কিছুদিন আগে আমার বন্ধু সন্দীপন সারেঙ্গি ফেসবুকে একটা পোস্ট করেছিল। পোস্টের বিষয়বস্তু ছিল, ‘কোভিড ১৯ জনিত অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামলাতে ভারতের ধর্মীয় স্থানগুলির এগিয়ে আসা উচিৎ, তাঁদের কাছে সঞ্চিত অর্থ দেশের স্বার্থে ভারতীয় জনগণকে দান করে দেওয়া উচিৎ’। নিঃসন্দেহে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আবেদন। আমি সন্দীপনের সঙ্গে একমত। কিন্তু যেহেতু সন্দীপন আলিপুর কোর্টের একজন ক্রিমিনাল অ্যাডভোকেট, আমি ওর থেকে এই দুই লাইনের কিছু বেশী আশা করেছিলাম…কারণ আমি ভেবেছিলাম, ভারতের ধর্মস্থানগুলিতে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ঠিক কতোটা, সন্দীপন সেই বিষয়েও আলোকপাত করবে। যাই হোক, সন্দীপন হুইসল ব্লোয়ারের কাজ করেছে এবং আমি চেষ্টা করছি সেই হুইসলের শব্দটাকে শব্দব্রহ্মে পরিণত করবার।
ভারতে মন্দির, মসজিদ, গির্জার সংখ্যা নেহাত কম নয়। মসজিদ এবং গির্জাগুলিকে আমি আপাতত আলোচনার বাইরে রাখছি। ভারতের মন্দিরগুলির মধ্যে তিরুপতি, সিদ্ধি বিনায়ক, কাশী বিশ্বনাথ, সিরডি সাই এবং পুরী জগন্নাথের মতো প্রধান প্রধান মন্দিরগুলিকেও আমি আপাতত আলোচনার বাইরে রাখছি। ফোকাস করছি দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দিরের উপর যার নাম শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দির।
কেরালা’র রাজধানী থিরুবানন্তপূরম…সেইখানে অবস্থিত শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দির। মন্দিরের আরাধ্য দেবতা শ্রীবিষ্ণু, সমুদ্রের উপর যিনি অনন্তশয্যায় শায়িত। শ্রীবিষ্ণু’র ডান হাত শিবলিঙ্গের উপরে, মাথার উপরে অনন্তনাগ, পাশে শ্রী, নাভিপদ্ম থেকে উৎপন্ন পদ্মের উপরে বিরাজ করছেন প্রজাপতি ব্রহ্মা। সমগ্র ভারতে সুপরিচিত এই শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দির। শ্রীপদ্মনাভস্বামী অত্যন্ত জাগ্রত, ভক্তিভরে স্মরণ করলে তিনি ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। ত্রিবাঙ্কুরের রাজপরিবার দ্বারা পরিচালিত ট্রাস্টি এই মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
থিরুবানন্তপূরমের একজন অ্যাডভোকেট টি পি সুন্দররাজন ২০১১ সালে সুপ্রীম কোর্টে একটি মামলা করেন যাতে তিনি দাবী করেন যে শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরে রক্ষিত ধনসম্পদ ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তাঁর এই দাবীকে মান্যতা দিয়ে মাননীয় সুপ্রীম কোর্ট আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এবং দমকল বাহিনীকে সঙ্গী করে সাতজনের একটি দল গঠন করে। এই দলের কাজ ছিল শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরে সঞ্চিত সম্পদের একটি হিসাব বা অডিট করা। ২০১১ সালের জুলাই মাসে সাতজনের এই দল শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরে সঞ্চিত সম্পদের একটি আংশিক হিসাব তৈরী করতে সক্ষম হয়। কেমন ছিল সেই হিসাব? কি কি পাওয়া গিয়েছিল ওই মন্দিরে?

মন্দির পরিচালন কমিটির থেকে জানতে পারা যায় যে ওই মন্দিরের নীচে ছ’টি ভল্ট বা চেম্বারে ধনসম্পদ রক্ষিত আছে। সুপ্রীম কোর্ট দ্বারা পরিচালিত দল ওই ভল্টগুলির নাম দেন যথাক্রমে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’ এবং ‘এফ’। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ২০১৪ সালে আরও দুটি ভল্ট ‘জি’ এবং ‘এইচ’ আবিষ্কৃত হয়। মন্দিরের ট্রাস্টির মতে সি, ডি, ই এবং এফ ভল্টগুলি মাঝে মাঝে খোলা হয় পূজার সামগ্রী বার করবার জন্য। এ ভল্টটি শেষবারের মতো খোলা হয়েছিল ১৯৩০ সালে। কিন্তু বি ভল্টটি কোনদিনই খোলা হয়নি, কারণ মন্দিরের পূজারীদের মতে বি ভল্টটি হলো ‘নিষিদ্ধ’ বা ‘ফরবিডেন’ ভল্ট যা খোলা বারণ!
