বাংলা প্রাকৃতিকভাবে শস্যশ্যামলা, স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ।তাই মানুষও অনেক শান্তিপ্রিয় কোমল হৃদয়সম্পন্ন। রুদ্ররূপিণী কালী শস্যশ্যামলা বাংলায় করুণাময়ী মাতৃরূপে পূজিতা হন।
পৌরাণিকভাবে তাঁর উৎপত্তির নানা মত আমরা পেয়ে থাকি। তিনি যুদ্ধরতা দেবী দুর্গার চূড়ান্ত ক্রোধের একটি মূর্তিরূপ, যেটি তাঁর কপাল থেকে সৃষ্টি হয়েছিল চন্দমুণ্ড ও রক্তবীজ নামক অসুরদের বধ করার জন্য। অন্যমতে দেবী পার্বতী তাঁর কৃষ্ণবর্ণ রূপটি ত্যাগ করে গৌরীরূপ লাভ করেছিলেন। তখন তাঁর কৃষ্ণবর্ণ রূপটি দেবী কৌশিকী নামে পরিচিত হন, তারই রুদ্ররূপ কালী। পরবর্তীকালে দুর্গা এবং কালী দুজনই মাতৃরূপে পূজিতা হন। কালীর রূপ সাধারণত উগ্র। এই রূপে তাঁর চুলখোলা, অঙ্গে কোনও বস্ত্র নেই। শুধু দুষ্ট দানবের কাটা হাতগুলি দিয়েই কালীর অঙ্গ ঢাকার জন্য পরিহিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দানবের মুণ্ড দিয়ে গলার মালা করা হয়েছে। জিভ এবং খড়্গ দিয়ে রক্ত ঝরছে। কথিত আছে, তিনি এত রক্তপিপাসু হয়ে পৃথিবী ধ্বংস করেছিলেন যে, দেবতারাও ভয় পেয়ে শিবকে অনুরোধ করলেন, তাঁকে শান্ত করার জন্য। শিব কালীকে শান্ত করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে কালীর সামনে শুয়ে পড়লেন। কালী অজান্তে শিবের দেহের উপর পা রাখলেন এবং বুঝতে পারলেন যে স্বামীর দেহের উপর পা রেখেছেন। উনি থমকে গেলেন এবং লজ্জায় নিজের জিভ বের করলেন। সেক্ষেত্রে পৃথিবী ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচল। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গায় এই মূর্তিতে কালী পূজিতা হন। কথিত আছে যে, শ্মশানকালী শেয়াল নিয়ে ঘুরতেন বলে সাধারণ গৃহস্থরা বাড়িতে কালীপুজো করতেন না। ওঁর ভক্তদের মধ্যে কবি রামপ্রসাদ সেন এইরূপেই কালীকে দেখেছিলেন। কিন্তু আবার রামকৃষ্ণদেব কালীকে মাতৃরূপে পূজা করছেন দক্ষিণেশ্বরে। পূর্ব ভারতে দুর্গাপূজা হয়। সেখানে তিনি মাতৃরূপে পূজিতা হন। পরে কালীপুজো আসে। কথিত আছে যে, কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় মা কালীর পরম ভক্ত ছিলেন এবং কালীপুজোর প্রাধান্য তাঁর আনুকূল্যে বাংলায় শুরু হয়।

দি গডেজ কালী, পেপারে আঁকা, অস্বচ্ছ জল রং অনামি শিল্পী, ক্যালকাটা, ১৮৭৫ লস এঞ্জেলস কানট্রি মিউজিয়াম অব আর্ট, গল অব ওয়ালটার-এ সংরক্ষণ।
বিনয় ঘোষের লেখা— ‘ট্র্যাডিশনাল আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’ থেকে আমরা জানতে পারি, কৃষ্ণনগরের ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। কথিত আছে, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় পটুয়াদের পূর্ববঙ্গের ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছিলেন। অন্যমতে, পটুয়ারা উত্তরবঙ্গের নাটোর থেকে এসেছিলেন। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ নবদ্বীপে কালীমূর্তি পূজার অনুমোদন করেন এবং তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী পটুয়ারা কালীমূর্তি সৃষ্টি করেন। অষ্টাদশ শতকের পূর্বে ততটা মূর্তিপূজার প্রচলন ছিল না। ঘটে, পটেই সাধারণত পূজা হতো। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আনুকূল্যে মূর্তিপূজার ধর্মীয় অনুমোদন সামাজিকভাবে প্রচলিত হতে থাকে। পুরোনো মৃৎশিল্পী মোহন পাল (১৭৪৮) এই বিষয়ে একমত।
