শীত পড়তে শুরু করলেই হুগলির আরামবাগের চাঁদুর ফরেস্ট আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে ওঠে পিকনিক প্রেমীদের। হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন পিকনিক করতে। দ্বারকেশ্বরের তীরে সবুজ গাছপালা ঘেরা এই বনভূমির টানে এখানে সমবেত হন মানুষজন। আরামবাগ বনদপ্তরের নির্দেশে এবার কোপ পড়তে চলেছে সেই বনভোজনের আনন্দে। কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে, এই বনাঞ্চল বহু পাখ-পাখালি থেকে শুরু করে নানা বন্যপ্রাণীর সুরক্ষিত এলাকা। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত উশৃঙ্খলতা, তীব্র ডিজে কালচার, যত্রতত্র ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের দূষণ এই পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই পরিবেশপ্রেমীদেরও আবেদন ছিল, বন্যপ্রাণীদের রক্ষার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরামবাগের রেঞ্জ অফিসার আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য, “এটি সুরক্ষিত বনভূমি বা রিজার্ভ ফরেস্ট এর মধ্যে পড়ে। কোনো রিজার্ভ ফরেস্টে অবৈধ প্রবেশ পশু শিকার ইত্যাদি সমস্তই নিষিদ্ধ। এখানে প্রতিবছর শীতের সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে বনভোজন করেন। এর ফলে এখানকার জীব বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রথমত, যারা আসেন তারা থালা, গ্লাস ইত্যাদি বিভিন্ন প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ব্যবহার করেন এবং পরে এখানে যথেচ্ছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে যান। এর ফলে মাটির উর্বরতা কমে গাছেদের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয়ত, আমাদের এই জঙ্গল বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ জঙ্গল। এখানে প্রচুর পাখি আছে, শিয়াল আছে সাপ ও বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ আছে। এটা তাদের সুরক্ষিত বাসস্থান। যখন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসে, তারস্বরে মাইক বাজায়, তখন তাদের সুরক্ষা নষ্ট হয়। তারা বাসস্থান হারায়। এছাড়াও আমরা লক্ষ্য করেছি পিকনিকের সময় নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করা হয় এবং নানা অসামাজিক কাজও হয়। উচ্ছৃংখল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই আমরা সাধারণের কাছে বার্তা দিতে চাইছি যে আমরা এখানে পিকনিক বন্ধ করবো। আপাতত নিয়ন্ত্রিতভাবে অল্প সংখ্যক কিছু দলকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হবে, পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

এই পদক্ষেপে একদল মানুষের মনে বিষাদের ছায়া ঘণালেও খুশি পরিবেশ-প্রেমীরা। সরকারি নিয়ম-কানুনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একশ্রেণীর উচ্ছৃংখল মানুষজন যেভাবে তারস্বরে মাইক বাজিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে তা অসামাজিকতারই নামান্তর বলে মনে করছেন তারা। এখন দেখার আইন কতটা বাস্তবায়িত করা যায়।