রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্তোৎসবে যোগ দিয়ে পিঠে, বুকে অশ্লীল কথা লিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যে তরুণ-তরুণীরা অসম্মান করেছে তাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমালিপ্ত করতে এই কাণ্ড ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ৬ মার্চ পাঁচজন তরুণ-তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ক্ষমা চায়। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বাড়ি চন্দননগরে। পার্থবাবু বলেন, এরা আমাদের সংস্কৃতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে! বসন্তোৎসবে এই ভাষা! আসলে যারা আমাদের সংস্কৃতির গরিমা নষ্ট করছে, সমাজ-সংস্কৃতিতে আঘাত হানছে তাদের দেখেই এরা শিখছে। বহিরাগতরা এসে এমন ঘটনা ঘটাবে, যা ঠেকানো যাবে না, এমন অনুষ্ঠান না হলেই ভালো।
হিন্দু হস্টেলের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের কলেজ স্ট্রিটের মোড়ে রাস্তা আটকে আন্দোলনকেও সমর্থনে রাজি নন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের দাবি যথাযথ হলে আমরা তা নিয়ে স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু ঘেরাও বা রাস্তা অবরোধ করে মানুষের অসুবিধা করা মানা যায় না। আমাকেও ওরা কিছু জানায়নি। আগে হস্টেল সবার জন্য ছিল। ২০০৬-এর পর থেকে প্রেসিডেন্সির হলো কেন তা জানি না। আমাকে ওরা বলতেই হস্টেল সংস্কার করেছি। তারপর এখন আবার নানা দাবিতে রাস্তা আটকে আজাদি বলছে! বাম, অতি-বাম না সাধারণ কারা এটা করছে তা বিবেচ্য নয়। এভাবে আজাদি বললেই আজাদি মেলে না। পুলিশ যথেষ্ট ধৈর্য দেখিয়েছে। উল্লেখ্য, হিন্দু হস্টেলের তিন, চার ও পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে, এই দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল পড়ুয়াদের বিক্ষোভ। পরে সেই তালিকায় যোগ হয় আরও কিছু দাবি। হস্টেলে রান্নার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কেন বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন আবাসিকেরা। দাবি উঠেছে কর্মী-সংখ্যা বাড়ানোরও। এই দাবিগুলো নিয়েই দীর্ঘ দিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, হস্টেলের একাংশ সংস্কার হলেও পুরো সংস্কার করা হয়নি। আরও অভিযোগ, বার বার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও উদ্যোগী হননি তাঁরা। দাবিগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে বাধ্য হয়েই তাঁদের এই আন্দোলন। যদিও শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাঁকে জানানো হলে তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ করে এসেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থবাবু একে পাত্তা না দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। তাঁদের কথার গুরুত্ব আছে, রাজ্যপালের কথার গুরুত্ব নেই।