| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কলকাতার বঙ্গজীবনে উনিশ শতকের খানাপিনা : নীহার শুভ্র অধিকারী

Reporter
নীহার শুভ্র অধিকারী / ১১৯০ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

আমাদের কলকাতা। ‘কল্লোলিনী তিলোত্তমা’ কলকাতা। বাঙালির প্রাণের শহর। আমার কাছে ছেলেবেলার অদম্য আকর্ষণ! তারপর যখন একটু বড় হলাম, একজোড়া তরুণ চোখ দিয়ে দেখতে শুরু করলাম কলকাতাকে; বারবার মনের মধ্যে উঁকি দিয়ে গেল নানান প্রশ্ন, নানান কৌতুহল, নানান জিজ্ঞাসা।আজকের তরুণ গবেষক যাঁরা কলকাতার ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী তাঁদের সন্ধানী চোখে পুরোনো বাড়ির ভেঙে পড়া কাঠামো,দেওয়াল বেয়ে গজিয়ে ওঠা অশ্বত্থের চারা, ভেঙে পড়া খড়খড়ি জানালা, ভাঙা মন্দির গঙ্গার ঘাটে ভাঙা সোপান শ্রেণি, স্যাঁতসেতে সরু গলি, গা ছমছমে সমাধিস্থান, ভাঙা রেলিঙের গায়ে বসে থাকা ভেজা কাক, ঘুলঘুলিতে পায়রার বাসা, উড়ন্ত পায়রার ঝাঁক অনেক স্বপ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দেয়। ছড়িয়ে দেয় স্মৃতির সৌরভ। নাগরিক ক্লান্তির মাঝেও তাঁকে হয়তো একমুহূর্তে আনমনা করে তোলে। মনে হয় জোব চার্নকের সময় থেকে কত মানুষ এসেছেন এই নগর কলকাতায়! কত ধরনের মানুষ! সকলেই কিছু না কিছু দিয়ে গেছেন, সকলেই কিছু না কিছু নিয়েও গেছেন। অসংখ্য মানুষের হাসি-কান্নার সাক্ষী এই কলকাতা তাঁদের সবাইকে কি মনে রেখেছে? রমাপদ চৌধুরী লিখেছেন: “জৈনরা এ শহরকে দিয়েছে দু’দুটি বর্ণাঢ্য মন্দির,জৈনদের অস্তিস্ত্ব আমাদের প্রায় অজ্ঞাত। একটা চীনে পাড়া,বৌদ্ধ মন্দির,শকুনের পক্ষচ্ছায়ায় পার্শীদের টাওয়ার অব সাইলেন্স,ওয়াজেদ আলির দর্জি,টিপুর পুত্র-প্রপৌত্র,আর-মেনিয়ান বসতি,কালিঘাটে গ্রীক চার্চ,লেবেডেফের যবনিকা কোথায় প্রথম উত্তোলিত হ’ল,উদ্বেলিত হ’ল কলকাতা,কারা গড়লো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, কোন শিল্পী রাজমিস্ত্রির দল।… অন্য মনস্ক হয়ে হাটতে হাটতে ফিরিঙ্গী কালীর সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতে চেষ্টা করেছি এন্টনি কবিয়াল কোথায় থাকতো কোন বাড়িতে বাগবাজারে নবীন সেনের স্পঞ্জ রসগোল্লার যদিবা হদিশ মিলেছে ভোলা ময়রা কোন হোগলার ছাউনি দেওয়া ঘরে জীবন কাটিয়েছে, জানতে পারিনি। এমনি শত শত প্রশ্ন জেগেছে, কোনটির সামান্য ইশারা মিলেছে কোনটির তাও নয়।’’

