চলতি কথায় চাষিরা বলেন ‘চাপান’ সার। যার অর্থ ইউরিয়া। এ রাজ্যের বোরো চাষে ইউরিয়া সার অপরিহার্য। বোরো চাষ করতে চাষিরা বিঘে প্রতি ২০ কিলোগ্রাম করে ইউরিয়া ব্যবহার করেন। চারা রোপণ করার সময়ে অর্ধেক, আর বাকি অর্ধেক দফায়-দফায় দরকার মতো। ধানের পুষ্টি ও ফলন দুই নির্ভর করে ইউরিয়া সারের ওপর। বহু রাজ্যের মতো বাংলাতেও একদময় ইউরিয়া সারের সংকট ছিল প্রবল। তখন চাষিরা ইউরিয়া না পেয়ে ডিএপি সার ব্যবহার করতে বাধ্য হত। কিন্তু তাতে বাড়তি খরচ হয়। কারণ ইউরিয়া সারের দাম আর ডিএপি সারের দামের অনেক ফারাক। এ রাজ্যে মূলত সিন্ধ্রির কারখানা থেকেই ইউরিয়া সরবরাহ করা হত।

অবশেষে পূর্ব ভারতে এ রাজ্যের বর্ধমানের পানাগরে ইউরিয়া তৈরি প্লান্ট করা হয়। দশ বছর ধরে সেখানে গবেষণা চলছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার থেকে পানাগর প্লান্টে তৈরি ইউরিয়া এ রাজ্যে প্রথম বাজার জাত করা হল। এদিন ইউরিয়া প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষ থেকে তারকেশ্বর মন্দিরে পূজা দিয়ে এবং গোটা তারকেশ্বর জুড়ে র্যালি করে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাজার জাত করা হল ইউরিয়া। পানাগরের ইউরিয়া যেমন এ রাজ্যের চাষিদের প্রয়োজন মেটাবে পাশাপাশি ওই ইউরিয়া পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও ছটি রাজ্যে রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছে ওই সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে এও জানানো হয় যে এই প্রথম পূর্ব ভারতে ইউরিয়ার উৎপাদন শুরু হল।এতে করে বাংলার চাষিদের দীর্ঘ দিনের সঙ্কট মিটবে। ইউরিয়ার জন্য তাদের আর হাহুতাশ করতে হবে না।
এক সময় রাজ্যের চাষিরা মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘ইফকো’ উত্পাদিত ইউরিয়াই ব্যবহার করার সুযোগ পেত। রাজ্য কৃষি দফতর অনুমোদিত সার বিক্রতা এবং কৃষি সমবায় সমিতি মারফত তা বাজারে বিক্রি হত। অন্য সংস্থার ইউরিয়া সারও ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন। তবে ইফকো-র ইউরিয়ার দাম অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় চাষিদের কাছে তার চাহিদা বেশি ছিল, কিন্তু যোগান ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম। আশাকরা যায় এখন সেই সঙ্কট অনেকটাই মোকাবেলা করা যাবে।