| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

উত্তরবঙ্গ…. কয়েক ঝলক : বিদিশা বসু

Reporter
বিদিশা বসু / ৬৩০ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২

উত্তরবঙ্গের আনাচ কানাচ জুড়ে অসংখ্য সুন্দর জায়গার সমাহার। এখন এই ছোট্ট ছোট্ট গ্রামগুলো তাদের রূপের জাদুতে, অতিথি সেবাতে নিজেদের একটা আলাদা ভ্রমণ গন্তব্য করে তুলেছে। এমনই কয়েকটি জায়গার বর্ণনা দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা করা হলো।

প্রথম গন্তব্য — কালিজ ভ্যালি, রঙ্গবুল।

নীলাকাশে শরতের আহ্বান নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল আগের বছর পুজোর সময়ে… দার্জিলিং যাওয়ার পথ ধরে। ঘুম এর কাছে এসে রাস্তাটা বেঁকে গেলো, রঙ্গবুলের দিকে। ড্রাইভার আমাদের বাগডোগরা থেকে এই রাস্তায় সোজা নিয়ে আসেন। আগেই ভদ্রলোক বলে দিয়েছিলেন যে, সামনের ৩-৪ কিমি পথ বোল্ডার বিছানো, বেশ এবড়োখেবড়ো। কিন্তু বড় গাড়ি হওয়ায় পথের কষ্ট তেমন অনুভব হয় নি, চারপাশের পাহাড়ি শান্ত গ্রাম দেখে, রঙ বেরঙের ফুলের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে গেল। পথের বাঁকের নিস্তব্ধতা উপভোগ করে আমরা দুপুরে পৌঁছে গেলাম আমাদের থাকার জায়গায়… রেনবো ভ্যালি রিসোর্টে। কালিজ ভ্যালি নামে চা বাগানের মাঝে সাজানো এই রিসোর্ট। চারপাশে অন্য কিছু নেই… করোনা কালে এমন নির্জনতায় সময়যাপন, সেটা বড় উপভোগ্য। যাই হোক, দুপুরে ঘরোয়া খাওয়াতে পেট ভরিয়ে আসেপাশে ঘুরে দেখলাম। তারপর সন্ধ্যা নামলো ঝুপ করে, কি নিস্তব্ধতা চারপাশে। মনে হলো… গভীর রাত হয়ে গেছে বুঝি!! ব্যালকনিতে বসে দূরের পাহাড় দেখা, চা বাগানের বাতাস গায়ে মাখা আর নানারকম পোকামাকড়ের আওয়াজ… বেশ কাটলো রাতটা।

কার্শিয়াং

পরের দিন সকালে ব্রেকফাস্ট করেই স্থানীয় একজনকে গাইড হিসেবে নিয়ে রওনা দিলাম রেনবো ফলস দেখতে, বেশ অনেকটা হাইকিং করে যেতে হবে। পথে যেতে যেতে ঐ ভদ্রলোকের কাছে শুনলাম… এই পথ এখনো অজানা টুরিস্টদের কাছে। সেই অনেককাল আগে ঝর্ণায় পৌঁছানোর দীর্ঘ ২ কিমি মত পথ রেলিং দিয়ে সাজানো হয়েছিল। তারপর অযত্নে অবহেলায় দেখভাল হয় নি। তাই পথ জুড়ে যে সিঁড়ি, তা শ্যাওলা ধরা, কিছু জায়গায় রেলিং ভাঙা, বসার জায়গার ছাউনিগুলো সব ভগ্নপ্রায়। যাওয়ার পথে অনেকটা নীচে নেমে যেতে হয়, একসময় মনে হল যে… আর কতদূর, পথ যে আর শেষ হয় না!! পথের বাঁকে সিঁড়িগুলো সব মরা গাছের ডালপালাতে ভর্তি। একসময় বুঝতে না পেরে পা পিছলে আমার সিঁড়িতে পড়ে কোমরে চোটও লাগে। কিন্তু নতুনকে দেখার হাতছানি অগ্রাহ্য করা যায় না… তাই কিছু পরেই যখন গন্তব্যে পৌঁছালাম, তখন মনে হলো সব কষ্ট একবারে কমে গেল। আমাদের বিশ্বাস হয় নি আগে রিসোর্টের লোকেদের কথা… কিন্তু সত্যি তেমনই। এই দৃশ্য ছবি তুলে বা লিখে বোঝানো যায় না!!

