ছোট বড় মিলিয়ে এ বছর শিলিগুড়িতে প্রায় একশো সত্তরটা পূজো হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য দূর্গাপূজোর জৌলুস অনেকটাই কম বলে মনে হচ্ছে। বাড়োয়ারী সবকটি পুজো হচ্ছে করোনা বিধি মেনেই। উদ্যেক্তারা জানিয়েছেন মানুষের উৎসাহে ঘাটতি নেই তাই ভীড় অন্যান্য বছরের মতোই।

শিলিগুড়ি ওয়াইএমএ বাবুপাড়া
শিলিগুড়ি ওয়াইএমএ; বাবুপাড়ার পূজো আশি বছরের পুরানো। এই পুজোর মুল আকর্ষন হল পূজো প্যান্ডেল। এখানকার আলোকসজ্জা করেছেন চন্দননগরের শিল্পীরা।
উত্তরায়ণ সার্বজনীন দূর্গাপুজা কমিটির পুজোয় এবার প্রতিমা গড়েছেন ময়নাগুড়ি বেসরকারি সেচ্ছাসেবীসংস্থা সংহতি।

সূর্যনগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ডাবগ্রাম শিলিগুড়ি।
অন্যদিকে শিলিগুড়ি ডাবগ্রামের সূর্যনগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের পুজোয় এ বছর প্রতিমা আনা হয়েছে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে।
শিলিগুড়ি জংশন আবাহনী চক্রের দুর্গাপুজো এ বছর ৬০তম বর্ষ। এবার সেখানে প্রতিমা আনা হয়েছে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে এবং আলোকসজ্জা করেছেন চন্দননগরের শিল্পীরা।
মাটিগাড়ার মায়াদেবী ক্লাবের পুজো এবার ৭৪ বছরে পা রেখেছে। এ বছর তাদের প্রতিমা এসেছে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে।
শিলিগুড়ির নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর আলোকসজ্জা করেছেন চন্দননগরের শিল্পীরা।
পূর্ব চয়ন পাড়া দুর্গাবাহিনী মহিলা পূজা কমিটির পুজো এবার ১৪তম বর্ষে পা রেখেছে।
বান্ধব সংঘের দুর্গাপুজো এবার ৭৪তম বর্ষ। এখানে থিমের পরিবর্তে সাবেকি ঘরানা।

দেশবন্ধু স্পোর্টিং ইউনিয়ন
দেশবন্ধু স্পোর্টিং ইউনিয়নের ৬০তম বর্ষের দুর্গাপুজোয় এবার কলকাতার কুমোরটুলির প্রতিমা।
পূর্ব লেকটাউন মহিলা বৃন্দদের ৩০ তম বর্ষের দুর্গাপুজো এবারে খুব ধুমধাম করে হচ্ছে। এই পূজোর পুরো দায়িত্ব নিয়ে থাকেন মহিলারা।
প্রাচীন রীতি নিতি মেনে জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজ বাড়ির পুজো এবছর ৫১২ বছরে পদার্পণ করলো। পুঁটি মাছ, বোয়াল মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মা দুর্গাকে আমিশ ভোগ দেওয়া হয় রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে। মহাষ্টমীতে অর্ধরাত্রি পুজো হবে। নিয়ম মেনে হবে সন্ধিপুজো।
এবার করোনা বিধির জন্য মন্দির চত্বর বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মন্দিরের বাইরে থেকেই সকলে পুষ্পাঞ্জলি ও পূজা দিতে পারবেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মন্দিরের ভেতরে যারা প্রবেশ করবেন তাদের প্রত্যেককেই মাস্ক ও ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেট থাকতে হবে বলে জানান রাজপুরোহিত শিবু ঘোষাল।

ফালাকাটা কলেজপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি
ফালাকাটা কলেজপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি পদার্পণ করল ৪৫ তম বর্ষে। এবারে তাদের বিশেষ আকর্ষণ বাঁশের হস্তশিল্প। এখানে রয়েছে বাঁশের তৈরি ট্রেন, টোটো, হেলিকপ্টার ও দেবী দুর্গার মূর্তি। বাঁশের নানান কারুকার্য মন্ডপের প্রতিটি কোণকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। তাদের শিল্প নৈপুন্যের স্বীকৃতি স্বরূপ পেল বিশ্ব বাংলা শারদ সন্মান সেরা পুজোর শিরোপা।

হরিশ্চন্দ্রপুর থানা হাটখোলা সার্বজনীন দুর্গাপুজো
মন্ডপে ঢুকলে এক ঝলকে দেখে মনে হবে যেন মুখোশের রাজ্যে চলে এসেছি । ভারতের নানা রাজ্য সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হারিয়ে যাওয়া মুখোশের সম্ভার এবার দেখা গেল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা হাটখোলা সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপ। এবার এদের পুজোর থিম হারিয়ে যাওয়া মুখোশ শিল্প।

আলিপুরদুয়ার লোহারপুল ইউনিট
আলিপুরদুয়ার লোহারপুল ইউনিটের পুজো এবছর ৬৯ তম বর্ষ। এবছর লোহারপুল ইউনিট পুজোর থিম মাতৃঋণ। মা কিভাবে গর্ভাবস্থার থেকে এক সন্তানকে বড় করে তুলে এবং পরবর্তী সেই মা সময়ের সাথে সাথে সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে ওঠে এটাই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে লোহারপুল ইউনিটের পুজোয়।

মুক্তিপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজা কমিটির এবারে থিম ইন্টারনেটের জাল
মুক্তিপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজা কমিটির এবারে থিম ইন্টারনেটের জাল। গোটা বিশ্ব জুড়ে সেই জালে কি ভাবে সকলে আটকে পড়ছে, সেটাই থিমের মাধ্যমে মন্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। ইন্টারনেট কে আমার সংক্ষেপে নেট বলে থাকি! । সেই ইন্টারনেটের জালকেই পুজোয় দার্শনাথীদের কাছে থিম হিসাবে তুলে ধরছে মুক্তিপাড়া সর্বজনীন। গোটা পৃথিবী জুড়ে দেদার ব্যবহার হচ্ছে ইন্টারনেট। স্মার্টফোনের দৌলতে যা সকলের হাতের মুঠোয়। এদিকে সেই ইন্টারনেটের জালে আটকে পড়ছে শৈশব থেকে বার্ধক্যও।
সহায়তা : সজল দাশগুপ্ত