সাংবাদিক নিগ্রহের ক্ষেত্রে ভারত, চিন, আমেরিকা সব দেশের সরকারই এক। কোথাও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট, স্তব্ধ হচ্ছে টুইটার, তথ্য সম্প্রচার আটকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে পেগাসাস এর মত সফটওয়্যার আবার কোথাও বা কর্তব্যরত সাংবাদিককে গুলি করে খুন করছে মাফিয়া বা শাসকদল। অতিমারির ভয়াবহতাও এই ছবিটাকে খুব একটা বদলাতে পারেনি। ২০২১ এ পেশাদার কর্তব্য পালন করতে গিয়ে সারা বিশ্বে খুন হয়েছেন ৪৫ জন সাংবাদিক। এছাড়াও নানা ঘটনায় মারা গেছেন আরও ১৮ জন সাংবাদিক, তবে তা পেশাগত কারণে কিনা তা স্পষ্ট নয়। এই সময়কালে কারারুদ্ধ হয়েছেন ২৯৩ জন। সদ্য প্রকাশিত সিপিজি বা কমিটি টু প্রটেক্ট দ্য জার্নালিস্টের বার্ষিক রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে এই রিপোর্ট।

দেখা যাচ্ছে মূলত সরকার, শাসকদল বা মাফিয়াদের চক্ষুশূল হওয়ার কারণেই মরতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। বেশ কয়েকবছর ধরেই এটাই স্বাভাবিক প্রবণতা। বিহারের বিএনএন নিউজের অবিনাশ ঝা খুন হয়েছেন তার এলাকার মেডিক্যাল মাফিয়াদের স্বরূপ উন্মোচন করার কারণে। অন্যদিকে সুদর্শন টিভির মনীশ কুমার সিং এবং পুলিৎজারজয়ী চিত্রসাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি খুন হয়েছেন আফগানিস্তানের তালিবান জঙ্গিদের হাতে। ক্ষমতার দখল নেওয়ার পর সেখানে জঙ্গিদের সন্ত্রাসের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তারা। ভারতে এ বছর খুন হয়েছেন ৫ জন সাংবাদিক।

সাংবাদিক দমনের ক্ষেত্রে পরপর তিন বছর শীর্ষস্থানে রয়েছে চিন। উহান ভাইরাসের খবর করা মহিলা সাংবাদিককে কারাবন্দী করেছে তারা। সাংবাদিকদের কারাবন্দী করার ক্ষেত্রে এবছরও তারা এক নম্বরে। ফেলে আসা বছরটিতে তারা জেলে পুরেছে ৫০ জন সাংবাদিককে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মায়ানমার। ২৬ জন সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করেছে তারা। এদের পিছনেই রয়েছে যথাক্রমে ইজিপ্ট, ভিয়েতনাম এবং বেলারুশ। কোভিড নিরূপণে নিজেদের অকৃতকার্যতা ঢাকতে বহু দেশেই সাংবাদিকদের ওপর কোপ পড়েছে শাসকদলের।

আক্রমণ নেমেছে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর। দিল্লির সীমান্তে কৃষকদের বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে দমনপীড়ন সহ সোশ্যাল মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছে ভারতে। পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যবহার করার অভিযোগ অনেকটাই বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে ভারতের শাসকদলকে। বিশ্বের বহু মানবাধিকার সংস্থা টুইটার সহ তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল মিডিয়ার গাইডলাইন নিয়ে মোদি সরকারের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সিপিজির মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক নিগ্রহ এখন প্রায় রুটিন ঘটনা।