এক প্রাকৃতিক অঝোর ধারা ঝরে পড়ছে, সে ঝর্ণার জলের মাঝে রামধনু তার সাতরঙা বাহার নিয়ে আমাদের মুগ্ধ করছে। সোজাসুজি সূর্যের আলো ঝর্ণার জলে প্রতিফলিত হয়ে জলকণার মধ্যে এমন রামধনুর সৃষ্টি করছে। চারপাশে প্রকৃতি নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে দুহাত ভরে, আর তারমাঝে এমন করে রঙের খেলা। বেশ কিছু ক্ষণ কাটালাম ওখানে। আমরা ছাড়া আর ৩-৪ জনের একটি দল ছিল, ফলে এত ফাঁকায় এমন ঈশ্বরের রূপ দর্শন, তাও তো একরকম পুজোর মতই!!

কালেজ ভ্যালি বা রেনবো ভ্যালি

যাই হোক এবার ফেরার পালা… আমার ৮ বছরের মেয়ে গাইড দাদার সাথে দিব্যি ঐ খাড়াই পথ উঠে যেতে লাগলো। কিন্তু বাধ সাধলো আমার শরীর।একে তো পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যথা,তার উপরে এতটা সিঁড়ি উপরে ওঠা। প্রতি ১০ টা ধাপ উঠেই বসে পড়া,একসময় শুয়েও পড়েছি,সাথে বুকে হাঁফ ধরা। এমন করে কোন মতে, উপরে ওঠা গেল। কিন্তু যা দেখলাম,তা চিরকাল মনের কোণে থেকে যাবে। তবে বর্ষার পর পর এলে এই পথে প্রচুর জোঁকের আক্রমণ থাকে শুনলাম,সাথে তাই লবণ নিয়ে যেতে হয়। আমরাও রেখেছিলাম, আর রিসোর্টের মালিক বলেছিলেন জুতোতে স্যানিটাইজার স্প্রে করতে,তাতেও জোঁকের হাত থেকে কিছুটা রেহাই মেলে। হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে রিসোর্টে এসে,সুইমিং পুলের সামনে বসে পা ডুবিয়ে আরাম হলো অনেকটা। দিনের বেলা ঠান্ডা তো দুরস্ত, রীতিমতো গরম অনুভূতি।

দুপুরে খাওয়ার পরে রিসোর্টের ভিতর দিয়েই চা বাগান ঘুরে দেখলাম। শুধু ঘুরে দেখাই নয়, সেখানে একজন কর্মীর সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চা পাতা তোলা, চা বাগানের ছায়াতে শুয়ে পড়া, চা পাতা শুকাতে দেওয়া… সব করা হলো!!

ছোটা মাঙ্গওয়া

দুটো দিন বেশ নিরিবিলিতে মনোরম পরিবেশে কাটলো বেশ। কালিজ ভ্যালিতে এই একটি রিসোর্ট… Rainbow valley resort। ২০০০-৩০০০ টাকার মধ্যে রুম আছে, সবরকম আধুনিক ব্যবস্হাপনা। প্যাকেজ হিসেবে দৈনিক তিনবেলা খাওয়া খরচ… জনপ্রতি ৬০০ টাকা।

দ্বিতীয় গন্তব্য — ছোটা মাঙ্গওয়া….