যাই হোক, সুপ্রীম কোর্টের আধিকারিকরা প্রথমে সি, ডি, ই এবং এফ ভল্টগুলি খুলতে মনস্থির করেন। মন্দিরের প্রথা মেনে পূজা অর্চনা করবার পরে ভল্টগুলি খোলা হয় এবং ভিতরের সমস্ত সামগ্রী বাইরে আনার পরে তাঁরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। কি ছিল এই চারটি ভল্টের ভিতরে?
সুপ্রীম কোর্টে পেশ করা অডিট রিপোর্ট অনুসারে এই চারটি ভল্টের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল একটি সাড়ে তিন ফুট লম্বা নিরেট সোনার বিষ্ণুমূর্তি (যার গায়ে প্রায় শ’খানেক হীরে এবং চুনী বসানো ছিল), ১৮ ফুট লম্বা নিরেট সোনার চেন, ৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের সোনার ধানের গোলা, ৩৬ কিলোগ্রাম ওজনের একটি সোনার পর্দা, ১২০০ সোনার মোহর (যাদের গায়ে হীরে এবং চুনী বসানো ছিল)! এছাড়াও কয়েকটি বস্তা পাওয়া গিয়েছিল যেগুলি পরিপূর্ণ ছিল সোনার বাসন, সোনার নেকলেস, সোনার মুকুট এবং আনুষঙ্গিক সোনার গয়না দ্বারা! আরও কয়েকটি বস্তা পাওয়া গিয়েছিল যার মধ্যে ছিল হীরে, চুনী, পান্না, নীলার মতো দামী পাথর! এগুলি ছাড়াও পাওয়া যায় ৩০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি সোনার আবরণ, চুনী এবং পান্না বসানো কয়েকটি সোনার বাটি যেগুলি শ্রীপদ্মনাভস্বামীর নিত্যপূজায় কাজে লাগে!
২০১৪ সালে সুপ্রীম কোর্টের আদেশানুসারে ‘এ’ ভল্টটি খোলা হয়। সেই ভল্ট থেকে কি পাওয়া যায়? পাওয়া যায় ৮০০ কেজি ওজনের সোনার মোহর (খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের), ১৮ ফুট লম্বা কোনো মানুষের জন্য উপযুক্ত একটি সোনার সিংহাসন, হীরে বসানো তিনটি সোনার মুকুট, শ’খানেক সোনার চেয়ার, কয়েক’শ সোনার পাত্র এবং বেশ কয়েকটি না কাটা হীরে যার কয়েকটির সাইজ পূর্ণবয়স্ক মানুষের বুড়ো আঙুলের সমান!
সুপ্রীম কোর্টের মতে শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দির থেকে এখনও অবধি পাওয়া সোনা এবং হীরে জহরতের বাজার মূল্য ১.২ লক্ষ কোটি টাকা বা ১৭ বিলিয়ন ইউ এস ডলার! কিন্তু এর সঙ্গে যদি এই সমস্ত জিনিসপত্রের অ্যান্টিক এবং কালচারাল ভ্যালু যোগ করে নিলামে চড়ানো হয় তাহলে এই সম্পদের মূল্য হওয়া উচিৎ কমপক্ষে দশ গুণ অর্থাৎ ১২ লক্ষ কোটি টাকা! প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য তিনদিন আগের ঘূর্ণিঝড় ‘আমপান’ এর দরুণ আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মোট ক্ষতির পরিমাণ মুখ্যমন্ত্রীর মতে এক লক্ষ কোটি টাকা…অর্থাৎ শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের আটটি ভল্টের মধ্যে পাঁচটি ভল্টের মূল চেম্বার থেকে পাওয়া (অ্যান্টিচেম্বার বাদে) সম্পদের বারো ভাগের এক ভাগ!
হ্যাঁ…আটটি ভল্টের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচটি ভল্ট আজ অবধি খোলা হয়েছে। কিন্তু বাকি তিনটি ভল্ট কেন খোলা হলো না? আপনারা শুনলে অবাক হবেন, বি ভল্টটি খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও পিছিয়ে আসে সুপ্রীম কোর্ট। কেন?
বি ভল্টের মূল দরজার বাইরে রয়েছে একটি লোহার গ্রিল, তারপরে একটি কাঠের দরজা। এই দুটি দরজা খুলে মূল দরজায় পৌঁছান সুপ্রীম কোর্টের আধিকারিকরা। দেখা যায় মূল দরজাটি লোহার তৈরী, কিন্তু সেই দরজায় কোনো হাতল নেই…কোনো চাবির ফুটো নেই…কোনো খিল নেই। সেই দরজার উপরে খোদাই করা রয়েছে দুটি সাপের মূর্তি! ধন্দে পরে যান আধিকারিকরা। এই চিহ্নের অর্থ জানার জন্য ডাক পড়ে শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতদের।
পণ্ডিতরা জানান, তাঁদের জ্ঞান অনুযায়ী এই চিহ্নের অর্থ ‘নাগবন্ধন’। কি এই নাগবন্ধন? পণ্ডিতদের মতে এই দরজা আটকানো হয়েছে নাগ মন্ত্রের মাধ্যমে। একমাত্র গরুড় মন্ত্র একটি বিশেষ ছন্দে আবৃত্তি করলে তবেই এই নাগবন্ধন খুলবে এবং দরজা আপনা থেকেই খুলে যাবে! কিন্তু কি সেই গরুড় মন্ত্র? ছন্দটাই বা কি? কে জানে সেই মন্ত্র বা ছন্দ? কি আছে এই ভল্টের মধ্যে? জোর করে, বলপ্রয়োগ করে এই দরজা খোলা যায় কি?
পণ্ডিতদের মতে…গরুড় মন্ত্র এবং তার ছন্দ তাঁরা জানেন না। সেই বিদ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবলুপ্ত হয়ে গেছে। তাঁরা শুনেছেন এই দরজা খুলতে নেই…জোর করে খুললে সমূহ বিপদ। কি বিপদ? উত্তর…সেটাও স্পষ্ট নয়…হয়তো ইকোনমিক ডিপ্রেশন…হয়তো ভূমিকম্প…স্পষ্ট জানা নেই কারোরই! যে পাঁচটি ঘর থেকে এতো লক্ষ কোটির সম্পদ পাওয়া গেল, সেই ঘরের দরজায় তো নাগবন্ধন ছিল না। তাহলে এই ঘরের দরজায় নাগবন্ধন কেন? কি আছে এই ঘরের মধ্যে? উত্তর…হয়তো সেরার সেরা সম্পদ…সাত রাজার ধন…যা নিষিদ্ধ…যা লোকানো থাকলেই জগতের মঙ্গল। এই অবধি শুনেই পিছিয়ে আসে সুপ্রীম কোর্ট।
২০২০ সালের ভারতের বাজেট তিরিশ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরের আটটি ভল্টের মধ্যে পাঁচটির মূল চেম্বারে রক্ষিত সম্পত্তির পরিমাণ বারো লক্ষ কোটি টাকা…অর্থাৎ চলতি বছরের ভারতীয় বাজেটের প্রায় ৪০%। সুপ্রীম কোর্টের দৌলতে টাকার এই অঙ্কটা আজ আমাদের জানা। এবারে আমরা যে অঙ্কগুলো জানি না (কিন্তু আইডিয়া করতে পারি) সেইগুলো যোগ করুন। যোগ করুন তিরুপতি মন্দিরের অ্যাসেট, সিরডি সাই মন্দিরের ডোনেশন, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের সম্পত্তি, প্রভু জগন্নাথের সম্পত্তি। যোগ করুন দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ এবং একান্ন সতীপিঠের মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ। কতো হতে পারে সেটা? সঠিক জানা নেই। কিন্তু অনুমান করতে পারি…কয়েক’শ লক্ষ কোটি টাকা! এবং এই সবটাই কোনো কাজে লাগে না…নন পারফর্মিং অ্যাসেট! এর সঙ্গে মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বারের সম্পত্তি যোগ করুন। সমান্তরাল অর্থনীতি…প্যারালাল ইকোনমি।
২০০৯ সালে ‘আয়লা’ এসেছিল। আনন্দবাজারে পড়েছিলাম…সুন্দরবনে বাঁধ ভেঙে চাষের জমিতে ঢুকে পড়েছে সমুদ্রের নোনা জল। ফল…অজন্মা। আনন্দবাজারে পড়েছিলাম সুন্দরবনের নদী, সমুদ্র এবং ধানের ক্ষেত নাকি একই লেভেলে…মাঝে মাটির বেড়া, সেটাই বাঁধ। আরও পড়েছিলাম, বাংলাদেশে সুন্দরবনের যে অংশ আছে সেখানেও বাঁধ আছে…কংক্রিটের বাঁধ…তার উপর দিয়ে নাকি বাস চলার রাস্তা আছে…আর আমাদের দেশের বাঁধগুলো কাচাঁ…মাটির বাঁধ। আনন্দবাজারে লেখা হয়েছিল, ‘পাকা বাঁধ করতে খরচ পড়বে দশহাজার কোটি টাকা’।
২০০৯ সালে আয়লা এসেছিল। চৌত্রিশ বছর রাজত্ব করবার পরে ২০১১ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার পড়ে গেল…তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলো। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার পড়ে গেল…বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলো। এরই সঙ্গে কতো হাজার কোটির স্ক্যাম হলো, কতো ঋণখেলাপি বিদেশে পালালো। বাঁধ পাকা করবার দশহাজার কোটি আর জোগাড় হলো না। শেষে ২০২০ সালের ২০ শে মে আমপান এলো…আবার বাঁধ ভাঙলো…আবার ক্ষেতে নোনা জল ঢুকলো…আবার অজন্মা।

স্বাধীনতার পরে তিয়াত্তর বছর কেটে গেল। আজও মাটির বাঁধের ভরসায় গ্রামে ঘর বাঁধে সুন্দরবনের মানুষেরা। আজও রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামে এক ঘড়া জলের জন্য হাঁটতে হয় মাইলের পর মাইল। আজও উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে ড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট ম্যালেরিয়ায় কাতারে কাতারে মানুষ মরে। আজন্মকাল থেকে চলতে থাকা এই বেসিক সমস্যাগুলোর সমাধান আজও হলো না। কেন হলো না? কারণ সরকারের কাছে টাকা নেই…নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা।
আমি সরাসরি বলছি…শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরের আন্ডারগ্রাউন্ড ভল্টে অযত্নে পড়ে থাকা সমস্ত ধনসম্পদ এবং ভারতের সমস্ত মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বারে পড়ে থাকা সমস্ত নন পারফর্মিং অ্যাসেট অবিলম্বে অধিগ্রহণ করে আন্ডার ডেভেলপড অঞ্চলের উন্নতির জন্য ব্যয় করা উচিৎ ভারত সরকারের। কাজটা কঠিন…কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রধান বাধা আমাদের দেশের আইন। আর সেই আইনের ফাঁক কোথায় কিংবা নতুন আইন কিভাবে আনা যায়…সেটা ভাববার দ্বায়িত্ব নিতে হবে সন্দীপনের মতো অ্যাডভোকেটদেরই।
কসমিক সমুদ্রে অনন্তনাগরুপী সময়ের কোলে শুয়ে আছেন শ্রীপদ্মনাভস্বামী…যোগনিদ্রায় মগ্ন। তিনি বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধীশ্বর…এই সমগ্র সৃষ্টিতে যা কিছু রয়েছে সবকিছুরই মালিক উনি। আর সেইজন্যই মাটির নীচে পড়ে থাকা ওই কুবেরের ধনের দিকে উনি ফিরেও তাকান না। যোগীশ্রেষ্ঠ, প্রেমিকশ্রেষ্ঠ মহাদেব বাস করেন কৈলাসের উপরে…কখনও শ্মশানে। তাঁর নামে কোন মন্দিরে কত দান করলো, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় এবং ইচ্ছা কোনোটাই তাঁর নেই। সিরডির সাই বলতেন ‘সবকা মালিক এক’…সারাজীবন তিনি দারিদ্রের মধ্যেই কাটিয়ে ছিলেন…এখন তাঁর মূর্তিতে সোনার মুকুট পড়ানো হলো কি না হলো, তাতে তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না। কোটি টাকার দান দিয়ে ঈশ্বর অনুগ্রহ লাভ করা যায় না। কিন্তু ভক্তের হৃদয়ের সাচ্চা ভক্তি ঈশ্বরের আসন টলিয়ে দেয়। কোন মন্দিরের কতো সম্পত্তি, তা দিয়ে হয়তো সেই মন্দিরের ফাইনান্সিয়াল গ্রেডেশন হতে পারে…কিন্তু ভারতীয় আধ্যাত্মবাদ কোনদিন দেবোত্তর সম্পত্তির পরিমাণের উপর দাঁড়িয়ে ছিল না…আজও নেই।
বড্ড ভারী ভারী কথা বলে ফেললাম। তাই শেষে একটু চিন্তার খোরাক দিয়ে যাই। শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরের ভল্ট বি হলো নিষিদ্ধ ভল্ট। সেই ভল্টের দরজায় কোনো চাবির ফুটো নেই, হাতল নেই, খিল নেই। খোলার উপায় কারও জানা নেই। কি আছে ওই ভল্টের মধ্যে? জনশ্রুতি কি বলে?
একটা জনশ্রুতি হলো…নারায়ণের চার হাতে ধরে রাখা শঙ্খ, চক্র, গদা এবং পদ্মের মধ্যে সুদর্শন চক্রটি রাখা রয়েছে ওই ঘরে! যদি ওই ঘর কখনও বলপ্রয়োগ করে খোলা হয়, তবে গোটা থিরুবানন্তপূরম শহরটাই মাটির নীচে বসে যাবে! সত্যি হোক বা মিথ্যা…জনশ্রুতিটি কিন্তু বেশ…গায়ের লোম খাঁড়া করে দেওয়ার মতো…ঠিক যেন স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড’ সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতো…তাই না?
তথ্যসূত্র : উইকিপেডিয়া, ইন্টারনেট এবং ডাঃ শুভায়ন বণিক