| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

অফ দ্য পিপ্‌ল, বাই দ্য পিপ্‌ল, ফর দ্য পিপ্‌ল : লিখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Reporter
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় / ১০৫৩ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২

ছোটো চারাগাছ যখন আমরা প্রথম পুঁতি সেটি ছাগলে বা গরুতে খেয়ে নেওয়ার ভয় থাকে বলে তাকে পাহারা দিয়ে রাখতে হয়। গাছটা যখন বড়ো হয়ে যায়, তা মহীরুহে পরিণত হয়, তখন তা মানুষের কাছে বটবৃক্ষ হিসেবে, মানুষের মাথার ওপর ছাতা হিসেবে, মানুষের প্রত্যাশা, ভরসার আশাস্থল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে। যে দলটাকে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাহারা দিয়ে রাখতে হতো, পাছে কেউ শেষ করে দেয়, সেই তৃণমূল কংগ্রেসই এখন মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এটা বলতে গর্ব হয়। তৃণমূল কংগ্রেস গর্বের সঙ্গে, সভ্যতার সঙ্গে, সংস্কৃতির সঙ্গে, মা-মাটি-মানুষকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দলটাকে গড়তে, প্রতিষ্ঠা করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন বাংলার মা-মাটি-মানুষ। ১৯৯৮-এ তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর ১ মাস ২২ দিনের মাথায় ছিল লোকসভা নির্বাচন। ২২ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেই অল্পসময়ের মধ্যেই জোড়া ফুল বা ঘাস ফুল প্রতীক নিয়ে আমরা লোকসভায় সাতটা আসন পাই মানুষের সাহায্য নিয়ে। সেজন্য বাংলার মা-মাটি-মানুষের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা, প্রণাম, সালাম জানাই। এই দলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কত ছাত্র-যৌবন, ভাই-বোনের আশা-আকাঙ্ক্ষা-ডেডিকেশন-ডিটারমিনেশন-ডিভোশন। জড়িয়ে রয়েছে প্রচুর আত্মত্যাগ, স্বার্থত্যাগ। দল করতে গিয়ে আমাদের কত কর্মী মারা গেছেন। সিপিআইএমের হাতে নির্যাতিত, অত্যাচারিত, খুন হতে হয়েছে একের পর এক মানুষকে। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাইয়ের আগেও কত ঘটনা রয়েছে। হাজার হাজার কর্মী খুন হওয়ার পর দল আজ এই জায়গায় এসেছে। তাই এখন যাঁরা দায়িত্বের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস করেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে পুরোনো দিনগুলির কথা। মনে রাখতে হবে পুরোনো সবাইকে। শহিদদের কথা যেন আমরা মনে রাখি। একই সঙ্গে পুরোনো দিনের সাথী, যাঁরা দলটাকে লালনপালন করে বড়ো করেছেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে। আমি সব সময়ই বলি, তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পদ নেতৃবৃন্দ নয়, সম্পদ দলের কর্মীরাই যাঁরা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে-প্রান্তরে-পথে-ঘাটে-বাসে-ট্রামে-ট্রেনে লড়াই করেন। সাধারণ মানুষকে ছাড়া আমরা কোনও কাজই করতে পারি না।

বাংলার মতো এত সামাজিক প্রকল্প আর কোথাও নেই। ‘কৃষকবন্ধু’ নামে প্রকল্প করেছি। এই প্রকল্পে ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত কোনও কৃষক, খেতমজদুর মারা গেলে, তাঁদের স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও সেই পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। কৃষক, খেতমজদুরদের জীবনের স্বীকৃতির জন্য প্রিমিয়াম দেবে সরকারই। অর্থাৎ ওই বয়ঃসীমার মধ্যে কেউ কোনওভাবে মারা গেলে সেই পরিবার ২ লক্ষ টাকা পাবেন। আবার কৃষকদের চাষ করার জন্যও প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বছরে ২ বার আড়াই হাজার টাকা