ছোট্ট পাহাড়ি শান্ত নিরিবিলি এই গ্রামে বসে নিজেকে আবিস্কার করেছিলাম অনেকখানি। দার্জিলিং শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে নতুন রাস্তায় যেতে যেতে মনে হচ্ছিল, একটু বিশ্রাম দরকার শরীর মনের। কিন্তু সেই অনাবিল শান্তি যে এত সহজে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল, সেটা বুঝি নি। তিনচুলে তাকদার রাস্তায় যেতে যেতেই পথের নীরবতা কখন যেন হৃদয় স্পর্শ করতে শুরু করলো। রঙ বেরঙের ফুল চারপাশে… জংলি ফুলেরও এত শোভা, মনকে এক পলকে রঙিন করে দিলো। আরো আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে ছোট্ট জনপদ ডিঙিয়ে পাহাড়ের এক কোণে পৌঁছালাম… সেখানের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম। ওতো দূরের নিরিবিলি জায়গায় আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্হা রাখা ছিল।

বাড়ির মতই দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পরে এসে বসলাম পাহাড়ের মুখোমুখি। সামনের পাহাড়ে কালিম্পং, সিকিমের নামচি যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনই তিস্তাকে দূর থেকে বয়ে যেতে দেখছি। ঘন্টার পর ঘন্টা ওখানে বসেই কেটে যায়, বিকেলে হঠাৎ উল্টো দিক ফুরে কাঞ্চনজঙ্ঘা তার রূপ নিয়ে উপস্থিত। সূর্য ওঠার সময়ে তার রূপ অনেকবার দেখেছি,কিন্তু সূর্যাস্তে তার মায়াবী রূপ অনন্য। ধীরে ধীরে ছায়া ঘনিয়ে আসে ঐ তুষার ধবল শৃঙ্গে,আর জানান দেয়… দিন ফুরালো বুঝি এবার!! আবার পরের দিনের অপেক্ষা… সেদিন সকালেও সে তার রাজকীয় রূপ নিয়ে সূর্যের আলোতে ঝলমলে।

বড়ো মাঙ্গওয়া

এখানের রাস্তাও সুনসান, সুন্দর.. বাহারি ফুলে রাস্তার দুপাশ সজ্জিত। সে পথ ধরে হেঁটে যেতেও বড় ভালো লেগেছে। দুদিনের জন্য এ জায়গা খুব মনোরম। এখান থেকে কাছেপিঠে তাকদা, বড় মাঙ্গওয়া, তিনচুলে ঘুরে আসা যায়। এছাড়াও মংপু, কালিম্পং, লামাহাটাও সারাদিন ঘুরে আসা যায়।

ছোট মাঙ্গওয়াতে darjeeling blossom eco tourism-র হোম-স্টে তে থাকা খাওয়ার খুব ভালো ব্যবস্থা আছে। ওদের আতিথেয়তা মনে রাখার মত…

পাহাড়ের নীরবতা উপভোগ করে নিজের সাথে কথা বলার জন্য এমন জায়গাতে একবার ঘুরে আসাই যায়।

তৃতীয় গন্তব্য — বুংকুলুং

কোন এক নভেম্বরের শুরুতে সান্দাকফুর অপরূপ শোভা দেখে ফিরে আসার পথে একটা দিন কাটিয়েছিলাম এক ঘরোয়া মনোরম পরিবেশে। সান্দাকফুর ঠান্ডাতে জমে গিয়ে ৩-৪ দিন একেবারে স্নান জল থেকে ব্রাত্য ছিলাম। শরীরেও ধকল পড়েছিলো এত পথ যাত্রা করার।