উনিশ শতকের কলকাতা ছিলো ব্রিটিশের বেনিয়া এবং বন্দর নগরী। ১৬৯০-এর ২৪ আগষ্ট জোব চার্নক সাহেব যেদিন তৃতীয় বার এবং স্থায়ীভাবে রথতলা বা হাটখোলা অঞ্চলে পদার্পণ করেন সেদিন থেকে নগর কলকাতার পথচলা শুরু। জোব চার্নকের আগেও কলকাতা ছিলো। জোবচার্নকের আমল থেকে শহরটি ব্রিটিশ পু্ঁজির ভরকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। তবে কলকাতা শহরটা বেশ খোলতাই হয়ে উঠেছিলো অষ্টাদশ শতাব্দীতেই। অষ্টাদশ শতাব্দীতের শেষ অর্ধেই কলকাতা তার শৈশব-কৈশোর অতিক্রম করে ক্রমশ তারুণ্যের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। ঘটে গেছে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বিচিত্র মানুষের সমাবেশ। আর কলকাতায় সাহেবপাড়া ও বাঙালিপাড়া ভাগ হয়ে গেছে ১৭৫২ সালের পর থেকেই।

উনিশ শতকের কলকাতার খানাপিনা কেমন ছিলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে চোখ রাখতে হয় তখনকার কলকাতার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর। সেই জীবনের ছবি কোথায় ফুটে উঠেছে? সহজ উত্তর তৎকালীন ব্যঙ্গনকশা গুলিতে। বিশেষত হুতোমের নকশায়।

শোনা যায় আজকের চাঁদপাল ঘাট যেখানে একদিন ভারতে কোম্পানি রাজত্বের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংশ পদার্পণ করেছিলেন, তার কিছু পরে কাউন্সিলের সদস্য ফিলিপ ফ্রান্সিস ও এখানে এসে পদার্পণ করেছিলেন। সেই চাঁদপাল ঘাট নামটি এসেছে চন্দ্রনাথ পাল নামে এক মুদির নাম থেকে। সেই চন্দ্রনাথ পালের মুদির দোকান কোথায় ছিলো আজ আর জানা সম্ভব নয়। তবে এই সানান্য দোকানি কলকাতার ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বিশেষত মুদির দোকান বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। মুদির দোকান বাদ দিয়ে বাঙালির হেঁসেলের অস্তিস্ত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান লেখকের অভিমত উনিশ শতকের কলকাতার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনা করতে হলে তখনকার হাট বাজারের যে টুকরো টুকরো ছবি পাওয়া যায় তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা অবশ্য কর্তব্য। কালীপ্রসন্ন সিংহ বর্ণনা দিচ্ছেন : “ “এদিকে গির্জার ঘড়িতে টুং টাং ঢং টুং টাং ঢং করে রাত চারটে বেজে গ্যালো — বারফট্ কা বাবুরা ঘরমুখ হয়েছে।

উড়ে বামুনরা ময়দার দোকানে ময়দা পিস্তে আরম্ভ করেচে। রাস্তার আলোর আর তত তেজ নাই। ফুরফুরে হাওয়া উঠেচে। … চিৎপুরের কসাইরা মটন চাপের ভার নিয়ে চলেচে।

ক্রমে ফরসা হয়ে এলো — মাচের ভারিরা দৌড়ে আস্ তে লেগেচে — মেচুনিরা ঝকড়া কত্তে কত্তে তার পেছু পেছু দৌড়েছে। বদ্দিবাটির আলু,হাসনানের বেগুন, বাজ্ রা বাজরা আসচে।’’

এই বর্ণনা থেকে তৎকালীন কলকাতার খাদ্যাভ্যাসের একটি বিশ্বস্ত ছবি উঠে আসছে বাঙালি সমাজে সবজির মধ্যে আলুর প্রচলন যে শুরু হয়ে গিয়েছে তা এই বর্ণনা থেকেই বোঝা যায়। কালীপ্রসন্ন জনৈক বাবুর জন্মতিথি পালনের যে বিবরণ দিয়েছেন সেই বর্ণনা থেকে বাবুদের খানাপিনা সম্পর্কে জানা যায় :

“বছর দশ বারো হলো এই সহরের বাগ্ বাজার অঞ্চলের একজন ভদ্রলোক তাঁর জন্মতিথি উপলক্ষে গুটিকয়েক ফ্রেন্ডকে মধ্যাহ্ণ ভোজনের নিমন্ত্রণ করেন। জন্মতিথিতে আমোদ করা হিন্দুদের ইংরেজদের কাপি করা প্রথা নয়,আমরা পুরুষ পরম্পরা জন্মতিথিতে গুড় দুধ খেয়ে তিল বুনে মাছ ছেড়ে (যার যেমন প্রথা) নতুন কাপড় পরে প্রদীপ জ্বেলে,শাঁক বাজিয়ে আইবুড়ো ভাত খাবার মত — কুটুম্ব বন্ধু বান্ধবকে সঙ্গে নিয়ে ভোজন করে থাকি তবে আজকাল কেউ কেউ জন্মতিথিতে বেতর গোছের আমোদ করে থাকেন। কেউ ষেটের কোলে ষাট বৎসরে পদার্পণ করে আপনার জন্মতিথির দিন গ্যাসের আলোর গেট্ নাচ ও ইংরেজদের খানা দিয়ে চোহেলের একশেষ করেন। … এদিকে ভোজের দিন নেমন্তুন্নেরা একে একে জুঠ্লেন, খাবার দাবার সকলি প্রস্তুত হয়েছিল, কিন্তু সেদিন সকালে বাদলা মাছ পাওয়া যায়নি। বাঙালিদের মাছটা প্রধান খাদ্য। সুতরাং কর্ম্মকর্ত্তা মাছের জন্য বড়োই উদ্বিগ্ন হতে লাগলেন; নানা স্থানে মাছের জন্য লোক পাঠিয়ে দিলেন — কিন্তু কোন রকমেই মাছ পাওয়া গেল না — শেষ একজন জেলে একটা সের দশ বারো ওজনের রুই মাছ নিয়ে উপস্থিত হল। মাছ দেখে কর্ম্মকর্ত্তার খুসীর আর সীমা রইলো না।’’

কালীপ্রসন্ন দুর্গোৎসবের যে বর্ণনা দিয়েছেন সেই বর্ণনা থেকেও কলকাতার বাঙালিদের খাওয়া দাওয়ার ছবি পাওয়া যাচ্ছে :

“ক্রমে চতুর্থীর অবসান হলো,পঞ্চমী প্রভাত হলেন – ময়রারা দুর্গোমোণ্ডা ও আগাতোলা সন্দেশের ওজোন দিতে আরম্ভ কল্লে।পাঁঠার রেজিমেন্ট কে রেজিমেন্ট বাজারে প্যারেড কত্তে লাগলো, গন্ধবেণেরা মসলা ও মাথাঘষা বেঁধে বেঁধে ক্লান্ত হয়ে পড়লো।….

এদিকে শহরের বাজারের মোড়ে ও চৌরাস্তায় ঢুলি ও বাজন্দারের ভিড়ে সেঁদোনো ভার। রাজপথ লোকারণ্য; মালীরা পথের ধারে পদ্ম, চাঁদমালা ঝিল্লীপত্তর ও কুচোফুলের দোকান সাজিয়ে বসেচে; দইয়ের ভার মণ্ডার খুলী ও লুচী কচুরীর ওড়ায় রাস্তা জুড়্যে গ্যেছে রেওভ্যাট ও আমাদের মতো ফলারেরা মিমো করে নিচ্চে — কোথা যায়?’’

এই বর্ণনার পাশাপাশি তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর আমোদ প্রমোদের প্রতিও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।সেই বর্ণনায় ব্যঙ্গ থাকলেও খানাপিনার যে বিবরণ রয়েছে তা এককথায় অনবদ্য। “এ সহরে আজকাল দু-চার এজুকেড ইয়ংবেঙ্গালও পৌত্তলিকতার দাস হয়ে পুজো আচ্ছা করে থাকেন — ব্রাহ্মণ ভোজনের বদলে কতকগুলি দিলদোস্ত মদে ভাতে প্রসাদ পান, আলাপি ফিমেল ফ্রেন্ডেরাও নিমন্ত্রিত হয়ে থাকেন।…

… বিলেত থ্যাকে অর্ডর নিয়ে সাজ আনিয়ে প্রতিমে সাজান হয় — মা দুর্গা মুকুটের পরিবর্তে বনেট পরেন, শ্যাণ্ডউইচের শেতল খান আর কলাবউ গঙ্গাজলের পরিবর্ত্তে কাৎলী করা গরম জলে স্নান করে থাকেন, শেষে সেই প্রসাদী গরম জলে কর্ম্মকর্ত্তার প্রাতরাশের টী ও কফি প্রস্তুত হয়।’’

ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় মিশেছিলো সাহেবিয়ানা। বিলিতি কালচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। প্রচলিত সনাতন রীতিনীতির পরিবর্তে নব্য কালচারের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের জীবন যাপনে ছিলো বিদ্রোহাত্মক বিপ্লবাত্মক মনোভাব।এমনকী তাঁরা মুসলমান দোকানে নিষীদ্ধ মাংসও ভক্ষণ করতেন। প্রকাশ্যে সেকথা স্বীকার করতেও দ্বিধাণ্বিত হতেন না।

সেকালের কলকাতায় বাঙালি অনুষ্ঠান বাড়িতে নানান খাবারের আয়োজন থাকতো। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে শুদ্রের বাড়িতে নিমন্ত্রিত হলে ব্রাহ্মণরা চিঁড়ে ভাজা, খই, দই, ঘি, মোণ্ডা সহযোগে ‘ফলার’ করতেন। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ফলারের বদলে লুচি খাওয়ার চল হয়। তবে তাঁদের তরকারীতে নুন দেওয়া হতো না। নুন পাতে আলাদাভাবে দেওয়া হতো। নুন তাঁরা উৎসৃষ্ট বলে মনে করতেন। অন্য জাতির লোকেদের ভাত খাওয়ানো হতো। পরে তাদের জন্যও লুচির ব্যবস্থা হয়েছিলো। অতুল সুর তাঁর ‘কলকাতা’ গ্রন্থে জানাচ্ছেন : “যখন লুচি খাওয়ানো প্রথা প্রচলিত হল, তখন তরকারী ছিল কুমড়া পটল ও মটর ভিজা দিয়া ছক্কা। গোড়ার দিকে আলুর কোন তরকারী হত না, কেননা আলুটা লোক খেত না। ওটা বোম্বাই থেকে কাঠের জাহাজে আসত বলে লোকে ওটাকে হিন্দুর জাত মারবার একটা অপকৌশল বলে মনে করত। তারপর যখন বাঙলা দেশে আলুর চাষ আরম্ভ হল,তখন লোক আলু খেতে আরম্ভ করল। তখন নিমন্ত্রণ বাড়িতে আলুর দমেরও একটা পদ হল।বিয়ে বাড়িতে মাছ দেওয়া হত। পাঁপরে হিং দেওয়া থাকে বলে পাঁপর ভাজার প্রচলন ছিল না। কেননা হিং দেওয়া জিনিষ লোক খেত না। পটল ও শাকভাজা পরে প্রচলিত হল। ফুলকপি বাঁধাকপির তরকারীর প্রচলন হল। তবে শীতকাল ছাড়া অন্য সময় এগুলো দুষ্প্রাপ্য ছিল।

মিষ্টান্ন সরা করে আলাদা আলাদা দেওয়া হত। সরাতে থাকত খাজা, গজা, কচুরী, নিমকি, পানতুয়া, মতিচুর, কাঁচাগোল্লা, মিঠাই, সন্দেশ, প্রভৃতি।’’

সেকালে কলকাতায় বড়োলোক বাড়িতে অনুষ্ঠানের সময় অনেক রবাহুতের আগমন ঘটতো। তাদের ভালো করে খাইয়ে দেওয়া হতো। তবে খাওয়া শেষ হলে তাদের চাবুক মারা হতো বলে জানা যায়।

