এই লকডাউন পরিস্থিতিতেও পেট্রোলের দাম কলকাতায় সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। তবে রাজ্যের একাধিক জেলায় পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। সেই সঙ্গে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। কিন্তু কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই কেন্দ্রের। প্রতিবাদে শনিবার থেকেই রাস্তায় নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার হুগলির বৈদ্যবাটিতে মিছিল করে জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন তৃণমূল কর্মীরা। রাস্তায় উনুন জ্বেলে ভাত রান্না করেন দলের মহিলা সংগঠনের কর্মীরা।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করে লিখেছেন, বিজেপি সরকারের শাসনে পেট্রোলের মূল্য ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি তারা মানুষের ওপরে বোঝা বাড়াতেও কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে টুইট করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি কটাক্ষ করে লিখেছেন, একদিকে নরেন্দ্র মোদী নাটক করছেন, অন্যদিকে দেশের মানুষ সংকটে।
পেট্রোলের মূল্য সেঞ্চুরি, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় হাজার টাকা। এর প্রতিবাদে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি পেট্রোল পাম্পে এক অভিনব পন্থায় বিক্ষোভ সভা করেন মালদা শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে মালদা জেলা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে রবিবারের সকাল ১০.৩০ নাগাদ পেট্রলপাম্পের সামনে পথে নেমে জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয় যুব তৃনমূলের কর্মীরা। শনিবার সন্ধ্যায় চাঁচলের পাহাড়পুর পেট্রোল পাম্পে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা কেক কেটে সেই কাটা কেক মাখায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিকৃতিতে।

একদিকে যখন করোনা ও লকডাউন তখন তার মধ্যেই মানুষের মূল দাবি উপেক্ষা করতে কেন্দ্র দোষারোপের পালা চালিয়ে যাচ্ছে। মোদীবাবু পেট্রোল বেকাবু টুইটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২০-তে তাঁরই করা একটি টুইটকে ট্যাগ করেছেন। সেখানে হ্যাশট্যাগ দিয়েছেন মোদীবাবু পেট্রোল বেকাবু। উল্লেখ্য, তৃণমূলের তরফ থেকে এই হ্যাশট্যাগেই বিজেপির প্রতি আক্রমণ শানানো হচ্ছে। অভিষেকের পুরনো সেই টুইটে বলা হয়েছিল, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ প্রবল আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর নরেন্দ্র মোদী জ্বালানির ওপরে কর বসিয়ে সুবিধা নিচ্ছেন। আবার দাম বাড়লেও তখন তিনি তা চাপিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের ওপরে।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন রেখেছেন, এখন আকাশছোঁয়া পেট্রোলের দাম নিয়ে কেন তিনি লুকিয়ে পড়লেন। হয়ত তিনি বড় মিথ্যা ভাষণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মোদীর দাড়ি যত বাড়ছে ততই বাড়ছে দুর্নীতিও! এর মধ্যে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, পেট্রোল-ডিজেলের দাম তো আজ থেকে বাড়ছে না, আগেও বাড়ত, এখনও বাড়ছে। তিনি দাবি করেছেন, যেমন বাড়ছে, আবার কমেও যাবে। কোনও কিছুই স্থিতিশীল নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।