ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা কথায় কথায় বলেন, আমাদের এখন ভাইরাসের সঙ্গে বাঁচা শিখতে হবে। এটা এমন একটা পর্যায় যখন রোগজীবাণুর মারণ ক্ষমতা আর ততটা ব্যাপক নয়। সোজা কথায় তখন তার চেহারা আর মোটেই মহামারি বা অতিমারির দিনগুলির মত নয়। একটা জনপদে তা টিঁকে থাকে, সময় সময় উঁকি দেয়, আবার চলেও যায়। মানুষ আক্রান্ত হলেও সংক্রমণ ব্যাপক হয়না, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে কম। তখনই তাকে বলে এনডেমিক। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। পৃথিবী ২০০৯ সালে অতিমারি দেখেছে, তা চলেছিল ২০১০ পর্যন্ত। এখন তা আমাদের দেশে হয়ে গেছে শীতকালে মাথাচাড়া দেওয়া একটা সাধারণ রোগ। সাধারণভাবে এতে আক্রান্ত হন বৃদ্ধ এবং বিশেষ শারীরিক সমস্যা আছে এমন মানুষজন।

এককথায় বলতে গেলে অতিমারি বা মহামারির তুলনায় তার হনন ক্ষমতা খুবই সীমিত। এই ভাইরাস বাঁচে একটা নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার মধ্যে। অন্যদিকে অতিমারির বিস্তার আরও ব্যাপক, তা ছড়ায় একাধিক মহাদেশ বা প্রায় সব মহাদেশ জুড়ে। যেমন ঘটেছে এবারের কোভিড-১৯ এর সময়। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন কোভিড এখন ঠিক কোন পর্যায়ে আছে? হ্যাঁ, তার জোর কমেছে তা তো বোঝাই যাচ্ছে কিন্তু এখনই তা এনডেমিক হয়ে গেছে বা একটা দেশে কোনমতে টিঁকে আছে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ আমরা দেখছি গতবছর সার্স কোভ-২ ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের পরেই আবার এসে গেছে অতি সংক্রামক ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্ট। হালফিল তার দাপট একটু কম হলেও তা যে এনডেমিক হয়ে গেছে তা বলা যায়না। কারণ এই স্বাধীনচেতা ভাইরাসটি একেক সময় একেক রূপ ধরে।
ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমিক্রনকে ডেল্টার বংশধর বলা যাবে না। সত্যি বলতে কি এই মুহূর্তে এ নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করাও কঠিন। আমরা কেউই জানিনা যে পরে এই ভাইরাসের আরেকটা রকমফের আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠবে কিনা। মনে রাখতে হবে ২০২০তেও কোভিড-১৯ সম্পর্কে পৃথিবী প্রায় কিছুই জানতো না। মহাদেশের পর মহাদেশ জুড়ে মৃত্যু আর সংক্রমণ আমাদের তার ভয়াবহতার স্বরূপ চিনিয়েছে।

একটা প্রশ্ন আসতে পারে ভাইরাসের এপিডেমিক বা প্যানডেমিকের থেকে এনডেমিক হয়ে যেতে কতদিন সময় লাগে? ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের বৃষ্টি আর শীতের আরেকটা ঋতুচক্র পেরোতে হবে। তবে একটাই ভরসা, সতর্কতা ও টিকাকরণের একটা পর্যায় আমরা পার হয়ে এসেছি। ডাক্তাররা বলছেন, আমাদের আরও কিছুদিন মাস্ক পরা, ভিড়ে না যাওয়া, নিয়মিতভাবে হাত ধোয়া ইত্যাদি সতর্কতা বিধিগুলি পালন করে যেতে হবে। আশার কথা এই যে, এখনও অবধি ওমিক্রনের তেমন কোন মারণ ক্ষমতা দেখা যায়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার লোকের সংখ্যা কমেছে, আক্রান্তের সংখ্যাও আগের তুলনায় কম। কাজেই বলা যেতে পারে ভাইরাসের মারণ ক্ষমতা কমছে। কিন্তু এখনও তার কাছে সুরক্ষিত না হয়ে যাওয়ার সময় আসেনি। তাই এখনও সতর্কতা এবং সতর্কতা, এটাই আমাদের মন্ত্র হওয়া উচিৎ।