সাহেবদের দেখাদেখি সাহেবি খাওয়া দাওয়া ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনার উনিশ শতক থেকেই ক্রমশ বাঙালি জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বাঙালির নেশার জগতেও এসেছে পরিবর্তন। চুরুট, ব্রান্ডি, হুইস্কি, টি, কফি বাঙালি জীবনে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। শুধু ইংরেজ নয় পর্তুগিজ দিনেমার ফরাসিদের কল্যাণে বঙ্গদেশে এসেছে কপি, আনারস, পেয়ারা, পাঁউরুটি। অন্য সবকিছুর মতোই এগুলিও মিশে গেছে বঙ্গজীবনে।

কলকাতার বাঙালি বাড়িতে সাহেবি খানার প্রচলন শুরু হয়ে গিয়েছে উনিশ শতকেই। একথা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী থেকে জানা যায় :

“একদিন হয়েছে কি ক্লাসে ইংরেজির মাস্টার আমাদের পড়ালেন p-u-d-d-i-n-g- পাডিং। আমার মাথায় কী বুদ্ধি খেলে গেল, বলে উঠলুম, ‘মাস্টারমশায় এর উচ্চারণ তো পাডিং হবে না, হবে পুডিং, আমি যে বাড়িতে এ জিনিস রোজ খাই!’’

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর আরো একটি বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর আত্মজীবনী ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’ গ্রন্থে। ঘোরতর রোগশয্যায় যখন তিনি কঠিন অসুখে প্রায় অসাড় হয়ে আছেন, সেই অসুখের সময়ে একদিন একটু সুস্থ বোধ করেছেন আর সেই দিনই তিনি প্রাতরাশ সেরেছেন পাঁউরুটি মাখন আর চা দিয়ে:

“বিছানা ছেড়ে ধীরে ধীরে বাইরে এলুম দিব্যি মানুষ, অসুখের কোনো চিহ্ন নেই। দোরগোড়ায় চাকর শুয়ে ছিল, সে ধড়মড় করে উঠে এগিয়ে এল। …বললুম ‘যা এবারে আমার জন্যে এক পেয়ালা চা, পুরু মাখন দিয়ে দু খানি পাঁউরুটি টোস্ট তৈরি করে, বাইরে বারান্দায় যেখানে বসে আমি ছবি আঁকি সেখানে এনে দে। আর দেখ তামাকও সেজে আনবি ভালো করে।’’

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ছেলেবেলা গ্রন্থে যে আবদুল মাঝির গল্প বলেছেন সেই আবদুল মাঝি পূর্ববঙ্গ তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসতো কচ্ছপের ডিম আর ইলিশ মাছ।

উনিশ শতকের কলকাতায় বাঙালি পরিবার গুলোতে খাদ্যরুচির পরিবর্তনও শুরু হয়েছে। জানা যায় বিবেকানন্দের মাতা ভুবনেশ্বরী দেবীর পিতৃকুল ছিলেন নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব। তাঁরা মাছ মাংস খেতেন না। সেই প্রভাব পড়েছিলো সিমুলিয়ার আমিষ ভক্ষক দত্ত পরিবারেও। ক্রমে নরেন্দ্রনাথের প্রতিবাদী সত্তার জোরেই পুনরায় তাঁদের পরিবারে আমিষের প্রচলন শুরু হয়েছিলো। বিবেকানন্দ নিজে খুব ভালো রান্না করতে পারতেন। রীতিমতো আমিষ রান্না :

“মঠ-মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে নরেন্দ্রনাথের সাংগঠনিক শক্তির প্রথম প্রকাশ দেখা গিয়েছে এই রান্নার ক্ষেত্রেই। …আমরা তার স্পষ্ট প্রমাণ পাচ্ছি ডিগ্রি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতার গবেষণামূলক রন্ধনে। এই পর্যায়ে নরেন্দ্রনাথের সফলতম আবিষ্কার হাঁসের ডিম খুব ফেটিয়ে চালের সঙ্গে মাখিয়ে কড়াই শুঁটি ও আলু দিয়ে ভুনি-খিচুড়ি। পলোয়ার চেয়ে এই রান্না যে অনেক উপাদেয় একথা বহুবছর পরেও বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন। বাবা রাঁধতেন কালিয়া এবং পলোয়া, আর সুযোগ্য পুত্র আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে নতুন ডিশের মাধ্যমে পূর্ব পশ্চিমকে একাকার করে দিলেন।’’১০

বিবেকানন্দ যে রন্ধন বিশেষজ্ঞ ছিলেন তার বহুবিধ প্রমাণ পাওয়া যায়:

“শুনুন শ্রীশ্রী মায়ের মুখে নরেনের রান্নার কথা। ঠাকুরের জন্য রান্নার কথা উঠেছে। ….”আমি যখন ঠাকুরের জন্য রাঁধতুম কাশীপুরে কাঁচা জলে মাংস দিতাম। কখনো তেজপাতা ও অল্প মশলা দিতুম, তুলোর মতো সিদ্ধ হলে নামিয়ে নিতুম। …নরেন আমার নানারকমে মাংস রাঁধতে পারত। চিরে চিরে ভাজত, আলু চটকে কি সব রাঁধত, — তাকে কি বলে? বোধ হয় চপ কাটলেট হবে।’’১১

বিবেকানন্দ অবশ্য তখনকার কলকাতার স্ট্রিট ফুড সম্বন্ধে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে — ”ঘরে ঘরে অজীর্ণ, ও ঐ ময়রার দোকানে — বাজারে খাওয়ার ফল।”

কলকাতার বিরিয়ানিকে ঘিরে যে নানান গল্পকথা শোনা যায়, বিশেষত ভোজনরসিক বাঙালির যে বিরিয়ানি উন্মাদনা সেই কলকাত্তাই বিরিয়ানির উৎসস্থল মেটিয়াবুরুজ। ১৮৫৬ সালে অযোধ্যা ব্রিটিশের হস্তগত হলে টিপু সুলতানের বংশধর নির্বাসিত নবাব ওয়াজিদ আলি কলকাতার এই অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করেন। পুরনো লখনউ ছেড়ে এসে প্রসাদ বিলাসী নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলকে নয়া লখনৌ-তে পরিণত করেছিলেন। কলকাতায় ইসলামী সংস্কৃতির প্রসার শুরু হয়েছিল সেই সময় থেকেই। বাঙালি তার নিজের গুণেই এই সংস্কৃতিকে বরণ করে নিয়েছে। এই ইসলামী সংস্কৃতি কলকাতাকে দিয়েছে সঙ্গীত — টপ্পা-ঠুংরি-আখরাই-কালোয়াতি। আর বাঙালির রসনার পরিচয় করিয়েছে বিরিয়ানি-সিমাই-কাবাব আর নানা রকম শরবতের সঙ্গে।

মায়াবী কলকাতার মায়াবী অঞ্চল পার্কস্ট্রিট। বড়োদিন থেকে ইংরেজি নববর্ষ পর্যন্ত পার্কস্ট্রিট সেজে ওঠে উৎসবের সাজে। এই সময়ে এই পথের দুধারে বার রেস্তোরাঁ হোটেল গুলিকে দেখলে মনে হয় সমগ্র সুরলোকই বুঝি নেমে এসেছে এই এলাকায়। রাতের মায়াবী পার্কস্ট্রিটকে দেখলে তখন কলকাতার মাঝে এ এক অনন্য কলকাতা। এই পার্কস্ট্রিট মূলত সাহেব পাড়া।এখানে ছিলো সাহেব সুবোদের বাস।

