রাজ্য রাজনীতিতে উত্তরবঙ্গকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। গত কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গ ভাগের কথা বলেছিলেন বিজেপি সাংসদ জন বার্লা। এখন অবশ্য তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি দিলীপ ঘোষের মুখেও একই কথা শোনা যায়। তাঁর কথা রাজ্যভাগের দাবি নাকি মানুষের দাবি। আর তাঁরা নাকি সেই দাবি তুলে ধরছেন। দিলীপ ঘোষের সেই দাবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, পৃথক উত্তরবঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
এ দিন মালদহে বিজেপি-র সম্মান যাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। সেখানে ফের আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লার পৃথক উত্তরবঙ্গের প্রসঙ্গ ওঠে। তার উত্তরে নিশীথ প্রামাণিক জানান, সমগ্র উত্তরবঙ্গের জন্য যে অর্থ বাজেটে বরাদ্দ হয় তা কলকাতার একটা ফ্লাই ওভারের জন্য বরাদ্দের থেকেও কম। দীর্ঘ দিন ধরেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। জনপ্রতিনিধিরা কখনওই জনগণের আবেগককে উপেক্ষা করতে পারেন না।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক কি তাহলে নতুন করে পৃথক উত্তরবঙ্গ প্রসঙ্গ উসকে দিতে চাইছেন? তার বক্তব্য অনুসারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে; একথা যদি মেনেও নেওয়া যায় তাহলে তিনি কি তার সমাধান বাংলা ভাগ করে পৃথক রাজ্য? তবে বোঝাই যাচ্ছে তিনি বাংলা ভাগের পক্ষে? যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই প্রশ্নের জবাবে কৌশল অবলম্বন করে বলেন, তিনি জনগণের আবেগকে গুরুত্ব দেন। জনগণের আবেগ যেদিকে তিনিও সেই পথে। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজেই ভাল করে জানেন যে তিনি মানুষের আবেগের উপর যে দায় চাপিয়ে দিতে চাইছেন তা মিথ্যা।
প্রসঙ্গত, জন বার্লারের পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবির পর সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতিও বঞ্চনার তত্ত্বকে সামনে রেখে পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবিকে সমর্থন করেছিলেন। বাংলা ভাগ পরিস্থিতির দায়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপরই দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর মন্তব্য নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরেই বিতর্ক দেখা দেয়। সাসংদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা প্রাকাশ্যেই রাজ্য ভাগের বিরোধীতা করেন। আর নিজের দলের ভিতর সেই বিরোধিতার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বঙ্গভঙ্গ নিয়ে ভোলবদল করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি নিজের মুখেই স্বীকার করেন, ‘পৃথক রাজ্যের কথা কেউ বলেনি। বিজেপি অখণ্ড বাংলার পক্ষে’। তবে বিজেপি যে আসলে কোন পক্ষে তা বোঝা যাচ্ছে না কারণ, ফের নিশীথ প্রামাণিক বাংলা ভাগের কথা বলছেন প্রকাশ্যে।
তবে বিজেপির বাংলা ভাগ করার এই প্রচেষ্টা রুখতে মমতা যে কঠিন জবাব দেবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গ যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনদিনের জন্য তিনি সেখানে থাকতে পারেন বলেও খবর। এছাড়াও উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের কথা রয়েছে তাঁর। আর এই বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গ নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের কাছ থেকে কাজের খতিয়ান নিতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পাশাপাশি কিছু দলীয় কর্মসূচিও সারতে পারেন মমতা। যদিও সরকারিভাবে তাঁর সফরসূচি ঘোষণা করা হয়নি। এমনকি দলের তরফেও এই বিষয়ে কোনও কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। তবে যেভাবে উত্তরবঙ্গকে নিয়ে যেভাবে রাজনীতি শুরু হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই অবস্থায় জেলা সফরের শুরুতে উত্তরবঙ্গকে প্রথম গুরুত্ব দিতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়েই বিজেপির বাংলা ভাগের চেষ্টা এবং উসকানিমূলক মন্তব্যের কড়া জবাব মমতা দিতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতায় ফিরে এসে তাঁর সামনেকরোনা নিয়ন্ত্রণ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সংক্রমণের হারও কমে গিয়েছে। আর এই অবস্থায় ফের একবার জেলা সফরে বের হচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সফর হিসাবে প্রথম জেলা বীরভূম। বীরভূম নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকও করতে পারেন তিনি। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বীরভূম সফর শেষ করেই উত্তরবঙ্গ সফরে উড়ে যেতে পারেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।