করে। আমাদের সরকার কৃষকদের খাজনা মকুব করেছে, কৃষিজমি মিউটেশনে পয়সা লাগে না। কৃষকদের শস্যবিমার টাকাও আমরাই দিই। কেন্দ্রীয় সরকার দেয় না, মিথ্যা কথা বলে। ব্যাঙ্কগুলিতে, ইনসিওরেন্স কোম্পানিগুলিতে আমরাই টাকা দিই। যখন ওরা দেরি করে তখন অন্যদের ছবি লাগিয়ে দেয়। এটা ঠিক নয়। আমরাই কৃষকদের শস্যবিমার টাকা ১০০ শতাংশ দিয়ে দেবো। কারও দয়াদাক্ষিণ্য চাই না। ২০২২ সালে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার কথা বলছে কেন্দ্রীয় সরকার, আমরা ইতিমধ্যেই বাংলার কৃষকদের আয় তিন গুণ করে দিয়েছি। আজ সব ঘরের মেয়েরা কন্যাশ্রী, যারা সরকারি স্কুলে পড়ে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তাদের স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। এটা কন্যাসন্তানদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটা বিশ্বজয়ী প্রোগ্রাম। সবুজসাথী সাইকেল থেকে সবুজশ্রী প্রকল্প রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার কোনও পয়সা লাগে না, বেড পর্যন্ত ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। ২ টাকা কিলো দরে চাল দেওয়া হয় সাড়ে আট লক্ষ মানুষকে, ৫০ লক্ষ মানুষকে দেওয়া হয় অর্ধেক দামে। চা-বাগানের শ্রমিকরা ৩৫ কেজি চাল পান ৪৭ পয়সায়। আয়লা অঞ্চলও অনেক বেশি চাল পায়। সিঙ্গুরে কৃষকদের জমি আমরা অনেক দিন আগেই ফেরত দিয়েছি। কিন্তু এখনও তাঁরা নিয়মিত টাকা পান, চালের সুবিধাও পান। নোটবন্দি, জিএসটির জন্য সারা ভারতে অসংগঠিত ক্ষেত্র, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের থেকে শুরু করে কৃষক, নতুন প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সারা দেশে বেকারত্ব ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। একমাত্র জায়গা বাংলা যেখানে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমিয়ে দিয়েছি আমরা। আগামী দিনে আরও করব। আমাদের টার্গেট প্রতি বছর ১২ লক্ষ ছেলে-মেয়েকে স্কিল ট্রেনিং দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া। প্রচুর ছেলে-মেয়ের চাকরি হয়েছে, আরও হবে। সাড়ে সাত বছরে ৪৩টি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। প্রত্যেক জেলায়, মহকুমায় এইচডিইউ, ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট তৈরি হয়েছে, ৩০০-র ওপর এসএনএসইউ তৈরি হয়েছে বাচ্চাদের ইউনিট পেডিয়াট্রিক চিকিৎসার জন্য। প্রায় ৮০টা এসএনসিইউ, ১৬টা মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরি হয়েছে। অনেক মেডিক্যাল কলেজ নতুন তৈরি হয়েছে। ২৪টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪৬টি নতুন কলেজ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩০০ আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ তৈরি হয়েছে। জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে কিষাণ মাণ্ডি তৈরি করা হয়েছে। কর্মতীর্থ তৈরি হয়েছে যেখানে এনজিও ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পথসাথী তৈরি হয়েছে। কোনও মহিলা সন্তানসম্ভবা হলে তাঁকে তিন খেপে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এক বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাকে চিকিৎসার জন্য দেখাতে হলে সরকারি গাড়ি গিয়ে মা ও বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। শিল্পও খুব ভালো হচ্ছে। খুব শিগগিরই কুলপিতে বন্দর হবে। ভোরসাগরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা সত্ত্বেও ওরা ফেলে রেখে দিয়েছে। আমরা তাজপুর বন্দর করব শিগগরিই। বীরভূমের পাঁচামিতে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ কয়লাখনি হচ্ছে। এখানে লক্ষাধিক ছেলে-মেয়ের চাকরি হবে। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি হচ্ছে, যা পানাগড়, দুর্গাপুর, বাঁকুড়া হয়ে রঘুনাথপুরে গিয়ে শেষ হবে। আরও প্রচুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হচ্ছে। সিলিকন ভ্যালির মতো আইটি হাব তৈরি হচ্ছে। সিলিকন ভ্যালির জন্য ১০০ একর জমি দেওয়া হয়েছিল, সবাই নিয়ে নিয়েছে। আরও ১০০ একর জমি দেওয়া হয়েছে। এখানেও প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। পর্যটনের প্রভূত বিকাশ হয়েছে, অনেক নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে, সৌন্দর্যায়ন-সহ পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। গঙ্গাসাগর কিংবা দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে স্কাইওয়াক থেকে শুরু করে তারাপীঠ মন্দির সংস্কার করা হয়েছে, পাথরচাপড়ি, ফুরফুরা শরিফেও উন্নয়ন হয়েছে। ২ হাজার কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে। শ্মশানঘাটগুলির দিকে কেউ তাকাতো না। আমরা হাজার দুয়েক শ্মশানঘাট তৈরি করেছি, আরও করছি। আদিবাসী ভাই-বোনেদের জন্য জহর থানগুলির পাট্টা দিয়েছি। বাংলা আবাস যোজনা করে ৪০ লক্ষ গৃহহীনদের গৃহ দিয়েছি, ৩ লক্ষ গরিব মানুষকে পাট্টা দিয়েছি। ৩৩ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করেছি। পরিকাঠামোয় আমরা অনেক উন্নতি করেছি। সিপিআইএম ৪৮ হাজার কোটি টাকার দেনা শোধ দিতে আমাদের বাধ্য না করলে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম। আগের সরকারের ৩৪ বছরই হোক বা কংগ্রেস কিংবা বিজেপি-শাসিত দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার— বাংলার জন্য কেউই ভাবেনি। গত সাড়ে সাত বছরে বাংলায় নতুন করে পরিবর্তন এসেছে। ই-গভর্ন্যান্স, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস, এমএসএমই, স্কিল ট্রেনিং, আইটি, কৃষির মতো বহু ক্ষেত্রে বাংলা এখন দেশের মধ্যে এক নম্বরে। আগে যেখানে ২৩-২৪-এ ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও সাড়ে সাত বছরে এইসব কাজ করতে পেরেছি। তৃণমূল কংগ্রেস দলকে সরকার চালানোর জন্য মানুষ নির্বাচন না করলে এত কাজ করা কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই এর সব অবদানই মানুষের।

বাংলার মানুষের আশীর্বাদ-শুভেচ্ছা-দোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস আজ সারা ভারতে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল। শুধু বিজেপি, কংগ্রেসই নয়। বিএসপি, সপা, এনসিপি-র মতো চার-পাঁচটা দলও আছে। আঞ্চলিক দল হয়েও আমরা জাতীয় দলের স্বীকৃতি পেয়েছি, যা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত। আমাদের জোড়া ফুল সিম্বলে যে কেউ যে কোনও রাজ্যে লড়তে পারেন। মণিপুর, ত্রিপুরা, অরুণাচল, অসম-সহ আরও কিছু জায়গায় আমরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনে লড়েছি। আগামী দিনে ঝাড়খণ্ডেও লড়াই করব। বিহারের একটা-দুটো সিট, ওডিশার কিছু সিট, অসমেও লড়াই করব। লড়াই করব উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির বিভিন্ন জায়গায়। কারণ, সেসব রাজ্যের মানুষ চান তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের পাশে থাকুক। অসমে এনআরসি তৈরির পর দেখা গেল অসমিয়া, বাঙালিদের নাম প্রচুর পরিমাণে বাদ পড়েছে। ২৩ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ পড়েছে। মুসলিম, নেপালি, হিন্দিভাষী, দক্ষিণ ভারতীয়, পাঞ্জাবিদের নামও বাদ পড়েছে। এটা ইনজাস্টিস টু দ্য পিপ্‌ল। তাই অসমের মতো যেখানেই ইনজাস্টিস হবে, সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস ঝাঁপিয়ে পড়বে। অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ইডিওলজি কী? আমি বলি, আমাদের ইডিওলজি, ফিলোজফি, মিশন, ভিশন, অ্যাকশন, রিয়্যাকশন সবটাই অব দ্য পিপ্‌ল, বাই দ্য পিপ্‌ল, ফর দ্য পিপল। তৃণমূল কংগ্রেস অব দ্য পিপ্‌ল, বাই দ্য পিপ্‌ল, ফর দ্য পিপ্‌ল। সকলে যেমন আশীর্বাদ, ভালোবাসা, শুভেচ্ছা দিয়েছেন, আগামী দিনেও তা পেলে আমরা অনেক কাজ করতে পারি। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলার জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে এসেছি। এখনকার মেট্রো-সহ আরও বহু রেল প্রকল্প। আর গত পাঁচ বছরে কেউ বাংলাকে রেল দেয়নি। শুধু বাংলা নয়, সারা ভারতের জন্যই কাজ করেছি। আজমের শরিফ থেকে কামাখ্যা— আমার ভিশনেই এই রেল স্টেশনগুলিকে সেখানকার বিখ্যাত আদলে তৈরি করা হয়েছে। তাই একটা কথাই বলব, তৃণমূল কংগ্রেসের উপর ভরসা রাখুন, বিশ্বাস রাখুন, আস্থা রাখুন। ভালোবেসে আপন করে নিন। এই দলটা মানুষের বিরুদ্ধে কোনও কাজ করবে না।

কাজ করতে গিয়ে কেউ দলের এক-দু-জনকে ভুল বুঝতে পারেন। তাঁদের হয়ে আমি ক্ষমা চাইব। কেউ অন্যায় করলে তাঁদের বিরুদ্ধে পার্টি ব্যবস্থা নিয়েছে। সব জায়গাতেই ভালো-খারাপ লোক থাকে। তবে আমাদের দলে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। ০.০১ শতাংশ কারও ব্যবহারে কোথাও কেউ ক্ষুব্ধ হলে ক্ষমা চেয়ে বলব, আমরা তা রেক্টিফাই করব, এটা আমরা করে থাকি। তৃণমূল কংগ্রেস আইনের শাসনে বিশ্বাস করে বলেই কর্মীরা কোথাও ভুল-ভ্রান্তি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে দল অ্যাকশন নিয়ে থাকে। এটা অন্য কোনও দলই করে না। বিজেপি উত্তরপ্রদেশে গণহত্যা থেকে পুলিশ হত্যা, ভাগাভাগি চালিয়ে সর্বনাশের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দেশের ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, সংবিধান পরিবর্তন করে দিচ্ছে। বাঁচার অধিকার হারিয়ে মানুষ আজ অসহায়। গণতন্ত্র বিপন্ন। আগামী দিনে গণতন্ত্র, সংবিধান, সংসদকে রক্ষা করতে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যৌবন, মহিলা, শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ— সকলকে একসঙ্গে থাকতে হবে। সেকুলার পরম্পরাকে বাঁচাতে হবে। সবাই একসাথে মিলে দলটাকে চালাতে চাই। যতটা পেরেছি করেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি, আরও কাজ করব। আমাদের দল গরিব রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিআইএমের মতো খরচের সামর্থ্য নেই। কিন্তু আমাদের দলের প্রতীকটা দামি। আমাদের প্রতীকই স্যাক্রিফাইস,  ডিটারমিনেশন, ডিভোশন, সেল্ফলেস সার্ভিস, সেল্ফ-হেল্প সার্ভিসের জন্য। ১ জানুয়ারি অবশ্যই তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ ঐতিহাসিক দিন। ১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠা দিবস আর নিউ ইয়ার কো-রিলেটেড। নতুন বছরে নতুন শুরু অনেক আশা নিয়ে। একুশ কখনও ভয় পায় না, মাথা নত করে না, দুর্বল মানুষের পাশ থেকে সরে যায় না, ভাগাভাগি করে না, ভাঙে না, ছাত্র-যৌবনের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয় না। একুশ লড়াই করে, সংগ্রাম করে, বাঁচতে শেখায়, ভিশন দেখায়, মিশন দেখায়। একুশ মানেই ভাষা আন্দোলন থেকে অধিকার অর্জনের পালা শুরু করে দেয়। নতুন বছরের শুরুতে চাইব, বাংলার স্বাধীনতা, সুরক্ষা, অর্থনীতি, সমাজনীতি, ছাত্র-যৌবন, মা-বোনেরা সকলে সসম্মানে থাকুন, এটাই প্রার্থনা।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev