হরিদ্বার থেকে দিল্লি তীব্র হচ্ছে বিজেপি-আরএসএস এর মুসলমান বিদ্বেষী হুঙ্কার। মোদি-অমিত শাহ জুটি এব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। নীরবতাই সম্মতির লক্ষণ। কারণ সামনেই উত্তরপ্রদেশের ভোট। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, যতদিন যাবে বিজেপির মুসলিম বিদ্বেষী মুখটা আরও স্পষ্ট হবে। ভোটে জেতা, দলে কর্তৃত্ব বজায় রাখা এবং বারংবার ব্যর্থতার মুখে নিজেদের সাহসী বলে প্রমাণ করার জন্য এছাড়া তাদের আর কোন উপায়ও নেই। বিজেপির কাছে গোবলয়ের এই রাজ্যের ভোটের একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। সোজা কথায় আগামী দিনগুলিতে বিজেপির হিন্দুত্বের হুঙ্কারের সঙ্গে মিশবে তীব্র মুসলমান বিদ্বেষ।
জাতীয়তাবাদে হিংসার একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। যেমনটা ঘটেছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে। কিন্তু বিজেপির জাতীয়তাবাদ মানে সাম্প্রদায়িক হিংসা, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজন। যার মধ্যে কোন দেশপ্রেমও নেই, কোন প্রকৃত হিন্দুত্বও নেই। বিজেপির হিন্দুত্ব মোদি-অমিতদের একটা সম্পূর্ণ নিজস্ব বিকৃত ধারণা। জাতীয়তাবাদ মানে একটা দেশ বা জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লড়াই। কিন্তু বিজেপি যেটা করতে চাইছে তা হল, পরিকল্পিতভাবে দেশের একটা সম্প্রদায়ের ওপর আরেকটা সম্প্রদায়ের অধিকার চাপিয়ে দেওয়া। সঙ্কীর্ণ রাজনীতি ছাড়া এতে কারও কোন উপকার হবে না। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ ডাকের পিছনে ছিল দেশের সব মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কিন্তু বিজেপি চায় শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের শাসন। সেকারণেই তাদের যাবতীয় তৎপরতা।
মোদি ও তার সাঙ্গপাঙ্গোরা বারাণসীতে জাতীয়তাবাদের নামে যে উগ্র হিংসার জিগির তুলেছেন তাতে শাসকদের এই প্রবণতাই স্পষ্ট হচ্ছে। ঐতিহাসিক জায়গাগুলির সংস্কার ও পুননির্মাণের নামে জঙ্গি হিন্দুত্ববাদ ও ইতিহাসকে বিকৃত করার চেহারাটা স্পষ্ট হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের বিকৃতি থেকে শুরু করে সরকারি প্রচারে জোর করে সবকিছুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে হিন্দুত্ববাদকে। হিন্দু ধর্মের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। কারণ প্রকৃত ধর্ম অন্য ধর্মকে খর্ব করে, অস্বীকার করে কিংবা মুছে ফেলে বড় হতে চায়না। তার সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষদের ওপর দমনপীড়নের কোন সম্পর্ক নেই। মোদি-অমিতরা নিজেদের গদি টিঁকিয়ে রাখতে এই ধর্মীয় তাস খেলছেন।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বিক্ষোভ থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা একাজটি করছেন। দেশের একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতি এব্যাপারে তাদের সহায়তা করলেও জনগণের একটা বড় অংশ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। এমনকি প্রশ্ন উঠেছে নিজেদের দলেও। গতবছরের শেষদিকে হওয়া হরিদ্বার সংসদে এই প্রবণতা পরিস্কার হয়েছে। ১৯৪২ এ নাজিরা জার্মানিতে ওয়ানসি কনফারেন্সে ঠিক এই অপকর্মটি করেছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা হরিদ্বার সন্মেলনের সময় এই কনফারেন্সের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
আশার কথা একটাই, দেশের কৃষক, শ্রমিক, দলিতদের কেউই তাদের সঙ্গে নেই। শত চেষ্টা করেও বিভেদের রাজনীতিতে মোদি ব্রিগেড তাদের সামিল করতে পারেনি। ইউপি আর পাঞ্জাবের ভোটকে কেন্দ্র করে তাই একটা আতঙ্ক ও সাম্প্রদায়িকতার আবহাওয়া তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। মানুষ এই বিকৃত জাতীয়তাবাদকে পরাস্ত করবে।