৬০/৭০ দশকের নকশাল রাজনীতি সারা পশ্চিমবঙ্গের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভিতরে কি উন্মাদনা! সবার চোখেই তখন বিপ্লবের স্বপ্ন। আমি গ্রামের দরিদ্র পরিবারে ছেলে এই স্বপ্ন আমার মনেও সারা ফেলবে না হতে পারে?
মিশনের দেওয়ালে যখন লিখছি “চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান।”….তখন চিনও বুঝিনা চেয়ারম্যানও বুঝিনা। একটা কথাই বুঝতাম যে আমার মা-বাবার দুঃখ-কষ্ট থাকবেনা। জোতদার থেকে চাষী, বড়লোক থেকে গরীব সব সমান হয়ে যাবে। এই স্বপ্নে কত ছেলে মেয়ে জীবন দিয়ে দিয়েছিলো। আমার তো কিছুই না। মাত্র তিন মাসের একটু কম রামপুরহাট সাবজেলে পুলিশ কাকুরা ভর্তি করে দেয়। বয়স কম তাই সাবজেল।
বীরভূম, রামপুরহাট থেকে দুমকা যাবার পথে তুম্বুনি ফরেস্ট লালপাহাড়ি গ্রামে রামকৃষ্ণ শিক্ষাপিঠে স্কুল জীবন কাটানোর সময় ক্লাস সিক্স থেকে নকশাল রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। চারু মজুমদার, কানু সান্যাল, জঙ্গল সাঁওতাল, মহাদেব হাঁসদা, অসীম চ্যাটার্জী, আজিজুল হক এরকম বহু নেতাদের নাম শুনতাম।
একটু দূরে বাংলা বিহারের বর্ডার নাম সুরিচুয়া। মিশন আর সুরিচুয়ার বাঁদিকে যুদ্ধের পরিত্যক্ত এয়ারবেস। রামকৃষ্ণ শিক্ষাপীঠ মা সারদার ডাইরেক্ট শিষ্য মুকুন্দ দাসের হাতে তৈরি। আমাদের সবার দাদু। দুমকা যাবার বাস থেকে নামলেই বাঁদিকে একটা ঘরে দাদুর ছবি দেখা যেত।
মিশন যে বাইরের নকশাল দাদাদের এক গোপন আস্তানা হয়ে যাচ্ছিল। এটা আমাদের মহারাজ শিক্ষকরাও বুঝতে পারতো। কিন্তু সেই সময় কে বলবে বাইরের ছেলেদের মিশনে থাকা ঠিক হচ্ছে না! বললেই তো শ্রেণীশত্রু বলে গর্দান যাবে।
হস্টেলের দাদাদের দেওয়া রেডবুক, আর দেশব্রতি পেপার পড়তাম। অনেক কিছুই মাথায় ঢুকতো না। রাতে বিপ্লবের ক্লাসে প্রায়দিন ঘুমিয়ে পড়তাম। কিন্তু বিপ্লবের গানগুলো করতে ভালো লাগতো। সত্যি বলতে গানের কথাগুলো এখনও ভালো লাগে…..
“দাবানল জলুক, দাবানল…!
“বন্ধু কান্না মোছো! যুদ্ধের সাথী তুমি…!
“চারটি নদীর গল্পো শোনো…!
“শত শহিদের রক্তে রাঙা পতাকা…!