বাংলায় দক্ষিণাকালীর রূপটি সবথেকে বেশি প্রচলিত। যেটি কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের বর্ণনায় মূর্তি গঠন করা হয়েছে। যেখানে করুণাময়ী মা রূপে পূজিতা হন। তাঁর ডানদিকের দুটি হাত আশীর্বাদ ও বরদানের ভঙ্গিমায় থাকে। আগমবাগীশ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন দেবীর পূজা প্রচলন করার জন্য।

দি গডেজ কালী তামিলনাড়ু, ১১ শতক কপার এলয়, লস এঞ্জেলস কানট্রি অব আর্ট মিউজিয়াম।
পূর্ব ভারতে যখন মা কালী এইরূপে পূজিতা, সেই সময় দক্ষিণ ভারতে চামুণ্ডা রূপে তিনি পূজিতা হয়েছেন। কিন্তু সেখানে তাঁর এই রুদ্ররূপ নেই এবং শিবের বদলে এক মৃতদেহের উপর বসে আছেন। তামিলনাড়ুতে ১১ শতকের কালীমূর্তি পাওয়া গেছে। এখানে তিনি শান্তরূপে পদ্মের উপর বসে আছেন।
কোনও কোনও ঐতিহাসিক লিখেছেন, বৌদ্ধদের দেবী ছিলেন ‘উগ্রতারা’ এবং কালীঘাটের কাছাকাছি তাঁদের মনস্ট্রি ছিল। হয়তো উগ্রতারা থেকে এই রূপের সৃষ্টি হয়েছে।

চামুণ্ডা বা দক্ষিণাকালী, নেপাল, ১৭ শতক গিল্ট কপার এলয়, ভারত কলাভবন, বারাণসী।
কলকাতা কালীক্ষেত্র নামে পরিচিত ছিল। জব চার্নক ১৯৬০ সালে কলকাতা স্থাপন করার অনেক আগে থেকেই এটি দেবী কালীর অধিষ্ঠানক্ষেত্ররূপে পরিচিত। প্রথমে বিপদসঙ্কুল জঙ্গলের মধ্যে কাপালিকরা দেবী কালীর পূজা করতো। কিন্তু কালীঘাট মন্দির স্থাপন করেন রাজা বসন্ত রায় ১৬ শতকের দ্বিতীয় ভাগে। রাজা বসন্ত রায় ছিলেন যশোরের মহারাজা প্রতাপাদিত্যের আত্মীয়। যশোরের পূজনীয় দেবী কালী যশোরেশ্বরী নামে পূজিতা হতেন। কালীঘাটের এই মন্দিরটি ১৮ শতকে ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীকালে স্থানীয় জমিদার সাবর্ণ রায়চৌধুরী ওই ভাঙা মন্দিরের স্থানে নতুন মন্দির স্থাপন করেন ১৮০৯ সালে। এই কালীঘাট মন্দিরে দেশি-বিদেশি তীর্থযাত্রীরা পূজা দিতে আসতেন। বিদেশিরা কালীর রূপকে ভয় পেতেন এবং মন্দিরেও আসতেন। সকলে কালীর সম্বন্ধে কিছু না কিছু লিখে গেছেন। কালীর চিত্রও তাঁরা বিদেশে নিয়ে গেছেন।
বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপট যেমন শিল্প, সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলে তেমনই দেবী কালীর বিষয় শিল্পে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছে সময় পরিবর্তনের নিরিখে। আর্লি বেঙ্গল অয়েল পেন্টিং-এ তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এখন আমরা আর্লি বেঙ্গল অয়েল পেন্টিং কী এবং কোন প্রেক্ষাপটে তা চিত্রিত হয়েছিল সে বিষয়ে মনোনিবেশ করবো।

কালী এবং কালী মন্দির, কালীঘাট ১৮৭৫-১৯০০, পেপারে আঁকা অস্বচ্ছ জল রং, চেস্টার অ্যাল ডাডিজ হারউইটজ ফ্যামিলি কালেকশন।
এই বাংলায় রাজনৈতিক পালা বদলের ঘটনা ক্রমান্বয়ে ঘটেছে। এ কথা আমরা জানি। তার মধ্যেও বাংলার লোকসংস্কৃতি বেঁচে আছে নানাভাবে। লোকশিল্পীরা শিল্পকে জীবিকানির্বাহের পথ হিসাবে বেছে নিয়েছেন। এই শিল্পীরা কখনও মাটির পুতুল, প্রতিমা, কখনও পটচিত্র অঙ্কন করেছেন সমাজের মানুষের চাহিদা অনুসারে। এই শিল্পীদের দ্বারাই একসময়ে সৃষ্টি হয়েছিল আর্লি বেঙ্গল অয়েল পেন্টিং। যেগুলি তেলরং দিয়ে আঁকা যা পাশ্চাত্য মাধ্যম হিসাবে পরিচিত। যার বিষয় হলো পৌরাণিক দেব-দেবী। এই শিল্পকলা ব্যাখ্যা করলে প্রথমে আলোচনা করতে হয় অন্য প্রেক্ষাপট।
১৭৪৮ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সময় দিল্লির মুঘল দরবারের শিল্পীরা কর্মচ্যুত হয়ে ভারতের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়লেন। তাঁদের এক অংশ চলে এলেন বাংলায়, তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদে, কাশিমবাজারে ও বালুচকে। সেই সময় রাজস্থানের অনুচিত্র শিল্পীরা একদল সম্ভবত আগে বিষ্ণুপুরে এসেছিল। তাঁদের শিল্পধারা আদি বঙ্গের চিত্রধারাকে প্রভাবিত করেছিল। চিত্র বিশ্লেষণে তা প্রত্যক্ষভাবে প্রতীয়মান হয়।

আর্লি বেঙ্গল অয়েল, কালী, ক্যানভাসে আঁকা, অয়েল পেন্টিং, ১৯ শতকের শেষে আঁকা।
ইউরোপিয়ানরা ভারতে এসেছিলেন ব্যবসা-বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে। ইউরোপিয়ানদের মধ্যে যেমন পর্তুগিজ, ডাচ, ড্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, ব্রিটিশ প্রভৃতি বাংলায় ব্যবসার প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীকালে ব্রিটিশরা ভারতের শাসনকর্তা হলেন। এই সময় অনেক ইউরোপিয়ান শিল্পী ভারতে এসেছিলেন অর্থ রোজগারের আশায়। যেমন— টিলি কেটল, জোফানি, চিনারি, থমাস ডানিয়াল, উইলিয়াম ডানিয়াল, উইলিয়াম হিকি প্রমুখ। ব্রিটিশরা কলকাতায় রাজধানী গড়ে তুলেছিলেন। তার আগে ফ্রেঞ্চ, ডাচ, পর্তুগিজরা চন্দননগরে, মুর্শিদাবাদে ঘাঁটি গেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ রাজতন্ত্র যখন বাংলা তথা ভারতে ছড়িয়ে পড়ল সেই সময় বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সামাজিক সংস্কৃতিতে নানা পরিবর্তন আসতে শুরু করল।
স্বাভাবিকভাবে ইউরোপিয়ানদের কাছাকাছি ভারতীয় উচ্চশ্রেণি বা জমিদার-রাজা ব্যক্তিগণ আসতে থাকেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রায় অনুপ্রাণিত হতে লাগলেন। ইউরোপিয়ানদের বাড়ির দেবতাকে টাঙানো তৈলচিত্র জমিদারদের আকৃষ্ট করেছিল। বাংলার লোকশিল্পীদের কাগজে আঁকা চিত্র তাঁদের ততটা আকৃষ্ট করেনি। আভিজাত্য প্রকাশের জন্য তাঁরা ইউরোপিয় তৈল্য চিত্রের প্রতি আকর্ষিত হয়েছিলেন। সেজন্য তারা ভারতীয় পৌরাণিক বিষয়ের উপর তৈল্য চিত্র চিত্রিত করে ঘরে টাঙানো শুরু করেন। এই সমস্ত চিত্রের প্রকৃত শিল্পীরা হলেন ভারতীয়।

কারণ হিসাবে ভারতীয় শিল্পীদের আর্থিক চাহিদা ইউরোপিয় শিল্পীদের তুলনায় অনেক কম ছিল। সে কারণে দেশীয় শিল্পীরাই চিত্র রচনায় নিযুক্ত ছিলেন। জমিদারবাবুদের ফরমায়েশি চিত্ররচনায় তাঁদের তৈলচিত্রে আঁকা হিন্দু পৌরাণিক কাহিনির দেব-দেবীর চিত্রগুলিই বর্তমানে আর্লি বেঙ্গল তৈলচিত্র নামে পরিচিত।
আর্লি বেঙ্গল তৈলচিত্রগুলির গঠনশৈলী আলোচনা করলে নানা দিক উন্মোচিত হবে। প্রথমত, পাশ্চাত্য শিল্পধারার সঙ্গে স্বদেশি শিল্পধারার সংমিশ্রণ ঘটেছে। সেই সঙ্গে পাশ্চাত্য শিল্পমাধ্যমে (তৈল রং) ভারতীয় শিল্পীরা শিল্প রচনা করেছেন। এই চিত্রকলায় দেখা গেছে মুঘল মিনিয়েচার এবং বাংলার লোকশিল্প প্রভাব। সেই সঙ্গে পাশ্চাত্য শিল্পধারার সংযোজন চিত্রগুলিকে অন্য চরিত্রে উপনীত করেছে।
ধারাবাহিক সময়ের নিরীখে দেবী কালীর শিল্প রচনার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯ শতকের শেষের দিকের কালী বেশি পাশ্চাত্য প্রভাব লক্ষ করা যায়।
যেহেতু আর্লি বেঙ্গল অয়েল পেন্টিং আমার গবেষণার বিষয়। সেজন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মিউজিয়াম, গ্যালারিতে এই সমস্ত তৈলচিত্রের সন্ধানে সংস্থার অনুমতিতে চিত্রগুলির পর্যবেক্ষণ করার সময় চিত্রের গঠনগত দিক যেমন ধরা পড়েছে, তেমনই তার চিত্রগত নানা দিক উঠে এসেছে। আলোচনার প্রেক্ষাপট হলো মা কালী। এখন পর্যন্ত আমার অনুসন্ধানে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে দুটি মা কালীর নিদর্শন পেয়েছি। সেগুলি খুবই বড়ো পেন্টিং। এর মধ্যে একটি পেন্টিং খুবই বড়ো। সাইজ ১০৩ X ১২৯.৫ সেমি। সেটির গুরুত্ব হলো কালীর নীচে দুটি শিব শায়িত অবস্থায় বর্তমান। কালী দুটি শিবের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবির ফিগার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ফিনিশিং-এ শিল্পীর অসাধারণ দক্ষতার নিদর্শন পাওয়া যায়। এই ছবিতে পাশ্চাত্য শিল্পের প্রভাব বেশি মাত্রায় দেখা গেছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আশুতোষ মিউজিয়ামের সংগ্রহে একটি কালী পেন্টিং আছে। চিত্রটি গ্লাস ফ্রেমে আবদ্ধ। চিত্রটি পাতলা রং-এর লেয়ারে আঁকা। পাতলা ক্যানভাস ব্যবহার করা হয়েছে এবং মোটা মোটা কাগজের সাউন্ডবোর্ডের উপরে পেস্ট করা। ছবিটি ১৯ শতকে অঙ্কন করা হয়েছে।
বেহালা স্টেট আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত গ্লাস পেন্টিং-এ কালী, এটি ১৯ শতকের শেষে আঁকা হয়েছে। এটি একটি ভিন্ন স্বাদের কালী। পেন্টিংয়ের পেইন্ট লেয়ার অধিকাংশ জায়গায় ঝরে পড়েছে।
সিমা আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত (১৫ ডিসেম্বর ২০১৭—২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) একটি কালী পর্যবেক্ষণ করেছি। সেটি হলো ‘ছিন্নমস্ত’। ছবিটি ১৯ শতকের শুরুতেই আঁকা হয়েছিল (সাইজ—৫৮.৫ সেমি X ৪৮ সেমি)। ছবিটি রেস্টোরেশন করা হয়েছে। পেইন্ট লেয়ারের ক্র্যাক বলেই দিচ্ছে ছবির বয়স হয়েছে। অলংকারে সুন্দরভাবে গোল্ড কালার ব্যবহার করা হয়েছে।
চিত্রকূট আর্ট গ্যালারিতে অনেক কালীর নিদর্শন ক্যাটালগে আছে (চিত্রকূট ২০১০-এ আর্লি বেঙ্গল অয়েল পেন্টিং প্রদর্শনী)। কিন্তু বর্তমানে আমি কিছু অরিজিন্যাল কালীর নিদর্শন পেয়েছি। তার মধ্যে ছোটো একটি পেন্টিং ‘কৃষ্ণকালী’। সাইজ ১৭ ইঞ্চি X ১২.৫ ইঞ্চি। ছবিটি রেস্টোরেশন করা হয়েছে। ছবিটিতে গোল্ড কালারের ব্যবহার এবং মুঘল মিনিয়েচার স্টাইল অনেকটাই দেখা গেছে। শিল্পীর অসাধারণ দক্ষতা ছবির নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ধরা পড়েছে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন বইতে প্রকাশিত বিভিন্ন রূপের কালীর ছবি পাওয়া গেছে। যেমন—‘আর্ট অব বেঙ্গল—পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট (১৮৫০-২০০০)’, সিমা আর্ট গ্যালারি, কলকাতা—২০০০ ।

রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার পরিচালিত সংগ্রহশালা দশমহাবিদ্যার তিনটি রূপ প্রদর্শিত। এই তিনটি রূপ যথাক্রমে বগলা, তারা ও ভৈরবী। আর্লি বেঙ্গল অয়েল চিত্রমালার বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের নিদর্শন এই তিনটি ছবি।
বাংলায় কালীপুজোর প্রচলন বহুদিন ধরে। প্রথমে ঘটপূজা এবং পরবর্তীকালে মূর্তিপূজার প্রচলন হয়। যেহেতু কালীমাতার পূজা বাঙালি হিন্দুরা খুবই ঘটা করে করতেন। সেই ভক্তির নিরিখে আর্লি বেঙ্গল তৈলচিত্রে কালী আঁকা হয়েছে। এই ছবিগুলির নান্দনিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। কারণ, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন স্টাইলের সংমিশ্রণে ভারতীয় শিল্পীদের হাতে পাশ্চাত্য মাধ্যমে আঁকা। এই ছবিগুলিতে বাংলার বিভিন্ন শিল্পীসমাজ, পরিবেশ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসর প্রভৃতির রূপরেখা ধরা পড়ে।এগুলি বিদেশে বহুমূল্যে অকশনে বিক্রি হওয়ার পর ভারতের শিল্পরসিকরা এর গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছবিগুলি বর্তমান। এই ছবিগুলির, যেগুলি আমার দেখা কিছু ছবির অবস্থা খুবই খারাপ। ছবিগুলি যেখানেই থাকুক তার সংরক্ষণ খুবই দরকার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। n
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
১. আর্ট অব বেঙ্গল— পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট (১৮৫০-২০০০) সিমা আর্ট গ্যালারি, কলকাতা— ২০০০
২. চেঞ্জিং ভিশনস, লাস্টিং ইমেজেস— ক্যালকাটা থ্রু ৩০০ ইয়ারস, এডিটেড বাই প্রতাপাদিত্য পাল। মার্গ পাবলিকেশনস— ১৯৯০
৩. বেঙ্গলি মিথস, টি রিচার্ড, ব্লুরটন, দ্য ব্রিটিশ মিউজিয়াম প্রেস, ২০০৬।
৪. প্রতিমা শিল্পে হিন্দু দেব-দেবী, কল্যাণকুমার দাশগুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ২০১৬।
৫. কলকাতার ছবি ছবির কলকাতা, পরিকথা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা, ২০১৫।
৬. ট্র্যাডিশনাল আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টস অব ওয়েস্ট বেঙ্গল, বিনয় ঘোষ, ১৯৮২।
পরে খুব ভালো লাগলো অনেক অ জানাকে জানতে পারলাম কিন্তু আমার কোথাও যেন মনে হলো কিছু ভুল তথ্য ব্যবহার হয়েছে
খুব ভালো।
অনেক তথ্য সমৃদ্ধ, গবেষণাধর্মী লেখা।খুবই সমৃদ্ধ হলাম।