মানুষের দেহে ক্যান্সার নিয়ে সারা বিশ্বে গবেষণা চলছে।চিন্তিত বিজ্ঞানীকুল। এবার নতুন করে ভাবাচ্ছে উদ্ভিদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে গবেষণা। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্ভিদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ। হ্যাঁ, ক্রাউন গ্যালস হল এক ধরনের উদ্ভিদ ক্যান্সার, অ্যাগ্রোব্যাকটেরিয়াম টিউমেফেসিয়েন্স ব্যাকটেরিয়া (Agrobacterium tumefaciens bacteria) দ্বারা সৃষ্ট। এটি টিউমারের মতো সংক্রমণের চারপাশে উদ্ভিদ কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটায়। অন্যান্য টিউমার ছত্রাক বা শারীরিক ক্ষতি দ্বারাও হতে পারে। কিন্তু উদ্ভিদের কোষগুলি কোষের প্রাচীর দ্বারা ঘেরা থাকে, তাই উদ্ভিদের ক্যান্সার কখনই দূরে ছড়িয়ে পড়ে না বা অন্য টিস্যুতে মেটাস্টেসিস (Metastasis) করে না।

উদ্ভিদ ক্যান্সার কী ?
ক্রাউন গ্যালস হল এক ধরনের উদ্ভিদ ক্যান্সার। এটা প্রধানত ব্যাকটেরিয়াম টিউমিফেসিয়েন্স (Bacterium tumefaciens) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে ওঠে। ব্যাকটেরিয়াম টিউমিফেসিয়েন্স যার আসল নাম ফাইটোমনাস টিউমিফেসিয়েন্স এবং পরবর্তীতে নাম হয় অ্যগ্ৰোব্যাকটেরিয়াম টিউমিফেসিয়েন্স। এটা এক ধরনের সয়েল ব্যাকটেরিয়া ।
উদ্ভিদ ক্যান্সার শনাক্তকরণ :
অ্যগ্ৰোব্যাকটেরিয়াম টিউমিফেসিয়েন্স এটা শনাক্তকরণ প্রথম করেন ১৮৯৭ সালে ইতালির বিজ্ঞানী ফ্রিডিয়ানো (Fridianus) ক্যাভেরা। এই টিউমার থেকেই ক্যান্সার দেখা যাচ্ছে পরবর্তী সময়ে। এরপর ১৯৮০ সালে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা ডি এন এ হাইব্রিডাইজেশন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেন, টিউমিফেসিয়েন্সের মধ্যে যে অতিরিক্ত ক্রমোজম থাকে তা প্ল্যান্টের ক্রমোজমের মধ্যে স্থানান্তর হয়। যার ফলে এই ডি এন এ কিছু এনজাইমকে এনকোড করে। যা দুটি উদ্ভিদ হরমোন অক্সিন ও সাইটোকাইনিন (Auxin and cytokinin) সংশ্লেষকে বৃদ্ধি করে। যার ফলে হরমোনের এই ভারসাম্য হারিয়ে যায়। তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষ বিভাজন হতে দেখা যায়। এরফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।

উদ্ভিদ বা গাছের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো কী ?
বিজ্ঞানীদের মতে মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারে বিপরীত। অর্থাৎ আক্রান্তের জায়গাটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একেবারে মারা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে। যেমন Ustilagomaydis নামে এক ধরনের ছত্রাক থাকে যা প্রধানত টিউমার সৃষ্টি করে। গাছের ক্ষতগুলো কালো গুটি গুটি বা বাদামি রঙের সাধারণত হয়ে থাকে। গোটা গাছকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। এমনকি কখনো মারাও যায় না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গগুলো পুনরায় বৃদ্ধি পায়। এটাকেই বিজ্ঞানীরা টিউমার বা ক্যান্সার বলে মনে করছেন। তবে উদ্ভিদের মৃত্যু হয় না। এটা আমাদের কাছে স্বস্তির খবর। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে উদ্ভিদ কোষ একটি শক্তিশালী কোষপ্রাচীর ও কোষপর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। যারফলে সংক্রমিত কোষগুলো পাশের কোষগুলোকে আক্রান্ত করতে পারে না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি কোষ শুধুমাত্র কোষপর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং কোষপ্রাচীর থাকে না।ফলে মানুষের সহজেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

কোন কোন গাছে ক্যান্সার বেশি দেখা যায়
ক্রাউন গ্যালস বা টিউমারে বেশিরভাগ আক্রান্ত হয়ে ওঠে তামাক, টম্যাটো, আলু, সুগারবিট, পিচরুট ও ভুট্টা ইত্যাদি গাছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা যেভাবে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে তাতে কেবল প্রাণীকুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে নয়, উদ্ভিদের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ক্যান্সার কেবল প্রাণীকুলের দেহে নয়, উদ্ভিদের দেখা দিচ্ছে। উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধিও পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মনে একটাই প্রশ্ন, বিশ্বে সমগ্ৰ মানবজাতি নিঃশ্বাস নিচ্ছে উদ্ভিদের আশীর্বাদের উপর। আর সেখানে উদ্ভিদ কঠিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাববার সময় এসেছে।