তাই মানেভঞ্জন নেমে গাড়ি করে মিরিকের পথ ধরেছিলাম। মিরিক রোডের উপরে অবস্হিত বুংকুলুং গ্রাম… রাস্তায় যেতে একেবারে উত্তর বঙ্গের পাহাড়ি গ্রামের সাথে পরিচয় হলো। ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি… কি সুন্দর সাজানো গোছানো। প্রতিটা বাড়ির সামনে রঙ বেরঙের ফুল গাছের বাহার। আর গাঁদাফুলের সাজে এ গ্রাম এমন সেজেছে, কোন বুঝি উৎসব লেগেছে এখানে। চা বাগানের ধাপ পেরিয়ে শিমুলবাড়ি টি এস্টেটের মধ্যে প্রবেশ করে আমাদের নির্দিষ্টকৃত bungkulung retreat eco huts-এ এসে পৌঁছালাম। খুব ছোট জনপদ… কয়েকটি পরিবারের বসবাস, কিন্তু কি ভীষণ শান্ত।

বুংকুলুং

দুপুরে কটেজে গিয়ে প্রাণ ভরে স্নান সারলাম… এত বড় ঘর, সামনে বারান্দা, বাথরুমে আধুনিক সব ব্যবস্থা। গাছপালা ঘেরা বাগানের মাঝে পর পর ৫-৬টা কটেজ ঘর। খাওয়ার জায়গা খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন… সব থেকে বড় কথা ওনারা খুবই অতিথি বৎসল। প্রতি সময় সবার খাওয়ার দিকে নজর, ঠিক যেমনটি বাড়িতে খোঁজ নেয়… আর কি লাগবে এমনতর।

বিকেলে পায়ে হেঁটে ছোট গ্রাম আর তার সামনের ব্রিজ ঘুরে দেখলাম। এত শান্ত কলরবহীন পাহাড়ি জায়গা… এক নিমিষে মন ভালো করলো। সন্ধ্যায় চা-সহ পাকোরা আর গল্পে কাটলো বেশ।

পরের দিন সকালে ঘুম ভেঙে গরম চা-সহ সামনের বারান্দায় বসে নানা রঙা প্রজাপতি, পাখি.. আরো কত পতঙ্গের আনাগোনা দেখে সময় গেলো কেটে। বাগানের গাছের পরিচর্যাও বেশ করেন এরা। সেসব দেখতে দেখতে সব গুছিয়ে এবার ফেরার পালা। দুপুরের মুখরোচক খাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম আবারও ঐ অপরূপ পথের শোভা দেখতে দেখতে।

Google-এ bungkulung eco huts বলে খুঁজলে সব details পাওয়া যাবে। থাকা খাওয়া-সহ একদিনে আমাদের ৩ জনের মোট ৫০০০ টাকা মত পড়েছিলো।

চতুর্থ গন্তব্য — কার্শিয়াং

খুব পরিচিত এই জায়গার সাথে আমার অভিজ্ঞতা অন্যরকমের। তাই সে কথা সবার সাথে ভাগ করতে মন চাইলো। বর্ষাকালে একাকি পাহাড় দেখার শখ হলো। আটপৌরে মহিলা সংসারের বাইরে প্রথম পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে কার্শিয়াং কে নির্বাচন করা। আগষ্ট মাসের শেষে সকাল সকাল দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছে চেক ইন করে ফ্লাইটে উঠলাম একা। মনে মনে সে এক দারুণ অনুভূতি… একা যাচ্ছি, নিজেকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হতে লাগলো।

এবার শুরু অন্য গল্প… রানওয়ের বাইরে ফ্লাইট ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে, তারপর জানা গেল, আবহাওয়া খারাপ থাকার দরুন বাগডোগরায় কোন প্লেন নামছে না। তবু আশায় আশায় এক প্লেনের সব যাত্রীরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এয়ারপোর্টের রানওয়ের বাইরে অপেক্ষা করলাম উড়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু অবশেষে জানা গেল… আবহাওয়া ঠিক না হওয়ায়, যাত্রী সুরক্ষা স্বার্থে এবারের বিমানযাত্রা বাতিল। আমি তো অথৈজলে… সেই solo trip, এমন করে শেষ!!

