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসতো। তারা একে ‘ডুইস’ বলে ডাকতো। সেই থেকে এসেছে Tuesday।

Wednesday বা বুধবার: দক্ষিণ ইউরোপের লোকেরা ভাবতো, দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলে ‘উডেন’। একবার তিনি জ্ঞান আহরণ করতে যেয়ে নিজের এক চোখ হারান। সেই চোখটি তিনি তাঁর লম্বা টুপি দিয়ে ঢেকে রাখতেন। তাঁর আবার ছিল দুইটি পাখি, যারা তাঁর গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করতো। সেই পাখি দুইটা সারারাত পুরো পৃথিবীর ঘটনাবলী উডেনকে শোনাতো। এভাবেই উডেন পুরো পৃথিবীর খোঁজখবর রাখতো৷ এইজন্য লোকেরা বলতে ওয়েডনেস ডেইস। সেই থেকে এসেছে Wednesday।

Thursday বা বুধবার: আগে মানুষ মনে করতো, বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের পেছনে রয়েছে ‘থর’ নামের এক দেবতা৷ তাদের মতে থর যখন রাগান্বিত হন, তখন তিনি তাঁর ছাগলের গাড়িতে বসে আকাশের দিকে তাঁর হাতুড়ি নিক্ষেপ করেন। ছাগলের গাড়ির চাকার শব্দ হচ্ছে বজ্রপাত ও হাতুড়ির আঘাতে সৃষ্ট শব্দটি হচ্ছে বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ। থরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তারা সপ্তাহের একটি দিনের নাম রাখেন ‘থার্স ডেইস’। সেই থেকে এসেছে Thursday।

Friday বা শুক্রবার: পুরাণমতে, ওডিন নামের একজন দেবতা ছিলেন। আর তাঁর স্ত্রী ছিলেন ফ্রিগ৷ তিনি ছিলেন প্রকৃতি, ভালোবাসা ও বিবাহের দেবী। ওডিনের পাশে সবসময় তাঁর স্ত্রী ফ্রিগ থাকতেন। তাঁরা একসাথে পৃথিবীকে দেখতেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ কর‍তেন। তাই সপ্তাহের একদিনের নাম রাখা হয় ‘ফ্রিগ ডেইজ’। সেখান থেকেই এসেছে ‘ফ্রাইডে’।

Saturday বা শনিবার: রোমান সাম্রাজ্যের লোকেরা বিশ্বাস করতো, ‘স্যাটান’ নামের চাষানাদের জন্য একজন দেবতা আছেন। তাঁর হাতেই নাকি আবহাওয়া ভালো-খারাপ করার শক্তি আছে৷ তাই তাঁর সম্মানে তারা সপ্তাহের একটি দিনের নাম রাখেন ‘স্যাটনি ডেইজ’। সেখান থেকেই আসে Saturday।

Sunday বা রবিবার: অনেক অনেক দিন আগের কথা। আগেকার দিনের দক্ষিণ ইউরোপের বাসিন্দারা বিশ্বাস করতো একজন দেবতা রয়েছেন, যিনি শুধু আকাশে গোলাকার আলোর বল আঁকেন। আর ল্যাটিন ভাষায় তাঁর নাম হলো ‘সলিছ’। তারা তাঁকে ডাকতো ‘সলিছ ডে’ বলে। তবে উত্তর ইউরোপের বাসিন্দারা তাঁকে ‘স্যানাল ডেইজ’ নামে ডাকতো। সেখান থেকেই Sunday শব্দটির উৎপত্তি।

পুরোনোকে ঝেড়ে নতুন উদ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা মোটামুটিভাবে তৈরি হয়েই আছি। নতুন বছরে সব মানুষের মনেই তৈরি হয়ে আছে নতুন নতুন প্রত্যাশা। অনেকে নতুন বছরকে সামনে রেখে জীবনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করে রেখেছেন। হয়তো তার সবকিছুই পূরণ হবে না। তাতে কী? মানুষতো এসব নতুন নতুন আশা নিয়েই বেঁচে থাকে। এখন শুধু একটি নতুন সূর্যোদয়ের অপেক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এল জানুয়ারিতে, পিছনে মজার-মজার গল্প : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়”

  1. ujjalkumar mukherjee says:

    খুব পরিশ্রম করে তথ্য সংকলন করে লেখাটি সাজিয়েছেন। পড়ে আনন্দ পেলাম।

  2. Prabir Ghosh says:

    বাহ , খুব ভালো লাগল। জবাব নেই ????????????????

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev