রাতভর নাটকের পর অবশেষে শুক্রবার ২০ মার্চ ভোর সাড়ে পাঁচটাতেই কার্যকর হলো নির্ভয়াকাণ্ডে দণ্ডিতদের ফাঁসির আদেশ। কিছু সময় পর চিকিৎসক পরীক্ষা করে চারজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। তিহার জেলের ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে চারজনকে একই সময়ে ফাঁসি দেওয়া হলো। ফাঁসি কার্যকর হতেই তিহার জেলের বাইরে জড়ো হওয়া বিভিন্ন বয়সের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মিষ্টিমুখে মাতেন।বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট, পাতিয়ালা হাউস কোর্ট, হাইকোর্টে একের পর এক ধাক্কা খেয়েও দমেননি দোষীদের আইনজীবী এপি সিং। হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়েও তিনি ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ চেয়ে মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জানান, রাত আড়াইটে থেকে শুরু হয় শুনানি। পবন সিংয়ের প্রাণভিক্ষার আর্জি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ খারিজ করার পর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করা হয়। কখনও আইনজীবী বলেন ঘটনার সময় পবনের ১৮ বছর হয়নি। কখনও বলেন, পুলিশ সংশোধনাগারে হেনস্থা করেছে পবনকে, পবনের বয়ান রেকর্ড করার সুযোগ দিতে ১-২ দিন হলেও ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়া হোক। ফাঁসি আটকাতে দোষীদের আইনজীবী মরিয়া লড়াই চালালেও পবনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এরপর ওই আইনজীবী বলেন, ফাঁসি কার্যকর করার আগে পরিবারের সঙ্গে আরও একবার দেখা করতে দেওয়া হোক চার দণ্ডিতকে। আদালত বিষয়টি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার উপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে তিনি বলেন, এমন নিয়ম নেই, তাছাড়া বিষয়টি দু’পক্ষের কাছেই বেদনাদায়ক হবে। এরপরই শুরু হয়ে যায় ফাঁসির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পর নির্ভয়ার মা আশা দেবী জানান, সাত বছর পর আমার মেয়ে ন্যায়বিচার পেল। সুপ্রিম কোর্ট থেকে ফিরে মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে সে কথা বলেছি। দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার মেলায় আইনব্যবস্থা ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের ধন্যবাদ জানাই। আজকের পর দেশের মেয়েরা নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। আমার মেয়ে আজ নেই, ফিরেও পাব না। মেয়ে চলে যাওয়ার পর এই লড়াই শুরু হয়, যা অনেক কঠিন ছিল। ভবিষ্যতেও দেশের মেয়েদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সুপ্রিম কোর্ট এমন নির্দেশিকা তৈরি করুক যাতে এমন ঘটনায় দোষীরা সাজা কার্যকর হওয়া বছরের পর বছর ধরে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ না পায়। এই দিনটিকে নির্ভয়া ন্যায় দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান আশা দেবী।