দুপুর ২ টোয় নেমে অভুক্ত পেটে কোন দিশা না পেয়ে আবার লাগেজ নিয়ে গেটের বাইরে। কিন্তু আমিও বাড়ি যাবো না। তাই তৎকালে সন্ধ্যার কামরূপ এক্সপ্রেসে টিকিট কাটা হলো… এয়ারপোর্ট থেকে বেড়িয়ে এবার অন্য যাত্রাপথে একা পা বাড়ানো…

ট্যাক্সি ঠিক করে আমিনিয়ার মটন বিরিয়ানি পেটপুরে খেয়ে বিকেল ৪টের সময়ে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানো গেল। ২ ঘন্টা কোথায় কাটানো যায়… অগত্যা খুঁজে খুঁজে upper class passengers rest room for ladies-এ এলাহিভাবে ১০টাকা/ ঘন্টা দিয়ে কাটিয়ে দেওয়া গেল। মোবাইল চার্জ, নিজস্ব ফ্রেশ হওয়া সব করে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে সাইড বার্থের নিচের সিটে দেহ ফেলা। মনে কিন্তু ভয় রয়েই গেল… এ যাত্রা কি সম্পূর্ণ হবে? কিন্তু এতদিনের আরেক আশাও কখন যেন পূরণ হলো… ট্রেনের জানলায় একা বসে সন্ধ্যা কাটানো, অচেনা স্টেশনকে দূর থেকে দেখা, একা একা নিজের বিছানা করে রাতঘুম দেওয়া।

বুংকুলুং

অবশেষে, সকাল ৬টায় ট্রেন সময়মত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামিয়ে দিল। এক আকাশ বৃষ্টি-সহ ছাতা মাথায় লাগেজ নিয়ে যখন স্টেশনের বাইরে, তখন মনে হলো… গন্তব্য আর বেশি দূরে নয়। এরপর একজন ভদ্র ড্রাইভার দাদা সকাল ৮ টার মধ্যে সেই আকাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছে দিল। ২৪ ঘন্টার এ অভিজ্ঞতা সারাজীবনের এক সঞ্চয়। একা নিশ্চিন্তে ঘোরা, সেটার পরিবর্তে শিক্ষালাভ … প্রতিকূল পরিবেশেও কি করে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকা যায়। একটা প্লেন তার আকাশে উড়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তে বাতিল হওয়া, সাথে ৪ ঘন্টা ঐ প্লেনে বসে থাকা… এও একজীবনে অনেক বড় অভিজ্ঞতা।

যাই হোক, এ যাত্রাপথ ২.৫ দিনের পরিবর্তে ১ দিন মত হলো, তবু বর্ষার পাহাড়ের সৌন্দর্য অতুলনীয়। সাথে সেখানের মানুষ জনের সহায়তা করার মানসিকতা। আর হাঁ, ফেরার সময়ে কোন বাধাবিঘ্ন না আসায় রবিবার বিকেলে সময় মত বাড়ি ফেরা গেছে।

এবার আসা যাক, থাকার জায়গা সম্পর্কে… কার্শিয়াং এর গভর্মেন্ট টুরিস্ট লজে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা দারুণ। ঘর ভাড়া… ১৬০০ এবং ১৮০০ করে। সেদিন আসেপাশে ঘুরে দেখলাম… নেতাজির স্মৃতি বিজরিত শরৎ বসুর বাড়ির মিউজিয়াম, eagle’s crag view point, dowhill school, Victoria school for boys, downhill road, margaret’s deck… আরও অনেক জায়গা আছে দেখার, কিন্তু কভিডের কারণে এবং বৃষ্টির জন্য কম সংখ্যক জায়গা ঘুরলাম। তবে যতটুকু দেখলাম, তার চেয়েও বেশি অদ্ভুত রকমের মনে প্রশান্তি এলো। একদিনের জন্য পাগলামো করা এ যাত্রাপথ সারাজীবনের স্মৃতির পাতায় রয়ে যাবে। এত বাধা বিপত্তির পরে কার্শিয়াং তার রূপের শোভা দিয়ে সব কষ্ট মিটিয়ে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev