দেশে এখন অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে। এই বিপর্যয়ের তীব্রতা এবং সংখ্যা দুটোই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই বিপর্যয় দশকের পর দশক ধরে ক্রমাগত বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ২০০০–২০১৮’র মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা বেড়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই এই প্রবণতা অব্যাহত।

এবছর দেশের পূর্ব উপকূলের ঘূর্ণিঝড়ের সূচনা হল সিত্রাং দিয়ে। বাংলা, ওড়িশা এবং অন্ধ্রের ওপর এর প্রভাব পড়ার কথা। দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় এখন বেশ চেনা ঘটনা। প্রতিটি মরশুমেই দেশে দু-তিনটি ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে অন্তত একটি তীব্র আকার নেয়। এখন সেই তীব্র ঘূর্ণিঝড়গুলির সংখ্যাও বাড়ছে। দেশের ৩৬টি রাজ্যের মধ্যে ১১টিই এখন ঘূর্ণিঝড়ের শিকার। ভারতের উপকূলবর্তী ৯৬টি জেলাকে এখন ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় আছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মেদিনীপুর জেলা।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পশ্চিম উপকূলের আরব সাগরের তুলনায় পূর্ব উপকূলের বঙ্গোপসাগর অনেক বেশি ঘূর্ণিঝড় প্রবণ। তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং প্রাণহানি পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং মেদিনীপুরে বেশি। পশ্চিম উপকূলে ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে হওয়া নানা ধরণের বিপর্যয়ে দেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বন্যা এবং শৈত্যপ্রবাহকে এক্ষেত্রে টেক্কা দিয়েছে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। যত দিন যাচ্ছে তা হয়ে উঠছে আরও বেশি আগ্রাসী এবং বিপজ্জনক।

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি চলে প্রায় সারা বছরই। কিন্তু বিপর্যয়ের তীব্রতা সেই প্রস্তুতি তছনছ করে দেয়। বর্ষা পেরিয়ে যাওয়ার পর সিত্রাং এবছরের প্রথম নিরক্ষীয় ঘূর্ণিঝড়। মানুষের প্রস্তুতি ও প্রকৃতির রোষের তীব্রতা কতটা বেড়েছে তারও পরীক্ষা হবে এতে।