ভোট এসেছিল চলে গেছে, করোনা— যেতে আমি পারি তবুও কেন যাবো? বলে রাজনীতি আর পুঁজির আদরে লালিত পালিত হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদক কৃষক সমাজ খাদ্য গ্রহনকারীদের জন্য নিরন্তর রক্তকে ঘামে রুপান্তরের অবিরল ধারায় ফসলে সেচ দিয়ে চলেছে। আমরা তো কথা দিয়েছিলাম— ‘ও চাষী ভাই আমরা তোমার সাথে আছি’! সমাজের নেতৃত্বের ভার কোনও সরকারকে দিলে চলবে না কারন ওদের সল্পায়ু ও সীমাবদ্ধতা আছে। ব্যেক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র (সরকার নয়) এক ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট আর এর সংরক্ষণ ও সংবর্ধন কৃষি ও খাদ্যকে ইন্টিগ্রেটেড করেই সম্ভব যার নেতৃত্ব বিকেন্দ্রীক সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমেই হতে হবে।
করোনা রাজনৈতিক ও অর্থনীতির কোলে পরম যত্নে লালিত পালিত হচ্ছে আর এতে সাধারন মানুষের মৃত্যুভয় প্রাপ্তির বাইরে আর কিছুই নাই। আর্তনাদ কখনই আত্মরক্ষার সাধন হতে পারে না। নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই জয় করতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের কোনও বিকল্প নেই আর স্বাবলম্বনের মঞ্চে কোন রাজনৈতিক বাদই পারফর্ম করতে পারে নি। এ আমাদের সকলের অনুভবের জগতে প্রমানিত। নিজেকে নিজের পটরিতে ফেরত আনুন তাতে আমাদের সকলের মঙ্গল। কেবল মাত্র জ্ঞানের আলোচনা নয় সাথে জ্ঞানের অনুশীলনটাও ভীষন জরুরী কারন জ্ঞানের অনুশীলনেই একমাত্র সম্পদের বৃদ্ধি হয় নচেৎ সমস্ত জ্ঞান বর্জ্য পদার্থমাত্র যার কাজ কেবল দূষণ পরিবেশন করা।
শরীরকে আধার করেই সৃষ্টির সমস্ত কার্যকলাপ সংগঠিত হয় তাই মেধা ও বুদ্ধির বিকাশ এবং মনের আনন্দ ও স্থিরতার জন্য সুস্থ, সবল, নিরোগ, শরীর প্রয়োজন। সুস্থ্, সবল, নিরোগ শরীরের প্রাথমিক শর্ত বিষমুক্ত সাত্বিক ভোজন। শ্রীমদ্ভগবদ গীতা— ১৭শ অধ্যায় ৮ম শ্লোকে সাত্বিক ভোজনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ‘আয়ুঃসত্ত্ববলারোগ্যসুখপ্রীতিবিবর্ধনাঃ। রস্যাঃ স্নিগ্ধাঃ স্থিরা হৃদ্যা আহারাঃ সাত্ত্বিকপ্রিয়াঃ’— যে সকল আহার আয়ু, উদ্যম, বল, আরোগ্য, সুখ ও প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং সরস, স্নিগ্ধ ও পুষ্টিকর এবং মনোরম সেই গুলি সাত্বিক ব্যেক্তিগনের প্রিয় হয়।
করোনা কালখন্ডে সবাইকে বলা হচ্ছে ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘জিঙ্ক’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে। মুগডালে তা আছে অবশ্য বিষযুক্ত উপাদানে চাষ করা, উচ্চতাপমাত্রায় ভ্যালুঅ্যাডিশন করা এবং পালিশ করা, রাসয়নিক ব্যবহার করে সংরক্ষন পদ্ধতিতে ডালের মধ্যের ঔষধি গুনাবলি আর কতটা থাকে সেটা একটা সুশীল খাদ্যগ্রহনকারী সমাজের না জানতে চাওয়া একটি প্রশ্ন! আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মূলত পুঁজি নির্ভর, ফলে এখানে প্রশ্ন অপ্রয়োজন আর্থিক সামর্থ্যটা একমাত্র মানদন্ড। আমরা গাঁইয়া একটু অসভ্য চন্ডাল গোছের (ওদের কাছে) তাই আমরা স্বাস্থ্য, কৃষি জমিতে চাষ করি, জাঁতায় ঘুড়িয়ে স্বাস্থ্যকে শক্তপোক্ত করে সংরক্ষন করি। পূর্বের আর পশ্চিমের স্বাস্থ্যের অবধারনা করোনা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝিয়ে দিতে চাইছে এখন ভাববার বিষয় আমরা বুঝতে চাইছি কিনা বা আধুনিক বাজার ব্যবস্থা এবং তার পৃষ্ঠপোষক সরকার তা বুঝতে দিতে চাইছে কিনা? আমরা মাঠে ঘাটের, মোটা মাথার ঘেটো বুদ্ধির লোক ফলে আজও ধরতে পারলাম না সরকার কার প্রতিনিধিত্ব করে? গ্রামীন জনজীবনের করে না এটা পরিস্কার, কেননা ৫ কেজি চাল/গম আর ১ কেজি আনাজের বাইরেও যে আমাদের কিছু প্রয়োজন ও চাহিদা আছে সেটা তো ওনারা মানেন বলে কোন প্রামানিকতা আজও পাই নি।

আমাদের গ্রাম ভারতের বাহুতে বল আছে, মনে পরিবারের প্রতি ব্যাকুলতা আছে, বুদ্ধিতে সমাজের প্রতি কর্তব্যবোধ আছে তাই সরকারের প্রতি নির্ভরতা অলস করে তুলতে পারছে না, লড়াইটা অসম হলেও বর্তমান বাজার ব্যবস্থার ঔদ্ধত্যের কাছে মাথা নীচু করি নি।
প্রিয় খাদ্যগ্রহনকারী সমাজ আমরা আমাদের বিষমুক্ত হ্যান্ডমেড হোমমেড মুগডালের মাধ্যমে যে টুকু স্বাস্থ্য সরবরাহ করতে পারি তা হলো— আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে, শ্বাসকষ্ট, অল্পোতেই ঠান্ডা লাগার প্রবনতা, বুক ধরফরানিতে উপসম পাবেন। অযথা মোটা হবার প্রবনতা নিয়ন্ত্রন করবে, উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রন করবে, আর্থারাইটিসে উপকার পাবেন, ব্রেষ্ট এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধক, সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রন, কোলেষ্টেরোল কমাতে সহায়ক, মাইগ্রেন ও মাথাধরা কে নিয়ন্ত্রন করবে, টাইপ ২ ডাইবেটিক এ উপকার দেয়, শ্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত ও শক্তিশালী করে, ক্যান্সার সেল বৃদ্ধিতে প্রতিরোধক, কোষ্ঠকাঠিন্যতে উপকার পাবেন, গলষ্টোন তৈরিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়ক।
এই কাজগুলি করার জন্য প্রকৃতি থেকে (বিষমুক্ত চাষের কারনে) মুগ যা সংগ্রহ করে নিজের ছোট্ট দানায় সংরক্ষন করে তা হলো— জিংক + সোডিয়াম + পটাশিয়াম + ফসফরাস + ম্যাঙ্গানিজ + ম্যাগনেসিয়াম + লোহা + ক্যালসিয়াম + ভিটামিন (K+E+C+B9+B6+B5+B3+B2+B1) এছাড়াও প্রোটিন + ফাইবার + সুগার + কার্বোহাইড্রেড + এনার্জি। এখন সিদ্ধান্ত আপনার পূবে যাবেন না পশ্চিমে? আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ধার্য করা অর্থ গ্রামে পাঠাবেন না অন্য কোথাও, কৃষককে দেবেন নাকি অন্য কাউকে। কৃষক আর সৈন্য দুজনেই তারা তাদের রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালন করতে পারে একমাত্র নিঃস্বার্থ ভাবে। সুধী নাগরিকবৃন্দ কি ভাবে রিয়্যাক্ট করবেন সেটা তাদের সম্পূর্ন নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে সৈন্য কখনই দেশের জন্য প্রান বলি দেবার পরম্পরা থেকে বিচ্যূত হন না তেমনি কৃষকরা শতকষ্টেও বছরের পর বছর সকলের অন্ন যোগানের কর্তব্যের তাগিদেই সমাজের জন্য বেঁচে থাকার পরম্পরা থেকে বিরত হতে পারছে না!
krishi ,krisok amader sompod