…এরকম কত গান।
মিশনে মহারাজের সাথে সবাই কোরাসে রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের গান করে করে আমারও গলাটা দু-বেলা চর্চা হয়ে যেত। আমার অজান্তেই গলায় একটা সুর এসে গিয়েছিল। দাদারা বেশি ভালোবেসে বলতো আমার গলা নাকি অনেকটা হেমন্তের মতো। বড়ো হয়ে বুঝেছিলাম এটা ঠিকই বলেছিল।
এসব কথা আমার অনেক লেখার ভিতরে উল্লেখ করেছি। হাওড়া বামুনগাছি রেল কোয়ার্টারে থাকতেই ক্লাস নাইন, টেন, ইলেভেন পাস করি। ক্লাস এইটে পড়া হয়নি তার কারণ ওই রামপুরহাটে সাব জেল। বাবা হাওড়া নরসিংহ দত্ত কলেজে ভর্তি করে দেয়। কিন্তু কলকাতার কলেজে পড়বো বলে মায়ের থেকে টাকা নিয়ে সালকিয়া বাধাঘাট থেকে লঞ্চ পেরিয়ে আহিরীটোলা ঘাট থেকে হেঁটে নিমতলা বিডন স্ট্রিট হয়ে সোজা স্কটিশ চার্চ কলেজে যাই। গেছিলাম পাস কোর্সে ভর্তি হতে। কিন্তু লজিক ও সাইকোলজির নম্বর বেশি থাকায় এক দিদি আমায় বলে, “ফিলোসফি অনার্সে ভর্তি হয়ে যাও।” পাস কোর্সে ভর্তিটা তখন কংগ্রেস নিজের ইচ্ছে মতন নিয়ন্ত্রণ করত।
যাই হোক কলেজে ভর্তি হওয়ার পর কিছু বন্ধু হয়, তারাও আমার চেয়েও বেশি অতি বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। নকশাল পার্টি যদিও তখন ভেঙ্গে ভেঙ্গে টুকরো হয়ে গেছে। তবুও মনের মধ্যে বিপ্লবের ঢেউ উঠতো। আমাদেরই আন্দোলনে অনেক রক্ত ঝরিয়ে কংগ্রেসকে হটিয়ে স্কটিশ চার্চে স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করি। সেও এক ইতিহাস।
বহুবার বলেছি এবারও বলছি রঞ্জন সেন (বাচ্চু) কলেজ থেকে আমায় আগলে রাখতো। কলেজের বন্ধু সুপ্রিয় হালদার তার বাড়িতে আশ্রয় দেয়। ঠনঠনিয়া কালি বাড়ির পেছনে আশীষ দাসের বাড়িও আমার কলকাতার আর এক আশ্রয়।
সেই সময় আজকাল পত্রিকায় সামান্য অর্থের জন্য বন্ধুবান্ধবদের লেখার সঙ্গে ছবি তোলা এইভাবেই দিন চলে যাচ্ছিলো।
এসব কথা আপনাদের আগেও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি। ১৯৮৭ সালে আনন্দবাজার পত্রিকার অনুরোধে কাজ শুরু করি। চাকরি নয় ছবি ছাপা হলে টাকা। ক্যামেরা ফিল্ম সব নিজের। মাসে ৮০০ টাকা আমার হাতে ভাউচারে পেতাম। ৪০০ টাকাই আমার কাছে তখন অনেক এখানে তো ডাবল। যদিও ফোটোগ্রাফার হবার ইচ্ছে ছিল না। সাদা বাড়ির কালো গ্রিলে (আনন্দবাজার পত্রিকা) আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা কাজ করতো। তাছাড়া একটা প্রফেশনাল জায়গা। রাজি হয়ে ঢুকে পরলাম।
আনন্দবাজারে কাজ করাটাও একটা ইতিহাস বটে!! একদিকে আমার মতো কিছু স্ট্রিংগার ফোটোগ্রাফার কোনোরকম একটা বডি আর লেন্স। আর একদিকে ক্যামেরার সব ধরনের লেন্স-সহ একাধিক নিক্কন ক্যামেরা। এক ছাদের নিচে বাংলা কেন দেশের সেরা সব চিত্র সাংবাদিকরা। কাজ করবো কি রীতিমত ধমকে চমকে আমাদের রাখা হতো। আমার তো দাদাদের ক্যামেরা লেন্স দেখে জিভে লাল পরতো। এদিকে কাজ লটারির মতো আসতো। তবু আমি চেষ্টা করতাম কিছু ছবি দেবার। কিন্তু বেরোলেই পয়সা। সে এক আনন্দ বাজারি গল্প…! একদিন হাত খুলে লিখবো…
যার জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সমাজবদলের সেই ছোটবেলায় বিপ্লবের স্বপ্ন পুঁতে দেওয়া লাল পাহাড়ি গ্রাম মুকুন্দপুর, চারিদিকে টিলা পাহাড়ে ঘেরা সবুজ থাকলেও রুক্ষ লাল মাটি। যেখানে প্রথম বৃষ্টির একটা সোঁদা গন্ধ আজও চোখ বুজলে আমি পাই… সেই উত্তাল সময়ের নকশাল তাত্ত্বিক শ্রদ্ধেয় কমরেড আজিজুল হকের ছবি তোলার গল্প নিয়েই ছবিওয়ালার আজকের গল্প।
১৯৭৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে নাম তোলা এক ভয়াবহ বন্যায় কলকাতার সব কলেজ, মেডিক্যাল কলেজের স্টুডেন্টরা মিলে F.R.C. (ফ্লাড রিলিফ কমিটি) তৈরি করলেন। মূলত নকশাল স্টুডেন্টদের তৈরি করা এই কমিটি। কাজ — মানুষের সেবা, রিমোট জায়গায় যেখানে রিলিফ পৌঁছয়নি আমরা সেই সব জায়গায় রিলিফ দিতে যাবো।
কিন্তু টাকা কোথা থেকে আসবে? আমরা গান গেয়ে, নাটক করে, পাড়ায় পাড়ায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ জামাকাপড় তোলা ছাড়াও অনেক সহৃদয় ব্যক্তি চাল, চিড়ে, গুড়, ওষুধ দিয়ে আমাদের সাহায্য করেন। ওই সময়ই আমার বহু জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিলো। এমনিতেই কলেজ জীবন থেকেই আমার কলকাতার সব মেডিক্যাল কলেজে যাতায়াত বন্ধুত্ব ছিল। কারণ ওই নকশাল রাজনীতি যার একটা সুতো স্কুল জীবন থেকে এখনও আমার মনের ভিতরে রয়ে গেছে। সত্যি বলতে স্বপ্নটা বেঁচেই আছে। আমি তাকে যত্ন করি বলেই মানুষের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করি।
এনআরএস ও মেডিক্যাল কলেজেই আমি আড্ডা বেশি মারতাম কারণ হস্টেলে খানাপিনা সব ধরনের শুকনো, তরল নেশা চলতো। তার সাথেই বাউল গান, বিপ্লবী গান করতাম আমরা। এই এনআরএসে তখন ডাক্তারী পড়ুয়া কেদার রঞ্জন ব্যানার্জি বর্তমানে বাংলার সেরা মনস্তত্ত্ববিদ, আর এক পড়ুয়া ডাক্তার মিলন মজুমদার বি আর সিং রেল হসপিটালের সুপার — এরা তখন থেকেই আমার খুব বন্ধু।
সাদা বাড়ি কালো গ্রিলে তখন আমি… একদিন কাগজে খবর দেখি যে আজিজুল হক দাদা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে নানান অসুখে ভর্তি হয়েছেন। আজিজুলদার নাম শুনলেও আমার সঙ্গে কোনোদিন ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কারণ আমার কলেজ জীবনেই উনি দীর্ঘদিন জেলে বন্দী ছিলেন। আর আমি স্কটিশ চার্চ কলেজে তখন পড়াশোনা শিকেয় তুলে হোস্টেলে বাউন্ডুলে বোহেমিয়ান এক জীবন কাটাচ্ছি। সত্যি বলছি আমার পড়াশোনা করতে ভালো লাগতো না। অনেক সুযোগ পেয়েছি। মা-বাবা ছাড়াও বহু ভালো শিক্ষিত বন্ধুরাও পারেনি আমায় লেখাপড়ায় মন দেওয়াতে!
আজিজুল হক এনআরএস মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিভাগে রাখা হয়েছিল এ খবর পড়ার পর থেকেই আমি আজিজুলদার ছবি তুলবো ঠিক করি। কিন্তু শুনি উনি ওপরের যে কেবিনে আছেন বাইরে রাতদিন পুলিশ পাহারা দিচ্ছেন। ডাক্তার ঢুকলেও পুলিশ না চিনলে আইডেন্টি কার্ড দেখে নিচ্ছেন। এই খবর আমি ডাক্তারদের কাছেই পাই। কিন্তু এই ছবি তো আমায় তুলতেই হবে!! একপ্রকার নিজেকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসলাম।
চিত্র সাংবাদিকতায় চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে এটা আমি শুরু থেকেই বুঝেছিলাম। থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া, ক্যামেরা ভাঙ্গা, মারধোর, খুব জোর মাথা ফেটে যাওয়া বা হাত পা ভাঙ্গা ছাড়া আপনার আর কিচ্ছু হবে না। কিন্তু গুলি করে কেউ আপনাকে মেরে ফেলবে না। যে কাজটা আপনি করেন তাতে অনেক রিস্ক থাকলেও মরবেন না because you are not a terrorist। তবে আমার যুদ্ধক্ষেত্রে মরার ইচ্ছে আছে! কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি এই বুড়ো বয়সে এসেও একটা যুদ্ধ পেলাম না। জানি যুদ্ধ মানুষের জন্য খারাপ কিন্তু প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ছবি তোলার খুব স্বপ্ন ছিলো। আমার এক বন্ধু এজেন্সির ফটোগ্রাফার বার বার আফগানিস্তান যুদ্ধে যেতে বলেছিল বলে চাকরি ছেড়ে দেয়। এ সুযোগ আমার হয়নি কখনো!
যাইহোক মূল গল্পে ফিরি…
একদিন দুপুরে একটা প্ল্যান করে এনআরএসে ডাক্তারদের হস্টেলে গিয়ে বলি, “আজিজুল দার ছবি তোলার ব্যবস্থা করে দাও।”
ওরা জানায়, “এটা করা যাবে না। কারণ পুলিশ পাহারা ছাড়াও ওনাকে নির্দিষ্ট কিছু ডাক্তার দেখতে যাচ্ছেন।”
আমি বললাম, “আমিও ডাক্তার সেজে ঢুকবো।”
ওরা জানালো, “সিনিয়ররা যাচ্ছে। আমরা তো যাচ্ছি না। তুই যাবি কিভাবে?”
সেদিনের মতো চলে এলেও মাথায় শুধু ঘুরঘুর করতে থাকলো আজিজুলদার একটা ছবি তুলতেই হবে। পরের দিন আবার ওদের হস্টেলে গিয়ে বললাম, “আমাকে একটা স্টেথো ও অ্যাপ্রন দে। তারপর আমি দেখে নিচ্ছি।”
এটা শোনার পর ওরা অবাক হয়ে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলল, “অশোক ধরা পড়লে আমাদের কথা বলিস না।”
আমি বললাম, “কিছুই বলবো না। আমার কাছে গভর্নমেন্ট কার্ড আছে। মারার ক্ষমতা ওদের নেই। খুব জোর থানায় নিয়ে যাবে। বড়োজোর তিন চারদিনের জেল। তারপরই জামিন। চেষ্টা তো করতে দে?”
সেদিন দুপুরেই হস্টেলের ডাক্তারদের একটা ঢোলা দেখে অ্যাপ্রন পরে পকেটে ছোট ক্যামেরা (২৮ ওয়াইড) নিয়ে গলায় স্টেথো ঝুলিয়ে আমি হনহন করে করিডোর দিয়ে সোজা দরজার কাছে পৌঁছে গম্ভীর গলায় বলি, “একটু সরুন।”
রাইফেলধারী একজন দাঁড়িয়ে, বাকি তিনজন বসে। আমাকে দেখে তারাও উঠে দাঁড়ালো…
বললো, “আপনি…?”
আমি বললাম, “ওনার শরীর খারাপ করছে?
আমি মেডিসিনের জুনিয়র ডাক্তার।”
“কার্ড।”… বললো ওরা।
বিরক্তির সুরে গম্ভীর হয়ে বললাম, “বারবার আপনাদের কার্ড দেখাতে হবে কেন? সিনিয়র ডাক্তার ওয়ার্ডে গেছেন, উনিও আসছেন? সরুন তো…” বলে পাস কাটিয়ে ঢুকে পরলাম।
কেবিনে ঢুকেই সোজা দরজার ছিটকিনি তুলে দিই।
আমাকে দেখেই আজিজুলদা বলে ওঠেন, “আপনি?”
আমি বললাম, “আজিজুল দা, আমি আনন্দবাজার পত্রিকার ফটোগ্রাফার। ডাক্তার সেজে ঢুকেছি। আপনার একটা ছবি তুলেই চলে যাবো।”
আধশোয়া অবস্থায় একটা বই পড়ছিলেন উনি,
এক গাল হেসে বললেন, “ওরে বাবা! তুমি তো দেখছি ডাকাত!”
ততক্ষনে আমার ছবিও তোলা হয়ে গেছে। হাত চেপে শুধু বললাম, “দাদা পুলিশ কিছু জানতে চাইলে বলবেন আমি ডাক্তার। আপনি ভালো থাকবেন। সময় মতো দেখা হবে?”
ছিটকিনি খুলেই সোজা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে প্রথমেই অ্যাপ্রন খুলে স্টেথো গুটিয়ে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে পোস্তা ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কাছে চলে আসি। তারপর ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে সোজা আনন্দবাজার।
পরেরদিন ভেতরের পাতায় ছবিটা ছাপা হয়েছিল।
প্রথম কদিন এই ঘটনা কাউকেই বলিনি। আসলে গুরু মারা বিদ্যে কাউকেই বলতে নেই। বলেছিলাম অন্য ডাক্তার বন্ধুদের। ওরা তো হেসেই খুন। কেউতো বলল, ‘তুই ক্যামেরা ছেড়ে ডাক্তার হয়ে যা।’ সেই ঘটনার পরে আজিজুলদার সঙ্গে দেখা হতেই হেসে ফেলতেন। আমি মুখে আঙ্গুল দিয়ে চুপ করতে বলতাম।
আজ ছবিওয়ালার এই গল্পটা আমার কাছে জীবনের অন্যরকম একটা অনুভূতির কয়েকটি পাতার মত। ছোটোবেলার দিন বদলের স্বপ্ন দেখা আমি অশোক মজুমদার বড়োবেলায় ছবিওয়ালা হয়ে নকশাল আন্দোলনের হিরোর ছবি তোলার সেই চ্যালেঞ্জটা মোটেও সহজ ছিলো না। যদিও আমার চিত্র সাংবাদিকতায় এই ধরনের ছবি তোলার চ্যালেঞ্জ এখনও ভীষন ভালো লাগে।
লেখনি সাংবাদিক আমরা যাদের রিপোর্টার বলি। খবরের কাগজে যারা খুবই ক্ষমতাবান। তাদের চেয়েও ফ্রন্টলাইনে কাজ করা ফটোগ্রাফারদের ছবির গল্প অনেক রোমাঞ্চকর। সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো আন্দোলনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নার সময় আমি একমাত্র এক্সক্লুসিভ সাদা বাড়ির কালো গ্রিলের সাংবাদিক যে কারখানার ভেতরে ন্যানোর ছবি দিয়েছিলাম। কি ভাবে এত পুলিশ, টাটার নিজস্ব সিকিউরিটি থাকতেও আনন্দবাজারে এক্সক্লুসিভ ছবি পাবলিশড হয় সেই গল্প আর একদিন…
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ছবি : অশোক মজুমদার
ভালো লিখেছিস ।এবার একটা বই কর।