অবশেষে অসুস্থ বাবাকে মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থেকে শিলিগুড়ি নিয়ে গেলো ছেলে।
কিছুদিন আগে বাবাকে শিলিগুড়ি নিয়ে গিয়ে ভালো কাজের জোগার করে দেবে ছেলে এই প্রলোভন দেখিয়ে বাবার কাছ থেকে জমানো টাকা এবং বাড়ি ঘর বিক্রি করে পালিয়ে গিয়েছিলো গুনোধর ছেলে বিনোদ কানু।
অসহায় বাবা কোন উপায় না পেয়ে রাস্তার পাশে প্রতিক্ষালয়ে রাত্রী যাপন করছিলো। খেতে না পেয়ে শরীরে বাসা বেধেছে নানা রোগ। অসহায় বাবার রাম চন্দ্র কানু (৬১) মালবাজার মহকুমার ওদলাবাড়ি ডিপো পাড়া এলাকার থাকতো। কিছুদিন আগে সেচ্ছাসেবি সংগঠন ন্যাস এর সদস্যরা অসহায় এই ব্যাক্তিকে দেখতে পেয়ে ওদলাবাড়ি গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ওই ব্যাক্তির।
হাসপাতালে চিকিৎসা হলেও, বাড়ির লোক না থাকায় দেখভালের অসুবিধা হচ্ছিলো স্বাস্থ্য দপ্তরের। এরপর এই সেচ্ছাসেবি সংগঠনের সদস্যরা শিলিগুড়ি গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে অসুস্থ এই ব্যাক্তির ছেলে বিনোদ কানুর খোঁজ পায়। এরপর বিনোদ কানুকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে আসা হয় মাল ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। অবশেষে ভুল বুঝতে পেরে মাল ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বাবাকে নিয়ে যায় ছেলে। শিলিগুড়িতে অ্যাম্বুলেন্স করে নিয়ে যাওয়া হয় রাম চন্দ্র কানুকে। এব্যাপারে মাল ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর এবং সেচ্ছাসেবি সংগঠন ন্যাস সহযোগিতা করে। বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করানো হচ্ছে রাম চন্দ্রবাবুকে। সুস্থ হয়ে গেলে বাড়িতে নিয়ে আসবে বলে জানায় ছেলে বিনোদ কানু।
ছেলে বিনোদ কানু বলে, বাবাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবো। তবে বাবা এত অসুস্থ তা আমি জানতাম না। সেচ্ছাসেবি সংগঠন এর সদস্যরা আমার বাড়িতে গিয়ে জানায়, তখন জানতে পারি। তবে বাবার টাকা পয়সা আমি নিই নি। জমি আমি বিক্রি করি নাই।
এব্যাপারে সেচ্ছাসেবি সংগঠন ন্যাসের সম্পাদক নফসর আলী বলেন, কয়েকদিন যাবত এই ব্যাক্তিকে ওদলাবাড়ি ৩১ নাম্বার জাতীয় সড়ক-এর পাশে প্রতিক্ষালয়ে মধ্যে থাকতে দেখছি। খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক না হওয়ায় দুর্বল হয়ে গেছে। এই ব্যাক্তি আমাদের বলে, ছেলে বাড়িঘর বিক্রি করে, আমায় প্রতিক্ষালয়ে ফেলে চলে গেছে। এরপর রাম চন্দ্রবাবুকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর অসুস্থ ওই ব্যাক্তির ছেলের খোঁজে শিলিগুড়িতে দু-দিন ধরে খোঁজ চালাই। বহু কষ্টে ছেলের খোঁজ পাই। অবশেষে এদিন বাবাকে মাল ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বাবাকে নিয়ে যায় ছেলে। আমরা বিনোদ কানুকে বলেছি মাঝে মধ্যেই আমরা রাম চন্দ্রবাবুর খোঁজ নেবো। যাতে আবার এই ভাবে বাবাকে অন্য কোন জায়গায় ফেলে না যায় গুনোধর ছেলে বিনোদ কানু। এব্যাপারে সেচ্ছাসেবি সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকেও জানিয়ে রাখা হয়।