কলকাতায় ‘পার্কস্ট্রিট’ নামে যে রাস্তাটি পরিচিত এই পদটির পূর্বনাম ছিল বেরিয়াল গ্রাউন্ড রোড এখানে বেশ কয়েকটি বড় সমাধিক্ষেত্র ছিল পার্কস্ট্রিটে এরকমই একটি সমাধি ক্ষেত্রে শায়িত আছেন নব্য বঙ্গের জনক ডিরোজিও। পার্কস্ট্রিটের দুটি ভাগ। পার্কসার্কাস ট্রামডিপো থেকে পশ্চিমে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড অতিক্রম করে ডিরোজিও-র সমাধি রয়েছে যে কবরখানায়, সেই পর্যন্ত অংশটি হলো পার্কস্ট্রিটের জৌলুসহীন অঞ্চল। আর কলকাতা জাদুঘর (Indian Meusium) যেখানে রয়েছে সেই পার্কস্ট্রিটের ছবি সম্পূর্ণ আলাদা। এটিকে কলকাতার সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল বলা যায়।

আগেই বলেছি এখানে সাহেবরা থাকতেন। মিডলটন রো-এ লরেটো হাউস যেখানে অবস্থিত ১৭৬০-৬৪ সালে এখানে ছিলো গভর্নর ভ্যান্সিটার্টের পল্লীনিবাস।

এরপর সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার এলিজা ইম্পে ১৭৭৪ থেকে ১৭৮২ পর্যন্ত এই বাড়িতে বাস করেন। এইসময় থেকেই পার্কস্ট্রিট নামের উদ্ভব। স্যার এলিজা ইম্পের বাড়ির চারধারে প্রকাণ্ড বড়ো একটি পার্ক ছিলো, শোনা যায় সেখানে হরিণ থাকতো। এই বাগানের চারিদিক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা ছিলো। বাগানটি পূর্বে ক্যামাক স্ট্রিট থেকে পশ্চিমে রাসেল স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। এই পার্ক বা বাগান থেকেই বেরিয়াল গ্রাউন্ড রোডের নাম হয়েছিলো পার্কস্ট্রিট।

পার্কস্ট্রিটের দু-ধারে নামী নামী হোটেল রেস্তোরাঁ। কলকাতায় সাহেবী খানাপিনার প্রধান কেন্দ্র এই পার্কস্ট্রিট। উনিশ শতকে কলকাতার ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ পার্কস্ট্রিটে যাওয়া আসা করতেন। সাহেবদের থেকেই তাঁরা বিলিতি ঘরানার খাওয়া দাওয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

আজকের কলকাতার দিকে তাকালে দেখতে পাই স্ট্রিট ফুডের রমরমা, ফাস্টফুডের ছড়াছড়ি। জৌলুস হারাচ্ছে পুরনো খাবারের দোকান। তবে পুরনো কলকাতার নবীন ময়রার রসগোল্লা, ভীমনাগের সন্দেশ কখনো গৌরব হারাবে কি? হারিয়ে যাবে কৈলাস বোস স্ট্রিটের জগন্মাতা ভোজনালয়, শোভাবাজারের মিত্র ক্যাফে, শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ের বিখ্যাত গোলবাড়ির কষা মাংস, কলেজ স্ট্রিটের পুঁটিরাম, শ্যামবাজারের হরিদাস মোদক, কিংবা শরবত এর বিখ্যাত ঠিকানা প্যারামাউন্ট? আজকের নবীন প্রজন্ম হয়তো কন্টিনেন্টাল ডিশেই রসনা পরিতৃপ্ত করতে চায়। কিন্তু উনিশ শতকের কলকাতা কখনই হারিয়ে যাবেনা বাঙালির মন থেকে। যতদিন বাগবাজারের উপল উপকূলে গঙ্গার স্রোত বয়ে যাবে, কুমোরটুলিতে কুমোর প্রতিমা গড়বে ততদিনই পুরোনো কলকাতার পথে পথে বাঙালির স্মৃতির মধ্যে মগজের মধ্যে ম ম করে ভেসে আসবে ষোলো আনা বাঙালি খাবারের গন্ধ। ভোজন রসিক বাঙালি কি পুরোনো কলকাতাকে ভুলতে পারে!

