রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন আসন্ন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শনিবার থেকে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর টহলদারি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার পর্বও তুঙ্গে। নির্বাচনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়, এজন্য নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই গ্ৰামের বুথে বুথে সেনার টহলদারি শুরু করেছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর বুথগুলির উপর জোর দিতে চাইছে কমিশন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কমিশন প্রতিটি বুথের জন্য নজরদারি শুরু করেছেন।
প্রসঙ্গত, আরামবাগের প্রতিটি ব্লকে প্রায় ১২টি করে মহিলা পরিচালিত বুথ হবে বলে জানা গেছে নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে। এই বুথগুলির নাম দেওয়া হয়েছে পিঙ্ক বুথ। প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে অন্যান্য অফিসারদের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র মহিলারাই এখানে দায়িত্বে থাকবেন। তাঁরা গোলাপী রঙের শাড়ি পরবেন, এবং গোলাপী রঙের বেলুন দিয়ে বুথগুলি সাজানো হবে। নির্বাচনে মহিলাদের একশো শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। এটিও তার অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, আরামবাগের ছ’টি ব্লকের ইতিমধ্যে মহিলা ভোটকর্মীদের নিয়ে প্রথম দফার মিটিং হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পিঙ্ক বুথগুলির বিশেষ নিরাপত্তার বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আরামবাগের মহকুমাশাসক সুভাষিনী ই জানিয়েছেন, ‘ব্লকের কোথায় কোথায় পিঙ্ক বুথ হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঠিক করা হয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি ব্লকে ১২টি পিঙ্ক বুথ করা যেতে পারে।’ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।
শনিবার থেকে আরামবাগের তিরোল অঞ্চলের মইগ্ৰাম, কাচগড়িয়া ও বাতানল এলাকায় রীতিমতো রুট মার্চ করল সেনা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলল। প্রসঙ্গত, আরামবাগে এক কোম্পানি সেনা এসে পৌঁছেছে। ধাপে ধাপে আরও সেনা আসবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রার্থীদের মনোনয়ন ও সিম্বল বিতরণের ঝড় কাটিয়ে আরামবাগ মহকুমায় দলের নেতা কর্মীরা তাদের আন্দোলনে গতি এনেছে। প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সম্মিলিত ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। অপর দিকে প্রতিপক্ষরাও এখনও সঠিক ভাবে মাঠে না নামলেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পেরেছে। অর্থাৎ লড়াই হবে।