প্রকৃতির উপাদানকেই কাজে লাগিয়ে কৃষিক্ষেত্রে ছত্রাক আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব, তা গবেষণায় প্রমাণ করে দেখালেন কৃষি বিজ্ঞানী তন্ময় ঘোষ। কৃষিক্ষেত্রে সবুজ ফসল ফলাতে আর কেবল অধিক খরচ করে রাসায়নিক কীটনাশক ওষুধ বাজার থেকে কিনে প্রয়োগ করার দিন এবার শেষ হবে। দীর্ঘ গবেষণা করে জানালেন কৃষিবিজ্ঞানী ও মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক তন্ময় ঘোষ। তিনি সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রমাণ করে দেখালেন, সরাসরি প্রকৃতির উপাদানকে কাজে লাগিয়ে কৃষিক্ষেত্রে ছত্রাক আক্রমণের হাত থেকে সহজে রেহাই পেতে পারেন চাষিরা। কী সেই পথ? তন্ময়বাবুর গবেষণায় উঠে এল সমগ্র প্রাণীজগৎ হল প্রকৃতির সন্তান। তাই সকল সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে এই প্রকৃতির মধ্যেই। আর সেরকমই কিছু সরাসরি প্রকৃতির উপাদানকে কাজে লাগিয়ে কৃষিক্ষেত্রে ছত্রাক আক্রমণ প্রতিহত করার পথ। বতর্মানে চাষিরা যখন রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করতে গিয়ে একদিকে বহুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, অপরদিকে বিষাক্ত হচ্ছে উৎপাদন ফসল।
চাষিদের আশারবাণী শোনালেন গবেষক তন্ময় ঘোষ। তিনি চাষিদের বার্তা দিলেন রাসায়নিক কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াও নীরোগ ফসল উৎপাদন সম্ভব।

কৃষিবিজ্ঞানী তন্ময় ঘোষ
প্রসঙ্গত গবেষণায় প্রমাণ করে দেখালেন কৃষি কাজের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সেই আদিম যুগ থেকে। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষিকাজ ক্রমশ হয়ে উঠছে এক বৃহৎ থেকে বৃহত্তর জীবিকা বিবর্তন তত্ত্ব অনুসারে উদ্ভিদ ও মানুষ সৃষ্টির অনেক আগেই জন্ম নিয়েছে অণুজীব। অণুজীব অর্থাৎ তা হল ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, শৈবাল ও পরজীবীরা। বর্তমানে কৃষিকাজে চাষিদের কাছে প্রধান অন্তরায় হল অণুজীব সংক্রমণ। যার জন্য কৃষকরা ব্যতিব্যস্ত ফসলের সুরক্ষার জন্য। এর জন্য চাষিদের কী করতে হব? তা হল অতি সহজ পথ। প্রকৃতির দান নিম, সজনে, ধুতুরা, বনতুলসি ইত্যিদি। এই সমস্ত গাছের পাতার রসে ধান, সরষে বীজ কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর তুলে ভালো শুকনো করে সংরক্ষণ করতে হবে। সংরক্ষণ অবস্থায় ছত্রাক আক্রমণ হয় না। এরপর সেই সংরক্ষণ বীজগুলো থেকে চারাগাছ তৈরি হলে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি হয়। সেই সঙ্গে গাছের স্বাস্থ্য ও ফলনও ভালো হয়। শুধু তাই নয় প্রকৃতির উপাদান ব্যবহারের ফলে যেমন একদিকে চাষের খরচ অনেক কম হয়। তেমনিভাবে অপরদিকে সমগ্র পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠে। তিনি আরও বলেন, একবার ছত্রাকের আক্রমণ হলে বিস্তৃত এলাকার জমির ফসল অল্প সময়ের মধ্যে তা নষ্ট হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ভেষজ উপাদানের ব্যবহার ছত্রাকের কোষচক্রের জি-২ দশাতেই ছত্রাকটিকে আক্রমণ করে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যদি বীজগুলো উপরোক্ত চারটি গাছের যে কোনো একটি পাতার রস দিয়ে সংরক্ষণ করা যায় তাহলে সংরক্ষিত শস্য সুরক্ষিত থাকে। চাষের প্রথম থেকেই কোনো ছত্রাক আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না। ফলে ফসলও ভালো হয়।

উল্লেখ্য, ‘হুগলি রত্ন’ প্রাপ্ত দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজের অধ্যাপক ও গবেষক তন্ময় ঘোষের মতে বতর্মানে কীটনাশক ওষুধ ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধিও পাচ্ছে। লোকসানে পড়ছেন চাষিরা। শুধু তাই নয় কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করার সময় বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।এমনকী বৃষ্টির জলে ধুয়ে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ছে। যা পরবর্তীকালে পরিবেশে দূষণ ছড়াচ্ছে। য ভয়ংকর। এটাও দেখা যাচ্ছে যে রাসায়নিক প্রভাবে পরবর্তী চাষে ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতির হাত থেকে মুক্তি পেতে ভেষজ উপাদানই বাঁচার পথ দেখাবে চাষিদের।