উল্লেখপঞ্জি

১. ভূমিকা, অচেনা এই কলকাতা, সম্পাদনা : রমাপদ চৌধুরী, প্রথম প্রকাশ ১ আশ্বিন ১৩৮৯, সংবাদ প্রকাশন, ৫৭/২ কলেজস্ট্রিট, কলকাতা-৭৩।

২. ১৭৫২ সালে হলওয়েল (Holwel) সাহেব কলকাতার জমিদার হয়ে হুকুম জারি করেন এরপর থেকে বিদেশি লোকেরা যে যেখানে খুশি বাস করতে পারবে না। বিভিন্ন পেশার লোকেদের নির্দিষ্ট স্থানে একত্রে বসবাস করতে হবে। তখন ১৭৫২ সাল থেকে কলকাতার বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল গুলিতে গড়ে উঠতে থাকে ‘পাড়া’র ধারনা। কলকাতার বিভিন্ন ‘পাড়া’, ‘টোলা’, ‘টুলি’ তখন থেকে গড়ে উঠতে থাকে।

৩. কলিকাতার চড়ক পার্ব্বণ, সটীক হুতোম প্যাঁচার নকশা, সম্পাদনা অরুণ নাগ, প্রথম প্রকাশ আশ্বিন ১৩৯৮, সপ্তম মুদ্রণ নভেম্বর ২০১৬, আনন্দ পাবলিশার্স, ৪৫ বেণিয়াটোলা লেন, কলকাতা-৭০০০০৯, পৃষ্ঠা-৪৬।

৪. তদেব, পৃষ্ঠা-৫৯-৬০।

৫. তদেব, পৃষ্ঠা-১৫০।

৬. তদেব, পৃষ্ঠা-১৫১।

৭. কলকাতা, অতুল সুর, ১৪ এপ্রিল ২০১৬, সাহিত্যলোক, ৫৭-এ কারবালা ট্যাঙ্ক লেন, কলকাতা-৭০০০০৬, পৃষ্ঠা-১৪৬-১৪৭।

৮. জোঁড়াসাঁকোর ধারে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম প্রকাশ, কার্তিক ১৩৫১, পুনর্মুদ্রণ বৈশাখ-১৪১৮, বিশ্বভারতী, ৬ আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড, কলকাতা-১৭, পৃষ্ঠা-১৪।

৯. তদেব, পৃষ্ঠা-১২৬-১২৭।

১০.অচেনা অজানা বিবেকানন্দ, শংকর, অষ্টবিংশ সংস্করণ, জুলাই ২০১৭, সাহিত্যম, ১৮ বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০৭৩, পৃষ্ঠা-১৪৪।

১১. তদেব, পৃষ্ঠা-১৪৯।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি

১. অচেনা এই কলকাতা, সম্পাদনা রমাপদ চৌধুরী, প্রথম প্রকাশ ১ আশ্বিন ১৩৮৯, সংবাদ প্রকাশন, ৫৭/২, কলকাতা-৭৩।

২. সটীক হুতোম প্যাঁচার নকশা, সম্পাদনা : অরুণ নাগ, প্রথম প্রকাশ কার্তিক-১৩৫১, পুনর্মুদ্রণ বৈশাখ-১৪১৮, বিশ্বভারতী, ৬ আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড, কলকাতা-১৭।

৩. অচেনা অজানা বিবেকানন্দ, শংকর, অষ্টবিংশ সংষ্করণ, জুলাই-২০১৭, সাহিত্যম, ১৮ বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০৭৩।

৪. কলকাতা, অতুল সুর, ১৪ এপ্রিল ২০১৬, সাহিত্যলোক, ৫৭-এ কারবালা ট্যাঙ্ক লেন, কলকাতা-৭০০০০৬।

৫. জোড়াসাঁকোর ধারে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বৈশাখ, ১৪১৮, বিশ্বভারতী, ৬ আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড, কলকাতা-১৭।

লেখক নীহার শুভ্র অধিকারী, অধ্যাপক, গোবিন্দ প্রসাদ মহাবিদ্যালয়, গঙ্গাজলঘাটি ব্লক, অমরকানন, বাঁকুড়া।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev