রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে গত আটমাসে রাজ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। শীর্ষে আক্রান্তের সংখ্যা মুর্শিদাবাদ। এখানে এখনও পর্যন্ত ৮৫১ জন, দ্বিতীয় উত্তর ২৪ পরগনায় ৭২৬ জন এবং তৃতীয় হুগলিতে ৪১৯ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর এখানে ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার বাংলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য দপ্তরের।
দিনের দিন হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় রোগীরা ডেঙ্গু-২ সেরোটাইপে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই বর্তমানে সুস্থ। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, ফি সপ্তাহে স্বাস্থ্যদপ্তর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে প্রথম ১৬টি জেলার পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়। গত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সাপ্তাহিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে গত বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের ১৬টি জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৩৯৪ জন। তারপর গত তিনদিনে তা বেড়ে সর্বসাকুল্যে সাড়ে ৪ হাজারের কাছাকাছি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের বিচারে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ (৮৫১)। পরবর্তী চার জেলা হল উত্তর ২৪ পরগনা (৭২৬), হুগলি (৪১৯), মালদহ (৩৭২) ও হাওড়া (৩৪২)। কলকাতা (৩২৮), বাঁকুড়া (২৪১), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (২১০), নদীয়া (১৯০) ও পূর্ব বর্ধমান (১৮৯) হল সংখ্যার বিচারে পরবর্তী পাঁচ জেলা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রথম ১০ জেলার মধ্যে পাঁচটি জেলাই কলকাতা ও তার সংলগ্ন। বিশেষত, কলকাতার একেবারে সন্নিহিত জেলা উত্তর ২৪ পরগনা দ্বিতীয় স্থানে থাকায় প্রমাদ গুনছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। কারণ, অফিস-কাছারি, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ বিভিন্ন দরকারে কলকাতায় আসা মানুষের একটি বড় অংশই উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। সেখানে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্তের অর্থ হল, কলকাতাতেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। স্বভাবতই এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুত বলে জানা গেছে।